ঈদের ছুটি শুরু আমাদের।
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে।
আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ।
ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানেই খুশি। আর এই ঈদ যদি পরিবার পরিজনের সঙ্গে পালন করা যায় তাহলে তো খুশি দ্বিগুণ হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের মত যাদের ফ্যামিলি দূরে থাকে তাদের জন্য ঈদে বাড়ি যাওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে যায়। একে তো টিকিটের ঝামেলা তার উপরে আবার জ্যাম। জ্যামে যাতে পরতে না হয় এজন্য ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই আমার হাসবেন্ড একদিন ছুটি নিয়ে আমরা আজকে রওনা দিলাম। ঈদের সময় বাসওয়ালারা মনে হয় সোনার হরিণ হাতে পেয়ে যায়। টিকিটের দাম এমন বাড়ায় যা অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায়। ২/৪/ ৫০০ টাকা বেশি নিলে তাও মানা যায়। কিন্তু একেবারে ডাবল করে ফেলে টিকিটের দাম। আমরা এই স্লিপিং বাসে আগে ১৬০০ টাকা দিয়ে যেতাম। ঈদের জন্য এখন বেড়ে এক একটা টিকিটের দাম ৩২০০ টাকা করেছে। কি আর করার বিপদে তো আমরা পরেছি। দাম যতই হোক না কেন বাড়িতো যেতেই হবে। এই জন্য আর ঝামেলা না করে আমরা আজকে বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কেটে রওনা দিয়ে দিলাম। যদিও আমার গাড়ি নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু প্রাইভেট কারে এত লং জার্নি খুব কষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া আমার হাসবেন্ড এত দূরের রাস্তা ড্রাইভ করার সাহস পায় না। আবার ঈদের সময় ড্রাইভার পাওয়াও একটু কষ্টকর। তাই বাসেই যেতে হচ্ছে।
স্লিপিং কোচে গেলে এই এক সুবিধা বাচ্চাদের নিয়ে আরামে ঘুম দিয়ে যাওয়া যায়। ট্রেনের টিকিট তো অসম্ভব ব্যাপার। তাই আর সেদিকে চেষ্টা করিনি। এবারের বাসগুলোর সিট মনে হলো আর একটু বড় করেছে। বেশ আরামেই যাওয়া যাবে মনে হচ্ছে।
আমাদের বাস ৮:১৫ তে ছিল। কোনোরকম ইফতারি করে একটা উবার ডেকে আমরা ৭:১৫এর মধ্যে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। কিন্তু রাস্তায় বের হয়ে এমন বিপদে পড়েছি যে কি আর বলবো। প্রচুর জ্যাম ছিল। ভেবেছিলাম যে ইফতারির পর পর জ্যাম একটু কম হবে। কিন্তু কিসের কি। আমরা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সাড়ে আটটা বেজে গিয়েছিলো। আমার বড় ছেলে তো অস্থির হয়ে গিয়েছিলো। আমরা মনে হয় বাস মিস করে ফেলব। আর সে দাদু বাড়িতে যেতে পারবেনা। সেজন্য আমরা বাসের সুপারভাইজার কে ফোন করে বলেছিলাম যে আমরা রাস্তাতেই আছি যেন একটু ওয়েট করে। আসার পর দেখলাম যে বাস এমনিতেই লেট। ছাড়তে ছাড়তে ৯টা বেজে গিয়েছিলো। আমরা এখন মাঝ রাস্তায়। সবাই দোয়া করবেন সুস্থ মত যেন পৌঁছাতে পারি। আশা করছি সকাল বেলায় আমরা রংপুর পৌঁছে যাব ইনশাআল্লাহ।
এই ছিল আমার আজকের আয়োজন। আশা করি আপনাদের সকলের ভালো লেগেছে। সময় নিয়ে আমার পোস্টটি দেখার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। পরবর্তীতে দেখা হবে আবার নতুন কিছু নিয়ে।
ধন্যবাদ
@tania
| Photographer | @tania |
|---|---|
| Phone | oppo reno5 |
| আমি তানিয়া তমা। আমি বাংলাদেশে থাকি। ঢাকায় বসবাস করি। আমি বিবাহিত। আমার দুটি ছেলে আছে। আমার শখ রান্না করা, শপিং করা, ঘুরে বেড়ানো। আমি বাংলায় কথা বলতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলাদেশকে ভালবাসি। |
|---|
VOTE @bangla.witness as witness OR SET @rme as your proxy
আপনাদের ঈদের ছুটি শুরু হয়ে গেল।খুব আনন্দ লাগছে আসলে।আর বাচ্চাদের তো আরো বেশি আনন্দ।যাক নিরাপদে পৌঁছে যাবেন এমনটাই আশাকরি। ঈদ মোবারক সবাইকে।
আনন্দ আর কই করতে পারলাম আপু গরমে অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।
শুনে অনেক ভালো লাগলো আপনাদের ঈদের ছুটির যাত্রা শুরু হয়ে গেছে শুভকামনা রইল সুস্থভাবে যেন গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যান এবং আবার ফিরে আসেন। এখন তো বাসের ড্রাইভার বাসের মালিক সবাই তো সোনার হরিণ হয়ে যাবে। কি করার আর ডাবল ভাড়া নিয়ে হলেও তো যেতে হবে বিপদে তো আমরা পড়েছি তাই না? রংপুর তো অনেক সুন্দর একটি জায়গা শুনেছি অনেকের কাছ থেকে।
জ্বী আপু সুস্থ মত পৌঁছে গিয়েছি। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।
আসলে আপু ঈদের সময় বাড়িতে যাওয়াটাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি কষ্টের কাজ। আর ওই সময় ট্রেনের টিকিটের কথাটা ছিনতাই করা যায় না। তবে অনেক সুন্দর ভাবে আপনারা বাসে করে যাচ্ছেন এভাবে রেস্ট করে যাওয়াটাই হচ্ছে সবচেয়ে আরামের বিষয়। দয়া করে আপনারা সুস্থভাবে পৌঁছে যান।
ঠিক বলেছেন আপু এমনি সময়ই ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না আর ঈদের সময় তো অসম্ভব ব্যাপার। যাইহোক পৌঁছাতে পেরেছি তাই অনেক। ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু ঈদের সময় বাসওলাদের রাজত্বের কথা আর কি বলবো। কিছু বলার নাই। ১৬০০ টাকার টিকেন ৩২০০ টাকা। এই চাদাঁবাজি গুলো কেউ দেখে না। কোন মোল্লা কয়টা বিয়ে করছে সে গুলো আবার তারা খুব ভাল ভাবেই দেখে। ধন্যবাদ আপু।
এগুলোতে কেউ চাঁদাবাজি মনেই করে না এজন্য দেখার আর কেউ নেই। যাই হোক কিছু তো করার নেই। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।