জেনালের রাইটিংঃ শেষ হয়ে গেল মায়ের স্নেহের অধ্যায়গুলো [পর্ব -২]😭😭
🌷🥰আমি তানহা তানজিল তরসা। আমি বাংলাদেশ 🇧🇩 থেকে বলছি। আমার স্টিমিট আইডির নাম @tanha001।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা..............
কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছি। আপনারা নিশ্চয় আপনাদের পরিবারে সকল সদস্যদের কে নিয়ে আশা করি অনেক ভালো আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়েছি। আমার নতুন ব্লগে সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম জানিয়ে শুরু করছি।আজ আমি আপনাদের মাঝে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করবো।লেখালেখি করতে আমি অনেক পছন্দ করি। আজ আমি বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া অনেক দুঃখের একটি বিষয় আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।আমি কখনো ভাবিনি আমাদের সাথে এমন ঘটনা ঘটে যাবে। আজ আমি আমার চাচাতো বোনের সাথে ঘটে যাওয়া একটি কাহিনী আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আশা করি আমার লেখা জেনারেল রাইটিং আপনাদের কাছে অনেক ভালো লাগবে।
যেহেতু আমার আপু অনেক অসুস্থ ছিলো আর তার শরীরের পরিবেশ পরিস্থিতি আমি আগের পর্বে আপনাদেরকে বলেছিলাম। এরপর আপুকে সব হসপিটাল থেকে ফেরত দিচ্ছিল। এরপর আপু যে হসপিটালে আইসিইউতে ছিল সেই হসপিটাল থেকে ০৭ অক্টোবর দুপুরের দিকে আপুকে ফেরত দেওয়া হয়।এরপর আপুকে অন্য জায়গায় এডমিট করানোর জন্য নিয়ে গেল সেখানে বিকাল চারটার দিকে পৌঁছালো। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরে আপু এ দুনিয়া ছেড়ে পরকালে চলে গেলেন আমাদের সবাইকে ছেড়ে।যখন শুনলাম আপু আর এই দুনিয়াতে নেই তখন বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। ফুটফুটে দুইটা সন্তান এতিম হয়ে গেল। দুইটি সন্তানের মুখের দিকে তাকালে জান পরাণ ঠান্ডা হয়ে যায়। বড় বাবুটার বয়স দুই বছর চার মাস এখন আর ছোট বাবুর বয়স উনিশ দিন যেদিন ওদের আম্মু মারা যায়।আপু মারা যাবার আগে তার একটা ইচ্ছের কথা আমাদের সবাইকে জানিয়ে গিয়েছিল। আপুর ইচ্ছে ছিল আপু যখন মারা যাবে তখন আমার যেন তাকে তার বাবার বাসায় আনি এবং তার দাদা দাদির পাশে তাকে মাটি দেওয়া হয়।
এরপর আপুকে ঢাকা থেকে গ্রামে আনা হয়। তারপর প্রথমে আপুকে আপুর শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে ঘন্টা খানেক রাখার পরে তার বাবার বাসায় নিয়ে চলে আসে। এর পরের বিষয়গুলো আমি যে কিভাবে লিখব আর কোন ভাষা খুজে পাচ্ছি না। লিখতে গিয়ে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। ছোট বাচ্চা মায়ের দুধ পান করার জন্য কান্নাকাটি করছে কিন্তু কি আর করার। ছোট বাবুকে বাজারের কেনা দুধ খাওয়ানো হচ্ছিলো আর মাঝে মাঝে তার মামী ও তাকে দুধ খাওয়াচ্ছিল। যেহেতু আপুরা এক বোন ও দুইটা ভাই ছিল। বড় ভাইয়ের ওয়াইফের কিছুদিন আগে বাবু হয়েছে সেজন্য সে আমাদের ছোট্ট বাবুটাকে তার বুকের দুধ পান করিয়ে মায়ের অভাবটা পূরণ করছে। এই বিষয়টা দেখে আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু আপুকে যখন খাটিয়াতে শুয়ানো ছিল তখন আমাদের জান্নাতুল বাবু বলছে আমার আম্মুকে তোমরা কষ্ট দিও না আমার আম্মুর জ্বর এসেছে তোমরা আমার আম্মুকে রুমে আনো। আমার আম্মুর অনেক কষ্ট হচ্ছে। জান্নাতুল যখন তার আম্মুকে বলছে আম্মু ওঠো রুমে চলো কিন্তু তার আম্মু তার ডাকে সাড়া দিচ্ছে না। ছোট্ট বাবুর কথাগুলো শোনার পর খুবই কষ্ট হচ্ছিল। আমাদের সবাইকে একদিন দুনিয়া ছাড়তে হবে কিন্তু কেউ হয়তো দুদিন আগে যাবে আর কেউ হয়তো দুদিন পরে যাবে এতটুকই তফাৎ। কিন্তু একজন পিতা-মাতার সামনে যখন তার সন্তান দুনিয়া ছেড়ে চলে যাই তখন সেই পিতামাতাই জানে সেই মুহূর্তটা কত কষ্টের। রিংকু ভাইয়াও অনেক ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু কি আর করার যখন ডাক আসবে তখন সবাইকেই দুনিয়ার ছেড়ে নিজ ঠিকানায় যেতে হবে। বিশেষ করে আমাদের বাবু ২ টার জন্য খুবই খারাপ লাগছিল। দুইটা ছোট ছোট ফুটফুটে সন্তান আজ মা হারা। আর কোন ছোট সন্তান যেন তার মাকে না হারাই। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখা যায় না।এরপর আপুকে আপন ঠিকানায় নিয়ে চলে যায় তখন পরিবারের প্রত্যেকটা সদস্য অনেক কান্নাকাটি করছিল। তাদের নিয়ে বলতে গেলে হয়তো আমি লিখে শেষ করতে পারবো না। আজ যেখানেই শেষ করছি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহর কাছে সেই দোয়া করি।
| পোস্টের বিষয় | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| পোস্টকারী | তানহা তানজিল তরসা |
| ডিভাইস | রেডমি নোট ১১ |
| লোকেশন | পাবনা |
আমি শুধু ভাবছি আপনি নিজেকে ধরে রাখতে পেরেছিলেন কিনা। আমি তো ঘটনাটা পড়েই নিজেকে সামলাতে পারছি না। আসলে একদিন আমাদেরকে সবাইকেই চলে যেতে হবে কিন্তু এই ধরনের মৃত্যু গুলো মেনে নিতে খুব কষ্ট হয়। সৃষ্টিকর্তা বাচ্চাগুলোকে হেফাজতে রাখুক এবং ভালো রাখুক এটাই চাওয়া।
আপু আমি ঠিক বলে বোঝাতে পারবোনা এ বিষয়টা আমাদের জন্য কতটা কষ্টের। দোয়া করবেন আমাদের বাবু দুইটার জন্য।
এ বিষয়টা জানার পরে আমার কাছে ও অনেক খারাপ লেগেছিল। কিন্তু কি আর করার যখন ডাক আসবে আমাদের সবাইকে এই দুনিয়া ছেড়ে পরকালে যেতে হবে। বিশেষ করে বাবু ২টার জন্য আমার অনেক বেশি খারাপ লাগছিল। যখন শুনলাম আপু আর এই দুনিয়াতে নাই তখন নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না। আল্লাহ যেন বাবু দুইটাকে ভালো এবং সুস্থ রাখুক এটাই চাওয়া।
আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
ধন্যবাদ আপনিও ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
আপু আপনার এর আগের পোস্ট আমি দেখেছিলাম। আসলে আপনার সেই বোনের এরকম পরিণতি হবে সেটা ভেবেই খারাপ লাগছে। বাচ্চাদের জন্য অনেক খারাপ লাগেছে আপু।
আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আগের পর্ব পড়ে এটাই ভেবেছিলাম আপনার আপু মারা গিয়েছে। বাচ্চা দুটির জন্য সত্যিই খারাপ লাগছে। মানুষের জীবনটা আসলেই অদ্ভুত। ওপার থেকে ডাক চলে আসলে পৃথিবীতে থাকার আর উপায় নেই। যাইহোক বাবু দুটির জন্য অনেক অনেক দোয়া এবং শুভকামনা রইলো।
আমার আপুর জন্য দোয়া করবেন ভাই। আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনার আপুর জন্য অবশ্যই দোয়া রইলো। আল্লাহ তায়ালা যাতে উনাকে জান্নাত নসিব করেন।
শুকরিয়া ভাইয়া।