নিজের রক্ত আর অন্যের রক্তের মধ্যে পার্থক্য || ১০% লাজুক-খ্যাঁককে
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সবাইকে জানাই আমার সালাম। আসসালামু-আলাইকুম। আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো আছি।
আজ আপনাদের সাথে নতুন আরেকটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য চলে আসলাম। সবসময় এক রকম পোস্ট করতে ভালো লাগেনা। তারজন্য চেষ্টা করি পোস্টের মধ্যে একটু ভিন্নতা আনার জন্য। অনেক সময় রক্তের সম্পর্ক বেইমানি করে তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু যখন অন্য রক্ত নিজের রক্তের সাথে মিলাতে গিয়ে বেইমানি করে তখন আর সহ্য করা যায় না।
আজ আপনাদের সাথে তেমনি এক ঘটনা বলবো। আমাদের বাসার কাছে এক বাড়িওয়ালা আঙ্কেলের জীবনে এমন হয়েছে। আঙ্কেলের কোনো ছেলে মেয়ে ছিল না। তাদের সংসার জীবন প্রায় ১৮বছর হয়ে গিয়েছিল। তারপর আশেপাশের মানুষ জন বললো একটা সন্তান দত্তক আনার জন্য। এরপর তার স্বামী -স্ত্রী মিলে চিন্তা করলো তাদের অনেক সম্পত্তি আছে। তারা বুড়া হলে কে দেখবে আর এই সম্পত্তি কে দেখা শোনা করবে।
এরপর সিদ্ধান্ত নেয় একটা মেয়ে সন্তান দত্তক আনবে। তাদের আবার মেয়ের অনেক শখ ছিল। এরপর তারা এক বছরের একটি কন্যা সন্তান দত্তক আনে। একদম কাগজে কলমে লিখে নিয়ে আসে। এরপর তারা সেই মেয়েকে অনেক আদর যত্নে মানুষ করতে থাকে। যেহেতু তাদের টাকা পয়সার কোনো অভাব ছিলনা তারজন্য মেয়েটির কখনো কোনো কষ্ট হয়নি। এই মেয়েকে তারা উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠায়। পড়ালেখা শেষ হলে সে বাংলাদেশে আসে।
এরপর ভালো ও শিক্ষিত ছেলে দেখে ধুমধাম করে মেয়ে বিয়ে দেয়। আঙ্কেল -আন্টির কত সুখের সংসার। সেই সুখের সংসারে হঠাৎ কালো মেঘ দেখা দেয়। তারা মেয়ের নামে একটি বাড়ি লিখে দিয়েছিল আর মেয়ে জামাই নিয়ে সেই বাড়িতে থাকতো। কথায় বলে না লোভ মানুষ কত দূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে তা কেউ চিন্তাও করতে পারেনা। আঙ্কেল তার জামাইকে ব্যবসা বানিজ্যের সব দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছে। এতে তাদের হয়নি তারা আরও কিছু চেয়েছিল।
একদিন মেয়ে আর জামাই বেড়াতে আসে। তাদের সাথে করে কিছু কাগজপত্র নিয়ে আসে। এরপর আঙ্কেল কে বলে সাইন দিয়ে দিতে। আঙ্কেল মেয়েকে বিশ্বাস করে করে সব পেপার সাইন দিয়ে দেয়। তারপর তারা বাসায় চলে যায়। দুই দিন পরে এসে বলে আপনারা এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। আঙ্কেল বলে কেন কি হয়েছে। তারপর জামাই বলে আজ থেকে আপনার সব সম্পত্তির মালিক আমি আর আপনাকে আমার বাড়িতে জায়গা দিব না। মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে একই কথা বলে। তখন আঙ্কেল বলে তুমি না আমার মেয়ে।
এরপর মেয়ে বলে আমাকে আপনি দত্তক এনেছেন। আমি আপনার নিজের মেয়ে না আর এই কথা শুনে আঙ্কেলের চোখে পানি চলে আসে। এরপর তারা কি করবে কোথায় যাবে বুঝতে পারছিলো না। আঙ্কেল যেহেতু এখানের স্থানীয় ছিল তারজন্য এলাকার সবাই এই কথা শুনে তার পাশে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি কারণ তারা ঢাকা শহরে আঙ্কেলের যত সম্পত্তি ছিল সব লিখে নিয়ে গিয়েছে। এখন আইন তাদের কথা বলে। এরপর আঙ্কেল আর আন্টি গ্রামের বাড়ি চলে যায়। সেখানে তাদের দু’তালা একটি ঘর আছে আর কিছু জমি ছিল।
এরপর আর তাদের কোনো খবর পাইনি। যদি নিজের রক্ত হতো তাহলে হয়তো এতটা বেইমানি করতে পারতো না বাবা-মার সাথে। এই পৃথিবীর মানুষ গুলো কেন এতো লোভী। যাদের আছে তারা আরও বেশি পাওয়ার জন্য খারাপ পথে চলে যায়। তারা অল্পতে শুকরিয়া আদায় করতে পারেনা। নিজের রক্তের বাবা মা না হোক তারা তো তাকে বাবা-মায়ের আদর দিয়ে বড় করেছে। তাহলে কিভাবে সে এই কাজ করলো বুঝিনা। যাই হোক আমার লেখা আজ এখানে শেষ করলাম। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন এই দোয়া কামনা করি।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
আসলে আপু খুবই হৃদয়বিদারক একটি কাহিনী তুলে ধরেছেন আপনি। মানুষ এতটা নিচে নামতে পারে তা চিন্তাই করা যায় না ।যতই রক্তের সম্পর্ক না হোক তবু তো মেয়ের মত করেই আদর স্নেহ দিয়েই মানুষ করেছে। সেই মেয়ে কিভাবে তার বাবা-মার সঙ্গে এরকম করতে পারলো। আসলে লোভ পরে মানুষ অনেক নিচে নামতেও দ্বিধাবোধ করে না ।ওনারা কত কষ্ট পেয়ে এই বয়সে গ্রামের বাড়িতে চলে গেল সত্যি খুবই খারাপ লাগলো।ধন্যবাদ।
আপনাদের বাসার কাছে এই বাড়িওয়ালা আঙ্কেলের কথা শুনে খুবই খারাপ লাগলো। আসলে এখন তো রক্তের সম্পর্ক হলেও ছেলেমেয়েরা বাবা মায়ের সাথে ভাবে বেইমানি করে। আসলে নিজের আপন বাবা-মা না হলে কি হয়েছে ছোট থেকে তো উনারাই নিজের বাবা-মায়ের মতো লালন পালন করে বড় করেছে তাই না। এরকম ঘটনা এখন আমাদের সমাজ দেখা যায় যেগুলো সত্যিই খুবই দুঃখজনক। যে মেয়েকে কখনো কোনো কিছুর অভাব বুঝতে দেয়নি, সেই মেয়ে আজ এত বড় বেইমানি করল বাবা মায়ের সাথে। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
আমার ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে কিভাবে একটা মানুষ লোভে পড়ে এভাবে নিষ্ঠুর হতে পারে। এভাবে প্রতারণা করতে পারে। নিজের বাবা না হলে কি হয়েছে নিজের বাবার থেকে আরও বেশি আদরে মানুষ করেছে। সত্যি খুবই খারাপ লেগেছে এই বিষয়টি পড়ে। যে বাবা ছোট থেকে তাদের বাচ্চা না থাকায় এই মেয়েটিকে দত্তক নিয়ে বড় করেছিল সেই মেয়ে বাবা-মায়ের সাথে কত বড় প্রতারণা করলো। খুবই হৃদয় বিধায়ক একটি কাহিনী ছিল। বাবা মায়ের কথা একবার চিন্তাও করলো না লোভে পড়ে। একদিন না একদিন তারাও অবশ্যই শাস্তি পাবে।
আপু আপনার পোষ্টের ঘটনাটা পড়ে অনেক খারাপ লাগলো। সত্যিই নিজের মেয়ে হলে কখনো এমন কাজ করতো না। লোভ মানুষকে কতটা নিচে নামাতে পারে এটাই তার প্রমান। ধন্যবাদ আপু।