দইয়ের ভাঁড়
স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের প্রথম এবং একমাত্র বাংলা কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর বাংলাভাষী সদস্য আশা করি ভালো আছেন। আজকের পোস্টে আলোচনার বিষয় দই তৈরি ও সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হওয়া মাটির পাত্র বা ভাঁড়।
জনপ্রিয় মিষ্টান্ন খাবার দই সাধারণত মাটি দিয়ে তৈরি প্রশস্ত এক প্রকার পাত্রে তৈরি এবং সংরক্ষণ করা হয়। এই পাত্রটি দইয়ের ভাঁড় নামে পরিচিত। দই তৈরির জন্য এই মাটির পাত্রে গরু কিংবা মহিষের দুধের সাথে, চিনি এবং স্বল্প পরিমাণ পুরোনো দই মিশিয়ে সেটি কোন স্থানে রাখা হয়। প্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘন্টা পরে দেখা যায় মাটির ভাঁড়ে দুধ জমাট বেঁধে দইয়ে পরিণত হয়েছে। দুধে থাকে ব্যাকটেরিয়ার গাঁজন প্রক্রিয়ায় দই তৈরি হয়। গরু ও মহিষের দুধে ল্যাকটোজ নামক একপ্রকার শর্করা ব্যাকটেরিয়ার সাথে বিক্রিয়া করে দুধকে জমাট বাঁধায় এবং তা দইয়ে পরিণত হয়।
দই তৈরি করার জন্য মাটির পাত্রের একটি বিশেষ উপকারিতা রয়েছে। এই মাটির পাত্রের অসংখ্য রন্ধ্রের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করা জলীয়বাষ্প দুধ থেকে পরিণত হওয়া দই ঘন অবস্থায় রাখতে সাহায্য করে এবং দই বানানোর জন্য সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখে। প্রাচীনকাল থেকে দই তৈরি এবং সংরক্ষণের জন্য মাটির ব্যবহার করা হয়। তবে আজকাল মাটির ভাঁড়ের সাথে প্লাস্টিক নির্মিত পাত্রেও দই সংরক্ষণ করা হয়।
বাংলাদেশ এবং ভারতের প্রায় সকল স্থানে দইয়ের সাথে এর মাটির ভাঁড়ও বিক্রি হয়। মাটির ভাঁড়ে তৈরি করা দইয়ের সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৬০ এর দর্শককে বৃটেনের রানী এলিজাবেথ দইয়ের স্বাদ গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা বগুড়ার বিখ্যাত দই তৈরি করা শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় আড়াইশত বছর আগে শেরপুর অঞ্চলে। স্থানীয় ঘোষ পরিবার সর্বপ্রথম দই তৈরি করা শুরু করেছিল। পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও দই তৈরি শুরু হয়।
বর্তমানে থালা-বাসন, গ্লাস, বাটি, হাঁড়িপাতিল ইত্যাদি মাটির তৈরি তৈজস সামগ্রীর চাহিদা এবং ব্যবহার কমে গেলেও মাটির তৈরি দইয়ের পাত্র বা ভাঁড়ের চাহিদা কমেনি। কুমারপাড়ার কারিগররা কাদামাটি থেকে দইয়ের ভাঁড় তৈরি করে তা রোদে শুকিয়ে আগুনে পোড়াতে দেন। আগুনের তাপে ভাঁড়ের রঙ লালচে হলে তা বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করা হয়। দইয়ের ভাঁড়ে কোন প্রকার কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করা হয় না।
@tipu curate
অসাধারণ লিখেছেন ভাই। আপনার উপস্থাপনা সবসময় আমার অনেক ভালো লাগে। আপনার জন্য শুভ কামনা।
প্রশংসা এবং মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ভাই। 😊
আপনার পোস্ট গুলো বরাবরই তথ্যবহুল। বিগত সময়ের পোস্ট গুলো পড়েছি, এবারেরটাও ভালো লেগেছে ।
মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। 😊