খোলামেলা পরিবেশে ডিনার করা
হ্যালো বন্ধুরা,আসসালামু-আলাইকুম। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় সুস্থ আছি।
এতক্ষণে টাইটেল দেখে বুঝে গিয়েছেন আমি কি পোস্ট শেয়ার করতে চলে এসেছি। হ্যাঁ আজ খোলামেলা পরিবেশে ডিনার করতে যাওয়ার সুন্দর মুহূর্তের কথা শেয়ার করতে চলে এসেছি। অনেক দিন অসুস্থ থাকার জন্য বাহিরে কোথাও খেতে যাওয়া হয়নি। তারজন্য গতকাল সন্ধ্যায় হাসবেন্ড বলতেছে চলো বাহির থেকে ঘুরে আসি। এরপর বাহিরে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে কাছেই একটা রেস্টুরেন্টের ব্যানার দেখতে পেলাম। এই রেস্টুরেন্ট একদম ছাদে ছিল। এর আগেও এমন একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছি কিন্তু এই রেস্টুরেন্ট ঐটা থেকেও আরও বেশি সুন্দর আর বড়।
গতকাল সন্ধ্যার পর ওয়েদার খুবই সুন্দর ছিল। আমরা যখন টেবিলে বসলাম তখন প্রচুর বাতাস শুরু হয়। মেঘলা আকাশ ছিল বলে খুব ভালো লেগেছিল। সাত তালা ছাদের উপরে রেস্টুরেন্ট ছিল বলে বাতাস ছিল প্রচুর। এই রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন ধরনের আর্টিফিশিয়াল গাছ আর ফুল দিয়ে সাজানো ছিল। এছাড়া ছোট ছোট কিছু বাস্তবের গাছও ছিল। শুক্রবার ছিল বলে অনেক মানুষ সেখানে ডিনার করতে এসেছে। শুক্রবারে সব জায়গায় অনেক ভিড় থাকে তারজন্য এই দিন বাহিরে বের হতে ইচ্ছে করে না।
এর আগে যে রেস্টুরেন্টের ছবি শেয়ার করেছিলাম সেটা থেকে এই রেস্টুরেন্টের সব কিছু আরও বেশি সুন্দর আর আমার কাছেও অনেক ভালো লেগেছে। আমার ছেলে দোলনা দেখে ওঠার জন্য ব্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু গতকাল অনেক ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে রেস্টুরেন্টে গিয়েছে আর তারা আমাদের আগে গিয়েছে। আমরা গিয়ে দেখি ওরা দোলনায় বসা আর নামতেই চায় না। তাদের বাবা মা কেমন বুঝিনা অন্য বাচ্চাদের বসতে দেয়না দেখেও কিছু বলে না। বাচ্চারা না হয় বুঝে না কিন্তু বাবা মা তো বুঝে। এরপর আমার হাসবেন্ড বলে তুমি বসো আমি ওকে দোলনায় বসাই। এরপর সে দেখি খুব সুন্দর ভাবে বাচ্চাদের বুঝিয়ে বললো আর বাচ্চারাও নেমে গেলো। এরপর কিছুক্ষণ বসে চলে আসে।
এরপর আমাদের খাবার চলে আসে আর খাবার গুলো খুবই সুস্বাদু ছিল। ফ্রাইড রাইস আমার খুবই পছন্দ তার জন্য ডিনার করতে গেলে এই মেনু বেশিরভাগ সময় খাওয়া হয়। এছাড়া সাথে আরও অন্য আইটেম ছিল কিন্তু ছেলের জন্য ছবিই তুলতে পারিনি। কারণ তারও ফ্রাইড রাইস খুব পছন্দ একারণে সে খাওয়ার জন্য তাড়া দিচ্ছিল। ছেলেকে খাওয়ানো শেষ করে আমি খাওয়া শুরু করেছি তখন এক হাস্যকর ঘটনা ঘটে গেল। স্বামী-স্ত্রী এসেছে রেস্টুরেন্টে তখন দু-একটি টেবিল ছাড়া প্রায় সব টেবিল বুকিং ছিল।
তখন লোকটির আমরা যে টেবিলে বসেছি সেই টেবিল পছন্দ হয়েছে। তারা এখানে বসবে বসে একদম কাছে চলে আসে। আমার কথা ঠিক আছে তাদের যেহেতু এই জায়গা পছন্দ আমাদের শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য জায়গায় বসতে পারে। কিন্তু না লোকটি একদম আমাদের দু'জনের মাঝখানের চেয়ারে এসে বসতে ছিল। তখন আমার হাসবেন্ড বলে আপনি দেখতে পাচ্ছেন আমাদের এখানো শেষ হয়নি তাহলে কিভাবে বসতে চাচ্ছেন। তখন লোকটি লজ্জা পেয়ে কিছু না বলে অন্য চেয়ারে চলে গেল। আমার তখন এত হাসি পেয়েছে। এমন বোকা লোকও আছে।
এরপর ওয়েটারকে ডেকে বলছে আমাদের সামনের টেবিল খালি হলে বলার জন্য। এরপর আমরা খাওয়া শেষ করে চলে আসি। লিফটের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে রয়েছি নিচে নামবো তখন দেখি তারাও চলে এসেছে।আমরা কিছুই বুঝলাম না তারা কেন রেস্টুরেন্টে এসেছে কারণ তারা কোনো খাবার অর্ডার করেনি। শুধু পাঁচ মিনিট বসে চলে আসে। আরে বউকে তো অন্তত কফি খাওয়াতে পারতো। যাই হোক এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।
সবমিলিয়ে গতকালের রাতের ডিনার করে আমরা খুব মজা পেয়েছি।এমন খোলামেলা পরিবেশে বসে ডিনার করতে দারুন লাগে। তাদের সার্ভিস খুবই ভালো ছিল।এমন কি তাদের খাবার গুলো আরও বেশি মজার ছিল। এমন একটা পরিবেশে পরিবার বলেন আর স্বামী -স্ত্রী বলেন কিংবা গার্লফ্রেন্ড আর বয়ফ্রেন্ড বলেন যে কারো সাথে সময় কাটাতে আর খাওয়া দাওয়া করতে অনেক ভালো লাগে। যাই হোক আমার লেখা এখানেই শেষ করলাম আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
আসলে মাঝে মধ্যে ঘরোয়া পরিবেশ থেকে একটু বের হয়ে বাইরে খাওয়া দাওয়া সবারই করা উচিত এতে এক ঘেয়েমি জিনিসটা কেটে যায়।দারুন একটি ব্লগ আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া ঘরোয়া পরিবেশ থেকে বের হয়ে একটু প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানো উচিত। আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
ঠিক বলছেন আপু অসুস্থতার কারণে ঘরে থাকতে থাকতে বোরিং হয়ে যায়। আপনার হাসবেন্ড খুবই ভালো কাজ করলো। বাইরে নিয়ে খাওয়া দাওয়া করালেন। তাছাড়া রেস্টুরেন্টের পরিবেশটা অসাধারণ ছিল। আর খাবারের মেনু টাও দারুন ছিল। দেখে মনে হচ্ছে খুবই সুস্বাদু একটি খাবার খেলেন। খুব সুন্দর একটি সময় অতিবাহিত করলেন ভালো লাগলো।
হ্যাঁ আপু অসুস্থতার সময় বাসায় থাকতে বোরিং লাগে কিন্তু বেরও হওয়া যায় না। সত্যিই এই মেনু খেতে খুবই সুস্বাদু ছিল। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
আসলে আপু মাঝে মাঝে বাইরে খাওয়ার অনুভূতি কিন্তু বেশ দারুন। আসলে রেস্টুরেন্টেও দেখতে বেশ দারুন লেগেছে আমার কাছে। আপনি কিছুদিন আগে অসুস্থ ছিলেন দিনে খুব খারাপ লেগেছিল। হাসবেন্ডের সাথে বাইরে খেতে এসেছেন সত্যি বেশ মজার। এমনিতে শুক্রবারে যেকোনো জায়গায় একটু ভিড় বেশি থাকে আপু। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
সুন্দর একটি খোলামেলা পরিবেশের বেশ কিছু খাওয়া দাওয়া করেছেন। সব সময় ঘরোয়া পরিবেশে থাকতে সবারই কেমন যেন একঘেয়ে লাগে মাঝেমধ্যে বাইরে কোথাও খোলামেলা পরিবেশে ঘোরাঘুরি খাওয়া-দাওয়া করলে অনেক ভালো লাগে।সুন্দর একটা মুহূর্ত কাটিয়েছেন এবং আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন আপু ধন্যবাদ।
হ্যাঁ ভাইয়া পরিবেশটা খুব সুন্দর ছিল। এমন পরিবেশে বসে খেতে অনেক ভালো লাগে। আপনার মন্তব্য পড়ে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
সত্যিই রেস্টুরেন্টটি বেশ চমৎকার দেখতে। শুক্রবার বলেই হয়তো সেখানে অনেক মানুষের সমাগম হয়েছে। আপনার বাচ্চা দেখলাম বেশ আনন্দ করছে দোলনার মাঝে। খাবারের আইটেমগুলো দেখতে বেশ লোভনীয় দেখাচ্ছে। আমিও যখন বাইরে খেতে আসি অধিকাংশ সময়ে এই খাবারটি অর্ডার করে থাকি। আপনাদের খাওয়ার মাঝখানে একটি অপরিচিত লোক এসে আপনাদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল। যাই হোক এ ধরনের লোকজন সব জায়গায় দু একটা থাকে কিছু বলার নেই। সব মিলিয়ে খুব চমৎকার একটি সময় অতিবাহিত করেছেন বুঝতে পারলাম। অনেক ধন্যবাদ আপু চমৎকার মুহূর্তটি আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য।
আপনি বাহিরে খেতে গেলে এই খাবারের মেনু অর্ডার করেন জেনে ভালো লাগলো। হ্যাঁ ভাইয়া এই ধরনের লোকজন প্রায় সব জায়গায় থাকে। ঠিক বলেছেন ভাইয়া দোলনায় বসে সে খুব আনন্দ পাচ্ছিলো। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মতামতের জন্য।