জীবন, মৃত্যু ও পরকাল - পর্বঃ ৪
আসসালামুআলাইকুম
বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন ? আশা করি ভালই আছেন, আমিও আলহামদুল্লিাহ ভাল আছি। জীবন, মৃত্যু ও পরকাল নিয়ে চতুর্থ পর্বে হাজির হয়ে গেলাম।আজকের পর্বে মৃত্যুর পর আমাদের সাথে যা ঘটে তা নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করব। আপনারা হয়তো ভাবতে পারেন এ কথাগুলো আমরা সকলেই জানি।হ্যাঁ আমরা কম বেশি সকলেই এ ব্যাপারগুলো জানি। সত্য কথা বলতে কি আমরা এগুলো সকলেই জানি কিন্তু আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমরা এগুলো যত শুনব এবং জানবো ততই আমাদের মনগুলো নরম হবে এবং আল্লাহর দিকে বেশি ঝুঁকে যেতে পারব। তাই আমার এই প্রচেষ্ঠা। আশা করি আজকের পর্বটিও আপনাদের ভাল লাগবে।চলুন চলে যাওয়া যাক তাহলে মূল পর্বে।
গত পর্বে আপনাদের সাথে আলোচনা করেছিলাম কিভাবে মালাকুল মউত ভালো ও মন্দ মানুষের জান কবজ করে অর্থাৎ শরীর থেকে কিভাবে রুহ বের করে নিয়ে যায়।এরপর রুহ গুলো ঊর্ধ্ব আকাশে নিয়ে যাওয়া হয়। ভালো রুহ গুলো যখন ঊর্ধ্ব আকাশে নিয়ে যাওয়া হয় তখন চারিপাশে সুবাস ছড়িয়ে যায়। তখন আকাশে পাহারাদার ফেরেশ্তারা জিজ্ঞাসা করেন এটা কার রুহ এত সুন্দর সুগন্ধ বের হচ্ছে।তখন তাঁর নাম বলা হয় এটা তাঁর রুহ। তখন রুহগুলো বিমুগ্ধ হয়ে আকাশের অপরূপ সৌন্দর্য ও রহস্যগুলো উপভোগ করে যা কখনো সে কল্পনাও করেনি। এক ভিন্ন জগতে পদার্পণ ঘটে তার। এরপর ইল্লিইন এ তার নামটি রেজিস্টার করা হয় যেখানে ভালো মানুষের আত্মা গুলো থাকে, যা কুরআন থেকে আমরা পেয়েছি। এরপর রুহ টিকে আবার তার শরীরে দিয়ে দেওয়া হয়।এরই মধ্যে তার গোসল, দাফন সম্পন্ন করে কবরে নামিয়ে দেয়া হয়। এরপর লোকজন যখন কবর দিয়ে চলে আসে তখন মৃত ব্যক্তি নাকি তাদের পায়ের শব্দ পর্যন্ত শুনতে পায়। মৃত ব্যক্তি তখন তাঁর চোখ খুলে। চোখ খুলে একটু খুশি হয় কারণ সে মনে করে যে এতক্ষণ স্বপ্ন দেখেছিল, সে মারা যায়নি। এরপর সে তাঁর শরীরে দেখে কাফন দিয়ে জড়ানো তখন সে খুব ভয় পায়। তখন চিৎকার করে কেঁদে ওঠে এবং তখন সে বুঝতে পারে এটি স্বপ্ন ছিল না,সত্যিই সে মারা গিয়েছে।
তদ্রুপ খারাপ ব্যক্তিটির রুহটিও ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন তার রুহ থেকে প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তখন ফেরেশতারা জিজ্ঞাসা করেন এটি কার রুহ? তখন তার নাম ধরে বলা হয় এটি ওমুকের রুহ।তখন ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দিতে থাকে। এরপর তার নামটি সিজ্জীল রেজিস্ট্রেশন করা হয় যেখানে খারাপ মানুষদের আত্মা থাকে। এরপর ওই রুহ টিকে উপর থেকে ফেলে দেওয়া হয়।রুহ আবার তার শরীরে চলে আসে।কেউ কেউ বলেছেন ওই সময় মৃত ব্যক্তি সবকিছু বুঝতে পারে। গোসল করানোর সময় ,কাফন পরানোর সময়,কবরে নামানোর সময় চিৎকার করে কাঁদতে থাকে।বলে আমাকে কবরে একা রেখে যেও না। কিন্তু তার এই কান্না কেউ শুনতে পায়না। সবাই যখন কবর দিয়ে চলে যায় তারপর তার সাথে ঘটে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটনা। পরবর্তী পর্বে আপনাদের সাথে আলোচনা করব।
আপনারা হয়তো ভাবতে পারেন যাঁদের কবর হয়না তাদের কি হয়? যে যেভাবে মৃত্যুবরণ করুক না কেন? পানিতে ডুবে মরে লাশ হয়ে হারিয়ে গেলে বা কোন জন্তু জানোয়ার খেয়ে ফেললে, আগুনে পুরে ছাই হয়ে গেলেও সবার ক্ষেত্রে একই হয। মৃত্যুর সাথে সাথেই রুহ ইল্লিইনও সিজ্জিল এ রেজিস্ট্রেশন করার পর তাদেরকে আবার একটি শরীর গঠন করে দেওয়া হয় তখন রুহ আবার সেই শরীরে চলে যায়। এরপর সেই ব্যক্তি ভালো হলে তার জন্য থাকে অফুরন্ত সুখ, আর যে ব্যক্তি খারাপ তার কষ্টের সীমা থাকেনা। একের পর এক ভয়ানক আজাব তার সামনে আসতে থাকে। পরবর্তী পর্বে এগুলো আলোচনা করব।
বন্ধুরা এটিই ছিল আমার আজকের আয়োজন। আমার এই ক্ষুদ্র জ্ঞানের পরিসর থেকে এতোটুকুই আলোচনা করলাম।আশা করি আপনাদের ভাল লেগেছে। পরবর্তীতে নতুন কিছু নিয়ে হাজির হব।
ধন্যবাদ,
👉 আমাদের discord চ্যানেল এ JOIN করুন :
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আপু আপনার জীবন, মৃত্যু ও পরকাল এর প্রতিটি পর্ব পড়ছি,যতই পড়েছি ততই মৃত্যুর কথা স্মরন হচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই শুনে আসতাম ভালো কাজ করে মারা গেলে মৃত্যুর পরবর্তী জীবন খুব সহজ হয়, আর খারাপ কাজ করলে কবরে অনেক শাস্তি পাওয়া যায়।আসলে যে ভাবেই মৃত্যু বরন করুক না কেন পরকালে সকল ভালো মন্দ কাজের হিসাব দিতে হবে।আসলে কবর কথাটা চিন্তা করলেই বেশ ভয় হয়।জানি না কে কোন অবস্থায় মারা যাই,সৃষ্টিকর্তার কাছে অনুরোধ আমাদের সকলের মৃত্যুর পরবর্তী জীবন সহজ করে দেক,এবং বেশি বেশি ভালো কাজ করার তৌফিক দান করুক।আমিন
মানুষের মৃত্যুর পরে ভালো মানুষগুলো রুহ থেকে ঘ্রাণ বের হয় আর যারা খারাপ মানুষ তাদের মৃত্যুর পরে তাদের রুহ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। আসলে এক্ষেত্রে যেমন কর্ম তেমন ফল যে যে কর্ম করবে সেই তার ফল পাবে। আজকের এই চতুর্থতম পর্ব থেকেও যথেষ্ট কিছু শিক্ষা লাভ করার আছে।
আমি অনেকবার মৃত লাশ কবরে শুয়ায়েছি। কারণ চাচাদের দেখা দেখি আমিও এই কাজে অংশগ্রহণ করি। কিছুদিন আগে আমার বড় আব্বার লাশ যখন কবরে রাখা হয়েছিল কেমন জানি একটি অন্যরকম অনুভব করছিলাম সকলে। যেহেতু রাতে দাফন করা হয়েছিল, তারপরে অনেক লোকসংখ্যা ছিল এবং সকলে বলেছিল গোরস্থানের সবাই কেমন জানি একটা ভালো লাগা অনুভব করছিল। তবে যাই হোক আপু আমি আপনার এই পোস্টগুলো প্রতিনিয়ত পড়ছি এবং নতুন নতুন ধারণা অর্জন করছি।
কথায় আছে যেমন কর্ম তেমন ফল।
অনেক সুন্দর ভাবে এই পর্বটি লিখেছেন আপু আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।
আসলে আমরা এখন এমন হয়ে গেছি মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আমরা মৃত্যুর কথা স্মরণ করি না।
পৃথিবীতে আমরা ক্ষণিকের জন্য মুসাফির তাই সবসময় ভালো কাজ করতে হবে যাতে পরকালে ভালো ফলাফল পাই।।
আপু সত্যি বলতে কি এই বিষয়গুলিকে জীবিতাবস্থায় ঠিক অনুভব করা যায়না আর সে কারনেই আমরা বেশির ভাগ মানুষ শয়তানের দ্বারা প্রতারিত হই। আমরা শুনি, জানি কিন্তু মানিনা আর ভুলে যাই। দুঃখের বিষয় যখন সত্যি সত্যি সময় শেষ হয়ে যাবে তখন আর কিছু করার থাকবেনা। ধন্যবাদ
@tipu curate
;) Holisss...
--
This is a manual curation from the @tipU Curation Project.
দেখতে দেখতে চারটি পর্ব শেয়ার করলেন ৷ আপনি এই পর্বে লিখেছেন রুহু অর্থাৎ আত্মা ৷ আমাদের শাস্ত্রীয় মতে যমদূত যখন দেহ থেকে আত্না কে নিয়ে যায় ৷ তখন ঈশ্বরের নিকট পর্দাপন করে ৷ এরপর যার সৎ সততা ভালো গননা করে ৷
আপনি একদম ঠিক বলেছেন মৃত্যুর পর পুনরুত্থান বিষয়টি আসলেই বাস্তব। প্রতিটি মানুষকে একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর এই মৃত্যুর পর মানুষের রুহ গুলো কিভাবে উর্ধ্ব আকাশে যায় এবং সেগুলো কিভাবে আবার রূপান্তরিত হয়ে শরীরে পরিণত হয় তা আপনার এই পোষ্টের মাধ্যমে জানতে পারলাম।
না জানি আমাদের বেলায় এই সময় গুলো কি রকম হবে। জানিনা আমাদের নাম ঠিক কোথায় রেজিস্ট্রি করা হবে। আপনি ঠিক বলেছেন আমরা অনেকেই এসব কথাগুলো জানি কিন্তু মানতে চায় না। তবে বারবার এই কথাগুলো শোনার কারণে আমাদের মনটা অনেকটাই নরম হয়ে আসবে। এজন্য মূলত বারবার একই কথাগুলো শুনা বা পড়া। ধন্যবাদ আপনাকে এই সুন্দর পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
Hi, @tangera,
Thank you for your contribution to the Steem ecosystem.
Your post was picked for curation by @rex-sumon.
Please consider voting for our witness, setting us as a proxy,
or delegate to @ecosynthesizer to earn 100% of the curation rewards!
3000SP | 4000SP | 5000SP | 10000SP | 100000SP