শিশির ভেজা সকাল || ১০% লাজুক খ্যাঁকের জন্য
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই অনেক ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো আছি।
উওরের হিমেল হাওয়া একটু একটু করে জানান দিচ্ছে হাড়কাঁপানো শীত আসছে। সারাদিন গরম লাগে কিন্তু আমার মনে হয় শেষ রাতের দিকে হালকা ঠান্ডা লাগে। আপনাদের এই অনুভূতি হয় কিনা জানিনা। আমার কাছে তো অনেক ভালো এই সময়। যাই হোক কাজের কথায় আসি আমাদের এখানে সবুজ মাঠ আছে শুনছিলাম কিন্তু বাসা থেকে একটু দূরে বলে যাওয়া হয়নি। অনেক রাতে ঘুমানো হয় তারজন্য সকাল বেলা উঠতে পারিনা। দু'দিন আগে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছি তারজন্য খুব সকাল বেলা ওঠা সম্ভব হয়েছে।
অনেক দিন হয়ে ভোরবেলা বাহিরে হাঁটা হয়না যেহেতু এত সকাল সকাল ঘুম ভেঙে গিয়েছে তাহলে একটু হেঁটে আসি। আমি একাই বের হয়েছিলাম আমার ছেলে আবার দশটার আগে ঘুম থেকে ওঠে না আর ওর বাবারও ছুটি ছিল চিন্তা করলাম দু'জনে ঘুমিয়ে থাকতে থাকতে হেঁটে আসি। বাহিরে বের হতেই পরিচিত এক আন্টির সাথে দেখা তারপর ওনার সাথে হাঁটতে গেলাম। আমরা দুজনে হাঁটতে হাঁটতে একদম ঐ মাঠে চলে যাই। সেখানে গিয়ে ভোর বেলার শিশির ভেজা এই সুন্দর দৃশ্য দেখে চিন্তা করলাম আপনাদের সাথে শেয়ার না করলে এর মজা খুঁজে পাওয়া যাবে না।
তারজন্য সাথে সাথে কিছু ছবি তুলে নিলাম। আমি এবার শীত আসার আগেই মনে হচ্ছে এই সুন্দর দৃশ্য দেখে নিলাম। মাঠ ভরা ছোট ছোট ঘাস তার উপর শিশির বিন্দু দেখে এত ভালো লাগছিল বুঝানো যাবে। এমন সুন্দর দৃশ্য এখন গ্রামে গেলে অনেক দেখা যাবে। ঘাসের উপর শিশির বিন্দু পড়ে থাকলে তার উপর দিয়ে খালি পায়ে হেঁটে গেলে দারুণ লাগে।
এত সুন্দর দৃশ্য দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। এই সুন্দর দৃশ্যগুলো শুধু গ্রামে গেলেই দেখা যায়। শহরে এমন সুন্দর দৃশ্য অনুভব করা খুবই কষ্টকর। আবার এত সুন্দর ভাবে সূর্যি মামা উঁকি মেরেছে যার আলোতে ঘাসের উপর শিশির বিন্দুগুলো ঝলমল করতে লাগলো। এত সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার না করলেই নয়। ছোটবেলায় যখন গ্রামে ছিলাম তখন শীতের সকাল বেলা এই দৃশ্য গুলো সবসময় দেখা হতো। কিন্তু এখন আর তেমন ভাবে শিশির ভেজা সকাল অনুভব করা হয়না।
সেই মাঠে গিয়ে অল্প সময়ের জন্য হলেও আমি চলে গিয়েছিলাম কল্পনার জগতে। আগের সবকিছুই এখন কল্পনার জগতে স্মৃতি হয়ে আছে। যখন এই আশ্বিন মাসে আমরা সকাল বেলা স্কুলে যেতাম তখন খুবই ভালো লাগতো। আমরা আবার ভোর বেলা সবাই একসাথে আরবি পড়তে যেতাম। সেই মসজিদের সামনে বড় মাঠ ছিল সেই মাঠের সবুজ ঘাস শিশির বিন্দুতে ভেজা থাকতো। আমরা সকালে কার আগে কে যাব এবং খালি পায়ে সেই মাঠে হাঁটাহাটি করবো তা নিয়ে তাড়াহুড়ো শুরু করতাম। আবার স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রেও একই হতো।
আস্তে আস্তে যখন মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায় তখন তাদের পায়ের নিচে পড়ে সেই শিশির বিন্দু গুলো একদম শেষ হয়ে যায়। আমি কিছুক্ষণ সেই মাঠে হেঁটে চলে আসলাম। এদিকে যদি আবার আমার ছেলে ওঠে যায় তাহলে আমাকে না দেখলে কান্না করে অবস্থা খারাপ করে ফেলবে। তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বেশি সময় থাকতে পারিনি। আসার সময় মাঠের কোনায় খুব সুন্দর একটি ফুল গাছ দেখতে পেলাম।
সবুজ পাতার উপর সাদা ফুল গুলো যেন তার রুপের মাধুরী দিয়ে গাছটিকে সাজিয়ে রেখেছে। আমরা এই ফুলকে জঙ্গল ফুল বলি কারণ আগে এই ফুলগুলো আগে জঙ্গলে দেখা যেত। কিন্তু এখন এই ফুলগুলো সবার বাড়ির সামনে বা স্কুলের আঙ্গিনায় লাগানো থাকে। আমার কাছে এই ফুল গুলো অনেক ভালো লাগে।
যাই হোক আমি সেখান থেকে চলে এসেছি ঠিকই কিন্তু আপনাদের মাঝে সুন্দর দৃশ্য গুলো শেয়ার করার জন্য কিছু ছবি নিয়ে আসলাম। এই সুন্দর মুহূর্তের দৃশ্য আমার যেমন ভালো লেগেছে আশা করি আমার এই ছবিগুলোও দেখে আপনাদের ভালো লাগবে। যদি ভালো লাগে তাহলে সুন্দর কমেন্টের মধ্যে জানিয়ে দেবেন। আমার লেখা আজ এখানেই শেষ করলাম। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
Twitter Share
https://twitter.com/TanjimaAkter16/status/1575115258582081544?s=20&t=p6pHW89ISNKmb-1gEolFGg
শীতের সকালের ফটোগ্রাফি গুলো বেশ দুর্দান্ত হয়েছে । এখন আস্তে আস্তে করে কুয়াশা পড়া আরম্ভ করছে। দেখে সত্যি খুব ভালো লাগলো এত অসাধারণ ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
ভাইয়া ঢাকায় গরম হলেও ভোরবেলা উঠলে হালকা কুয়াশা দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখতে খুবই ভালো লাগে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
শিশির ভেজা সকাল অনেক ভালো লাগে আমার আপু।সকাল বেলা হাঁটলে সেই অন্য রকম এক অনুভূতি হয়।ঠান্ডা হিমেল বাতাস গায়ে লাগে ঘাসের উপর পরে থাকে শিশির এর পানি। আপু শিশির ভেজা মিস্টি সকাল উপভোগ করছেন সব কিছু মিলে সুন্দর মুহুর্ত উপভোগ করছেন। আমাদের সাথে শেয়ার করাব জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
আপু আমার কাছেও শিশির ভেজা এমন মিষ্টি সকাল দেখতে খুব ভালো লাগে। আপনার কাছেও ভালো লাগে জেনে খুব খুশি হলাম। আপনার মন্তব্য পড়ে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য ।
ঠিকই বলেছেন আপনি উত্তরের হিমেল হওয়া যেন শীতের আভাস দিচ্ছে আমাদের সারাদিন এবং মাঝরাত পর্যন্ত প্রচণ্ড গরম পড়লেও শেষ রাতটা খুবই ঠান্ডা আবহাওয়া অনুভব করি।।
আপনার ক্যামেরাবন্দি করা শিশির ভেজা ফটোগ্রাফি গুলা দেখতে খুবই সুন্দর দেখাচ্ছে আমার কাছে খুবই খুবই ভালো লেগেছে।।
ভাইয়া শেষ রাতের দিকে আমার কাছে সত্যি অনেক ভালো লাগে। আপনার কাছে আমার ফটোগ্রাফি গুলো খুব ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
ঢাকায় এখনো গরম কাল চলছে। গ্রামে গেলেই কেবল এমন সুন্দর দৃশ্য দেখা সম্ভব। ঢাকায় তো শীতকাল থাকে মাত্র ১৫-২০ দিন । তাই শীতের আমেজ উপভোগ করতে প্রতিবছর আমি গ্রামে যাই। আপনার সুন্দর ফটোগ্রাফিগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
হয়তো আপু গরম চলছে কিন্তু সেই সাথে একটু হলেও আমার কাছে শেষ রাতে ঠান্ডা লাগে। আগের মত এখন আর ঢাকা শহরে তেমন শীত থাকে না। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
ঠিক বলেছেন আপু শেষ রাতের দিকে অনেক টা ঠান্ডা লাগে। আসলে শীত মনে হয় উঁকি মারছে। আসলে এই ধরনের দৃশ্য গ্রাম অঞ্চলেই দেখা যায়। আপনি খুবই সুন্দর জায়গা আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। গ্রামে এখন অল্প অল্প কুয়াশা পড়া শুরু করেছে। এবার যে গরম গেছে মনে হচ্ছে শীত এবার কাপাবে সবাইকে। ফটোগ্রাফি গুলো চমৎকার ভাবে ক্যাপসার করেছেন আপু। ধন্যবাদ আপনাকে আপু সুন্দর কিছু মূহূর্ত ছবি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ভাইয়া সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে জানালা দিয়ে তাকালে ঢাকা শহরে দেখা যায় হালকা কুয়াশা পড়ে গিয়েছে। আপনার কাছে আমার ফটোগ্রাফি গুলো ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। ধন্যবাদ আপনাকে।
ভোরের হাওয়া লক্ষ টাকার দাওয়া। এভাবে প্রতিনিয়ত ভোরবেলা হাঁটলে একজন লোক সুস্থ সবল থাকবে সারা জীবন। ভোরবেলা হাঁটতে হাঁটতে শিশির ভেজা মাঠভর্তি ঘাসের ছবি, সূর্যোদয়ের অপরূপ সুন্দর দৃশ্য সহ ফুলের বেশ ফটোগ্রাফি করেছেন। অসাধারণ হয়েছে আপনার ফটোগ্রাফি। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
এটা ঠিক সারাদিন গরম আবহাওয়া থাকলেও শেষরাতের দিকে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয়।সকাল বেলা হাঁটা শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী,ভালো করেছেন আপু হাটতে গিয়ে।আর ঘাসের উপর শিশির বিন্দুগুলি ভালো লাগছে দেখতে।সাদারঙের ফুলগুলোকে আমরা মিনি টগরফুল বলি।আপনার উপস্থাপনা সুন্দর ছিল, ধন্যবাদ আপনাকে।