তুর্কী সিরিজ রিভিউ : " জান্নাত " ( পর্ব ৬)
✋হ্যালো বন্ধুরা,✋
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম। আজকে আমি তুর্কী সিরিজ জান্নাত এর চতুর্থ পর্ব নিয়ে আসলাম। গত পর্বে আমরা দেখেছিলাম সেলিম যখন হাসপাতালে জান্নাতের সাথে ছিল তখন মেলিসা হাসপাতালে এসে দুজনকে একসাথে দেখে ফেলেছে।
সিরিজটির সম্পর্কে কিছু তথ্য :-
| সিরিজটির নাম | " জান্নাত " |
|---|---|
| পর্ব | ৬ |
| পরিচালনা | সাদুল্লাহ জেলেন |
| বাংলা ডাবিং পরিচালনা | দীপক সুমন |
| লাইন প্রডিউসার | মাহাবুব মারুফ |
| নির্বাহী প্রযোজক | মুসফিকুর রহমান মন্জু। |
| অভিনয়ে | আলমিলা আদা ( জান্নাত), বার্ক আমান (সেলিম), জেহরা ইলমা (মেলিসা), এসরা রোনাবার (আরজু), গুলার ওকতআন (বিলকিস), চিচেক আজার (শারমিন), হাকিম করমুকচু (মাহির), শেরচান গুলায়রিয়ুজ (মেহেদী), ইউসুফ আকগুন (ফারহান), এব্রু দেস্তান (শবনম), আলি ইপিন (রেজা), সুয়েদা চিল (রুনা)। |
| স্টুডিও ডিরেক্টর | শুভ্রা, শম্পা, মারুফ, সঞ্জয়, এলিন। |
| ভিডিও এডিটর | রাকিব হাসান এনি |
| টাইটেল ও প্রমো | অনুপ কুমার বিশ্বাস। |
| প্রধান উপদেষ্টা | নওয়াজাদ আলি খান |
| মূল ভাষা | তুর্কী |
মূল কাহিনী
এ পর্বের শুরুতেই জান্নাত ওর দাদীর কাছে যাওয়ার পরে মিলিসা সেলিম এর কাছে ক্ষমা চাইলো। কিন্তু সেলিম বলল এই বিষয়টা সহজে ভোলার নয়। অন্যদিকে মেলিসার মা শুধুমাত্র নিজের অতীতের কথা গুলো চিন্তা করে যাচ্ছিল। যখন মেলিসার বাবা তাকে ঘুমাতে যেতে বললো সে মেলিসার জন্য অপেক্ষা করছে বলে বসে রইল। পরবর্তীতে জান্নাতের দাদির সাথে দেখা করতে গেলো মেলিসা। তখন জান্নাতের দাদি কথা বলতে পারছিল। পরবর্তীতে জান্নাতের দাদির সেলিমের প্রতি অনেক বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছিল। তার সাথে সাথে মেলিসা জান্নাতের দাদিকে ভালো থাকবেন বলে চলে যাওয়ার কথা বললেন। কিন্তু সেলিম প্রথমে মেলিসার সাথে যেতে চাইলো না।
কিন্তু জান্নাত সব সামলে নিতে পারবে বলে সেলিমকে চলে যেতে বলল। তখন জান্নাতের কথা শুনে সেলিম বাড়িতে চলে গেল। কিন্তু মেলিসা বাড়িতে গিয়ে ওর মাকে জান্নাত সম্পর্কে অনেক কথা বলল। পরবর্তীতে সেলিম বাড়িতে গেলে নিজের বাবাকে ছোটবেলার কথা জিজ্ঞেস করল। বলল ছোটবেলায় কি ওর কখনো আগুন লেগেছে। কিন্তু সেলিমের বাবা সেটা অস্বীকার করে বলল না কখনো এরকম কিছু হয়নি। আসলে সেলিমের অতীতের স্মৃতিগুলো একটু একটু করে ফিরে আসছিল। পরের দিন সকালে সেলিম জান্নাতের সাথে নিজের দাদির সম্পর্কে জানতে চাইছিল। আর হাসপাতালেও আসবে বলেছে।
কিন্তু জান্নাত বলল আসতে হবেনা আমরা বাড়িতেই চলে যাব এখন। যখন মেলিসা আর তার মা একসাথে অফিসে আসলো শুধু জান্নাতের কথাই বলতে লাগলো। বলতে লাগল সেলিম শুধু জান্নাতের সাথে সাথে থাকে। তখন মিলিসা বলতে লাগলো জান্নাতের দাদি ঘরে ছিল যখন আগুন লেগেছিল। সেলিম নিজের কে নিয়ে ওকে বাঁচিয়েছে। তখন আবার মেলিসা জান্নাতের দাদীর নামটা বলল। তখনই মেলিসার মা ওই নামটা আবারো শুনতে চাইলো। আর মেলিসা নিজের মাকে বলল তুমি ওই মহিলার নাম নিয়ে পড়লে কেন। কিন্তু মেলিসার মা অনেক জোর গলায় তার কাছ থেকে নামটা জানতে চাইলো। পরবর্তীতে এটা দেখে মিলিসা আরও বেশি রেগে চলে গেল।
তখন মেলিসার মা ওই হসপিটালে গেলো যেখানে জান্নাতের দাদি রয়েছে। তখনই দেখতে পেল জান্নাতে নিজের দাদিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছিল। কিন্তু ওই মহিলাকে দেখে মা নিজের অতীতের সাথে মিলিয়ে দেখেছে। আসলে ওই মহিলাটা হচ্ছে ওর নিজের শাশুড়ি আর জান্নাত হচ্ছে ওর নিজের মেয়ে। কিন্তু জান্নাতের জন্মের সাথে সাথে ওকে ছেড়ে চলে এসেছিল সে। পরবর্তীতে জান্নাত যখন বাড়িতে গেল তার পেছন পেছন মেলিসার মা ফলো করতে শুরু করল। তারপর ওই জায়গা পর্যন্ত চলে গেল এমনকি নিজের অতীতের সব কথা মনে পড়লো। জান্নাত নিজের দাদুকে পাশের বাড়িতে রেখে এরপরে অফিসে চলে গেল। অফিসে যেতেই সেলিমের সাথে দেখা।
আর তার সাথে সাথে সেলিম বলল তোমাকে হাসপাতালে পেলাম না আবার তোমার ফোন বন্ধ। তখন জান্নাত বলছিল আসলে ফোনে চার্জ নেই। তখন সেলিম বলল ঠিক আছে তাহলে তুমি কফি বানাও আমরা একসাথে কফি খাব। জান্নাত যখন কথা বানাতে গেল তখনই মিলিচার মা এসে সবাইকে বের করে দিল। তখন একা জান্নাতকে প্রশ্ন করতে লাগলো কোন উদ্দেশ্যে সে এখানে আসলো আর মেলিসার সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক করলো। কিন্তু জান্নাত আসলে এসব কিছুই বুঝতে পারল না আর ওনাকে জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে এসব কেন বলতেছে। পরবর্তীতে অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে বলল আর এখান থেকে সব সময় দূরে থাকতে। তখনই জান্নাত রেগে কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে বেরিয়ে গেল।
আর তখনই সেলিম জান্নাতকে খুঁজতে খুঁজতে ওর পেছনে গিয়ে বাহির গিয়ে দেখতে পেল। তখন জান্নাত নিজের চাকরি নিয়ে এবং তাকে বের করে দিয়েছে এসব কিছু বলল। রেগে যখন জান্নাত চলে গেল তখনই একটা গাড়ি র সামনে পড়তেই সেলিম জান্নাতকে ঠেলে বাঁচিয়ে নিল। এরপরে যখন মেলিসা আবার জান্নাতের কথাগুলো বলতে মায়ের কাছে আসলো তখন নিলিসার মা মিলিশাকে রেগে অনেকগুলো কথা শোনালো। আর মেলিসা রেখে সেখান থেকে বেরিয়ে গেল।
ব্যক্তিগত মতামত
আসলে এই আরো কিছুটা বেরিয়ে এলো। বিশেষ করে জান্নাতের মা জান্নাতের দিকে দেখে ফেলাতে নিজেকে সবকিছু মনে পড়ে গেল। এমনকি জান্নাত এবং তার পেছনে গিয়ে তাদের থাকার জায়গাটাও চিনতে পেরেছে। এইজন্য আগের সব বিষয়গুলো চিন্তা ঢুকে গিয়েছিল। আর মা ভেবেছিল জান্নাত সবকিছু জেনে শুনেই তার কাছে আসার জন্য এই অফিসে এসেছে। তাই জন্য রেগে গিয়ে জান্নাতকে অফিস থেকে বের করে দিয়েছে। কিন্তু আসলে জান্নাতের সম্পর্কে কিছুই জানতো না। একজন তার নিজের সন্তানকে জন্ম দেওয়ার সাথে সাথেই রেখে চলে আসলো, এই বিষয়টা সত্যি। কিন্তু কেন এই কাজটা করলে এখনো পুরোপুরি ক্লিয়ার বোঝা যাচ্ছে না। নিশ্চয়ই এই বিষয়টা সম্পর্কে জানতে পারবো।
ব্যক্তিগত রেটিং
৯/১০
সিরিজটির ট্রেইলার ভিডিও লিংক
আমার পরিচয়
আমার নাম তাসলিমা আক্তার সনিয়া। আমি বাংলাদেশী। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা বলে আমি অনেক গর্বিত। আমি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের একজন ছাত্রী। আমি ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে যে কোন ধরনের পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। যখনই অবসর সময় পায় আমি ছবি আঁকতে বসে পড়ি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করার চেষ্টা করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ করতে পছন্দ করি। রান্না করতেও আমার খুব ভালো লাগে। আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে পছন্দ করি। আমি যখনই সময় পাই আমার পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করে খাওয়াই। আমি সব সময় নতুন নতুন কিছু করার চেষ্টা করি।

অনেক সুন্দর একটি রিভিউ পোস্ট করেছেন আপনি। আসলে এ ধরনের তুর্কি সিরিজ গুলো আমি কখনোই দেখার সুযোগ ও সময় পাইনি। আপনার আজকে তুর্কী সিরিজ "জান্নাত" এর ষষ্ঠ পর্ব রিভিউটির মূল কাহিনী পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। অনেক সুন্দর একটি রিভিউ পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার এই তুর্কি সিরিজের রিভিউ আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।