চিংড়ি, শুঁটকি ও কাঠালের বিচি দিয়ে মজার কচুর লতির রেসিপি
আসসালামুআলাইকুম,
বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালোই আছেন, আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
কিছুদিন আগে আপনাদের সাথে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলাম আমার খালা শাশুড়ি আমেরিকা থেকে এসেছেন, তাই তার আশা উপলক্ষে তাঁর পছন্দের একটি রেসিপি তৈরি করেছিলাম। তা হচ্ছে চিংড়ি মাছ, শুটকি ও কাঁঠালের বিচি দিয়ে কচুর লতির মজার রেসিপি।সকলেই খেয়ে অনেক প্রশংসা করেছিল।মজা বাড়ানোর জন্য নাগা মরিচ (বোম্বাই মরিচ) ও নাগা মরিচের পিকল ব্যবহার করেছিলাম।আরও এ্যাড করেছিলাম চ্যাপা শুঁটকি মাছ।এই শুঁটকি ব্যবহার করলে দারুন একটা ফ্লেভার আসে এই তরকারিতে। এছাড়া চিংড়ি মাছ ও কাঁঠালের বিচি তো আছেই। এ সকল মজার মজার উপকরণ দিলে রান্না ভালো না হওয়ার কোন উপায় নেই। আশা করছি আমার এই রেসিপিটা আপনাদেরও ভালো লাগবে। চলুন চলে যাওয়া যাক তাহলে মূল পর্বে।
চলুন দেখে নেয়া যাক রেসিপিটি তৈরি করতে আমাদের কি কি উপকরণ এবং কতটুকু পরিমান লাগবেঃ
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| কচুর লতি | ১২০০ গ্রাম |
| চিংড়ি মাছ | ৯০০ গ্রাম |
| কাঁঠালের বিচি | ৪০০ গ্রাম |
| শুঁটকি | ৫/৬ টি |
| পিঁয়াজ কুচি | ২ কাপ |
| নাগা মরিচ | ৫/৬ টি |
| নাগা মরিচের পিকল | ২ টেবিল চামচ |
| রসুন কুচি | ২ টেবিল চামচ |
| টমেটো কুচি | হাফ কাপ |
| ধনেপাতা কুচি | হাফ কাপ |
| হলুদ গুঁড়া | ১ টেবিল চামচ |
| কারিপাউডার | ২ টেবিল চামচ |
| লবন | স্বাদমত |
| সয়াবিন তেল | ৩ টেবিল চামচ |
কার্যপদ্ধতিঃ
প্রথমেই পেঁয়াজ, টমেটো, নাগা মরিচ, রসুন ও ধনেপাতা কেটে
নিয়েছি।
এরপর কচুর লতিগুলোর বরফ ছাড়িয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিয়েছি। লতিগুলো বাছা অবস্থায় প্যাকেট করা ছিল।
এরপর চিংড়ি মাছ এবং শুটকি গুলো বেছে ধুয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিয়েছি।
এরপর কাঁঠালের বিচি গুলোর বরফ ছাড়িয়ে গরম পানিতে সিদ্ধ করে নিয়েছি।
এরপর একটি কড়াইতে তেল গরম করে তাতে রসুন কুচি দিয়ে দিয়েছি। এরপর ২/৩ মিনিট পরে পেঁয়াজ,টমেটো ও লবণ দিয়ে সামান্য পানি অ্যাড করে অল্প আঁচে রেখে দিয়েছি সিদ্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য।
এরপর পেঁয়াজ সিদ্ধ হয়ে গেলে একে একে কচুর লতি, সিদ্ধ করা কাঁঠালের বিচি, চিংড়ি ও শুটকি মাছ দিয়ে মিডিয়াম আঁচে রেখে দিয়েছি কয়েক মিনিটের জন্য।
এরপর গুঁড়া মসলাগুলো দিয়ে কয়েক মিনিট অল্প আঁচে রেখে দিয়েছি।
এরপর নাগা মরিচের পিকল দিয়ে দিয়েছি।
এরপর ভালোভাবে মাখিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দেড় কাপ পানি যোগ করে দিয়েছি। এরপর ফুল আঁচে রেখে দিয়েছি ৬-৭ মিনিটের জন্য।
এরপর পানি প্রায় শুকিয়ে গেলে নাগা মরিচ গুলো দিয়ে দিয়েছি।
এরপর অল্প আঁচে কয়েক মিনিট রেখে ধনেপাতা যোগ করে আমার রান্না শেষ করেছি।
হয়ে গেল আমার চিংড়ি, শুঁটকি ও কাঠালের বিচি দিয়ে মজার কচুর লতির রেসিপি।
| Photographer | @tangera |
|---|---|
| Device | I phone 13 Pro Max |
বন্ধুরা এটিই ছিল আমার আজকের আয়োজন।আশাকরি আপনাদের ভালো লেগেছে।
পরবর্তীতে নতুন কিছু নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে।
ধন্যবাদ,
👉 আমাদের discord চ্যানেল এ JOIN করুন :
VOTE @bangla.witness as witness
OR
চিংড়ি শুটকী কাঠাঁলের বিচি ও লতি দিয়ে অনেক বার রান্না করে খেয়েছি। কিন্তু সত্যি বলছি আপু আপনি যেভাবে রান্না করে আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন সেভাবে কখনও রান্ন করে খাওয়া হয় নাই। আপনি তো দেখছি অনেক সুন্দর করে মাখিয়ে নিয়ে রান্না করেছেন। আপনার রান্না করা রেসিপিটি বেশ সুস্বাদু হয়েছে বলে আমার মনে হয়। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আমার মা ও এভাবে কাঁঠালের বিচি দিয়ে শুটকি ও লতি দিয়ে রান্না করে আমার কাছে খেতে বেশ ভালো লাগে। আর যদি এভাবে নাগা মরিচ দেওয়া হয় তাহলে সুন্দর ঘ্রান বের হয়।যাই হোক রেসিপির কালার দেখেই মনে হচ্ছে খেতে বেশ দারুন হয়েছে।প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দর করে দেখিয়েছেন। ধন্যবাদ
আমার মনে হয় আপনার শেয়ার করা এই রেসিপির মাধ্যমে আমি নতুন একটি রেসিপির সাথে পরিচিত হলাম। চিংড়ি এবং শুটকি মাছ পরিচিত তবে নাগা মরিচ দিয়ে তৈরি কোন রেসিপি খাওয়া হয়নি। পরিবেশন করা রেসিপির ছবি দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে।
কাঁঠালের বিচি চিংড়ি মাছ শুটকি কচুর লতির মজাদার একটি রেসিপি প্রস্তুত করেছেন। কচুর লতি কাঁঠালের বেশি এবং চিংড়ি মাছ আমার খুবই ফেভারিট এভাবে রেসিপি প্রস্তুত করে বেশ কিছুদিন আগে একবার খেয়েছিলাম।
আপনার প্রস্তুত করার রেসিপি দেখে খুব লোভ হচ্ছে খেতে নিশ্চয়ই খুব মজা হবে।
আমেরিকান অতিথীরা নিশ্চয়ই খুব মজা করে খেয়েছে।
প্রথমে বলতে হচ্ছে আপনার ডেকোরেশন সম্পর্কে। আপনি খুবই সুন্দরভাবে এটিকে ডেকোরেশন করেছেন৷ এর ডেকোরেশন এর কারণে এর স্বাদ আরো বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছে৷ একই সাথে চিংড়ি, শুটকি ও কাঁঠালের বিচি দিয়ে তৈরি এই রেসিপিটি একদম ইউনিক। কখনো এ ধরনের রেসিপি দেখা হয়নি এবং খাওয়া হয়নি৷ এরকম ইউনিক রেসিপি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে৷
চিংড়ি দিয়ে কচুর লতি এমনিতেই খেতে ভালো লাগে। আপনি তো তার সঙ্গে আবার চ্যাপা শুটকি এবং নাগামরিচের আচারও এড করেছেন। তাছাড়া আপনার রেসিপির কালার দেখেই বোঝা যাচ্ছে খেতে অনেক সুস্বাদু হয়েছিল। এই সেই চিংড়ি বাছতে আপনার অনেক সময় লেগেছিল। যাইহোক আপু রেসিপি কিন্তু খুব লোভনীয় লাগছে দেখতে।
আপু আপনি খুব চমৎকার একটি রেসিপি তৈরি করেছেন। যদিও এই রেসিপিটি তৈরি করেছিলেন, আপনার খালা শাশুড়ির জন্য। যেহেতু তিনি এই রেসিপিটি খেতে খুব ভালোবাসেন। কচুর লতি, চিংড়ি মাছ, কাঁঠালের বিচি ও শুটকি দিয়ে খুবই সুন্দর করে এই রেসিপিটি আপনি তৈরি করেছেন। রেসিপিটি তৈরি প্রতিটা ধাপ খুব চমৎকারভাবে আপনি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
আপু এই রেসিপির কথা বলেছিলেন।সকাল সকাল দেখেই তো খেতে ইচ্ছে করছে।বোম্বাই মরিচ দিয়েছেন,উহু,ঝাল ঝাল দারুন মজার রেসিপি। এই রেসিপিটি আমিও করি তবে চিংড়ি মাছ আর শুঁটকি দুটোই একসাথে দিয়ে কখনও করিনি।আলাদা আলাদা করেছি। আর খুব মজা।আপনার রেসিপি দেখে লোভ লেগে গেলো আপু।আমি দুটো একসাথে দিয়ে একদিন রান্না করবো আশাকরি। মজার এই রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু আপনি আজকে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন চিংড়ি শুঁটকি ও কাঠালের বিচি দিয়ে কচুর লতির রেসিপি তৈরি। আসলে অনেকগুলো সবজি বা মাছ যদি একসাথে রান্না করা যায় খেতে বেশ মজাই লাগে। আসলে এর আগে কচুর লতি রান্না করে খেয়েছি বেশ ভালই লাগে আপু কচুর লতি মাছ দিয়ে রান্না করলে। আপনার তৈরি রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে খেতে বেশ সুস্বাদু হবে। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর ভাবে রেসিপি তৈরীর স্টেপগুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ইস!!!সবাই শুধু চিংড়ি দিয়ে কচুর লতির রেসিপি দিচ্ছে।আপনিও দেখছি খুব সুন্দর করে চিংড়ি শুটকি ও কাঁঠালের বিচি দিয়ে কচুর লতি রান্না করেছেন। কচুর লতির রেসিপি দেখলেই আমার লোভ লাগে। দেখে মনে হচ্ছে খুবই সুস্বাদু হয়েছে খেতে।