শাহজান
নমস্কার বন্ধুরা,
সময়ের পালাবদলে একটা প্রশ্ন থেকে যায়,আমরা আসলেই কি ঠিক ছিএলাম?আজকে এই ব্যস্ততম জীবনে দাঁড়িয়ে ফেরার তো আসলেই কোনো পথ নেই তবুও ভাবনারা আসে।
শাহজাহান শেষ বয়সে
তাজমহল দেখতেন দূর থেকে—
যেন নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ভুল
সাদা পাথরে দাঁড়িয়ে আছে।
যে মানুষ একদিন
সমস্ত সাম্রাজ্যের দরজা খুলে দিতেন,
শেষে তার জন্য খোলা ছিল
শুধু একটি জানালা
আর যমুনার ওপারে
একটি মৃত ভালোবাসার ঠিকানা।
মমতাজ তখন ইতিহাস,
পর্যটকের বিস্ময়,
স্থাপত্যের নিখুঁত অনুপাত;
শুধু শাহজাহানের কাছে
তিনি ছিলেন
অসমাপ্ত একটি কথোপকথন।
সম্রাটেরা কাঁদলে
রাজদরবার তা লিখে রাখে না;
তাদের চোখের জলকে বলা হয়
রাজনৈতিক দুর্বলতা,
তাই তিনি হয়তো রাতে
নিঃশব্দে পাথরের দিকে তাকিয়ে থাকতেন।
তাজমহল ক্রমে আরও উজ্জ্বল হয়েছে,
আর তার জীবন
আরও অন্ধকার;
প্রেমের স্মৃতিস্তম্ভ বড় হতে হতে
প্রেমিকটিকেই ছোট করে দিয়েছে।
সন্তান সিংহাসন নিয়েছে,
প্রহরীরা দরজা বন্ধ করেছে,
রাজমুকুট চলে গেছে অন্য মাথায়—
কিন্তু যে শূন্যতার জন্য
তিনি এত সাদা পাথর জড়ো করেছিলেন,
তার কোনো উত্তরাধিকারী ছিল না।
মানুষ বলে,
তিনি ভালোবাসাকে অমর করেছেন;
হয়তো সত্যি—
কিন্তু অমরত্বও এক ধরনের শাস্তি,
যখন প্রিয় মানুষটি নেই
আর তার স্মৃতি প্রতিদিন
সূর্যের আলোয় আরও স্পষ্ট হয়।
শেষ রাতে শাহজাহান বুঝেছিলেন—
সাম্রাজ্য হারানো ততটা কষ্টের নয়,
যতটা কষ্ট
একটি মুখ আর কোনোদিন
ফিরে না আসার সত্য মেনে নেওয়া।
যমুনা তখনও বয়ে যাচ্ছিল,
তাজমহল তখনও সাদা,
আকাশে চাঁদ ছিল—
শুধু একজন বৃদ্ধ সম্রাটের কাছে
পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য
অসহ্য হয়ে উঠেছিল।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
