গল্প :- মৃত্যুর খেলা। (পর্ব ১)
হ্যালো বন্ধুরা,
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। আমরা যেমন পৃথিবীতে এসেছি এটা সত্যি। তেমনি পৃথিবী থেকে চলে যাব এটাও সত্যি। কিন্তু এই পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার মৃত্যুটা আমরা কেউই মেনে নিতে পারে না। কিন্তু আসলে আমরা অনেক কিছু মেনে না নিলেও আমরা সেই সব বিষয়গুলো মেনে নিতে বাধ্য হই। তেমনি আজকে মৃত্যু নিয়ে একটা গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আশা করি গল্পটা পড়ে আপনাদের ভালো অনুভূতি হবে।
সোহাগ ছিল পরিবারের বড় ছেলে। আর বড় ছেলেদের উপর পরিবারের বেশিরভাগ ও দায়িত্ব থাকে। এই বিষয়টা আমাদের সবারই জানা রয়েছে। সোহাগের পরিবারে মা বাবা, সোহাগের স্ত্রী এবং এক ছেলে এবং এক ছোট বোন আছে। সোহাগের ছোট বোন এখনো পড়ালেখা করছে। এদিকে সোহাগ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে এরপর বাবা মায়ের মত নিয়ে বিয়ে করে। আবার সোহাগের একটা ফুটফুটে ছেলে রয়েছে। সোহাগের ছেলের বয়স পাঁচ বছর। এদিকে সোহাগের বউ আবারও প্রেগন্যান্ট ছিল। এই বিষয়টা নিয়ে ওদের পরিবারে ভীষণ আনন্দ ছিল। আসলে ওদের পরিবারে খুব একটা ঝামেলা ছিল না।
কারণ সোহাগের মা বাবা এবং স্ত্রী সবাই খুবই ভালো ছিল। ওদের একজনের সাথে আরেকজনের খুবই মিল-মিস ছিল। বলতে গেলে ওদের পরিবারে কোন ধরনের সমস্যা হতো না। আর এমনিতে পরিবারের সকল দুঃখ-কষ্ট মেনে ওরা খুব সুন্দর ভাবেই জীবন যাপন করছিল। সোহাগ একটা কোম্পানিতে চাকরি করে। এদিকে সোহাগের বোন ও পড়ালেখার জন্য অন্য আরেকটা জায়গায় থাকতো। কিন্তু ওর সাথে পরিবারের সবার প্রতিদিনই ফোনে কথা হতো। এমনকি সোহাগের ছেলেকে ওর বোন খুবই আদর করতো। একদিন সোহাগের বোন কলেজ ছুটি হওয়ার কারণে বাড়িতে আসছিল। এদিকে সোহাগের ছেলে আর সোহাগ মিলে বোনকে স্টেশন থেকে আনতে গিয়েছে।
যখন সোহাগের বন স্টেশন আসলো বল তোমাদের আসার প্রয়োজন ছিল না আমি একাই বাড়িতে চলে যেতে পারতাম। এদিকে সোহাগের ছেলে ফুফুকে পেয়ে ভীষণ খুশি। তারপর ওরা কথা বলতে বলতে বাড়িতে চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে সবাই একসাথে খাওয়া দাওয়া করল। অনেকদিন পর যেহেতু বোন বাড়িতে আসলো সবাই ভীষণ খুশি ছিল। এদিকে সোহাগের ছেলে বলতে লাগলো ওর একটা নতুন বোন আসছে। তখন ওর ফুফু বলতে লাগলো আচ্ছা বোন আসবে তুমি এটা নিশ্চিত। তখন ছোট ছেলেটা বলতে লাগলো হ্যাঁ আমার বোনই হবে। এই বিষয়গুলো বলতে বলতে সবাই ভীষণ দুষ্টামি করছিল।
যেন এক আনন্দঘন পরিবার। তখন যেহেতু সোহাগের বোন অনেক দিন পরে বাড়িতে এসেছে। এইজন্য সবাই একসাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছিল। আসলে পরিবার মিলে কোথাও ঘুরতে গেলে ভীষণ আনন্দ হয়। তখন ওরা সবাই মিলে ঘুরতে যাওয়ার জন্য একটা জায়গা ঠিক করল। পরবর্তীতে সবাই একটা গাড়ি বুক করলো যাওয়ার জন্য। সবাই ভীষণ খুশি ছিল ঘুরতে যাবে বলে। এদিকে সোহাগের ছেলেটা সবথেকে বেশি খুশি ছিল। আসলে বছরের শেষ সময় ছিল এজন্য সবার ছুটি ছিল । তাই ওরা ঘুরতে যাওয়ার জন্য বেশ সুযোগ পেয়ে গেল। তাছাড়া ওদের পরিবারে আরো একজন নতুন সদস্য আসছে এটা নিয়েও ওরা ভীষণ খুশি ছিল।
এদিকে সেদিন ওদের একজন পরিচিত সোহাগের বোনের জন্য একটা পাত্র নিয়ে আসলো। আসলে এটা সম্পর্কে সোহাগের বোন কিছুই জানতো না। পরবর্তীতে ওরা বলল পাত্র-পাত্রী দুজনকে আলাদাভাবে কথা বলার জন্য। ওরা দুজন খুব ভালোভাবেই কথা বলল আর পরিচিত হল । তখন সোহাগের বোন বললো আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না। তখন দুইজন কথাবার্তা বলার পরে ওরা চলে গেল। সোহাগ তার স্ত্রী কে জিজ্ঞেস করতে লাগলো বোনের ছেলেটাকে পছন্দ হয়েছে কিনা। তখন ওর স্ত্রী বলল কত কিছু বলেনি মনে হয় পছন্দ হয়েছে। এই কথাটা এখানেই থেকে গেল।
তারপর যথারীতি একটা তারিখ ঠিক করে সবাই মিলে ঘুরতে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে গেল। যে যার মত করে ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েছে। আসলে সেখানে গিয়ে চার পাঁচ দিন থাকার কথা হয়েছে। এদিকে যত সময় গাড়ি চলে আসলো যাওয়ার জন্য সবাই রেডি হয়ে বাড়িতে উঠে পড়ল। তারপর যথারীতি গাড়ি চলছে। আসলে অনেকটা দূরের রাস্তা প্রায় চার পাঁচ ঘণ্টার মতো। চার-পাঁচ ঘন্টা রাস্তা জার্নি করে ওরা ওদের দর্শনীয় স্থানে পৌঁছে গেল। যদিও এত ঘন্টা জার্নি করে আসতে ভীষণ কষ্ট হয়েছে। তারপর আগে থেকেই ওরা সেখানকার একটা হোটেলে রুম বুক করে নিয়েছিল । এই জন্য তারা নিজেদের উপভোগ করা হোটেলে গিয়ে উঠলো। (চলবে)
আমার পরিচয়
আমার নাম তাসলিমা আক্তার সনিয়া। আমি বাংলাদেশী। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা বলে আমি অনেক গর্বিত। আমি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের একজন ছাত্রী। আমি ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে যে কোন ধরনের পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। যখনই অবসর সময় পায় আমি ছবি আঁকতে বসে পড়ি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করার চেষ্টা করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ করতে পছন্দ করি। রান্না করতেও আমার খুব ভালো লাগে। আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে পছন্দ করি। আমি যখনই সময় পাই আমার পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করে খাওয়াই। আমি সব সময় নতুন নতুন কিছু করার চেষ্টা করি।
🎀 ধন্যবাদ সবাইকে 🎀 |
|---|

Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
https://twitter.com/TASonya5/status/1641296888694718465?t=BCGg4K3atKL127gWGHjckA&s=19
আসলেই পরিবারের সবাই যদি হাসিখুশি ভাবে থাকতে পারে তাহলে পরিবারের কোনো অশান্তি হয়। সোহাগের পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য ও ভীষণ ভালো ছিল দেখে আমার ভালো লাগলো। তার স্ত্রী আর ছেলেও ভীষণ ভালো ছিল জেনে আরো ভালো লাগলো। হঠাৎ করে বোনকে পাত্রপক্ষরা দেখতে এসেছে দেখে বন্ধু ভীষণ অবাক হয়ে গেল। যাই হোক সবাই একসাথে হাসিখুশি ঘুরতে যাচ্ছে দেখে আরো ভালো লাগলো। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। আমাদের মাঝে তাড়াতাড়ি শেয়ার করবেন।
আমার গল্পটা পড়েছেন এটা দেখে ভালো লাগলো। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু আপনার গল্পটা এখনো পর্যন্ত অনেক ভালো লাগছে। আর পরিবারের সবাই মিলেমিশে থাকতে আসলে অনেক ভালো লাগে।সত্যি বলতে সোহাগের পরিবার দেখে অনেক ভালো মনে হচ্ছে। যেহেতু সবাই মিলে অনেক আনন্দসহ কারে ঘুরতে গিয়েছে।দেখা যাক পরবর্তী পর্বে কি অপেক্ষা করছে ।
পরবর্তী পর্ব খুব শীঘ্রই দেখতে পাবেন।
আসলে পরিবারে সবাই মিলে মিশে থাকার মজাই আলাদা। আসলে পরিবারে একে অপরকে ভালোবাসলে বেশ ভালো ভাবে দিন যায়।যাই হোক সোহাগের পরিবার দর্শনীয় স্থান গিয়ে কি কোন ঝামেলা হলো নাকি তা জানার অপেক্ষায় রইলাম। ভালো লাগলো।ধন্যবাদ
কি হলো সেটা অবশ্যই জানতে পারবেন পরবর্তী পর্বে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার গল্পটি পড়ে এখনো পর্যন্ত বুঝতে পারলাম সোহাগ তার ফ্যামিলির সবাইকে নিয়ে অনেক সুখে আছে। আসলে পরিবারের সবাই হাসিখুশি থাকলে নিজের কাছেও ভালো লাগে। তবে সোহাগ তার বোনকে মনে হয় অনেক বেশি আদর করে। যদিও এখনো আপনার পোষ্টের মধ্যে কোন কিছু বোঝা যাচ্ছে না। আশা করি পরের পর্বে আরো সুন্দর কিছু জানতে পারবো বা উপভোগ করতে পারবো। ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টে আমাদের মাঝে উপস্থাপনা করার জন্য।
অবশ্যই পরবর্তী পর্বে আকর্ষণীয় কিছু জানতে পারবেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
জ্বী আপু আমাদের সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে। কিন্তু সেটা আমাদের মানতে ভিষন কষ্ট হয়।খুবই ভালো লেগেছে আপু। আগ্রহ প্রকাশ করছি এত হাসিখুশি একটা পরিবারে কি ঝড় আসতে চলেছে।