শিশু শিক্ষা
নমস্কার বন্ধুরা,
আশা করি সবাই ভালো আছেন।সুস্থ আছেন।আজ আমি আপনাদের সঙ্গে একটা খুব সুন্দর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছি । আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
কিছুদিন আগে সিটি সেন্টার গিয়েছিলাম শপিং করতে। সিটি সেন্টার শপিং মলটি রাজারহাট নিউটাউনের দিকে। আমাদের বাড়ি থেকে সিটি সেন্টার যেতে প্রায় আধঘন্টা মত লাগে। আমরা বিকেল বেলার দিকে বেরিয়ে ছিলাম। সেখানে গিয়ে বেশ কিছু কেনাকাটা করার পর ভাবলাম যে কিছুক্ষণ বসা যাক। তাই টি জংশন থেকে এক কাপ আদ্রাক চা নিয়ে একটু সময় কাটানোর জন্য একটি সিটে বসলাম।
এই সিটি সেন্টারে অনেক বাচ্চা আসে। কারণ এই জায়গাটা বাচ্চাদের জন্য খুব সুন্দর একটা জায়গা। কারণ জায়গাটা বেশ খোলামেলা আর বেশ খোলামেলা থাকার জন্য অনেক বাচ্চা এখানে দৌড়াদৌড়ি করতে পারে ।তাই এই শপিংমলের গ্রাউন্ডে বসলে বেশ ভালোই লাগবে সবারই।
চা খেতে খেতে এক বন্ধুর সাথে গল্প করতে করতে হঠাৎ দেখলাম একটি তিন থেকে চার বছরের একটি বাচ্চা মেয়ে ছোট ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা করছে ।হঠাৎ করে দৌড়াতে গিয়ে তার পায়ের সামনে একটা মাটির চায়ের কাপ থাকাতে সেটা পড়ে গিয়ে ভেঙে যায় । তার আগে একটা কথা বলে নিই বাচ্চাটির সামনে বাচ্চাটির বাবা ও ছিল। কাপটা ভেঙে যাওয়াতে সাথে সাথে বাচ্চা মেয়েটি তার বাবার দিকে তাকাতে তার বাবা তাকে বললন যে কাপটা তুলে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আসতে। এবং মেয়েটি কি সুন্দর ভাবে কাপের টুকরো গুলো নিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আসলো আমি পুরো ব্যাপারটাতে কিছুক্ষণের জন্য অবাকই হয়ে গেছিলাম ,যে কত সুন্দর ভাবে বাবাটি তার বাচ্চাটিকে শিক্ষা দিলেন যে কোনো জিনিস ভেঙ্গে গেলে সে জিনিসটিকে সঙ্গে সঙ্গে তুলে সেটিকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা উচিত।
এখান থেকে আমি একটা কথাই বলবো যে প্রত্যেকটি বাবা-মায়ের উচিত এত সুন্দর ভাবে বাচ্চাকে শেখানো । আজ হয়তো সেই বাচ্চাটির বাবা নিজে কাপের টুকরো গুলো তুলে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আসতে পারতো এবং এই জিনিসটি আমি আজকালকার প্রত্যেকটি বাবা-মায়ের মধ্যেও দেখেছি যে কোনো কাজ তাদেরকে দিয়ে না করিয়ে নিজে করারই চেষ্টা করেন ।এতে করে একটা জিনিস বুঝেছি তে ছোটবেলার যে শেখাটা সেই শেখাটা কিন্তু আর হয়ে ওঠে না।কারণ বাচ্চারা ছোটো থেকে যেটা শিখবে সেটাই বড় হয়ে করবে ।যেভাবে আচার-আচরণ করতে শেখানো হবে সেরকমই করবে। যেভাবে কথা বলানো শেখানো হবে সেভাবেই কথা বলবে ।হ্যাঁ এখনকার ডিজিটাল যুগে বাচ্চারা অনেক বেশি স্মার্ট তবুও কিছু শিক্ষা এমন থাকে যা সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে থাকে যেমন এই কাজটি যেখানে বাচ্চা মেয়েটির হাত থেকে জিনিস পড়ে ভেঙে যাওয়াতেও উনি সামনে এসে কোনো রকম সাহায্য না করে মেয়েটিকে দিয়েই জিনিসটা ফেলালো । এই ব্যাপারটা আমার কাছে এত ভালো লেগেছিল যে আপনাদের সাথে শেয়ার না করে থাকতে পারলাম না ।আর তাছাড়া এই ঘটনাটি দেখতে দেখতে ওই মুহূর্তটা ছবি না তুললেও বাচ্চাটির ছবি তোলার চেষ্টা করেছি ।এবং সেটাই আপনাদের সাথে ভাগ করে নিলাম।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |

দিদি এটা খুব সত্যি কথা আমরা কিছু করতে হলে নিজেরা সেই কাজটা করে বাচ্চাদের শেখাই।আমাদের বাঙালি মা-বাবারা এমনই বেশীর ভাগ।আপনার কথা একদম ঠিক নিজে কোনকিছু না করে দিয়ে বাচ্চাদের দিয়ে করানোর অভ্যাস করলে এরা ঠিক শিখবে।আর ছোট সময়ের কোন শিক্ষা বাচ্চারা কখনো ভোলে না।ওটাই অভ্যাসে পরিনত হয়।অনেক ভালো লাগলো দিদি আপনার অনুভূতি গুলো পড়ে। শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
প্রতিটি বাবা মায়ের উচিত শিশুদেরকে এমন সুশিক্ষা দেওয়া। কারণ বাচ্চারা ছোট থেকে যা শিখবে বড় হয়ে সেটাই করবে। তবে আমাদের দেশে এগুলো কখনোই চোখে পড়েনি আমার। এই ছোট্ট মেয়েটির কাজ দেখে সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম। সর্বোপরি এই মেয়ের মা বাবাকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পোস্টটি পড়ে সত্যিই খুব ভালো লাগলো দিদি।
বাবা মায়ের কাছ থেকে বাচ্চারা সবসময় সঠিক শিক্ষা পায়। আসলে সেই শিশুটির বাবা-মা সচেতন জন্যই নিজের বাচ্চাকে সঠিক শিক্ষা দিয়েছেন। অনেকে আছে বাচ্চাকে সঠিক শিক্ষা দেন না। তাইতো তারা পরবর্তীতে গিয়ে আর কখনোই নিজেকে শুধরাতে পারে না। বাচ্চাটির কাছ থেকে সত্যি অনেক কিছু শেখার আছে। অনেক ভালো লাগলো দিদি আপনার পোস্ট পড়ে।