সাবুদানার পুষ্টিকর ঠান্ডা ডেজার্ট রেসিপি
আসসালামু আলাইকুম
হ্যালো বন্ধুরা,আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
আজ আবারও নতুন একটি রেসিপি নিয়ে চলে এসেছি। আজ শেয়ার করবো সাবুদানার লোভনীয় পুষ্টিকর ডেজার্ট রেসিপি। এই রেসিপি রমজান মাসে তৈরি করেছিলাম কিন্তু শেয়ার করার সময় পাইনি। ইফতারিতে আমরা পুষ্টিকর ও হালকা ঠান্ডা জাতীয় খাবার খেতে খুব পছন্দ করি আর সেই কথা ভেবেই তৈরি করেছিলাম। তবে বর্তমানে যেই পরিমান গরম পড়েছে,এই সময় এমন ডেজার্ট খেতে দারুণ লাগবে। আমি যখন পোস্ট লিখতে গিয়ে বর্ণনা দিচ্ছলাম তখন যেন মনে হলো আমি মাত্র খেয়ে লিখতে বসেছি। এই ডেজার্ট একদমই পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ ডেজার্ট। এই ডেজার্ট তৈরি করতে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে তার প্রতিটার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে।
আমার কাছে যেমন ভালো লেগেছে তেমনি আমার পরিবারের সবাই খেয়ে খুব মজা পেয়েছে। এই ধরনের ডেজার্ট ছোট বড় সবাই যেমন খেতে পারবে তেমনি সবাই খেয়েও খুব মজা পাবে। গরমের মধ্যে এই ধরনের ঠান্ডা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া খুবই ভালো। আপনারা চাইলে বাসায় এভাবে সাবুদানার ডেজার্ট তৈরি করে খেয়ে দেখতে পারেন। আশা করি ভালো লাগবে। যাই হোক অনেক কথা বলেছি চলুন রেসিপি তৈরির উপকরণ ও ধাপগুলো দেখে নেই।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| সাবুদানা | ১০০ গ্ৰাম |
| মিষ্টি দই কাপ | ২টি |
| লিকুইড দুধ | ১ গ্লাস |
| আপেল | ১টি |
| কলা | ৩টি |
| আঙ্গুর ফল | পরিমাণ মতো |
| গুঁড়া দুধ | ৬ চামচ |
| চিনি | মিষ্টি অনুযায়ী |
| বাদাম | পরিমাণ মতো |
রেসিপি তৈরির ধাপ নিচে দেওয়া হলো----
😋১ম ধাপ😋
চুলায় বসানোর আগে প্রথমে আমি লিকুইড দুধ আর গুঁড়া দুধ একসাথে ভালো করে মিশিয়ে নিলাম।
😋২য় ধাপ😋
এবার এরমধ্যে চিনি দিয়ে আবারও মিশিয়ে নিয়েছি।
😋৩য় ধাপ😋
তারপর চুলায় বসিয়ে দিলাম। এবার কিছুক্ষণ জ্বাল দিয়ে দুধ একটু ঘন করে নিলাম। এরপর দুধ ঠান্ডা হওয়ার জন্য রেখে দিলাম।
😋৪র্থ ধাপ😋
এবার একটি পাতিলে পরিমাণ মতো পানি দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিলাম। পানি ফুটে উঠলে এতে সাবুদানা দিয়ে দিলাম।
😋৫ম ধাপ😋
যখন সাবুদানা সবগুলো ফুটে যাবে তখন একটি ছাঁকনিতে নিয়ে পানি ছেঁকে নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নেবো।
😋৬ষ্ট ধাপ😋
এবার কুসুম গরম দুধের মধ্যে সাবুদানা দিয়ে নেড়েচেড়ে মিশিয়ে নেবো।
😋৭ম ধাপ😋
এরপর দুটি মিষ্টি দই দিয়ে আবারও সবগুলো মিশিয়ে নেবো। দই দেওয়াতে দুধ একটু ঘন হয়েছে।
😋 ৮ম ধাপ😋
এবার সবগুলো ফল ছোট ছোট করে কেটে সাবুদানার সাথে মিশিয়ে নেবো।
😋 শেষ ধাপ😋
ডেজার্ট হালকা কালারফুল করার জন্য আমি যে শরবত তৈরির ইসপি গুঁড়ার প্যাকেট কিনেছি সেখান থেকে একটু গুঁড়া দিয়ে দিলাম। এরপর সুন্দর একটা কালার এসেছে। এটা অপশনাল, আপনারা চাইলে অন্য কালার কিংবা সাদাও রাখতে পারেন।
😋 পরিবেশন 😋
এবার একটি বাটিতে নিয়ে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে পরিবেশন করতে চলে এলাম। আমার পরিবারের সবাই খেয়ে এই ডেজার্ট খেয়ে খুব মজা পেয়েছে। আপনারা তৈরি করে খেলে তারপর বুঝতে পারবেন কতটা মজাদার। এই রেসিপি দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও তেমনি মজাদার। আশা করি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। যাই হোক অনেক কথা বলেছি আজ আর নয় আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্টের মাধ্যমে।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
গরমের সময় বিকেল বেলায় এরকম ঠান্ডা ঠান্ডা ডেজার্ট খেতে ভালই লাগে। এটা খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। সাবুদানা দিয়ে এভাবে কখনো ডেজার্ট তৈরি করে খাওয়া হয়নি। খুবই লোভনীয় লাগছে আপনার তৈরি করার রেসিপি টা দেখতে। খেতেও নিশ্চয়ই সুস্বাদু ছিল। ধন্যবাদ আপনাকে মজার একটা রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আপু একদিন বাসায় তৈরি করে খেয়ে দেখবেন আশা করি ভালো লাগবে। ধন্যবাদ।
Comment link
Comment link
Comment link
Comment link
Comment link
Comment link
ঠান্ডা ডেজার্ট সবাই অনেক পছন্দ করে। বিশেষ করে গরমের সময় এই খাবারগুলো খেতে বেশি ভালো লাগে। আপু আপনি দারুন একটি রেসিপি উপস্থাপন করেছেন। অনেক ভালো লাগলো।
সবসময় সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
গরমের সময় এ ধরনের খাবারগুলো একটু বেশি ভালো লাগে। সাবুদানা দিয়ে এরকম রেসিপি সত্যি লোভনীয়। আমার ছোট কাকী মাঝে মাঝে এরকম রেসিপি তৈরি করে। খেতে তো দারুন লাগে। আপনার রেসিপিটা দেখে আরো বেশি লোভনীয়। লোভনীয় রেসিপিটি চমৎকার উপস্থাপনের শেয়ার করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
হ্যাঁ আপু এই ধরনের ডেজার্ট খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। ধন্যবাদ।
আপনার তৈরি করা আজকের রেসিপি টা দেখে তো আমার খেতে ইচ্ছে করছে অনেক বেশি। এরকম রেসিপি গুলো খেতে আমার অনেক ভালো লাগে। আপনি আজকের রেসিপিটা খুব সুন্দর ভাবে তৈরি করলেন। দেখেই বুঝতে পারছি কতটা সুস্বাদু হয়েছিল রেসিপিটি। নিশ্চয়ই অনেক মজা করে খেয়েছিলেন এটা।
গঠনমূলক মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।
এইটা ঠিক বলেছেন আপু বর্তমানে যে পরিমাণে গরম পড়েছে তাতে করে এ ধরনের ঠান্ডা ঠান্ডা ডেজার্ট খেতে বেশ ভালো লাগে। আপনার তৈরি সাবুদানার পুষ্টিকর ঠান্ডা ডেজার্ট রেসিপিটি খুবই ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু মজার একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপু এই ধরনের ডেজার্ট গরমে খেতে দারুণ লাগে। আপনার সুন্দর মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
খাওয়া দাওয়া করার পর ডেজার্ট খেতে আসলেই দারুণ লাগে। আর এই ধরনের ডেজার্ট খাওয়ার মজাই আলাদা। বেশ লোভনীয় একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন আপু। রেসিপিটা দেখে ভীষণ ভালো লাগলো। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
হ্যাঁ ভাইয়া খাওয়া দাওয়ার পর এই ধরনের ডেজার্ট খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। আপনার সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
সাবুদানার পুষ্টিকর ঠান্ডা ডেজার্ট রেসিপিটি চমৎকার সুন্দর হয়েছে। দারুণ বানিয়েছেন আপু সাবুদানার ডেজার্ট টি।ধাপে ধাপে সাবুদানার ডেজার্ট তৈরি পদ্ধতি চমৎকার সুন্দর করে আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার সুন্দর মতামতের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
একেবারে সুস্বাদু একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন আপনি। আপনার কাছ থেকে এত সুস্বাদু একটি রেসিপি দেখে খুব ভালোই লাগছে৷ যেভাবে আপনি আজকের এই সুস্বাদু রেসিপি তৈরি করে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন এটি দেখে যেরকম সুস্বাদু মনে হচ্ছে৷ এটিকে এখনই খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে৷ একই সাথে রেসিপি শেয়ার করার মধ্য দিয়ে আপনার কাছ থেকে এত সুস্বাদু একটি রেসিপি দেখতে পেলাম৷ আমি অবশ্যই এটি তৈরি করার চেষ্টা করব৷
হ্যাঁ ভাইয়া খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছিল। চাইলে বাসায় তৈরি করে খেয়ে দেখতে পারেন। ধন্যবাদ।