জেনারেল রাইটিং: মানুষ কত সহজে পরিবর্তন হয়ে যায়।
হ্যালো বন্ধুরা,
আসসালামু আলাইকুম। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি।
আজ আবারও ভিন্ন ধরনের পোস্ট নিয়ে চলে এসেছি। আজ কিছু পরিবর্তনশীল মানুষের কথা বলতে এসেছি। আমি জানি না মানুষের মতো কি অন্য কোনো প্রাণী এভাবে সহজেই পরিবর্তন হতে পারে কিনা। কিছু কিছু মানুষ এমন ভাব করে যেন সে ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানে না। এসব মানুষকে দেখলে আপনি বলবেন তার চেয়ে সহজ সরল ভালো মানুষ এই পৃথিবীতে আর নেই। কিন্তু দিন শেষে এই মানুষটিই সবচেয়ে বেশি খারাপ। মানুষ যে এত সহজে এভাবে খারাপ হয়ে যায় নিজের চোখে না দেখলে সত্যিই বুঝতে পারতাম না। বর্তমান যুগ যত ডিজিটাল হচ্ছে ততই মানুষ আরো বেশি খারাপের দিকে যাচ্ছে।
বিশেষ করে টিকটক যেন এই দুনিয়াটা ধ্বংস করে দিচ্ছে। এখানে মানুষ আসে বিনোদনের জন্য কিন্তু এখান থেকেই খারাপের সূত্র শুরু হয়। কেন এসব কথা বলছি সম্পূর্ণ পোস্ট পড়লে বুঝতে পারবেন। আমি আগে স্টুডেন্ট পড়াতাম আর সেখান থেকেই একজন আন্টির সাথে পরিচয়। সে আমার ছাত্রের মা। উনার এক ছেলে আর এক মেয়ে। মেয়ে আবার কথা বলতে পারে না। আঙ্কেলের গাড়ির গ্যারেজ ছিল। আন্টির সংসারে তারা হাসবেন্ড ওয়াইফ,দুই ছেলে মেয়ে আর তার শ্বাশুড়ি। খুব ছোট ও সুন্দর একটি সংসার।
আন্টি দেখতে খুবই সুন্দর কিন্তু আঙ্কেল দেখতে তেমন সুন্দর নয়। তবুও তাদের সংসার খুব সুখের। ২০১৬ সালের ঘটনা তখন আন্টি খুবই আনইস্মাট ছিল। কখনো কোথাও গেলে আমাকে বলতো একটু সাজিয়ে দাও। এমন কি তিনি ঠিক মতো মোবাইল চালাতেও পারতো না। এরপর ২০১৮ তে আমার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর আর যুগাযুগ ছিল না। বেশ কয়েক বছর এই এলাকা থেকে দূরে ছিলাম। যখন ২০২১ সালে এখানে এসে বাসা নেই তখন জানতে পারি আন্টি আমার সামনের ফ্লাটেই থাকে। কিন্তু সেই সময় আন্টির মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারি। আমি যেই আন্টি কে দেখেছিলাম তিনি মনে হচ্ছে তা নয়।
একদিন জানতে পারি তিনি কারসাথে যেনো মোবাইলে কথা বলে। এই নিয়ে মাঝে মাঝেই সংসারে অশান্তি শুরু হয়। কয়েকমাস পর তিনি আবার অন্য জায়গায় বাসা নিয়ে চলে যায়। আবারও আন্টির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বেশ কয়েকমাস পর জানতে পারি তিনি টিকটক করেন। আমি শুনে তো অবাক। এরপর সাথে সাথে উনার আইডিতে ডুকে ভিডিও দেখে আরও বেশি আশ্চর্য হয়ে যাই। একদিন অন্য একজনের কাছ থেকে জানতে পারি এই টিকটকের জন্য আঙ্কেলের সাথে ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে আর উনার শ্বাশুড়িও মারা গিয়েছে।
এই কথা শুনে সত্যিই খুব খারাপ লেগেছিল। আঙ্কেল খুবই ভালো মনের মানুষ। আমি কয়েক বছর তাদের সাথে চলেছি তো তাই জানি। আন্টি দিন দিন এতটাই স্মাট হয়ে যাচ্ছে দেখে মনেই হয় না উনার বিয়ে হয়েছে আর দুটো ছেলে মেয়ে রয়েছে। শুনেছি এরপর তিনি আবারও একজন কে মোবাইলে বিয়ে করেছেন আর জামাই বিদেশে থাকে। এটা ছাড়াও নাকি আরও সম্পর্ক রয়েছে। উনার রুচি এতটাই খারাপ হয়েছে যে তিনি যেই বাড়িতে ভাড়া থাকে সেই বাড়ির দারোয়ানের সাথেও নাকি সম্পর্ক রয়েছে।
আমি উনার ব্যাপারে এসব কথা শুনে আমার মা কে বলেছিলাম কিন্তু আমার মা ও বিশ্বাস করতে পারেনি। আমার মা তাদের বাসায় অনেক বার গিয়েছে আর আন্টি কতটা ভালো ছিল মা জানে। কিন্তু কিভাবে যে এত সহজে নিজেকে পরিবর্তন করে নিয়েছে বুঝলাম না। যেই মহিলা বুরকা ছাড়া বের হতো না সে এখন বাহিরে খোলামেলা পোশাকে চলাফেরা করে। সত্যিই "সময় আর যুগের ব্যবধানে মানুষ কত তাড়াতাড়ি পরিবর্তন হয়ে যায়"।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
আসলে বর্তমানে স্মার্ট ফোনের কারণে অনেকেই এমন হয়ে যাচ্ছে। অনেকের সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। আসলে টিকটক করে মানুষ তাদের রুচির পরিচয় বহুন করছে।আপনার সাদাসিধা আন্টিকে যেমন পরিবর্তন করেছে এই টিকটিক। ধন্যবাদ আপু পোস্ট টি করার জন্য অনেক কিছু জানতে পারলাম আপনার পোস্টে।
হ্যাঁ আপু সাদাসিধে আন্টি টিকটকের কারণে অনেক পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। এভাবে কাউকে পরিবর্তন হতে দেখিনি। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।
যুগ যতই যাচ্ছে ততই খারাপের দিকে যাচ্ছে। আসলে নেট দুনিয়া মানুষকে অনেক খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও মানুষ খারাপ ভাবে ব্যবহার করে এই নেটওয়ার্ক গুলোকে। মানুষের এত পরিবর্তন দেখলে সত্যি অবাক লাগে। আসলে এগুলো কি মানুষ নাকি মানুষ নামের কলঙ্ক আমি নিজেও জানিনা। তো এত ন্যাকামো করতে গেলে বিয়ে করে দুটো সন্তান নেওয়ার কি দরকার ছিল। বিয়ে করার আগে তো এগুলো করে জীবনটাকে একদম উড়িয়ে দিতে পারতো। বিষয়টি জানতে পেরে অনেক খারাপ লাগলো।
আপু জানি না মানুষ এসব করে কি সুখ পায়। আপনার সুন্দর মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
বর্তমানে মোবাইল বাইর হয়ে মানুষের যোগাযোগ থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে। আর এখন মোবাইল চালু করলে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম। আর টিকটক এমন এক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে যা বলে শেষ করা যাবে। যে মানুষ ঠিকমতে সাজতে পারেনা তারাও এখন ঠিকঠাক করে। এবং আপনার আন্টির সংসার নষ্ট হওয়ার মূল কারণ মনে হয় টিকটক। আসলে সুখের সংসার ভেঙে মহিলাটি টিকটকে সুখ পেল মনে হয়। তারা একসময় বুঝবে দুই চোখ ধরে কান্নাকাটি করবে। পোস্টটি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
হ্যাঁ আপু এই নেটের অপব্যবহারের জন্য সমাজটা এখন ধ্বংসের পথে। আপনার সুন্দর মতামতের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
বর্তমান সময়ই মানুষ চেনা খুব কষ্টকর। আপন মানুষগুলো আপন মানুষকে চিনতে পারেনা। আপনার আন্টির সহজ সরল লোক অথচ সে অনেক পরিবর্তন হয়ে গেল।টিকটক এমন ভাবে মানুষকে আকৃষ্ট করেছে যা বলে শেষ করা যাবে না। এই টিকটক সময় তার বেশিদিন থাকবে না কিন্তু তার সংসারটি নষ্ট করে সে বড় ভুল করেছে। আসলে মানুষ মানুষকে চেনা বড় দরকার। পোস্টটি শেয়ার করেছেন খুব সুন্দর করে তাই ধন্যবাদ আপনাকে।
হ্যাঁ ভাইয়া টিকটক একজন সহজ সরল মানুষকে খুব সহজেই পরিবর্তন করে দেয়। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।