আজ - শুক্রবার
১৬ আষাঢ়, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
৩০ জুন, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ

হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। প্রথমে সকলকে জানাই পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক! পবিত্র ঈদ উপলক্ষে আজ আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি ঈদের শুভেচ্ছা নিয়ে, যেহেতু আপনারা সকলেই জানেন আমি প্রত্যেক শুক্রবারে আপনাদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়ে থাকি। আপনারা সকলেই আমার এই শুভেচ্ছা বার্তা সাদরে গ্রহণ করবেন। গতকালকের ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করার পূর্ব মুহূর্ত নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশা করি আপনারা খুব মনোযোগ সহকারে এসব পড়বেন এবং বিস্তারিত জানবেন তাই চলনা দেরি না করে এখনই বিস্তারিত আলোচনা শুরু করা যাক।
গতকাল ২৯ এ জুন ছিল পবিত্র ঈদুল আযহা। পবিত্র এই দিনের ঈদের শুভেচ্ছা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সকলকে জানাই ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক! আমরা সকলেই জানি পবিত্র এই দিনে কিছুটা আনন্দ, কিছুটা ত্যাগ, আবার কিছুটা রয়েছে আপনজনদের সাথে সহাদ্যপূর্ণ আচরণ, ধর্মীয় অনুভূতি ইত্যাদি। তবে গতকাল আমি কিভাবে নামাজ পড়তে যাওয়ার মুহূর্তটা অতিবাহিত করেছিলাম সেই নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। ঘুম থেকে উঠে আমি প্রথমে ফ্রেশ হয়ে নিলাম এরপরে সকলেই জানেন পবিত্র এই কোরবানির দিনে পশু কোরবানি দিতে হয়। আমাদেরও একটি নিজের বাড়ির গৃহপালিত পশু ছাগল কোরবানি ছিল। যা আমাদের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিল। অনেকেই জানি নিজের হাতে পোশা প্রাণী কোরবানি দেওয়ার সওয়াব একটু বেশি থেকে থাকে। বাড়িতে দুইটা খাসি ছাগল ছিল তার মধ্যে একটি কোরবানি দেওয়ার উদ্দেশ্য করেছিলাম এবং সেই ছাগলটাকে সকাল সাড়ে ছয়টার সময় গোসল করে দিয়েছিলাম। এরপর নিজেরা গোসল করে, নতুন পাঞ্জাবি পরে, নিজেদের মতো তৈরি হয়ে রওনা দিলাম ঈদগাঁয়ের দিকে। যেহেতু ঈদগায়ের দিকে যেতে আমাদের একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। ঈদগায়ে নামাজের সময়সূচী দেওয়া হয়েছিল সকাল সাড়ে সাতটার সময়,তাই নিজের ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে গোসল করে ছাগল গোসল করে একটু দেরি হয়ে গেছিল। তাই দ্রুত যাওয়ার জন্য আমরা মন স্থির করেছিলাম মুস্তাফিজুর দের বাড়ির পাশ দিয়ে শট রাস্তা দিয়ে যেতে পারি, তাই হাইরোড দিয়ে যাওয়া বাদ রেখে হেয়ারিং রাস্তা দিয়ে চলা শুরু করলাম। প্রথম রাস্তায় বের হয়ে শুনলাম আমাদের পাড়া থেকে লোকজন সব ঈদগায়ের দিকে চলে গেছে, মাত্র কয়েকজন রয়েছি আমরা। আমি আমার ভাই বিদ্যুৎ জিরো জিরো ওয়ান আর ইমন ভি ছাড়াও আরো কয়েকজন মিলে ঈদগায়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।আমরা পথ চলতে আগে পিছনে বেশ কয়েকজন লোক আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে গেছিল ঈদগায়ে নামাজ পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রথমে আপনাদের বলে রাখা উচিত আমাদের গ্রামটা অনেক বড় কিন্তু গ্রামে একটি মাত্র ঈদগাহ রয়েছে, অবশ্য মসজিদ রয়েছে চারটা মক্তব রয়েছে দুইটা। কখন জানি আমি আমাদের দলের সবার প্রথমে অবস্থান করছিলাম আর আগে পিছে ফটোগ্রাফি করছিলাম। হঠাৎ পিছন দিকে ফটোগ্রাফির উদ্দেশ্যে তাকিয়ে দেখি আমার পিছনে বেশ অনেক মানুষ হয়ে গেছে। কয়েকদিন ধরে কমবেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে কাঁচা রাস্তার দিকগুলো একটু পানি বেধে রয়েছে বা কাদা হয়ে রয়েছে। আমরা সবাই একটু দ্রুত চলার চেষ্টা করলাম যেন ঈদের নামাজ শুরু না হয়ে যায়। যাইহোক এই হেয়ারিং রাস্তা পার হয়ে হাইরোডে পা রাখলাম।




হয়তো আমি আপনাদের আগেই বলেছিলাম আমাদের গ্রামে একটি পার্ক রয়েছে। আমাদের গ্রামের এই পার্কটা পুকুরপাড়ের বাউড়ি নিয়ে অবস্থিত। তবে পুকুরের পাশ গুলো বেশ সুন্দর করে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলে ফুলে আর দীর্ঘ পুকুর এর জায়গা নিয়ে সুন্দর করে চারিপাশ ঘিরে দেয়া হয়েছে রাস্তার কল দিয়ে। আমরা সবাই গ্রামের এই পার্ককের পাশ দিয়ে চলতে থাকলাম।আমাদের গ্রামের এই পার্ক অনেক বড় তবে আমি এখানে কখনো ঈদ উদযাপন অথবা বিশেষ কোন আনন্দ আয়োজনে উপলক্ষে অবস্থান করি নাই কারণ এখানে ভালো পর্যায়ের চলাচল নিয়ে মানুষের আর অশ্লীলতা কখনোই আমি আমার জীবনে প্রাধান্য দেয়নি যার জন্য এখানে প্রবেশ করতে আমার একটু দ্বিধাবোধ রয়েছে বলে নিজের গ্রামের পার্কে ঘুরতে যায় না। শুধু ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার মুহূর্তে যার চোখে বাধছিল আর বিশেষ কোনো প্রয়োজনে এ পথ দিয়ে চলতে গেলে বাইরে থেকে যা চোখে বাধে এছাড়া ভেতরে কখনোই প্রবেশ করা হয় না আমার।




এরপর আমরা বাড়ি ছেড়ে এক কিলো পথ অতিক্রম করে চলে গেলাম। যাওয়ার পথে লক্ষ্য করে দেখলাম রাস্তাঘাটে তেমন বেশি আর লোকজন নেই। সব ঈদগায়ে পৌঁছে গেছে। কয়েকজন লোক খেয়াল করলাম আমাদের সামনে পিছে যুক্ত হচ্ছে ঈদগায় নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য,তবে সময় যেহেতু খুবই কম ছিল তারা খুব দ্রুত আমাদের মত চলতে থাকলো ঈদগাহের দিকে।


আরো কিছুটা পথ অতিক্রম করে আমরা ঈদগাহের দিকে পৌঁছে গেলাম। লক্ষ্য করলাম ঈদগাহের সামনে অনেকগুলো যানবাহন রয়েছে। কেউ মোটর অথবা ভ্যানে চড়ে ঈদগায়ে নামাজ পড়তে এসেছে। যেহেতু সকাল বেলায় সবাই বিভিন্ন কাজে ব্যস্ততার ফলে সময় করতে পারবে না বলেই যানবাহনে এসেছে। পাশাপাশি আমাদের মত অনেক মানুষ চারি পাশ দিয়ে দ্রুত ঈদগাহের দিকে আসার চেষ্টা করল। আর ঈদগাহের গেটের পাশে লক্ষ্য করলাম ছোট ছোট বাচ্চারা দাঁড়িয়ে রয়েছে হয়তো বাবা ভাইয়ের সাথে এসেছে। ছোটবেলায় আমরাও এমন ভাবে ঈদগায়ে যেতাম এবং ঈদগায়ের গেটের আশেপাশে অবস্থান করতাম,যখন নামাজ শেষ হতো তখন আবারো আব্বার সাথে বাড়ির দিকে রওনা দিতাম। ঠিক সেই স্মৃতিগুলো ভেসে আসলো মনের মধ্যে এই ছোট বাচ্চাদের দাঁড়িয়ে থাকা দেখে।


এরপর আল্লাহর নাম নিয়ে আমরা ঈদগায়ের গেটের মধ্যে প্রবেশ করলাম এবং লক্ষ্য করলাম সামনের সমস্ত কাতারগুলো লোকজনে পূর্ণ হয়ে গেছে। পিছনে দুইটি লাইন বাকি রয়েছে। আমাদের ঈদগাহ অনেক বড়, যার জন্য সম্পূর্ণ কাতার কোন ঈদে পূরণ হয় না। এরপরে আমরা লক্ষ্য করলাম পিছনে অনেক মানুষ ঈদের নামাজের জন্য আসছে এদিকে ইমাম সাহেব বারবার তাগিদ দিয়েছিল নামাজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন, আর কয়েক মিনিট বাকি। যাইহোক দ্রুত যাওয়ার ফলে আমরা নামাজ শুরু হওয়ার পূর্বে অবস্থান করতে পেরেছি ঈদগাঁও ময়দানে এটাই হাজার শুকরিয়া মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট। পরবর্তী বিষয়গুলো আপনাদের মাঝে খুব শীঘ্রই উপস্থাপন করব। আশা করি নামাজের অনুভূতি এবং নামাজ শেষে চলে যাওয়ার অনুভূতি আপনারা আমার থেকে পেয়ে যাবেন, ততক্ষণ ভালো থাকুন সবাই। আবারও সকলকে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা ঈদ মোবারক! আল্লাহ হাফেজ।


পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ। |

ভাইয়া আপনাদের দিকে হালকা-পাতলা বৃষ্টি হয়েও আপনারা ঈদগাহেই ঈদের নামাজ পড়েছেন। আমার বাংলা ব্লগে বেশ কয়েকজন ভেরিফাইড ব্লগার আপনারা একসাথে নামাজ আদায় করেছেন। এটা শুনে খুব ভালো লাগলো। আপনার ঈদের নামাজের প্রস্তুতিমূলক ব্লগটি পরে ভালোই লাগলো। ধন্যবাদ ভাইয়া।
হ্যাঁ অনেক ব্লগার একসাথে নামাজ পড়েছি যেমন আমি আমার ভাই মুস্তাফিজুর ইমন মারুফ জাহিদ
প্রথমে আপনাকে পবিত্র ঈদুল আযহার অনেক অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানাই, ঈদ মোবারক । ঈদের মুহূর্ত গুলো নিরাপদে সুন্দর ভাবে কাটিয়েছেন জেনে খুব ভালো লাগলো। ঈদ মানে আনন্দ ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এই আশাবাদ ব্যক্ত করি। নামাজ শেষে সকলের সাথে কুশল বিনিময় মুহূর্ত গুলো সত্যি বেশ দুর্দান্ত হয়ে থাকে ভাই । এত চমৎকার পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
আপনাকেও জানাই ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক! সুন্দর মন্তব্য পড়ে খুশি হলাম
আসলে আমাদের বাড়ি থেকে ঈদগাহ ময়দান বেশ কিছুটা রাস্তা দূরে যাওয়ার কারণে আমাদেরকে অনেক সময় অতিক্রম করে সেখানে যেতে হয়। তারপরও আগের দিনে বৃষ্টি হবার কারণে রাস্তার অবস্থা অনেকটাই খারাপ ছিল।
হ্যাঁ বৃষ্টি হওয়ার কারণে বেশ কাদা হয়ে গেছিল। এদিকে দেরি হওয়ার কারণে তোমাদের পথ দিয়ে গেছি