ঈদের কেনাকাটার মাধ্যমে ব্যস্তময় একটি দিন কেটে গেল
আসসালামুআলাইকুম ,
সবাই কেমন আছেন ? আশা করি ভালই আছেন, আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।আজ সারাদিন কেটেছে ঈদের শপিং করতে করতে।যদিও আমার শপিং করতে ভাল লাগেনা, কিন্তু ঈদ বলে কথা শপিং তো করতেই হবে। পরিবারের সকলকে নিয়েই লন্ডন গ্রিন স্ট্রীট এ শপিং করতে গিয়েছিলম। সাথে ছিল আমার ছোট ভাসুর ও আর তার পরিবার।পরিবারের সকলে মিলে শপিং করার মজাই আলাদা।সকাল ১১:৩০ এ বের হয়েছিলাম আর পৌঁছেছি ইফতারের এক ঘন্টা আগে অর্থ্যাৎ ৬:৩০। ইফতার বানানোর সরঞ্জাম সবকিছুই আগে থেকে রেডি ছিল তাই খুব দ্রুত ১ ঘন্টার মধ্যেই সবকিছু শেষ করতে পেরেছিলাম।
সবাই মিলে ট্রেনে গিয়েছিলাম গ্রিন স্ট্রীট এ। গ্রিন স্ট্রীট এ গেলে মনে হয়না এটি ইংল্যান্ড, মনে হয় বাংলাদেশেই আছি।কারন এখানে বেশি সুন্দর সুন্দর ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানী ড্রেসগুলো পাওয়া যায়। এ কারনেই এখানে সমস্ত বাংলাদেশি,পাকিস্তানী ও ইন্ডিয়ান মুসলমানরা আসে শপিং করতে।তবে সবচেয়ে বেশি আসে বাংলাদেশিরা।শুধু ড্রেস ই এখানে পাওয়া যায়না, জুতা, স্যান্ডেল, কসমেটিকস জুয়েলারি থেকে শুরু করে, গ্রোসারি, মিষ্টির দোকানগুলো এক কথায় যা আপনি চান সব কিছুই এখানে রয়েছে।
প্রথমেই একটি ইসলামিক শপে ঢুকলাম। সেখান থেকে বাচ্চাদের জন্য কিছু হিজাব আরবি পড়ার জন্য, কিছু সুইটস, কিছু হালাল কসমেটিকস আর একটি চমৎকার অর্থসহ একটি কোরআন শরিফ কিনে ফেললাম। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৫০০ টাকা নিয়েছে এই কোরআন। ভেতরের ছাপা অক্ষরগুলো অনেক পরিষ্কার ও স্পষ্ট, আমার খুব ভাল লেগেছে তাই কিনে ফেললাম।
এরপর কিনে ফেললাম মা ও মেয়েদের জুতা, ড্রেস, জুয়েলারী সহ ঈদের যাবতীয় সরঞ্জাম।
এরপর গেলাম মিষ্টির দোকানে। এখানে আসলে মিষ্টি অবশ্যই কেনা হয় যদিও আমি বেশি মিষ্টি পছন্দ করিনা, হাজবেন্ড পছন্দ করে। আমি শুধু রসমালাই এবং রসগোল্লাহ পছন্দ করি। যাই হোক আমার পছন্দের রসগোল্লাহ, বাচ্চাদের পছন্দের কিছু বিস্কুট আর হাজবেন্ডের অতি পছন্দের জিলাপি কিনে ঘরে ফিরলাম। হাজবেন্ড জিলাপি খুব পছন্দ করে, ইফতারী শেষে তাঁর জিলাপি অবশ্যই লাগবে। ১ কেজি জিলাপির দাম নিল ১০ পাউন্ড অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকার ১৫০০ টাকার মত।সবকিছুরই দাম আকাশ ছোয়া, আমার ড্রেসের দাম নিয়েছে বাংলাদেশি টাকার প্রায় ২৫,০০০ (£220 ) এর মত।কি আর করা ? একটি পছন্দ হলে অন্যটি আর ভাল লাগেনা। একটু গর্জিয়াসের মধ্যেই কিনেছি কারন সামনে বড় ভাসুরের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান আসছে সেখানে অনেক ড্রেসের দরকার হবে।যাইহোক অবশেষে ঈদের কেনাকাটা সকাল সকাল শেষ করে ফেললাম। কেনাকাটার ঝামেলা এখন শেষ।এখন শুধু অপেক্ষা ঈদের।
| Photographer | @tangera |
|---|---|
| Device | I phone 13 Pro Max |
বন্ধুরা এটিই ছিল আমার আজকের আয়োজন।আশাকরি আপনাদের ভালো লেগেছে।
পরবর্তীতে নতুন কিছু নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে।
ধন্যবাদ,
👉 আমাদের discord চ্যানেল এ JOIN করুন :
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আপু আপনার পোস্টটি দেখেই বুঝা যাচ্ছে যে লন্ডনে বেশ স্বাচ্ছন্দে শপিং করা যায়। কি সুন্দর ট্রেনে করে যেয়ে শপিং করে নিলেন। সেই সকালে যেয়ে বিকালে ফিরলেন। প্রথমে বাচ্চাদের যাবতীয় জিনিস কিনে নিলেন। তার পর আপনার মায়ের আপনার আর ভাসুরের পরিবারের শপিং শেষ করলেন। আমার কিন্তু আপনার শপিং দেখে ভালই লাগছে। আসলে বাংলাদেশে এত স্বাচ্ছন্দে শপিং করা সম্ভব হয় না। ধন্যবাদ আপু।
আপু এটা তো আকাশছোঁয়া থেকেও মারাত্মতক দাম। একটা ড্রেসের দাম ২৫ হাজার টাকা। যাইহোক আপু যেহেতু নিয়েছেন নিশ্চয় অনেক সুন্দর হবে যদি আপনাদের ঈদের শপিং এর ছবি দিতেন খুব ভালো হতো দেখতে পেতাম। জি আপু শপিং টা দেখে মনে হচ্ছে যেন একেবারে বাংলাদেশি একটি শপিং মল। সবকিছু খোলামেলাভাবে খুব সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে রেখেছে। জিলিপির দামও দেখছি অনেক বেশি আপু। বুঝা যাচ্ছে সেখানে সব কিছুর দাম ও অনেক বেশি।
ঈদের কেনাকাটা করে বেশ রিলাক্সে আছেন আপু।এটা খুব ঝামেলার একটি কাজ।তবে পরিবারের সবাই মিলে গেলে আনন্দ একটু বেশিই হয়।শপিং করতে আমার ভাল লাগে কিন্তু ভীড় ভাল লাগে না।আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে সেখানে তেমন ভীড় মনে হলো না।যাক ভালোই হয়েছে আগে আগেই কেনাকাটা শেষ করে ফেললেন।ধন্যবাদ আপু শেয়ার করার জন্য।
আপু আপনি আপনার ছোট ভাসুর এবং তার পরিবার নিয়ে লন্ডন গ্রীন স্ট্রীট এ শপিং করতে গিয়েছিলেন। একটা বিষয় শুনে ভালো লাগলো সেখানে বাংলাদেশিরা সবাই শপিং করতে আসে,যেহেতু এখানে সবকিছু পাওয়া যায়। কিন্তু এখানে জিনিসের দাম এত ব্যয়বহুল। একটি কোরআন শরীফের দাম ৩৫০০ টাকা! আবার কি? এক কেজি জিলাপির দাম ১৫০০ টাকা! শুনে তো আমি হতবাক হয়ে গেলাম। যাক ভাগ্যিস বাংলাদেশে এত দাম না, এমনিতেই আমি মিষ্টি খেতে পছন্দ করি, এত দাম হলে আমার আর কখনো মিষ্টি খাওয়াই হত না। তবে শাড়ির দামটা ঠিক আছে একটু ভালো শাড়ি কিনলে দাম একটু বেশি পড়বেই।
বাহ সব জায়গায় দেখছি সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। সত্যি বলতেই আপু আপনার মত আমিও মিষ্টি পছন্দ করি তার রসগোল্লা ও রসমালাই পছন্দ করি। আপনার ঈদের কেনাকাটা দেখে বেশ ভালো লাগলো আপু।
প্রথমত বলবো আপু আপনি সেই দুরে লন্ডনে থাকার জন্য ৷ আমরা অনেক নতুন বিষয়ে নতুন পরিবেশ আবহাওয়া, এছাড়াও আমাদের বাংলাদেশের অনেক কিছুর দর দামের পার্থক ৷ কত কিছু জানতে পারছি সত্যি এটা অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার ৷
যা হোক পরিবার মিলে দেখি লন্ডন গ্রিন স্ট্রীট এ শপিং মলে অনেক কিছু কেনাকাটা করেছেন ৷ বেশ ভালো লাগলো কেনাকাটার মুহূর্ত গুলো দেখে ৷ ভালো কাজ করেছেন মেয়েদের জন্য আপনাদের ধর্মের ইসলামিক শপে আরবি পড়ার বই কিনেছেন ৷ এছাড়াও জুতা , জুয়েলারি ড্রেস মিষ্টি জাতীয় খাবার ৷ সবমিলে দারুন ভাবে কাচিয়েছেন ৷
ঈদের কেনাকাটা হয়ে গেল তাহলে।তবে সেখানে যে বাংলাদেশি মানুষদের প্রয়োজনীয় সবকিছু পাওয়া যায় তা জেনে খুশি হলাম আপু।কারণ পছন্দমত সবকিছু নিতে পারা যায়।আর আমি নিজেও মিষ্টি খুব বেশি পছন্দ করি না,আমার হাজব্যন্ডই বিভিন্নরকম মিষ্টি খেতে পছন্দ করে।আমিও আপনার মত রসমালাই, রসগোল্লা,সন্দেশ পছন্দ করি।আপনার ঈদের জামা বাংলাদেশি টাকায় ২৫০০০টাকা,অবাক হয়ে গেলাম আপু।তবে যেহেতু একটা বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিয়েছেন সেটা ভালোই হয়েছে।যাইহোক অগ্রিম শুভেচ্ছা রইল।
ঠিক বলেছেন আপু, পরিবারের সবাই মিলে শপিং করার মজাই আলাদা। তবে আবার সবার জন্য সবকিছু কেনাকাটাতে সময় একটু বেশি লাগে। কোরআন শরীফটা অনেক বেশি সুন্দর হয়েছে। আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। তবে সবকিছুর দাম শুনে কিছুটা অবাক হলাম। ভালো জিনিসের দাম একটু বেশি হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এখানে দেখছি অনেক বেশি। মুহূর্তগুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
এটা জেনে ভালো লাগলো যে ট্রেনে করে অবশেষে গ্রিন স্ট্রীট গিয়ে ঈদের কেনাকাটা করেছেন দেখছি। যেহেতু ঈদ সামনে চলেই এসেছে অবশ্যই কেনাকাটা করতে হবে। সেখানে গিয়ে আপনার একদম বাংলাদেশের মতোই মনে হয়েছে এটা ভেবেই ভালো লাগছে ইংল্যান্ডের বুকে ছোট্ট টুকরো বাংলাদেশ ভাবতেই অবাক লাগছে। যাইহোক আপনাদের কেনাকাটা সুন্দর মুহূর্তটা দেখে খুবই ভালো লাগলো। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
বাপ রে বাপ ১৫০০ টাকা কেজি জিলাপি, আমাদের এখানে বাজারে একশো থেকে দেড়শো টাকা হলে সেই সুস্বাদু জিলাপি পাওয়া যায়। হয়তো বড় শহরে কেজিতে কিছুটা দাম বেশি হতে পারে। যাইহোক কেনাকাটা তাহলে সবার আগে করেই ফেললেন। ভালোই লাগলো আপনার ব্লগটা পড়ে।
শুভেচ্ছা রইল আপু।