গল্প :- অভিশপ্ত প্রেম কাহিনী । ( শেষ পর্ব )
ক্যানভা দিয়ে তৈরি
হ্যালো বন্ধুরা,
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। আমার বাংলা ব্লগে আসার পর থেকে দেখছি সবাই খুব সুন্দর সুন্দর গল্প লিখে। আর সেই গল্পগুলো পড়তেও ভীষণ ভালো লাগে। ইতিমধ্যে আমিও প্রায় কয়েকটা গল্প লেখার চেষ্টা করেছি। আজকে আবারো আপনাদের সাথে একটি গল্প শেয়ার করার জন্য আসলাম। আশা করি গল্পটি আপনাদের ভালো লাগবে।
গত পর্বে আপনাদের সাথে এই গল্পের প্রথম পর্ব টা শেয়ার করেছিলাম। গত পর্বে দেখেছিলেন আপনারা দেখেছিলেন নিলা একজন প্রতিবন্ধী। নীলা আর তার ছোটবেলার বন্ধু আকাশের বিয়ের দিন তাদের পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলা হয়। এ যেন এক মৃত্যু পুরি হয়ে গিয়েছিল। এমনিতে কোনভাবেই নীলার বিয়ে হচ্ছিল না। আর যখন একজন প্রতিবন্ধী মেয়ের মনের আশা পূরণ হচ্ছিল তখন সেই ভালোবাসাটা অপূর্ণ থেকে গেল। এটা অনেকটা অভিশপ্ত ভালবাসার মত। যেহেতু ওদের দুইজনের ভালোবাসাটা পূর্ণতা পেল না এজন্য ওরা দুইজন আত্মা হয়ে গেল।
মানে হচ্ছে অনেকটা ভয়ংকর আত্মা। পরবর্তীতে যারা ওদেরকে মেরে ফেলো তারা সবাই আনন্দের পার্টি শুরু করল। মানে নীলার বাবার মত একজনকে হারাতে পেরেছে এটা ভেবে ওরা খুবই খুশি ছিল। আর ওই পার্টিতে গিয়ে উপস্থিত হলেও নীলা আর আকাশের আত্মা। আর তাদেরকে কেউ চোখে দেখতে পায় না। তখন হঠাৎ করে পার্টিতে যখন অনেক ড্রিঙ্কসের গ্লাস ছিল সেখান থেকে দুইটা ড্রিংসের গ্লাস ওরা দুইজন হাতে নিয়েছিল। কিন্তু সবার চোখে দেখা যাচ্ছিল যে দুইটা গ্লাস শুধুমাত্র শূন্যের উপর দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে হেঁটে আসছিল। এটা দেখে পার্টির সবাই একেবারে ভয় পেয়ে গেল।
ওরা বুঝতে পারছিল না এটা কিভাবে হচ্ছিল। তখন সবাই ভুত ভুত বলে চিৎকার করছিল। আসলে নীলা আর আকাশের আত্মা একদিনে ওদের প্রতিশোধ নিতে চাইল না। প্রথম দিন শুধুমাত্র ওদেরকে ভয় দেখাতে চেয়েছিল। এরপর ওরা একটা দুইটা করে প্লেট নিয়ে ছুড়ে মারছিল। এই বিষয়গুলো দেখে ওই খারাপ লোকেরা ভয় পেয়ে গেল। তখন ওরা সবাই ওইখান থেকে পালিয়ে গেল। তখন নীলা আর আকাশের আত্মা বলতে লাগলো পালাবি কোথায়? আমরা তোদেরকে শান্তিতে বাঁচতে দিব না। যারা ওদের পরিবারের সবাইকে মেরেছিল তারা ছিল প্রায় আট দশ জনের মত। তাই জন্য নিলা আকাশ নীলে প্ল্যান করল ওদের একজন করে সবাইকে মেরে ফেলবে।
কথামতো ওরা যেখানে যেত একজনের পিছু নিয়ে তাকে যে কোন উপায়ে ভয় দেখিয়ে মেরে ফেলত। এভাবে এক এক করে তারা তাদের মৃত্যুর কিংবা পরিবারের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে লাগলো। সবাইকে মেরে ফেলার পর শুধুমাত্র একজন ছিল যে কিনা মেইন কালফিট ছিল। ওদের সবার এক এক করে মৃত্যু দেখার পর লোকটা ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তখন লোকটা এমন একটা ঘর তৈরি করল যেখানে কিনা একটা সাধারণ ফুটাও থাকবে না। লোকটা ওই ঘরের মধ্যে নিজেকে বন্দি করে রাখল। কিন্তু লোকটা তো জানতো না আর তারা আসলে যে কোন ধরনের দেয়াল টপকে ভেতরের ঢুকতে পারে। যখন আকাশ আর নীলা দুইজন ওই রুমটার ভেতরে গেল এক এক করে জিনিসপত্র ছুটতে শুরু করল।
তখন লোকটা ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। প্রথম দিক থেকে অনেক ভয় দেখানোর পরে ওরা দুইজন নিজেদের রূপ লোকটার সামনে নিয়ে আসলো। এই বিষয়টা দেখে লোকটা আরো বেশি ভয় পেয়ে গিয়েছিল যে ওদেরকে মেরে ফেলার পরেও কিভাবে বেঁচে উঠলো। তখন ওরা দুইজন এক এক করে ওকে জিজ্ঞেস করছিল ওদেরকে কেন মেরে ফেলল আর মারছিল। এভাবে লোকটাকে শেষ পর্যন্ত মেরে ফেলল আর ওরা ওদের প্রতিশোধ নিলো। ওদের প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে গেলে দুইজন কিছুটা শান্তি পেল। যখন ওদের আত্মার শান্তি পেল তখনই ওদের আত্মা মুক্তি পেয়ে চলে গেল। মানে ওরা আর কখনো কারো সামনে আসতে পারবে না। অভিশপ্ত প্রেম কাহিনীর মুক্তি হলো। আজকের গল্পটা এ পর্যন্তই। পরবর্তীতে আবার আসবো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে। আশা করি সবাই ভাল থাকবেন।
আমার পরিচয়
আমার নাম তাসলিমা আক্তার সনিয়া। আমি বাংলাদেশী। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা বলে আমি অনেক গর্বিত। আমি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের একজন ছাত্রী। আমি ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে যে কোন ধরনের পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। যখনই অবসর সময় পায় আমি ছবি আঁকতে বসে পড়ি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করার চেষ্টা করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ করতে পছন্দ করি। রান্না করতেও আমার খুব ভালো লাগে। আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে পছন্দ করি। আমি যখনই সময় পাই আমার পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করে খাওয়াই। আমি সব সময় নতুন নতুন কিছু করার চেষ্টা করি।
🎀 ধন্যবাদ সবাইকে 🎀 |
|---|

আপু আপনার মতো আমিও গল্প পড়তে পছন্দ করি। আপনার প্রথম পর্বটা আমি পড়ি নাই । তবে দ্বিতীয় পর্বটি পড়ে আমার অনেক ভয় লেগে গেছে । এটা একটি ভুতুরে গল্প । অভিশপ্ত প্রেম কাহিনির শেষ দিকে নীলা আর আকাশ তাদের কালফিটকে মেরে মুক্তি পেয়েছে । আর তাদের আত্না ও শান্তি পেয়েছে । শেষে যে তারা প্রতিশোধ নিতে পারলো । এটা দেখে ভলো লাগলো । ধন্যবাদ আপু ।
গল্পের এই পর্বটা পড়েছেন দেখে ভালো লাগলো।
আপনার গল্পটি পড়ে বেশ খারাপ লাগলো। আমাদের সমাজে এমন কিছু কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের সুখ সহ্য করতে পারে না। শেষমেষ একটি বিয়ে বাড়িতে সবাইকে মেরে ফেলে শেষ করে দিল সেই খারাপ চরিত্রের মানুষ। কিন্তু অবশেষে তাদেরকে মেরে ফেলে প্রতিশোধ নিতে পারল তা দেখে ভালো লেগেছে। আসলে এমন অশুভ শক্তি গুলোকে ধ্বংস করা উচিত।
আসলেই ঠিক বলেছেন কিছু কিছু মানুষ চাইছে যারা অন্যের সুখ সহ্য করতে পারে না।
আপু আপনার গল্পের প্রথম পর্বটি আমি পড়ি নাই। তবে আজকে দ্বিতীয় পর্বটি পড়ে অনেক খারাপ লাগলো। একজন প্রতিবন্ধী মেয়ের বিয়ে হচ্ছে তা অনেকের সহ্য করতে পারলো না। নীলা এবং আকাশকে মেরে ফেলেছে। অথচ তাদের আত্মা দুটি ঠিকে এসে তাদের হত্যার বিচার করে ফেলল। সত্যি আত্মা দুটি খুব ভালো কাজে করেছে। তবে অনেক সুন্দর করে গল্পটি শেয়ার করেছেন।
আসলেই নীলা আর আকাশের জন্য ভীষণ খারাপ লেগেছিল। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু আপনার গল্পটি পড়ে সত্যি অনেক খারাপ লাগলো। নীলা এবং তার ছোট কালের বন্ধু আকাশের বিয়ে ঠিক হল। কিন্তু কিছু খারাপ লোকের কারণে নীলার আশা পূরণ হলো না। শত্রুরা তাদেরকে এভাবে মেরে ফেলবে তার কল্পনার বাইরে ছিল। তবে আমার কাছে ভালো লাগলো যখন নীলার এবং আকাশের আত্মা গুলো এসে তাদের উপর আক্রমণ করল। এবং তাদের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী ছিল তাদেরকে তাদের আত্মা এসে মেরে ফেলেছে শুনে ভালই লাগলো। আপনার পোস্টটি কষ্টদায়ক হলেও পড়তে অনেক ভালো লাগলো।
গল্পটি পড়েছেন দেখে ভীষণ ভালো লাগলো। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।