গ্ৰামের বিয়ের অন্যরকম এক অনুভূতি
হ্যালো বন্ধুরা,আসসালামু আলাইকুম। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তবে এবার গ্ৰামে এসে খুবই ব্যস্ততার মধ্যে সময় যাচ্ছে। যারজন্য পোস্ট করারও সময় পাচ্ছি না।
যাই হোক আজ আবারও নতুন একটি পোস্ট নিয়ে চলে এসেছি। সবসময় চেষ্টা করি ভিন্ন ধরনের পোস্ট শেয়ার করার। তাই আজ ভিন্ন এক অনুভূতি শেয়ার করতে এসেছি। আমার চাচাতো ভাইয়ের বিয়ের জন্য গ্ৰামে এসেছি। গ্ৰামের বিয়ে শহরের বিয়ে থেকে একদমই ভিন্ন। তবে সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। গ্ৰামে কিছু কিছু পরিবার রয়েছে যারা শহরের মতো বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আমার চাচাতো ভাই এবং যাকে বিয়ে করছে সেই মেয়ে তারা মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেছে। মেয়ে পর্দা করে বলে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। তবে এই বিয়ের আয়োজন একদম আগেরকার দিনের মতো করে অল্প কিছু নিয়ম-কানুন পালন করা হয়েছে।
আমি যেদিন সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে এসেছি সেদিন রাতের বেলা আমরা মেয়েরা সবাই মেহেদি পড়েছি। অনেক রাত পর্যন্ত আমরা সবাই খুব আনন্দ করেছি। এতরাতে ঘুমিয়ে আবার ভোরবেলা উঠে পড়েছি। কারণ ছোট দিন তাড়াতাড়ি সময় চলে যাবে তাই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গিয়েছি। এরপর মেহেদি গাছের পাতাসহ ডাল কেটে ঘরের কোণায় গেঁথে নিয়েছে। তারপর আমার মা,চাচিরা সবাই মিলে পাতা উঠাচ্ছে আর গীত গায়। ছোটবেলায় গ্ৰামের বিয়ে হলে দেখতাম এমন গীত গাওয়া।
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই দিনগুলো হারিয়ে গিয়েছে। ঐদিন আমরা আবার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি মনে করে নিলাম। এরপর মেহেদি বেটে নিয়েছি এবং হলুদ বেটে নিলাম। তারপর মা চাচিরা সবাই মিলে এ হালকা হলুদ দিয়ে গোসল করিয়ে দিলো। তারপর একটা মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের ভাজি দিয়ে বড় প্লেটের চারপাশে সাজানো হয়েছে। এরপর ছোট বড় সবাই মিলে বর এর চারপাশে খেতে বসে। সবাই কাড়াকাড়ি করে খেয়েছে আর এই সময়ে সবাই সব খুব আনন্দ করে।
এরপর রেডি হয়ে সবাই মিলে চলে যাই বউ আনতে। মেয়ের বাড়িতে আমরা গিয়ে বেশি সময় থাকিনি। খাওয়া দাওয়া শেষ করে বউ নিয়ে চলে আসি। গ্ৰামের বিয়ে আর শহরের বিয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। শহরে বিভিন্ন লাইটিং কিংবা সেন্টারের মাধ্যমে অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণ করা হয়। কিন্তু গ্ৰামে তা খুব বেশি একটা হয় না। তারা একটা সমাজে বসবাস আর এখানে সবার কথা অনুযায়ী চলতে হয়। যারজন্য কেউ ইচ্ছে করলে সারাদিন গান বাজনা করতে পারে না। অনেকদিন পর গ্ৰামের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পেরে ভালো লেগেছে। অনেক কথা বলেছি আজ আর নয় আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্টের মাধ্যমে। ধন্যবাদ সবাইকে।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
আসলে গ্ৰামের বিয়ে গুলো একটু ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। আপনি আপনার চাচাতো ভাইয়ের বিয়েতে দেখছি বেশ ভালোই মজা করেছেন। বিয়ের প্রতিটি মুহূর্ত খুবই সুন্দর ভাবে উপভোগ করার চেষ্টা করেছেন, দেখে বেশ ভালো লাগলো। আসলে গ্ৰামের প্রতিটি বিয়ে ঠিক এরকম ভাবেই আয়োজিত হয়ে থাকে।
গ্রামের বিয়ে গুলো আসলেই অন্যরকম মজা হয়। শহরের আধুনিকতার ছোঁয়া সবকিছুই অতিরিক্ত আধুনিক হয়ে গেছে যার কারনে শহরের বিয়ে গুলো মজা পাওয়া যায় না। গ্রামের সবার প্রতি আন্তরিকতার জন্য খুব বেশি আনন্দ মজা করে যেমনটি আপনার পোষ্টের মাধ্যমে আপনি জানিয়েছেন। আপু আপনি খুব বেশি মজা করেছেন আপনার চাচাতো ভাইয়ের বিয়েতে। বিয়েতে যে গীত গেয়েছে আমরা শুধু ছোটবেলায় শুনতাম কখনো সোনার সৌভাগ্য হয়নি।
এটা ঠিক বলেছেন আপু গ্রামের বিয়ে এবং শহরের বিয়ের মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে। জাঁকজমক পূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠান না হলেও পরিবারের সবাই মিলে যে মুহূর্তগুলো কাটায় সেগুলো অনেক সুন্দর হয়। আপনাদের গাছ থেকে মেহেদী নেওয়ার মুহূর্ত টা আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। গ্রামের বিয়ে গুলোতে এই সময়টাতে অনেক আনন্দ হয়। আবার নতুন জামাইকে গোসল করানোর সময় সবাই বেশ আনন্দ করে। এগুলো আসলেই শহরে দেখা যায় না।
বিয়ে মানে গান-বাজনা মজা আনন্দ আর খাওয়া-দাওয়া।আপু শহরের বিয়েতে তো থাকে অনেক লাইটিং ডেকোরেশন। কিন্তু গ্রামের বিয়ে গুলো শহরের তুলনায় একদম অন্যরকম। আপনারা দেখছি বিয়েতে বেশ মজা করেছেন। সবাই একসাথে হাতে মেহেদি লাগানো। সব মিলিয়ে আপনার পোস্ট ভীষণ ভালো লাগলো।
শহর আর গ্রাম পরিবেশ দুটো লোকজন সমেত অনেকটাই আলাদা। অনেক গ্রাম এখন শহরের মতো হলেও কোথাও কোথাও গ্রামের ছোঁয়া থেকেই গেছে। আপনার বিয়েবাড়ির গল্প পড়তে পড়তে ভাবছিলাম কী চমৎকার ছিল আমাদের সংস্কৃতি। সব হারিয়ে যাচ্ছে তার জন্য কি আমরা দায়ী না?
গ্রাম্য পরিবেশে বিয়ের অনুষ্ঠানে দারুন আনন্দময় মুহূর্ত উপভোগ করা যায়। এখনো অনেক জায়গা এরকম সুন্দর মুহূর্তের রীতি চলমান রয়েছে ।যেমনটা আপনি আনন্দময় মুহূর্ত উপভোগ করেছেন। সেই অনুভূতি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। বিয়েবাড়ি মানে অনেক খাওয়া দাওয়া অনেক আনন্দ।
গ্রামে এবং শহরের বিয়ের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। গ্রামের বিয়েতে আনন্দ একটু বেশি হয়। গ্রামে হলে সব আত্নীয় স্বজন আসে, অনেক নিয়ম পালন করে। ধন্যবাদ।
শহরের বিয়ের অনুষ্ঠান এবং গ্রামের বিয়ের অনুষ্ঠানের মধ্যে অবশ্যই কিছু পার্থক্য রয়েছে। কারণ গ্রামের বেশিরভাগ বিয়ের অনুষ্ঠান অনেকটা সাদামাটাভাবে করা হয়ে থাকে। যাইহোক আপনার চাচাতো ভাইয়ের বিয়েতে সবমিলিয়ে মোটামুটি ভালোই মজা করেছেন দেখছি। এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।