আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদের কে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। আমার সবজি চাষ বিষয়ে সাত নম্বর পর্ব নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি এই পর্বে আপনারা দেখতে পারবেন সবজির কাজগুলো যত্ন নেওয়ার কার্যক্রম যেখানে সবজি গাছগুলো আগাছা দমন করা এবং বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়া। আশা করি সম্পূর্ণ পোস্ট পড়বেন এবং অনেক কিছু জানতে পারবেন ও শিখতে পারবেন।
সবজির গাছগুলো দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকলো। আর এই সবজির গাছের পাশাপাশি তার আগাছাগুলো বৃদ্ধি পেতে থাকলো। পূর্বেই বলেছিলাম পুকুরের বাউরিতে প্রচন্ড পরিমাণে বন জঙ্গল বেঁধে যায়। বিভিন্ন গাছগাছড়া ও অন্যদিকে ঘাস জাতীয় আগাছা যেগুলো দিয়ে বাড়ন বান্দা হয়। আমার এই সবজি খেতে এ জাতীয় আগাছা সম্পূর্ণ পুকুর পাড় জুড়ে। আর তাই এখানে সবজি চাষ করা বেশ কঠিন। যখনই সবজির প্রত্যেকটা থানায় পানি দিয়ে যায় সবজি গাছ বৃদ্ধির পাশাপাশি আগাছা গুলো ডবল বৃদ্ধি হয়ে যায়। তাহের মধ্যে সবজি চাষ করতে হলে প্রতিনিয়ত খেয়াল রাখতে হয় যেমন গাছে সেচ ব্যবস্থা তেমনই আগাছা দমন। পাঁচ দিন পরে পুকুরপাড়ে এসে দেখি আগাছাগুলো অনেক বড় বড় হয়ে গেছে। প্রচন্ড এই গরমে আগাছা দমন করা বেশ কঠিন তারপরেও সকল করে চেষ্টা করছিলাম আগাছাগুলো দমন করে দেওয়ার জন্য আর সেভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করে পুকুরপাড়ে এসে উপস্থিত হলাম মাছের খাবার দেয়ার পর। ফটোগ্রাফি গুলোতে দেখতে পাচ্ছেন সবজির কাজগুলো যেন দেখা যাচ্ছে না আগাছার মধ্যে এমন ভাবে হারিয়ে গেছে। শুধুমাত্র পূর্বের যে একটি গাছ বেঁচে ছিল সেই গাছটা কুঞ্চি বেয়ে উপরে উঠেছে বলে দেখা যাচ্ছে।




Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
যেহেতু পুকুরের একটি পারে সম্পূর্ণ থানা করে সবজি বীজ লাগানো হয়েছে, প্রত্যেকটা থানায় যথেষ্ট চারা বের হয়েছে তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য একটি হাইসু দিয়ে কার্যক্রম শুরু করলাম। দেখতেই পারছেন ফটোগ্রাফিতে কার্যক্রম শুরু করেছি ১ পাস থেকে। অবশ্য সবজি গাছগুলোর মধ্যেও আগাছা জন্ম নিয়েছে তাই খুব সাবধানতার সাথে এগুলো হাত দিয়ে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম কারণ গাছের চারা গুলো উঠে আসতে পারে খুব সহজে তাই এখানে সাবধানতা একান্ত প্রয়োজন। গাছের চারা গুলো ঘন সবুজ যেহেতু পূর্বেই দেখেছেন জৈব সার প্রয়োগ করেছিলাম থানাগুলোতে এইজন্য ছাড়াগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে সার পেয়েছে বলেই গাছগুলো অনেক ঘন সবুজ হয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করি আমার এই প্রক্রিয়াটা সকলে গ্রহণ করবেন যারা সবজি চাষে আগ্রহী তাহলে খুব সুন্দর সবজি ফলাতে পারবেন বন জঙ্গলের মাঝেও।







Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
এই মুহূর্তে প্রচন্ড রোদ গরম শুরু হয়ে গেছে আর সকালের সূর্যের তাপ যেন সহ্য করা বড়ই কঠিন। তাই এক থেকে দুইটা থানা আশেপাশে পরিষ্কার করলাম আর পাশে একটি বাঁশঝাড় তৈরি করেছিলাম যেটা পূর্বে আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছিলাম, ঠিক তার নিচে বসে রেস্ট নিচ্ছিলাম। আর এভাবেই দীর্ঘ সময় ধরে আমি আমার কার্যক্রম চালাতে থাকলাম। আগাছা দমন করার সময় বেশ সাবধানতা অবলম্বন করতে হয় কারণ এখানে মাটি উঁচা নিচু রয়েছে। পাশাপাশি অনেক জায়গায় সাপের গর্ত থেকে থাকে। আমাদের এদিকে বিষাক্ত সাপের সমস্যা অনেক বেশি। তাই সর্বদিকে খেয়াল রেখেই কাজ চালিয়ে গেলাম। এদিকে অনেকে গরুর খাবার হিসেবে এই জাতীয় আগাছাগুলো কেটে নিয়ে যায় কিন্তু সব সময় মানুষ পাওয়া যায় না তাই নিজেই পরিষ্কার করে নিতে হচ্ছে। অবশ্য নিজেদের গরু নেই যার জন্য এগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না বরং কেটে কেটে একটি জায়গায় পালা দেয়া হচ্ছে পরবর্তীতে শুকিয়ে গেলে সেগুলো পুড়িয়ে পুরস্কার করে ফেলতে হবে।




Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
প্রাথমিক পর্যায়ে ফটোগুলো এবং লাস্টের ফটো দেখে বুঝতে পারবেন দীর্ঘ পরিশ্রমের পর কত সুন্দর ভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে সক্ষম হয়েছি সবজি গাছের আশেপাশের আগাছা গুলো। আর এভাবেই সবজি গাছের চারিপাশ একটি স্থান থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার করতে সক্ষম হলাম। যেহেতু সুন্দর একটি পরিকল্পনা নিয়ে আমি আমার কার্যক্রম শুরু করেছি তাই রোদ গরমে চেষ্টা করেছি এই পরিশ্রম করার জন্য। শুধু আগাছা দমন করেই সম্পূর্ণ নয় এরপরে গাছগুলো বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য সুযোগ সুবিধা করে দেওয়া, গাছের গোড়ায় বাঁশের কঞ্চি পুতে উপরে ওঠার সুবিধা করা, বান দেওয়ার ব্যবস্থা করা। এভাবে বিভিন্ন স্টেপ বাই স্টেপ আপনাদের মাঝে তুলে ধরব যেন খুব সহজেই এই কার্যক্রমের বিষয়টা আপনারা বুঝে নিতে পারেন এবং যারা এই কাজে আগ্রহী রয়েছেন তারা যেতে পারেন। কারণ আমি আশা করি এই সবজি গাছগুলো যদি সঠিক পর্যায়ে পরিচর্যা করে আমি সবজি ধরা পর্যন্ত ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকার সবজি অনায়াসে এখান থেকে খেতে পারবো। আমি বিক্রয় করাকে প্রাধান্য দিচ্ছি না শুধুমাত্র নিজেদের খাওয়ার জন্য অর্থাৎ বাজার থেকে যেন কিনতে না হয় ফরমালিনযুক্ত সবজি আর এখানে সম্পূর্ণ নিজের হাতে উৎপাদিত ফরমালিনমুক্ত সবজি পাওয়ার প্রত্যাশা। যাইহোক গাছগুলো বড় হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটা থানায় বেশ কিছুটা বাঁশের কঞ্চি পুতে দেওয়া হয়েছে। এতে দুইটা সুযোগ সুবিধা থেকে থাকে পুকুরপাড়ে এক পুকুর পাড়ে অনেক কুকুর ঘোরাঘুরি করে মাছ খাবার আশায়। সেই সমস্ত কুকুরের পায়ে তলায় পিষ্ট হয়ে অনেক গাছ নষ্ট হয়ে যায় তাই বাঁশের কঞ্চি পুতা থাকলে, কুকুরের পায়ে পৃষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়। আরেকটি বিষয় অনেক সময় বেখেয়ালি গরু-ছাগলের ঘাস কাটা লোকেরা প্রবেশ করে গাছগুলো কেটে নষ্ট করে ফেলতে পারে সেইদিক থেকে সেভ থাকে। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে গাছগুলো বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ পায় যখনই বাঁশের কঞ্চি পুতা থাকে। যাইহোক আগাছা দমন করা হলো ঠিক এভাবেই ৫-৬ দিন পর পর আগাছা দমন করে গাছগুলো বৃদ্ধির সহায়তা প্রদান করতে হবে পাশাপাশি শেষ ব্যবস্থা এবং হালকা ইউরিয়ার সার গোলানো পানি দিয়ে গাছগুলো দ্রুত বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে। পরবর্তী পর্যায়ের কার্যক্রম দেখতে পারবেন ৮ নম্বর পোস্টে।








Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স

পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Posted using SteemPro Mobile
পুকুর পাড়ে সবজি চাষ এটা কিন্তু অনেক ভালো একটা উদ্যোগ। বর্তমানে সবজির যে মূল তাতে এভাবে নিজের পুকুরের পাড়ে যদি সবজি চাষ করে খাওয়া যায় তাহলে নিজেদের জন্য অনেক ভালো। আপনি পুকুর পাড়ে যেসব সবজিগুলো লাগিয়েছেন এখনো বড় হয়নি মনে হচ্ছে। তবে এগুলো পরিচয় যার মাধ্যমে বড় হলে আপনার সবজির অভাব হবে না।
হ্যাঁ ভাই উদ্যোগটা বাস্তবায়ন করে থাকি মাঝেমধ্যে
পুকুর পাড়ে সবজি চাষ করা এগুলো কিন্তু ভালো উদ্যোগ। তবে এটি ঠিক বলেছেন পুকুর পাড়ে এমনিতে ঘাস এবং বন জঙ্গল বেশি হয়। এগুলো তত্ত্বাবধান করা অনেক কষ্টকর। যদি একসাথে পুকুরে মাছ চাষ করা হয় তাহলে সবজির দিকে খেয়াল থাকে। যদিও আপনার সবজি গাছগুলো এখন অনেক ছোট। যাইহোক এরকম ভালো উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
জি ভাই এতে আর্থিক লাভবান হওয়া যায়
পুকুর পাড়ে অনেক সুন্দর করে সবজি চাষ করেছেন। এটি কিন্তু ভালো উদ্যোগ ভাইয়া। একদিকে পুকুরে মাছ চাষ অন্যদিকে সবজি চাষ। তবে এটি ঠিক বলেছেন পুকুরপাড়ে বন্য গাছ এবং ঘাস বেশি হয়। আর এগুলো সুন্দরভাবে মেরামত করলে সবজি গুলো খুব ভালো হয়। তবে এখন আপনার গাছগুলো অনেক ছোট। আশা করি যত্ন নিলে এক সময় ভালো সবজি পাবেন। সুন্দর করে পোস্টটি করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
প্রতি বছর চেষ্টা করে থাকি কিছুটা হলে সবজি চাষ করার
ভাইয়া আপনি সত্যিই অনেক পরিশ্রমী একজন মানুষ। পুকুর পাড়ে সুন্দর করে সবজি চাষ করেছেন দেখে অনেক ভালো লাগলো। গাছগুলো মজবুত করার জন্য সুন্দর করে কঞ্চি দিয়ে দিয়েছেন দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে।
বেশি পরিশ্রমই নয় তবে যতটুক করি যথেষ্ট
সত্যি বলতে ভাইয়া আপনার পরিশ্রম গুলো দেখতে খুবই ভালো লাগে। তাছাড়া আমি গ্রামে বেড়ে ওঠা একজন মেয়ে। তাই গ্রামের পরিবেশে এই ধরনের শাকসবজির বাগান অনেক দেখেছি। নিজের হাতেই অনেক করেছি সবজি বাগান। তাই এ ধরনের সবজি বাগানের প্রতি আমার অনেক বেশি আকর্ষণ। তবে আপনার প্রতিনিয়ত সবজি বাগান নিয়ে ব্লগিং করা আমার দেখতে অনেক ভালো লাগে। অনেক ধন্যবাদ আমাদের সাথে পর্ব আকারে শেয়ার করার জন্য।
নিজে কিছু করার মধ্যে সার্থকতা থাকে আপু হয়তো সেটা আপনি জানেন
নিজেদের পুকুরপাড়ে সবজি চাষ করে ফরমালিন মুক্ত বেশ টাটকা সবজি খেতে পারছেন।গ্রামে থাকার এই হলো সুবিধা।ভালো লেগেছে আপনার কাজগুলো ।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
একদম ঠিক বলেছেন তবে চেষ্টা করলে সুযোগ সুবিধা মত যে কোন স্থানে করা সম্ভব।
পুকুর পাড়ে সবজি চাষের বেশ সুন্দর একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর আগের পর্বগুলো আমি দেখেছিলাম। আপনি বীজ পুতে ছিলেন। সেই বীজ থেকে বেশ সুন্দর ভাবেই চারা বের হয়েছে। আশা করি শিম গাছে বেশ সুন্দর শিম ধরবে বড় হয়ে। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
দোয়া করেন আশা করি শীতে অনেক সিম পাব