গল্প// কিছু কিছু মানুষ পাপের শাস্তি দুনিয়াতেই পেয়ে থাকে(২য় পর্ব)
হ্যালো বন্ধুরা,আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
প্রথম পর্বে বলেছিলাম চাচা গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। যখন রাত আটা বেজে যায় তখন চাচি আশেপাশের কয়েকজন কে নিয়ে নদীর পাড় যায়। এরপর সেখানে বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে দেখতে পায় কাশফুলের ক্ষেতের ভিতরে চাচার লাশ পড়ে রয়েছে। তারা এমন ভাবে মেরেছে যে একটা পশুকে ও এভাবে জবাই করা হয়না। একদম ঘাড় থেকে মাথা আলাদা করে ফেলেছিল। চাচি এই দৃশ্য দেখে সেখানেই অজ্ঞান হয়ে যায়। যেহেতু অনেক রাত ছিল তারজন্য আমরা রাতে যেতে পারিনি।
ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠেই চলে গেলাম সেখানে। আমি সরাসরি দেখে খুব ভয় পেয়েছিলাম। যদিও মা যেতে নিষেধ করেছিলেন। তারপরও দেখতে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি প্রচুর মানুষের ভিড় আর পুলিশে ভরা। চাচা খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। উনার এভাবে মৃত্যু হওয়াতে গ্ৰামের সবাই কেঁদেছিলো। চাচা আমাদের খুব ভালোবাসতেন আর গ্ৰামের কেউ বলতে পারবে না লোকটি খারাপ ছিলেন। শুধু মাত্র ঐ চোর গুলোর কাছে তিনি খারাপ ছিলেন।
সেই সময় ঐ চাচার বাবা- মা দুজনেই জীবিত ছিলেন। দাদা- দাদি ও খুব ভালো ছিলেন। মোটকথা উনার ভাই বোন মা বাবাসহ পরিবারের সবাই খুবই ভালো মানুষ আর তারা সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। আমাদের এলাকায় চাচার বাবা ছিলেন নামকরা আলেম। দাদার কথা মতো আমরা সবাই চলতাম। দাদা সেই সময় ছেলের মৃত্যুর জন্য পুলিশের কাছে যায়নি। কারণ তিনি একমাত্র আল্লাহ কে বিশ্বাস করেন আর মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে বিচার চেয়েছেন। দাদা বলেছেন খুনিদের শাস্তি দেওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে কিছুদিন জেল খেটে বের হয়ে যাবে। কিন্তু আমার ছেলে সঠিক বিচার পাবে না। তাই যিনি বিচারের মালিক তিনিই তাদের বিচার করবেন।
সন্তান হারা বাবার চোখের পানি হয়তো সেদিন মহান আল্লাহ তায়ালা ফেলতে পারেননি। সেজন্য সেদিন থেকেই খুনিদের শাস্তি পাওয়া শুরু হয়। তবে চাচার বাকি ভাইয়েরা মামলা করেছিল যদিও দাদা নিষেধ করেছে। তারপরও তারা চুপ থাকতে পারেনি। কিছুদিনের মধ্যেই পুলিশ দু-তিন জনকে ধরে ফেলে। তাদের কাছ থেকে খুনের লোমহর্ষক বর্ণনা শুনে পুলিশ পর্যন্ত কেঁদেছে। আমরা এসব কথা যেই চাচা মারা গিয়েছে তাদের ভাইদের কাছ থেকে শুনেছি। তাছাড়া কয়জন মিলে খুন করেছে তাও বলেছে।
তারা মোট সাতজন ছিল তবে মাইক চুরির ঘটনায় চারজন ছিল আর বাকি তিনজন চাচার ঘরের পিছনের বাড়ির। চোর গুলো যখন পানি চেয়েছিল তখন চাচা দেয়নি বলে এবারও তারা এমন করেছে। চাচা মারা যাওয়ার সময় পানি চেয়েছিল কিন্তু তারা পানি সামনে নিয়ে নাকি মাটিতে ফেলে দিয়েছে। এরপর যখন গলা কাটতে যায় তখন কাঁচির ধার ছিল না। তারজন্য গলা আলাদা করতে অনেক সময় লেগেছিল। চাচা কে মার্ডার করতে প্রায় ৩ ঘন্টা সময় লেগেছিল। যেখানে মার্ডার করা হয় সেই জায়গা আমাদের বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে। তাছাড়া একদম নদীর পাড় বলে আসরের আযান দিলে সেখানে আর কেউ থাকে না।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
https://x.com/TanjimaAkter16/status/1890826178128166955?t=nTqgChRQPhnaqViQJ7_qlw&s=19
মানুষ হয়ে মানুষকে এমন নির্মমভাবে কিভাবে হত্যা করে, সেটা আমার বোধগম্য হয় না। যদিও তারা মানুষ নামের অমানুষ। আর সেজন্যই এমন ঘৃণিত কাজ করতে পেরেছে। চাচার জন্য সত্যিই খুব খারাপ লাগলো। যাইহোক গল্পটা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
তারা মানুষ নামে অমানুষ বলেই এমন কাজ করতে পেরেছে। ধন্যবাদ।