কিছু কিছু মানুষের ব্যবহার খুব কষ্ট দেয় আর সারা জীবন মনে থাকে।
আসসালামু আলাইকুম
সবাই কেমন আছেন। আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তবে যে পরিমাণ গরম পড়েছে এতে নিজেকে ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। সারাদিন প্রচুর পানি পান করা হয় তারপরও গলা শুকিয়ে যায়। আপনারা নিজেরাও বেশি করে পানি খাবেন আর বাচ্চাদেরও বেশি করে পানি খেতে বলবেন। যাদের ঘরে বয়স্ক লোক আছে তাদের যত্ন নিবেন।
এই সময় যেমন প্রচন্ড গরম লাগে তেমনি অনেক ঘুম পায়। আমার তো মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে খাওয়া দাওয়া কাজকর্ম ফেলে ঘুমিয়ে থাকি। শুনেছি আম কাঁঠাল বেশি করে খেলে প্রচুর ঘুমে ধরে। আপনাদেরও কি তাই মনে হয়। আমার মতো আপনাদেরও কি এত ঘুম পায়। যাই হোক কাজের কথায় আসি।
আজ একদম অন্যরকম পোস্ট নিয়ে চলে আসলাম। মাঝে মাঝে এমন কিছু মানুষ থাকে যারা আপনার একদম কাছের কিন্তু তাদের ব্যবহার আপনার পরিচিত নয়। কখন কে কাকে কিভাবে আপনাকে আঘাত করে বোঝার কোনো উপায় নেই। কাছের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া আঘাত কখনো ভুলার নয়। এমন কি আপনার যদি টাকা পয়সা হয় আর নিজেকে পরিবর্তন করেন তাহলেও আপনাকে কেউ দেখতে পারবে না।
তেমনি আমাদের অবস্থা তাই হয়েছে। যেদিন থেকে আমার ভাই গ্ৰামে বাড়ি করেছে সেদিন থেকে নতুন নতুন শত্রু জন্ম নিচ্ছে। আমাদের এই সমাজে সব ধরনের মানুষ বাস করে। যখন আমাদের বাড়ি ভেঙে যায় তখন চাচার ঘরে গিয়ে থাকাতে মানুষ কত কথা বলেছে আর এখন ঘর তুলার পর তাদের আর ভালো লাগে না। তাদের থেকে উপরে উঠাতে তারা এখন শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই তো কিছুদিন আগে আমার চাচাতো বোনের বিয়ে গিয়েছে। ঢাকায় বড় অনুষ্ঠান করেছে। কিন্তু আমরা ঢাকা থাকা সত্ত্বেও আমাদের বলেনি। তার কারণ আছে আমার ভাইকে আমার চাচির জমি কিনতে বলেছিল। কিন্তু আমার মা নিষেধ করে তারজন্য আমার চাচির অনেক রাগ হয়। আমার চাচি মানুষ হিসেবে বেশি সুবিধার নয় বলে মা নিষেধ করেছিল। এই জন্য আমাদের আর বলার প্রয়োজন মনে করেনি। তবে তার এই ব্যবহারে আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি।
এমনি আরেকটি ঘটনা ঘটে ছিল আমার বাবা মারা যাওয়ার পর। সেই কথা আমাদের সারা জীবন মনে থাকবে। আমার এক চাচা যার সাথে আমার আব্বুর ভালো সম্পর্ক ছিল। আব্বু মারা যাওয়ার পর তিনি বলেছেন তার দেওয়া কাপড় দিয়ে কাফন দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমার বড় ভাই এই কথায় রাজি হয়নি। আব্বুর টাকা দিয়ে কাফনের কাপড় কিনবে বললো। এই কথাতে সে অনেক রাগ হয় আর এজন্য সে আব্বুর জানাজায় আসেনি। তার এই ব্যবহারে আমরা অনেক কষ্ট পেয়ে ছিলাম। আমার সেই চাচার কোনো বিপদ হলে আমার আব্বু সবার আগে যেতো। সেই লোকটি এমন করলো। অবশ্য করোনার মধ্যে আমার সেই চাচা মারা গিয়েছে।
তবে কথাগুলো রয়ে গিয়েছে। শুনেছি কেউ মারা গেলে তার সম্পর্কে খারাপ বলতে হয়না। তার জন্য আমরা এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করিনি। আল্লাহ তাকে জান্নাত বাসী করুক। আমাদের সাথে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। মানুষ কিভাবে এমন করতে পারে বুঝি না। যাই হোক আমার লেখা আজ এখানেই শেষ করলাম। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্টের মাধ্যমে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন এই দোয়া কামনা করি।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
আপনার আজকের পোস্টটি পড়ে আমার খুব কষ্ট লেগেছে। আর আপনি ঠিকই বলেছেন শত্রু থেকেও কাছের মানুষ কষ্ট দিলে সেই কষ্ট আমাদের কাছে অনেক গুণ মনে হয়। আর এই কষ্ট সারা জীবনে কখনো ভুলা যায় না।
ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
একদম ঠিক বলছেন আপু কিছু কিছু মানুষের ব্যবহার সারা জীবন মনের মধ্যে দাগ থেকে যায়। এই সমাজ এমন কারো ভালো কেউ দেখতে পারে না। খারাপ থাকলেও আপনার সমালোচনা করবে আবার ভালো থাকলেও দেখবেন ভালো চোখে দেখবেনা। যাক কে কোন চোখে দেখে সেটা ভাবার বিষয় নয় তবে নিজেকে ভালো রাখাই হচ্ছে আমাদের প্রধান মুখ্য বিষয়।
টাইটেল একদম ঠিক কথা বলেছেন আপু। তবে দূরের মানুষের চেয়ে কাছের মানুষ যদি কষ্ট দেয় তবে সেগুলো মেনে নেওয়া বড়ই কঠিন। সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে আজ আপনি আমাদের মাঝে ব্লগ করেছেন তাই আপনার অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপু আপনার মনের অনুভূতি গুলো পড়ে অনেক ভাল লাগলো। আসলে সবার সময় এক যায় না। সময় পরিবর্তন হয়। আপনার ভাইয়ের উন্নতি দেখে মানুষ হিংসা শুরু করে দিয়েছে। আর আপনার চাচার কাফনের কাপড় না দিতে পারায় জানাযায় না আসাটা খুবই কষ্ট লাগলো। ধন্যবাদ আপু।