ঝড়ের রাতে আম কুড়ানোর অভিজ্ঞতা শেয়ার || প্রিয় লাজুক খ্যাঁকের জন্য ১০%
আজ - শুক্রবার
| আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদের কে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। |
|---|
| আপনারা সকলেই জানেন সুমন মানে নতুন কিছু,সুমন মানেই ইউনিক পোস্ট। কিছুক্ষণ আগে আমাদের গাংনী,মেহেরপুরে বিশাল ঝড় বয়ে গেল , এখনো মৃদু মৃদু বইছে। তবে মাঝেমধ্যে দমকা হাওয়ায় পাক মেরে যাচ্ছে। আর সেই ঝড়ে আম গাছ থেকে অনেক আম ঝরে গেছে। ছোটবেলায় পাড়ার বন্ধুরা মিলে একত্রিত হয়ে আম কুড়িয়ে বেড়াতাম ঝড়ের দিনে। সেই স্মৃতিকে স্মরণ রেখে আজকে আমি ঝড়ের মুহূর্তে আম কড়িয়েছি আপনাদের মাঝে শেয়ার করার উদ্দেশ্যে। |
|---|
ঘন কালো অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত। সন্ধ্যার পর থেকে বয়ে চলেছে দমকা হাওয়া। মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড়ের মত এসে বাড়ির চারপাশে গাছ গাছালি গুলো এপাশ থেকে ওপাশ দুমড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় এক ঘণ্টা পর,যখন বাতাস কিছুটা কম; তখন মনে করলাম আম-কুড়িয়ে আসি।
Photography device: Infinix hot 11s
Location
আম কুড়াতে এসে দেখলাম গাছের নিচে অনেক আম পড়ে আছে। এপাশে-ওপাশে একটি দুটি করে অনেক আম পড়েছে তিনটি গাছ থেকে। তাই বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করার উদ্দেশ্যে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে আম কুড়ানোর পাশাপাশি ফটোগ্রাফি করলাম।
Photography device: Infinix hot 11s
Location
একটি একটি করে আম কুড়াতে কুড়াতে অনেক আম জমা হতে থাকলো। আপনারা যেই আম দেখতে পাচ্ছেন,এটা আমার খুবই প্রিয় একটি আম। কিছুদিন আগে আমার বাগান থেকে আমের ফটোগ্রাফি দিয়েছিলাম, সেখানে উল্লেখ করেছিলাম আমার আমের কথা। তবে এই আমটার নাম অনেকেই 'কলা বোটা' বলে থাকেন। এই আম খুবই সাদের হয়ে থাকে।এর মধ্যে তেমন কোনো আঁশ নেই।
Photography device: Infinix hot 11s
Location
যেহেতু ঘন কালো অন্ধকার রাত, মাঝে মাঝে ঝড় বয়ে চলছে। বৃষ্টির পানি তেমন পড়ছে না, টিপটপ কয় এক ফোঁটা করে বৃষ্টি পড়ছে। তবে খুব জঙ্গল জায়গা এখানে, যার জন্য আম কুড়ানো একটু দুষ্কর। খেজুর গাছের ডেগো গায়ে এসে বাড়ি লাগছে। আশেপাশের বন জঙ্গল থেকে বাতাসে নোংরা এসে গায়ে পড়ছে। এর মধ্য থেকেও চেষ্টা করলাম এক গামলা আম কুড়ানোর।
Photography device: Infinix hot 11s
Location
তিনটা আম গাছ পাশাপাশি। আম পড়ছে প্রচুর কিন্তু এত আম কুড়িয়ে কি হবে? তাই ভেবে মন স্থির করলাম যে এক গামলা পূর্ণ হোক। কিছুক্ষণ পর আমি এপাশ থেকে ওপাশে গামলা সরাতে গিয়ে অনুভব করলাম আমের খুবই ভারী গামলা, নড়ানোর একটু ঝামেলা হচ্ছে। যেহেতু মোবাইল ও লাইট হাতে ছিল। আফসোস করলাম আমগাছ পানে চেয়ে অনেক আম ঝরে গেছে। কি আর করার, কপালে যা আছে তাই হবে।
Photography device: Infinix hot 11s
Location
আবারো দমকা হাওয়া বাড়তে থাকলো, এর পাশাপাশি বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। তাই আর দেরি না করে তাৎক্ষণিক ভাবে আশ্রয় স্থল মধ্যে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। তাই জঙ্গল থেকে দ্রুত উঠে এসে ভাইয়ের প্রাইভেট পড়ানোর মাচায় আশ্রয় নিলাম। এরইমধ্যে চেষ্টা করলাম আমগুলো আপনাদের ফটোগ্রাফি করে দেখায় এবং হাতে ধরে দেখায়। খুবই সুন্দর এবং মোটা মোটা আম। মোবাইলের লাইট' সহ আমার হাতে তৈরি যেই লাইটটি জ্বালিয়ে রেখে আম কুড়ায়েছিলাম, সেটা গামলার উপর রাখা।
Photography device: Infinix hot 11s
Location
টিপ টাপ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে, বাড়ির মধ্যে যাওয়া কঠিন। তাই স্কুলছাত্রদের পড়ানোর জায়গাটিতে কিছুটা সময় বসে থাকলাম যতক্ষণ না বৃষ্টি বন্ধ হল। অন্ধকারে বসে থাকতে একটু কেমন লাগছিল, তাই টচ লাইট টা জ্বালালাম কিন্তু বোনের পোকামাকড় আলো পেয়ে ছুটে এলো আমার পাশে। যেমন মশার কামড়, ঠিক তেমনি হরেক রকমের পোকামাকড় ঘিরে ধরল। এমন সময় ডিস্কট চ্যানেলে জেনারেল ডিসকাশনে মুন্নাভাই এমবিবিএস এর সাথে আমাদের গাংনীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছু কথা।
Photography device: Infinix hot 11s
Location
যাই হোক, সব মিলিয়ে দারুন একটি সময় উপভোগ করলাম এবং তার অনুভূতি আপনাদের মাঝে কিছুটা হলে প্রকাশ করার চেষ্টা করলাম।
💌আমার পরিচয়💌
| আমি মোঃ নাজিদুল ইসলাম (সুমন)। বাংলা মাস্টার্স ফার্স্ট ক্লাস মেহেরপুর গভমেন্ট কলেজ। আমার বাসা গাংনী-মেহেরপুর। মড়কা বাজার, গাংনী,মেহেরপুর এ গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরি স্কুল নামক প্রাইভেট প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সহকারি শিক্ষক । ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রপাতি মেরামত ও সৌর প্যানেল নিয়ে রিসার্চ করতে পছন্দ করি। প্রাকৃতিক দৃশ্য ফটোগ্রাফি করা আমার সবচেয়ে বড় ভালোলাগা। দীর্ঘদিনের আমি পাঙ্গাস মাছ চাষী এবং বিরহের কবিতা লেখতে খুবই ভালোবাসি। |
|---|
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
💖💞💞💖
| আমার পরিচিতি | কিছু বিশেষ তথ্য |
|---|---|
| আমার নাম | @sumon09🇧🇩🇧🇩 |
| ফটোগ্রাফি ডিভাইস | মোবাইল |
| ব্লগিং মোবাইল | Infinix hot 11s |
| ক্যামেরা | camera-50mp |
| আমার বাসা | মেহেরপুর |
| আমার বয়স | ২৫ বছর |
| আমার ইচ্ছে | লাইফটাইম স্টিমিট এর 'আমার বাংলা ব্লগ' এ ব্লগিং করা |
| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোষ্টে,ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ। |
|---|
ঝড়ের দিনে আম কুড়ানোর অনেক চমৎকার একটি মুহূর্ত আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। কালকে হঠাৎ করে এই প্রচন্ড বেগে বাতাস হচ্ছিল কিন্তু বাহিরে যাওয়ার সাহস হচ্ছিল না ভয় লাগছিল। আর আপনি এই প্রচণ্ড বেগে বাতাসের মধ্যে আম কুরিয়েছেন তার মানে আপনি অনেক সাহসী। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমাদের অবশ্যই সাহস থাকা উচিত।
ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ
পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করে মুখ।
ঝড়ের সময় আম কুড়াতে খুবই ভালো লাগে।ছোট বেলায় বেশ উপভোগ করতাম। ঝড়ের রাতে আপনি অনেক গুলো আম কুড়িয়েছেন। আমগুলো দেখে ইচ্ছে করছে খেতে।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ফটোগ্রাফি গুলো শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপু, খুব ভালো লাগলো আপনার এত সুন্দর মন্তব্য পড়ে।
আমাদের এদিকে ঝড় বয়ে গেল এই ঝড়ের মধ্যে আম কুড়ানো আমার কাছে দারুণ অ্যাডভেঞ্চার মনে হয়েছে। আপনি খুব সুন্দর ভাবে ঝড়ের সময় আম করেছেন এবং তা আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। তবে আমি বলবো ঘরের মাঝে আম কুড়ানো উচিত নয় যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে। কাঁচা দেখে তো আমার খুব খেতে ইচ্ছে করছে। আপনি খুব সুন্দর ভাবে আপনার অনুভূতি আমাদের মত ব্যক্ত করেছেন আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আম কুড়ানো যে কতটা আনন্দের ব্যাপার তা কাউকে বলে বোঝানো যায় না।
ঝড়ের রাতে আম কুড়ানোর অভিজ্ঞতাটি বেশ চমৎকার ছিলো। আমিও ছোট বেলায় ঝড়ের রাতে আম কুড়িয়েছিলাম। পুরোনো স্মৃতি মনে পরে গেলো। অনেক ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি পরে।
আপু শুধু আমার নয়, আপনাদের স্মৃতিগুলো স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্যই আমি আম কুড়িয়েছিলাম।
ঝড়ের দিনে বা রাতে আম কুড়াতে অনেক আনন্দ পাওয়া যায়। ছোট বেলা থেকে আমি এই বিষয়টা মিস করি না। আপনার আমার কুড়াতছ সুন্দর মুহূর্ত দেখে আমি অনেক খুশি হলাম। আমার কুড়ানো এর সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য।
আপনাদের স্মরণে রেখে আম কুড়িয়েছিলাম আপু।
ঝড়ের রাতে আম কুড়াতে অনেক সুখ। তবে ভাই আম গাছ গুলো কি আপনাদের না অন্য কারো আম গাছের আম গুলো কুড়িয়ে নিয়ে এসেছে। হাহাহাহাহা মজা করলাম। অতি চমৎকার ও অধিক ঠান্ডা আবহাওয়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন রাতে আপনি লাইট জ্বালিয়ে আম কুড়ানোর মুহূর্তগুলো এত চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন দেখে তো মুগ্ধ হয়ে গেলাম ভাই। অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের মাঝে এই আনন্দঘন মুহুর্ত গুলো শেয়ার করার জন্য।
জি ভাই আম গাছ গুলো সব আমাদের। পূর্বে একটি পোস্টে আমি উল্লেখ করেছিলাম আমার বাড়িতে পাঁচ টি আম গাছ রয়েছে।
ভাই আপনার আম কুড়ানো দেখে আমার একদিনের কথা মনে পড়ে গেল। ছোটবেলায় এরকম ঝড়ের দিনে আম কুড়াতে গিয়ে ছিলাম। আমার মা আমারে এতো পিটান পিটাইছে যা বলে সম্ভব না। আমার সারা জীবন এই কথা মনে থাকবে। কারণ আসলে সেদিন আমি একা আম কুড়াইতে গেছিলাম আপনার মত। যাইহোক আপনার আম কুড়ানো দেখে ছোটবেলা কথা মনে পড়ে গেল। ধন্যবাদ ভাই এরকম একটি সুন্দর মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমার মনে হচ্ছে যে, আপনার মামা খুব ভালো মানুষ।
আপনি আজকে আমাদের সাথে ঝরের রাতে আম কুড়ানোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। যদিও আমিও জীবনেও ঝরের রাতে আম কুড়ায়নি। ধন্যবাদ এই মূহুর্ত গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
ঝড়ের রাত এইতো আম কুড়ানোর অন্যরকম আনন্দ। আপনি জীবনে এ আনন্দটুকু মিস করে গেছেন ভাই।
আপনার ঝড়ের দিনে আম কুড়ানোর অভিজ্ঞতা দেখে আমার একটি ছোটবেলার ছড়ার কথা মনে পড়ে গেল। অনেক পড়েছি ছড়াটি। ছড়াটি সম্ভবত ১ম শ্রেণীর হবে।
ছড়ার নামঃ-মামার বাড়ী
লিখেছেনঃ-জসীমউদ্দীন
আয় ছেলেরা, আয় মেযেরা ফুল তুলিতে যাই,
ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ী যাই।
ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ,
পাকা জামের মধুর রসে রঙ্গীন করে মুখ।।
যাহোক অসাধারন হয়েছে আপনার ফটোগ্রাফি। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
জসীমউদ্দীনের এই কবিতাটি পুনরায় আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য খুব ভালো লাগলো। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপনার পোস্টটি দেখে পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেল ভাই আসলে ঝড়ের দিনে আম কুড়ানোর মজাটাই আলাদা। একদিকে ঝড় অন্যদিকে আম কুড়ানোর প্রতিযোগিতা বাহ অনেক সুন্দর একটা পোস্ট করেছেন ভাই
পুরনো দিনের স্মৃতিগুলো সত্যি খুব মধুর।