রেসিপি: ঐতিহ্যবাহী পাটিসাপটা পিঠা তৈরি || প্রিয় লাজুক খ্যাঁকের জন্য ১০% বেনিফিসারী
আজ - শনিবার
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো ও সুস্থ রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ' কমিউনিটিতে কোয়ালিটি সম্পন্ন পোস্ট করুন এবং এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তুলুন। আসুন,করোনা মহামারীর সময় নিজেরা সজাগ ও সচেতন থাকি এবং পরিবার ও সমাজের মানুষদেরকে সজাগ সচেতন থাকার উৎসাহ প্রদান করে।
- পিঠার প্লেট হাতে নিয়ে আমার একটি ফটো।
| ১. | চিনি | হাফ কেজি |
| ২. | নারিকেলের ঝুড়ি | এক বাটি |
| ৩. | ময়দা | এক কেজি |
| ৪. | গুঁড়ো দুধ | একশো গ্রাম |
| ৫. | গরুর দুধ | এক পোয়া |
| ৬. | মসলা | পাঁচ খন্ড |
| ৭. | লবঙ্গ এলাচ | পরিমাণ মতো |
| ৮. | লবণ | পরিমাণমতো |
| ৯. | পানি | পরিমাণ অনুযায়ী |
প্রথম ধাপ :
• প্রথমেই চিনি এবং নারিকেলের ঝুরিগুলো আলাদা আলাদা প্লেটে করে চুলার কাছে গেলাম। প্রথমত উদ্দেশ্য, পাটিসাপটা পিঠা বানানোর জন্য প্রথমেই নারিকেলের ক্ষীর বানাতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ :
• চুলা অন করে নিলাম। এরপর চুলার উপরে কড়াই বসিয়ে দিলাম। কড়াই গরম হওয়ার সাথে সাথে চিনি, নারিকেলের ঝুড়ি কড়াই এর মধ্যে দিয়ে দিলাম।
তৃতীয় ধাপ :
• চিনি গলতে থাকলো এমন অবস্থায় কিছু দুধ দিয়ে দিলাম এবং তার সাথে যাবতীয় মসলাগুলো কড়াই এর মধ্যে দিয়ে খুন্তি দিয়ে নাড়তে থাকলাম।
চতুর্থ ধাপ :
• এবার এর মধ্যে গুঁড়ো দুধ গুলো দিয়ে দিলাম। যেহেতু চুলা অন ছিল, সেহেতু উপাদানগুলো টগবগ করে ফুটছিল। আর আমি এদিক থেকে খুন্তি দিয়ে খুব মনোযোগ সহকারে উপাদানগুলো মিক্স করতে থাকলাম।
পঞ্চম ধাপ :
• নারিকেলের ক্ষীর জমাট বাঁধার জন্য পরিমাণ মতো আতপ চালের ময়দা দিয়ে দিলাম।
ষষ্ঠ ধাপ :
• নারিকেলের ক্ষীর রান্না করা হয়ে গেলে একটি প্লেটে উঠিয়ে নিলাম।
সপ্তম ধাপ :
• এখন আতপ চালের ময়দা গুলো একটি গামলার মধ্যে দিলাম।
অষ্টম ধাপ :
• এখন সমস্ত ময়দা গুলো কে পানি এবং দুধ দ্বারা গুলিয়ে নিলাম যা দেখতে ঠিক দই এর মত লাগছে। দুধ ও পানি একসাথে মিশ্রন করার উদ্দেশ্যটা পিঠা বানানোর যে ময়দা ধাপড়া হবে তা খেতে খুব স্বাদ এবং সুন্দর গন্ধ আসবে।
নবম ধাপ :
• পুনরায় চুলার পাড়ে গেলাম। নারিকেলের ক্ষীর ও ময়দা গুলো নিয়ে।
দশম ধাপ :
• দ্বিতীয়বারের মতো চুল অন করে কড়াই বসিয়ে দিলাম। কড়াই গরম হতে থাকলো। কড়াইয়ের মধ্যে চারিপাশে তেল ছিটিয়ে দিলাম। তেল ছিটিতে দেওয়ার উদ্দেশ্য সুধু ভাজা নয়, যেন কড়াই থেকে পিঠা তুলতে সমস্যা না হয় এবং পুড়ে না যায়। কড়াই এর মধ্যে নারিকেলের মালার অড়োঙ্গ এর মাধ্যমে ময়দা-গুলা এক অড়োঙ্গ দিয়ে দিলাম।
একাদশ ধাপ :
• খুন্তি দিয়ে নেড়ে গোল করে নিলাম । এদিক থেকে চুলার তাপে সিদ্ধ হতে থাকলো। যাহা দেখতে অনেকটা ধাপড়ার মতো লাগছে।
দ্বাদশ ধাপ :
• এবার ধাপড়ার উপরে মাঝামাঝি নারিকেলের ক্ষীর কিছু পরিমাণ লম্বালম্বি করে দিলাম।
ত্রয়োদশ ধাপ :
• এখন খুন্তি দিয়ে ধাপড়াটি একটু একটু করে উল্টাতে থাকি। এবং এরই সাথে নারিকেলের ক্ষীর মাঝখানে থেকে যাবে।
চতুর্দশ ধাপ :
• খুব ধীরে ধীরে খুন্তি দিয়ে জড়াতে থাকলাম। এদিকে সিদ্ধ হতে থাকলো। যেন পুড়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রেখে পুরোটা জড়িয়ে তুলে ফেললাম।
পঞ্চদশ ধাপ :
• পিঠা যেন ভালোভাবে সিদ্ধ হয় সেদিকে নজর রেখে এবং পিঠা যেন পুড়ে না যায় সেদিকেও খেয়াল রেখে তৈরি করতে থাকলাম।
ষষ্ঠদশ ধাপ :
• ঠিক একইভাবে অনেকগুলো পাটিসাপটা পিঠা তৈরি করতে থাকলাম। একটি একটি করে অনেক গুলো তৈরি করে নিলাম এবং একটি ঝুড়িতে রাখতে থাকলাম। এভাবে আমার পাটিসাপটা পিঠা তৈরি সমাপ্ত হল।
শেষ ধাপ :
• রান্নাঘর থেকে পিঠাগুলো রুমে নিয়ে এলাম এবং একটি প্লেটে সুন্দর সাইজ করে রাখলাম। পিঠা গুলো মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়েছিল। আরো সাদ যুক্ত করতে বাজার থেকে নিয়ে আসা রসগোল্লা চমচম দিয়ে রেসিপি করে নিলাম এবং পরিবারের সকল সদস্যের মাঝে বিতরণ করলাম। আর এরই মধ্য দিয়ে আমার আজকের রেসিপির সমাপ্ত হল।
আশা করি,আমার এই পোস্টটি পড়ে আপনি অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে বুঝতে ও শিখতে পেরেছেন। পোস্টটি উপস্থাপনা কেমন ছিল এবং এ বিষয়ে আপনার অনুভূতি কেমন আমাকে জানাতে ভুলবেন না। আপনার জন্য আমার পক্ষ থেকে শুভকামনা রইলো।
আমি মোঃ নাজিদুল ইসলাম (সুমন)@sumon09
বাংলা মাস্টার্স ফার্স্ট ক্লাস মেহেরপুর গভমেন্ট কলেজ। আমার বাসা গাংনী-মেহেরপুর। বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত করে,চাকরি প্রত্যাশায় বেকার-স্টাডিতে! নিয়োজিত। ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রপাতি মেরামত ও প্রাকৃতিক দৃশ্য ফটোগ্রাফি করা আমার সবচেয়ে বড় ভালোলাগা। বাংলার স্টুডেন্ট হওয়াই,রূপ রস ছন্দ অলংকার সম্মিলিত কবিতা লেখা যথেষ্ট পারদর্শী।
🌺💞💞🌺
| আমার পরিচিতি | কিছু বিশেষ তথ্য |
|---|---|
| আমার নাম | @sumon09🇧🇩🇧🇩 |
| ফটোগ্রাফি ডিভাইস | মোবাইল |
| ব্লগিং মোবাইল | itel vision 1 |
| ক্যামেরা | Galaxy on7 prime SM-G610F |
| আমার বাসা | মেহেরপুর |
| আমার বয়স | ২৫ বছর |
| আমার ইচ্ছে | লাইফটাইম স্টিমিট এর 'আমার বাংলা ব্লগ' এ ব্লগিং করা |
শীতকালের জন্য পাটিসাপটা পিঠা অনেক বেশি ঐতিহ্যবাহী। এই পিঠা খেতে খুবই ভালো লাগে। আর যদি হয় শীতকাল তাহলে তো আরো বেশি ভালো লাগে। আপনি পাটিসাপটা পিঠা রেসিপি টা খুব সুন্দর ভাবে একটু একটু করে উপস্থাপন করেছেন। কারো যদি জানা না থাকে তাহলে আপনার থেকে দেখে পিঠা রেসিপি টা শিখে নিতে পারবে। অনেক ধন্যবাদ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার এই পোস্টটি পড়ে অনেক সুন্দর মন্তব্য করেছেন। আপনার জন্য আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার এই পোস্টটি পড়ে অনেক সুন্দর মন্তব্য করেছেন। আপনার জন্য আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
পাটিসাপটা পিঠা তৈরিটি অনেক সুন্দর হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পিঠার মধ্যে পাটিসাপটা অন্যতম। এই পিঠা খেতে কী যে মজাই😋😋 লাগে বলে বোঝাতে পারবোনাহ আমি। অসাধারণ একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে। শুভেচ্ছা রইল।
অনেক সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করি এইভাবে পাশে পাব আপনাকে।
পাটিসাপটা পিঠা আমার অনেক পছন্দের একটি পিঠা। আপনার তৈরি করা পিঠা দেখে এখনি খেতে ইচ্ছে করছে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি পিঠা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য৷
অনেক সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করি এইভাবে পাশে পাব আপনাকে।
আপনি অনেক মজাদার এবং লোভনীয় একটি পাটিসাপটা পিঠার রেসিপি আমাদের সকলের মাঝে অনেক চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করেছেন ভাইয়া। পাটিসাপটা পিঠা বরাবরই আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে। আর বিশেষ করে এই শীতের সকালে পাটিসাপটা খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে এরকম একটি মজাদার রেসিপি আমাদের সকলের মাঝে step-by-step শেয়ার করার জন্য। শুভকামনা রইল আপনার।
অনেক সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করি, এইভাবে পাশে পাব আপনাকে।
ওয়াও ভাই আপনার তৈরি করা পাটিসাপটা রেসিপি টি দেখতে খুবই লোভনীয় লাগছে। দেখেই আমার অনেক খেতে ইচ্ছে করছে। শীতের সময় এমন সুস্বাদু পাটিসাপটা খেতে বেশ মজা লাগে বিশেষ করে যখন অধিক পরিমাণে শীত পড়ে তখন তো আরো বেশি ভালো লাগে। আপনি আমাদের মাঝে দারুন একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন সুস্বাদু একটি রেসিপি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার এই পোস্টটি পড়ে অনেক সুন্দর মন্তব্য করেছেন। আপনার জন্য আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
ভাইয়া আপনার পিঠাটি দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে খুবই সুস্বাদু হয়েছিলো।খুব লোভনীয় লাগছে দেখতে। দেখেই খেতে ইচ্ছা করছে। এই শীতে এই পিঠাটি খাওয়া হইনি। ধন্যবাদ আপনাকে এত মজাদার একটি পিঠার রেসিপি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার এই পোস্টটি পড়ে অনেক সুন্দর মন্তব্য করেছেন। আপনার জন্য আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
শীতকাল মানেই পিঠাপুলি।আমার এই পাটিসাপটা পিঠা খেতে খুবই ভালো লাগে। আর আপনি খুব সুন্দর ভাবে পাটিসাপটা পিঠার প্রত্যেকটি ধাপ উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন।পাটিসাপটা গুলি দেখে মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছিল খেতে।অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর ভাবে পাটিসাপটা রেসিপি তৈরি করে আমাদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য।শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
এটা পিঠা আপনার ভালো লাগে জেনে খুবই ভালো লাগলো আপু। আর অনেক সুন্দর ভাবে মন্তব্য করেছেন, এতে আমার অনেকটা উৎসাহ জাগলো এমন রেসিপি তৈরি করার জন্য। ধন্যবাদ আপু।
ভাই সকাল সকাল এমন লোভনীয় রেসিপি দেখে কি আর ঠিক থাকা যায়। এই পিঠাটি আমাদের এলাকায় ও পাটিসাপটা পিঠা নামেই ডাকা হয়। পিঠা তৈরির ধাপ গুলো পর্যাক্রমে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। সবশেষে মিষ্টি দিয়ে প্লেটে সাজানো পিঠা দেখে সত্যিই আমার লোভ হয়েছে।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার এই পোস্টটি পড়ে অনেক সুন্দর মন্তব্য করেছেন। আপনার জন্য আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
করোণা মহামারীর সময় সজাগ ও সতর্ক থেকেও তো কোনো লাভ হচ্ছে না ঘরে থেকেও তো করোণা হচ্ছে ।
আপনি খুব সুন্দর ভাবে পাটিসাপটা পিঠাটি তৈরি করেছেন ।এই পিঠাটি আমার কাছে খুবই পছন্দ আমি ভিতরে শুধু দুধ দিয়ে তৈরি করি আর আপনি সুন্দর নারকেল দিয়ে তৈরি করে দেখলেন। আপনার কাছ থেকে নতুন করে পাটিসাপটা পিঠার ভিতরের জিনিস শিখতে পারলাম একদিন বানিয়ে খাবো।
এরপরেও করোনার হাত থেকে বাঁচার জন্য, অন্যদের বাঁচানোর জন্য সজাগ থাকতে হবে আপু। করোনা একজনের থেকে তো আরেকজনের হতে পারে তাই না। তাই যতটা সচেতন থাকা যাবে ততই দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল।