গল্প "বিশ্বাসঘাতকতা" শেষ পর্ব
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে।
আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজকে আবার হাজির হয়ে গেলাম বিশ্বাসঘাতকতা গল্পটির চতুর্থ এবং শেষ পর্ব নিয়ে। যাকে অনেক বেশি ভালোবাসা যায় তার বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নিতে খুবই কষ্ট হয়। প্রীতির ক্ষেত্রেও তেমনটি হয়েছিলো। তারপরও সবকিছু ভুলে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে সংসার করার জন্য রাজি হয়েছিলো। এখন দেখা যাক প্রীতির কি হয়েছিলো শেষে। আশা করি আজকের পর্বটিও আপনাদের ভালো লাগবে।
বিশ্বাসঘাতকতা
প্রীতিও মনে মনে খুশি হয়ে যায়। জুয়েল তাকে নিতে আসবে। তার সংসার আবার আগের মত হবে। কিছুদিন যাওয়ার পর জুয়েল প্রীতিকে ফোন করে। প্রীতিকে সে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করে। সে যেন তার কাছে না আসে। জুয়েল এখন প্রীতিকে ভালোবাসে না। শুধু শুধু এসে কষ্ট পাবে। আর জোর করে যদি প্রীতি জুয়েলের জীবনে ফিরে আসে তাহলে জুয়েল আত্মহত্যা করবে। সে কথা শোনার পর প্রীতির পায়ের নিচে মাটি সরে যায়। সে আর কোন কথা বলতে পারে না।
পরে সে উকিলকে সব কিছু খুলে বলে। উকিল বলে যে তোমার কিছু বলার দরকার নেই। জুয়েলই অস্বীকার করবে তোমাকে নেয়ার জন্য। তখন সবাই বুঝতে পারবে যে দোষ তোমার নয় দোষ জুয়েলরই। উকিল যেমন বলেছিল পরবর্তী মিটিং এ ঠিক তেমনি হয়। জুয়েল প্রীতিকে নিতে অস্বীকার করে সবার সামনে। সবার সম্মতিতে জুয়েল প্রীতির ডিভোর্স হয়ে যায়।
কথা হয় জুয়েল ছোট মেয়ের খরচ দিবে। কিন্তু জুয়েল নিজেই কোনো ইনকাম করে না। এজন্য পরবর্তীতে আর খরচও দেয় না। প্রীতি ঝামেলায় যাবে না জন্য আর কিছু বলে না।
প্রীতি চাচ্ছিলো তার বড় মেয়েটিকেও তার কাছে নিয়ে আসতে। কিন্তু তার বড় মেয়েটি তার কাছে আসতে রাজি না। প্রীতির কাছে আসলে সে মেয়েকে শাসন করে। বাবার কাছে থাকলে বাবা তেমন কিছু বলে না। কারণ সে নতুন সংসার নিয়েই ব্যস্ত। এভাবে অনেকদিন চলে যায়। প্রীতির বড় মেয়ে এখন তার ভুল বুঝতে পেরেছে। সে মায়ের কাছে আসতে চায়। কিন্তু বাবাকে বলার সাহস পায় না।
জুয়েল তার বড় মেয়েকে প্রীতির স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়। যাতে প্রীতি মেয়েকে দেখে শুনে রাখতে পারে। প্রীতির জন্য ভালো হয়েছিলো। তার সঙ্গে মেয়ের প্রতিদিন দেখা হয়। মাঝেমধ্যে বাসায় নিয়ে আসে। এরই মাঝে জুয়েলের নতুন বউ কলি প্রেগন্যান্ট হয়। তার জমজ বাচ্চা হওয়ার কথা থাকে। কিন্তু কয়েক মাস যাওয়ার পর বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে যায়।
প্রীতি ও এখন মোটামুটি নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে। তার পরিবার থেকে তাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ভালো ছেলে পেলে প্রীতিও বিয়ে করতে রাজি। প্রীতি যতই আরেকজনকে বিয়ে করুক প্রীতির কাছে জুয়েলই ছিল জীবনের একমাত্র পুরুষ। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার কারণে সে আর অন্য কোন ছেলের সঙ্গে মিশেও নাই। এ জন্য জুয়েলকে ভুলতে তার খুবই কষ্ট হয়। সে হাসি খুশি থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু মাঝেমধ্যে জুয়েলের প্রতারণা তাকে খুব কষ্ট দেয়।
আসলে কাউকে জীবনে কষ্ট দিয়ে সুখী হওয়া যায় না। জুয়েল হয়তো প্রীতিকে কষ্ট দেয়ার শাস্তি পেয়েছে তার যমজ বাচ্চাদের হারিয়ে। প্রকৃতি ঠিকই প্রতিশোধ নেয়। মানুষ বুঝতে পারে না। কারো সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে কেউ কোনদিন সুখী হতে পারবে না। জুয়েল কলির টাকার লোভে প্রীতিকে ছেড়ে কলিকে বিয়ে করে। জুয়েল কি তার জীবনের সুখী হতে পারবে? আপনাদের কি মনে হয় কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে সময় নিয়ে আমার গল্পটি পড়ার জন্য। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। পরবর্তীতে দেখা হবে আবার নতুন কিছু নিয়ে।
আমার লেখা গল্প || বিশ্বাসঘাতকতা এর তড়িৎ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন.
ধন্যবাদ
@tania
| আমি তানিয়া তমা। আমি বাংলাদেশে থাকি। ঢাকায় বসবাস করি। আমি বিবাহিত। আমার দুটি ছেলে আছে। আমার শখ রান্না করা, শপিং করা, ঘুরে বেড়ানো। আমি বাংলায় কথা বলতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলাদেশকে ভালবাসি। |
|---|
VOTE @bangla.witness as witness OR SET @rme as your proxy
ঠিকই বলেছেন প্রকৃতি ঠিকই প্রতিশোধ নেয় জুয়েল তার ফল পেয়ে গেছে । আর কলি তার আগের স্বামী বিদেশে থাকার কারণে পয়সাওয়ালা ছিল এখন সে টাকা পয়সা কোথায় পাবে জুয়েল এর সংসারে এসে । মেয়েকে মায়ের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে যাতে মেয়েটা মায়ের কাছে চলে যেতে পারে । ভালোই হলো এখন দুই মেয়েকে নিয়েই প্রীতি ভালোভাবে থাকতে পারবে ।
আমি চাই যে জুয়েলের আরো খারাপ পরিণতি হোক। এই বউ ওকে ছেড়ে চলে যাক। তাহলে ও কষ্টটা বুঝতে পারবে।।
জুয়েল কলিকে নিয়ে কখনোই সুখী হতে পারবে না। কারণ কলি নিজের হাসবেন্ডকে ডিভোর্স দিয়ে জুয়েলকে বিয়ে করেছে। জুয়েলের চেয়ে ভালো কাউকে পেলে, জুয়েলকে ছেড়ে চলে যেতে বিন্দুমাত্র কষ্ট হবে না কলির। তবে প্রকৃতি সবসময় ছাড় দেয়,ছেড়ে দেয় না। একদিন না একদিন অবশ্যই বিচার করে। কিন্তু প্রীতির জন্য ভীষণ খারাপ লাগলো। এতো কিছুর পরও জুয়েলের কাছে ফিরে যেতে চেয়েছিল। আসলে এমন ভালো মেয়েদেরকে অনেক সময় জুয়েলের মতো ফালতু ছেলেরা পায়,কিন্তু সেটার কদর করতে পারে না। যাইহোক প্রতিটি পর্ব দারুণ লেগেছে আপু। আশা করি সামনে নতুন কোনো গল্প নিয়ে হাজির হবেন আমাদের মাঝে।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া যেই মেয়ে নিজের হাজবেন্ড কে ধোকা দিয়ে অন্য ছেলের সঙ্গে পরকীয়া করতে পারে সে জুয়েলকে ধোকা দিতেও চিন্তা করবে না। এমনটা যেনো জুয়েলের সঙ্গে হয়। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
এমনটা অবশ্যই হবে জুয়েলের সাথে কোনো একদিন। কারণ কাউকে ঠকিয়ে কেউ কখনো জিততে পারে না। সৃষ্টিকর্তা ছাড় দেন, ছেড়ে দেন না। যাইহোক ফিডব্যাক দেওয়ার জন্য আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
আসলে একজনকে কষ্ট দিয়ে কখনোই সুখে থাকা যায় না তাই আমার মতে জুয়েল কখনোই সুখে থাকতে পারবে না। প্রীতির ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে সেটা বেশিরভাগ রিয়েল লাভে হয়ে থাকে। বর্তমানে সত্যিকার অর্থে খুব কম ছেলে মেয়েরাই ভালোবাসায় জড়ায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক তারফা ভালবাসা হয়।
প্রীতি অনেক চেষ্টা করেছিল সংসার টি করার। কারণ সে জুয়েলকে অনেক বেশি ভালোবাসে।
আমি তো মনে করি জুয়েল তার জীবনে কখনোই সুখী হতে। আসলে কথায় আছে না, অন্যকে কষ্ট দিয়ে নিজে কখনো ভালো থাকা যায় না। প্রীতির এবং জুয়েলের সাথে ঠিক এমনটা হবেই। হয়তো পরবর্তীতে দেখা যাবে প্রীতি আরো অনেক বেশি সুখী হয়েছে, কিন্তু জুয়েল পস্তাবে। বিশ্বাসঘাতকতা করা একেবারে ঠিক না। এর শাস্তি একদিন না একদিন নিজেও পাবে। সম্পূর্ণটা অনেক সুন্দর করে লিখেছেন দেখে ভালো লাগলো।
ঠিক বলেছেন আপু অন্যকে কষ্ট দিয়ে কখনো সুখী হওয়া যায় না। জুয়েলের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হবে। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
বিশ্বাসঘাতক মানুষগুলো আসলে আমাদেরকে অনেক বেশি কষ্ট দেয়। এরকম মানুষগুলোকে বিশ্বাস করা যায় না। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে থাকে। প্রীতি চেয়ে ছিল সুন্দর একটা জীবন কাটাতে। কিন্তু জুয়েল দিলো না। তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল জুয়েল। আর জুয়েল কখনোই ভালো এবং সুখে থাকতে পারবে না। তিলে তিলে তার পাপের শাস্তি পাবে।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া বিশ্বাসঘাতকদের কখনোই বিশ্বাস করা ঠিক না। ধন্যবাদ আপনার গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য।
শেষ টা দেখার ইচ্ছে ছিল খুব। আজ দেখে নিলাম। অনেক কিছু লিখে আবার মুছে ফেললাম। আমার কাছে মনে হয় সৃষ্টিকর্তা অনেক বড় একজন প্ল্যানার। পাপের ফল ঠিক এই দুনিয়াতেই বুঝে দেন ভালো করেই। সেটা একদিন আগে অথবা একদিন পরে। তখন ক্ষমা চাইবার মুখটাও আর থাকে না। আর সুখ! এটা নিয়ে বলার মত জ্ঞান আমার নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, মানসিক শান্তি বা পরিতৃপ্তি কখনোই কেউ পাবে না।
এই গল্পটি পড়ার পর কি আপনার মনে হচ্ছে আপনার সাথে অনেক বড় প্রতারণা হয়েছে। প্রীতির সাথের প্রতারণার কাছে আপনার প্রতারণা কিছুই না।