নর্থ সিকিম যাওয়ার পথে ভিমনালা ঝর্ণায় কিছু সময়
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে।
আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজকে আবার হাজির হয়ে গেলাম ভারতের সিকিম রাজ্য ভ্রমণের নতুন একটি পর্ব নিয়ে। গত দিন আমরা নাগা ওয়াটারফলস দেখে রওনা দিয়েছিলাম। তারপর কিছুদূর যাওয়ার পরে আগে থেকে ঢোকার যে পারমিশনের নেয়া হয়েছিল সেই কাগজপত্রগুলো এখানে দেখাতে হয়। আবার ফেরার সময় এই কাগজপত্রগুলো এখানকার বিনে ফেলে যেতে হয়। সব থেকে যে বিষয়টি ভালো লেগেছে যে এখানকার সবাই আইন খুব সুন্দরভাবে পালন করে। কাউকে দেখিনি আইনের বাইরে যেতে। এজন্যই সিকিমের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সবকিছু পরিষ্কার এবং নিয়ম-শৃঙ্খলার ভিতরে। চেক পয়েন্টে ঢোকার আগে গাইড বারবার জিজ্ঞাসা করছিল আমাদের কাছে কেনা পানির বোতল আছে কিনা। কারণ এই পানির বোতলগুলো নিয়ে ভিতরে ঢোকা যাবে না। চাইলেই কিন্তু পানির বোতল লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় । কিন্তু তারা সেই কাজটি করে না আইনের প্রতি সম্মান রেখে।
আমরা যখন এসেছিলাম এখানে বেশ ফাঁকা ছিল। এজন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়নি। এখানে গেটের বাইরে গাড়ি রেখে আগে পারমিশনের কাগজ দেখাতে হয়। তারপর গাড়ি ঢুকতে পারে। আমরা এক রাতের পারমিশন নিয়ে গিয়েছিলাম। কারণ সবাই এক রাতের জন্যই সেখানে যায়। একদিন লেগে যায় যেতে এবং পরের দিন সকাল বেলায় উঠে স্পটগুলো দেখে বিকালের মধ্যে রওনা দিয়ে দেয়।
এটি মনগান চুংথাং। এখানে নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। আমরা আসার এক সপ্তাহ পরে এই বাঁধটি ভেঙ্গে গিয়ে বাঁধের ওপর সাইডের বাড়ি ঘর সব ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে। মানুষজন অনেক মারা গিয়েছিল এবং অনেক মানুষ নিখোঁজ হয়েছিলো। তাছাড়া এখানকার রাস্তাঘাটা একদম ভেঙ্গে পর্যটকরা আটকা পড়ে গিয়েছিল। আমাদের ভাগ্য ভালো যে আমরা আগের সপ্তাহে ঘুরে আসতে পেরেছি। ভাগ্য খারাপ হলে তো এই বিপদের মধ্যে আমরাও পড়তে পারতাম।
বাঁধ এ কিছুক্ষণ সময় পার করে আমরা আবার রওনা দিয়েছি। তারপর আমরা এসে থেমেছি ভীম নালা ওয়াটার ফলস এ। এটিকে আবার অমিতাভ বচ্চন ওয়াটার ফলস বলে। ওয়াটারফলসটি এত লম্বা যে একবারে তাকালে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দেখা যায় না। সারাদিনের ওয়েদার বেশ ভালই ছিল। সন্ধ্যার দিকে যখন আমরা এখানে পৌঁছেছি তখন গাড়ি থেকে নামার পর খুব ঠান্ডা লাগছিল। এজন্য বেশিক্ষণ এখানে আর দাঁড়ায়নি।
এখানে ঝর্ণার পানি নিচে পড়ে রাস্তার উপর দিয়ে অপর পাশে চলে যাচ্ছিল। কি যে ভালো লাগছিল দেখতে।
সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে এখনো পৌঁছায়নি। আমাদের বেশ কিছু সময় লাগবে পৌঁছাতে। আজ এ পর্যন্তই। পরবর্তীতে দেখা হবে আবার নতুন কোন জায়গা নিয়ে। সময় নিয়ে আমার পোস্টটি দেখার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
ধন্যবাদ
@tania
| Photographer | @tania |
|---|---|
| Phone | i phone11 |
| আমি তানিয়া তমা। আমি বাংলাদেশে থাকি। ঢাকায় বসবাস করি। আমি বিবাহিত। আমার দুটি ছেলে আছে। আমার শখ রান্না করা, শপিং করা, ঘুরে বেড়ানো। আমি বাংলায় কথা বলতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলাদেশকে ভালবাসি। |
|---|
VOTE @bangla.witness as witness OR SET @rme as your proxy
ভারতের ভিমনালা ঝর্ণায় দারুন সময় কাটিয়েছেন দেখছি। আসলে যে কোন জায়গার শৃঙ্খলা সুন্দর থাকলে সেখানকার পরিবেশটা অনেক সুন্দর থাকে। যেটা আপনার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। এরকম পাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করলে সত্যিই মন ভালো হয়ে যায়। যেটা আপনার কাটানো মুহূর্তের মাধ্যমে আমরা উপভোগ করলাম খুবই ভালো লাগলো।
এসব জায়গায় এত শৃঙ্খলাবদ্ধের জন্যই জায়গাটিও বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। ধন্যবাদ ভাইয়া পোস্টটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য।
এসব জায়গায় এত শৃঙ্খলাবদ্ধের জন্যই জায়গাটিও বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। ধন্যবাদ ভাইয়া পোস্টটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য।
পরিবেশটা সুন্দর ও উপভোগ করার মত। ঝর্নায় পানির রাশি গুলো পড়ছে কি অপরূপ দৃশ্য এটি। ফটোগ্রাফি গুলো দেখেই বোঝা যাচ্ছে আবহাওয়া ভিষন ঠান্ডা ছিল। আর প্রকৃতির সৌন্দর্য এত কাছ থেকে উপভোগ করেছেন,খুবই ভালো।
আপু পরিবেশটা আসলেই অনেক চমৎকার। সামনাসামনি না গেলে বোঝা যায় না।সামনাসামনি আরো ভালো লাগে।
আমার তো মন বলছে এখনই চলে যায়, এতো সুন্দর জায়গায়। প্রতিটা দৃশ্য আমাকে মুগ্ধ করলো, আমি ফোনের মাধ্যমে দেখেই অনেক অবাক হয়ে গিয়েছে যদি বাস্তবে দেখতে পারতাম কতই না ভালো লাগতো। আপনি নর্থ সিকিম যাওয়ার পথে ভিমনালা ঝর্ণায় কিছু সময় অতিবাহিত করেছেন এবং সেখানকার ফটোগ্রাফি গুলো আমাকে মুগ্ধ করলো, অত্যন্ত সুন্দর মুহূর্ত উদযাপন করেছেন সেখানে।
ভাইয়া সময় সুযোগ হলে অবশ্যই জায়গাটি ঘুরে আসার চেষ্টা করবেন। অসম্ভব সুন্দর জায়গায়। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
অনেক সুন্দর একটি ঝর্ণার ফটোগ্রাফি দেখতে পারলাম আপনার এ পোষ্টের মাঝে। চমৎকার ভাবে আপনি পর্যটন এলাকার দৃশ্য ফটোগ্রাফি করেছেন ঝর্ণা দৃশ্য ফটোগ্রাফি করেছেন এবং বিস্তারিত আলোচনা করেছেন দুর্ঘটনার বিষয়গুলো। আর আপনার পোষ্টের মধ্যে দিয়ে জানতে পারলাম অনেক বিষয়।
আমার পোস্টটি পড়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছেন জেনে ভালো লাগলো ভাইয়া। ধন্যবাদ মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ব্যাপারটা খুব ভালো লাগলো আপু। আমরা বাঙালিরা লুকিয়ে হলেও পানির বোতল নিয়ে চলে যেতাম! যাক ভিতরে তাহলে কাপ্তাইয়ের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। আপনাদের ভাগ্য ভালো বিপদে পরেননি। তবে প্রকৃতির সৌন্দর্য দারুণ 🌼
একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া এটা শুধু নিয়ম করে নি সেই নিয়ম সবাই খুব কঠিন ভাবে পালন করে। এজন্যই আরো বেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জায়গাটি।