অবশেষে খাবারের রেস্টুরেন্ট পেয়ে খাওয়া হলো।

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

আসসালামুআলাইকুম সবাইকে।


আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ।


আজকে আবার হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। কি টাইটেল দেখে একটু অবাক হচ্ছেন। এখনকার যুগে আবার খাবার রেস্টুরেন্টের অভাব নাকি? আমিও তাই ভেবেছিলাম। ঈদের ছুটি শেষ করে বাসায় এসেছি কিন্তু বুয়াদের ছুটি এখনো শেষ হয়নি। অনেকদিন পর বাসায় আসলে বাসা এমনিতেই অনেক নোংরা থাকে। তার উপরে আবার বুয়া আসেনি। সব মিলিয়ে কাজ করতে করতে অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিন থাকার কারণে ভাবলাম যে বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করবো যেহেতু বুয়া আসেনি। তাই আর রান্নার ঝামেলায় যায়নি। কিন্তু দুপুরবেলায় খাবার অর্ডার করতে গিয়ে পড়েছি বিপদে। বেশিরভাগ দোকানই বন্ধ। দু একটি দোকান যাও খোলা আছে কিন্তু দোকানগুলোর খাবার তেমন একটা ভালো মনে হলো না। ঈদের ছুটির জন্য রেস্টুরেন্ট গুলো এখনো পুরোপুরি খোলেনি। বাসায় তো খাবার রান্না করিনি কি । কি করবো তাই বাইরে চলে গেলাম খাওয়ার জন্য। বাসার পাশের যে রেস্টুরেন্ট ছিল সেখানে গিয়েও দেখলাম যে পুরোপুরি রেস্টুরেন্টটি খুলে নি অল্প খুলেছে এবং খাবারদাবারও তেমন একটা নেই। তারপরে ভাবলাম যে তাহলে যমুনা ফিউচার পার্কের গেটের দিকে চলে যাই। ওখানে তো অনেক খাবারের দোকান আছে কোন না কোন একটা খোলা পেয়েই যাব। যেহেতু বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছি তাই রিক্সা নিয়েই ওদিকে চলে গেলাম। ওইখানে গিয়েও দেখি একই অবস্থা। বেশিরভাগই দোকান বন্ধ। বেশিরভাগ বললে ভুল হবে। সব দোকানই বন্ধ। একটা দোকানও খোলা নেই। এদিক দিয়ে সবারই ক্ষুধায় খারাপ অবস্থায়। কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না।


F26FE5F6-C26B-4A92-982A-63C41E486DAD.jpeg


তারপর আমার হাসবেন্ড বললো যে তাহলে চলো যমুনা ফিউচার পার্কে ফুডকোর্টে চলে যাই। ওখানে নিশ্চয়ই খাবার পাওয়া যাবে। যমুনা ফিউচার পার্কের মালিক এবং বসুন্ধরার মালিকদের মধ্যে রোজার মধ্যে মারামারি হওয়ার কারণে এদিককার গেটটা বন্ধ। মেইন গেট দিয়ে রিকশা ঢুকে না। রাস্তা থেকে মার্কেটে ঢোকা পর্যন্ত অনেক দূর রাস্তা। গাড়ি নিয়ে না যাওয়ার কারণে অনেকদূর হাঁটতে হয়েছে।একেতো ক্ষুধা পেটে তারপরে এতদূর হেঁটে যেতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল। তারপরও মাথায় চিন্তা যে খাবার পাবো কিনা।


EC459A99-42C9-497E-A46F-0357201A4607.jpeg


A6A8C54A-56E7-4D11-A04A-8D64007FCE8C.jpeg


ফুডকোর্টে ঢোকার পর কিছুটা স্বস্তি পেলাম যে খাবারের দোকানগুলো সব খোলা আছে। আমরা ফ্রাইডে রেস্টুরেন্টে চলে গেলাম। এই রেস্টুরেন্টটিতে আগেও খেয়েছি। এদের খাবারের মান খুব ভালো।


68A59D03-7CAA-4FDD-A45F-B4FE76E29B9A.jpeg


5A28689B-4B3A-481A-991E-8DCFCF963CA6.jpeg


আমরা একটা ফ্রাইড রাইস ১ঃ৩, একটা চিকেন কারি এবং একটা সেট মেন্যু অর্ডার দিয়েছিলাম। সেট মেন্যুতে চিকেন ব্রোস্ট, ফ্রেন্স ফ্রাই, বান এবং সালাত ছিল। এইসব সহ খাবারের বিল এসেছিল ১৫০০ টাকা।


1D2B817C-66D2-422B-A85A-0C69AC989248.jpeg


E424AC5C-1B97-4515-887F-4520F0982340.jpeg


1592C481-36BC-46EB-A0AB-44ACB8F04207.jpeg


এদের খাবার এমনিতেই বেশ ভালো। তার উপরে ক্ষুধা পেটে আরো বেশি মজাদার লেগেছিলো। যাইহোক অনেক কষ্টে করে আজকের খাবার খাওয়া।
এই ছিল আমার আজকের আয়োজন। আশা করি আপনাদের সকলের ভালো লেগেছে। সময় নিয়ে আমার পোস্টটি দেখার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। পরবর্তীতে দেখা হবে আবার নতুন কিছু নিয়ে।


ধন্যবাদ

@tania

Photographer@tania
Phonei phone11
আমি তানিয়া তমা। আমি বাংলাদেশে থাকি। ঢাকায় বসবাস করি। আমি বিবাহিত। আমার দুটি ছেলে আছে। আমার শখ রান্না করা, শপিং করা, ঘুরে বেড়ানো। আমি বাংলায় কথা বলতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলাদেশকে ভালবাসি।

animasi-bergerak-terima-kasih-0078.gif

IMG_20220106_113311.png

7258xSVeJbKkzXhyseBP4PYz11eBDT8sW2oR1a4vfVFS6JTrGU8e1FPUaNdHG5vjXyg2xthV78bDEmEVvKCQpyzX1kq8gAVzGsPp9GqJVRWxb6T9y35PZmQehnLjELdKKmnhdxQjDuny4.png


VOTE @bangla.witness as witness witness_proxy_vote.png OR SET @rme as your proxy

witness_vote.png

Sort:  
 3 years ago 

ঈদের পর তাই সব এখনো ঠিকঠাক খোলেনি।আর বুয়াদের তো বন্ধ আরো বেশি। যাক খাবার অবশেষে খেতে পারলেন বাচ্চাদের নিয়ে জেনে ভাল লাগলো। কোথাও গেলে আসার পর ঘরের এই বেহাল অবস্থার জন্য আমার কোথাও আসলে যেতে ইচ্ছে করে না।ধন্যবাদ আপু আপনার অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য। খাবারগুলো যে ভালো তা ফটোগ্রাফি দেখেও কিছুটা আন্দাজ করা যায়।

 3 years ago 

আমাদের ছুটির থেকেও বুয়াদের ছুটি আরও দুই তিন দিন বেশি লাগে। এই জন্যই বিপদে পড়তে হয়। যাইহোক অবশেষে বুয়া এসেছে। এখন অনেকটা স্বস্তি। ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

যেহেতু সব জায়গায় এখনো ঈদের ছুটি শেষ হয়নি তাই রেস্টুরেন্ট সবগুলো এখনো খুলেনি। আপনারা তো খবরের দোকান খুঁজতে খুঁজতে অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। অবশেষে আপনারা যমুনা ফিউচার পার্কে ফুডকোর্ডে করতে গিয়ে খেয়েছিলেন। ভীষণ ভালো লেগেছে আপনার আজকের এই সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ে। সম্পূর্ণটা খুবই সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।

 3 years ago 

ঠিক বলেছেন ভাইয়া আসলেই খাবারের দোকান খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। তখন মনে হচ্ছিল যে বাসায় রান্না করলেই ভালো হতো। যাই হোক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

 3 years ago 

আপনি এত তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরেছিলেন কেন শুনি! আর কয়েকটা দিন থেকে আসলে তো এই ভোগান্তি পোহাতে হতো না। দুপুরবেলা খাবার নিয়ে বেশ বিড়ম্বনাতেই পড়তে হয়েছিল। অবশেষে যে তৃপ্তি ভরে খেতে পেয়েছেন এটাই বড় কথা। আর এটা কিন্তু একদম ঠিক যে খিদে পেটে সবকিছু অমৃতের মত লাগে 😀।

 3 years ago 

না ফিরে কি উপায় আছে এবার তো সরকারি ছুটি একদমই ছিল না। তারপরও এক্সট্রা তিন দিন ছুটি নিয়ে থেকেছি। ঠিকই বলেছেন ভাইয়া ক্ষুধা পেটে সবকিছুই অমৃত লাগে। তাছাড়া খাবার গুলো ভালোই ছিল।

 3 years ago 

একই অবস্থা আমারও প্রথম দিন হয়েছিল যখন ছুটি কাটিয়ে বাসায় আসি। দুইদিন খালা আসিনি অবস্থা একদম খারাপ হয়ে গিয়েছিল। যাইহোক অনেক খোঁজাখুঁজির পর রেস্টুরেন্ট অবশেষে পেয়ে গেছেন এবং দুপুরের খাওয়া দাওয়া করেছেন। খাবারগুলো দেখেই বোঝা যাচ্ছে কতটা টেস্টি ছিল।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 64620.43
ETH 1910.26
USDT 1.00
SBD 0.37