ছেলের আকিকার জন্য প্রস্তুতি || ১০% লাজুক খ্যাঁকের জন্য
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই অনেক ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো আছি।
প্রতিটি মুসলমানের একটি বড় দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো যার যার আকিকা সম্পূর্ণ করা। মেয়েদের ক্ষেত্রে যদি তার বাবা মা তার আকিকা দিতে না পারে তাহলে তার স্বামীর বাড়ি গিয়ে দিতে হবে। ছেলেদের ক্ষেত্রে বাবা-মা না পাড়লে নিজে বড় হয়ে দিয়ে দিতে হয়। আমি যতদূর জানি আকিকা দেওয়া মানে হলো জানের পরিবর্তে জান কোরবান দেওয়া। আকিকার এই মাংস সবাই খেতে পারবে।
আবার যদি বাবা-মার আকিকা দেওয়া না থাকে তাহলে কখনো ছেলের আকিকা হবে না। সন্তানের আকিকা দিতে হলে সাথে বাবা-মার এটাও দিতে হবে। ছেলেদের জন্য গরু দিলে একটি আর খাসি দিলে দুটি এবং মেয়েদের জন্য শুধু খাসি একটি আকিকা দিতে হয়। এরপর সেই মাংস তিন ভাগ করে নিতে হয়। একভাগ নিজেদের, একভাগ আত্নীয়সজনদের এবং আরেকভাগ গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দিতে হবে।
আকিকার সময় কোনো অনুষ্ঠান করতে হবে এর কোনো নিয়ম নেই। তবে আমরা তো এখন বর্তমানে সবকিছুতেই অনুষ্ঠান পালন করি। আমরাও প্রথম মনে করেছিলাম বড় করে অনুষ্ঠান করবো কিন্তু কিছু ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে আর হয়ে ওঠেনি। গতকাল আমার ছেলের আকিকা সম্পূর্ণ করতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।
আকিকা উপলক্ষে আমার ছেলে দাদার কাছ থেকে খুব সুন্দর একটা আংটি উপহার পেয়েছে। সে এই উপহার পেয়ে খুব খুশি। আংটি আঙুলে না পড়ে শুধু হাতে নিয়ে ঘুরবে ওর কাছ থেকে নিয়ে গেলে আবার কান্নাকাটি শুরু করে। আমার ছেলের জন্য দুটো ছাগল নিয়ে এসেছি। নাতির আনন্দ পাবে বলে চারদিন আগে ছাগল কিনে রেখেছে।
এই কয়দিন আমার ছেলেটা ছাগল দুটো নিয়ে বেশ মজা করেছে। বিকেল হলেই তার বাবার সাথে ছাগলকে ঘাস খেতে নিয়ে যেত। আমার ছেলের আনন্দতেই আমার সব সুখ খুজে পাই। এখন যদি ওকে জিজ্ঞেস করি তোমার ছাগল কোথায় তাহলে সুন্দর ভাবে হাত নাড়িয়ে বলে নাই নাই। একটু একটু কথা বলতে পারে বলে আরও বেশি ভালো লাগে।
অনেকে আবার সাতদিনের দিনে আকিকা দিয়ে দেয়।কিন্তু আমি চেয়েছিলাম আমার ছেলে একটু বড় হলে তারপর দিব তাহলে ছেলেটা খুব মজা পাবে। এখন ওর দেড় বছর চলে এখন সে প্রায় অনেক কিছু বুঝে এবং হালকা পাতলা কথাও বলতে পারে। তাই আর দেরি না করে আকিকাটা দিয়েই দিলাম। মনে হচ্ছে ছেলের একটি দায়িত্ব শেষ করলাম। আজ নিজেকে একটু হলেও হালকা মনে হচ্ছে। মাত্র একটু একটু করে ছেলের দায়িত্ব শেষ করতে থাকলাম। আপনারা সবাই দোয়া করবেন যেন আমি ঠিকঠাক মতো আমার ছেলের সব দায়িত্ব পালন করতে পারি।
আমার এই কথাগুলো যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে সুন্দর কমেন্টের মধ্যে জানিয়ে দেবেন। আমার লেখা আজ এখানেই শেষ করলাম। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
ছেলে অথবা মেয়ে যে সন্তান ই জন্ম গ্রহণ করুক না কেন । বাবা মায়ের উপরে প্রথম যে দ্বায়ীত্ব এসে পড়ে তা হলো আকিকা দিয়ে সন্তানের সুন্দর একটা নাম রাখা । এই নিয়মটা কয়েক বছর আগে পর্যন্ত কেন জানি একটু অবহেলার মাঝেই পড়ে গেছিলো । তবে ইদানিং এটা খুব দ্রুত বাস্তবায়ন হতে দেখছি । খুব ভাল উদ্যোগ নিয়েছেন । ধন্যবাদ আপনাকে ।
আমিও মনে করি সবার প্রথম দায়িত্ব হলো সন্তানের আকিকা দেওয়া।আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো।গঠনমূলক মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
Twitter Share
https://twitter.com/TanjimaAkter16/status/1557305871738122241?s=20&t=TGiXbiwu7__mB7uUsl4X_Q
বাবাটার জন্য অনেক অনেক দোয়া রইল আল্লাহ যেন তাকে নেক হায়াত দান করে এবং জীবনে যেন মানুষের মতো মানুষ হতে পারে। খুবই আনন্দে আছে বোঝাই যাচ্ছে। কেনোনা যখন আপনি ফটোগ্রাফি করেছেন তখন কিন্তু সে খুবই হাসি মুখে ছিল।
হ্যাঁ ভাইয়া অনেক মজা হয়েছিল আর ছেলেটাও অনেক মজা করেছিল। আপনার সুন্দর মতামতের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
দোয়া রইল আপু আপনার ছেলের জন্য। অবশ্যই জানাবেন আকিকা দিয়ে তার কি নাম রেখেছেন। ঠিক বলেছেন নামের আকিকা দেওয়া মুসলমান হিসেবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আপনার সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। অনেক শুভকামনা ও ভালোবাসা রইলো আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য।
আপু আমি ওর আগেই নাম রেখেছি আর এখন দেড় বছর পার হয়ে গিয়েছে। সাতদিনের সময় আকিকা দেওয়া হয়ে ওঠেনি। আমার আবার সিজারের ইনফেকশন হওয়াতে সমস্যা হয়ে গিয়েছিল। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
মাশাআল্লাহ বাবাটার জন্য অনেক অনেক দোয়া এবং ভালোবাসা রইলো। আসলেই প্রত্যক মুসলমানের আকিকা একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।বাবু তো ছাগল 🐐 পেয়ে ভিশন খুশি হয়ে পড়েছিল।জবাই দেওয়ার পর কি কান্নাকাটি করেছে ছাগল এর জন্য। ধন্যবাদ আপু আপনাকে সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আপনার জন্য এবং আপনার ছেলের জন্য অনেক অনেক দোয়া এবং শুভকামনা রইলো।
জবাই দেওয়ার পর কান্না করেনি ভাইয়া তবে শুধু বলে নাই নাই আর ওর এই কথা শুনলে অনেক ভালো লাগে। আপনার সুন্দর মতামতের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আপু প্রথমে আপনার ছেলের জন্য অনেক অনেক দোয়া ও শুভকামনা রইল। যাতে সে বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হিসেবে তৈরী হতে পারে।বাবুটা দেখছি তার আকিকার ছাগলের সাথে ভালই সময় কাটিয়েছে। আর বাবুর আংটিটা অনেক সুন্দর হয়েছে যেটা তার দাদার কাছ থেকে পেয়েছে।অনেক ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর মুহূর্ত গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
ধন্যবাদ আপু। ঠিক বলেছেন আমার ছেলে ছাগল দেখে প্রচুর খুশি ছিল।
যে আপু যত তাড়াতাড়ি আকীকা দিবে ততই ভালো। আপনি খুব ভালো কাজ করেছেন আপনার ছেলের আকীকা দিয়ে। আপনার ছেলের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল। আশা করছি আল্লাহ তাকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করবে।
ইনশাআল্লাহ সবার দোয়া ওর সাথে থাকবে। আপনার মন্তব্য পড়ে খুব ভালো লাগলো আপু। সুন্দর মতামত দিয়ে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
খুব ভালো লাগলো আকিকার কথাটি শুনে। ছেলে অথবা মেয়ে হোক বাবা মায়ের উচিত জন্মগ্রহণের সপ্তম দিনে আকিকা করানো। সপ্তম দিনে না হলেও হবে আকিকা দিলে সন্তানের অনেক বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পায়। আপনার এই প্রস্তুতি আমার খুব ভালো লেগেছে ধন্যবাদ এত সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া সাতদিনের দিন না পারলে পরে হলেও দিয়ে দিতে হবে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।