স্কুল বাগানে ফুল গাছ লাগানোর প্রথম দিন ও তার বর্তমান দৃশ্য

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

আজ - মঙ্গলবার

১০ মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ


আসসালামু আলাইকুম

IMG_20230122_085607_860.jpg




আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে আপনাকে স্বাগতম



হ্যালো বন্ধুরা,

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাই-বোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। আজ আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি আমাদের স্কুল বাগানে প্রথম গাছ লাগানোর অনুভূতি এবং বর্তমান তার দৃশ্য নিয়ে বিশেষ বর্ণনা। আশা করি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাথেই থাকবেন সকলের।


'আমার বাংলা ব্লগ'
কোয়ালিটি সম্পন্ন পোস্ট



ফটোগ্রাফি সমূহ:


১ নং ফটোগ্রাফি

২০২২ সালের ২২ শে আগস্ট প্রথম আমি নিজের হাতে বিদ্যালয়ে একটি কৃষ্ণচূড়া ফুল গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে এই স্কুলে ডাল বা কাঠ জাতীয় ফুল গাছ লাগানোর সূচনা করি। যেহেতু আপনারা জানেন আমাদের বিদ্যালয়ের নাম 'গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরি স্কুল' এই স্কুলটা উপদেষ্টারা প্রতিষ্ঠা করার পেছনে বিশেষ কিছু দৃষ্টিভঙ্গি রেখেছিল এবং স্কুলের নামকরণ করার বিষয়ে তাদের অনেক চিন্তা ধারা লুকিয়ে রয়েছে। যেহেতু এই স্থান টি ছিল একটা পরিত্যক্ত পুকুর বা পচা গর্ত। তাই উপদেষ্টা মন্ডলের উদ্দেশ্য ছিল এখানে সুন্দর একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করব যেন এমন একটা পরিবেশে সুন্দর রূপ ধারণ করিয়ে অনেক ছাত্র-ছাত্রী মানুষের মতো মানুষের হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের অবদান রাখবে এবং উৎস হিসাবে এই স্থানটি একদিন রূপ লাভ করবে যেখানে সুন্দর সুন্দর নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে ফুলের মতো বা একটি চারা গাছের মতো বেড়ে উঠবে এবং দেশের সম্পদ রূপে গড়ে উঠবে। তাই প্রত্যেকটা শিশুকে উপদেষ্টারা একটি চারা গাছের সাথে তুলনা করেছিল। আর শিক্ষকদের সেভাবে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে একজন মালি যেভাবে একটি গাছকে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেয়। আমরা জানি যে কোন স্থান উদ্বোধন করার ক্ষেত্রে অনেকেই ফুল গাছ বা যে কোন গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করে থাকে কিন্তু উপদেষ্টারা হয়তো সে চিন্তা কখনো মাথায় রাখেনি। তবে আমি প্রথম এই বিদ্যালয়ে একটি গাছ রোপন করেছিলাম যেটা কৃষ্ণচূড়া ফুল গাছ। যেহেতু ফুলের বাগান তৈরি করব সে উদ্দেশ্যে গাছ লাগানোর কার্যক্রম শুরু করে প্রথম সৌভাগ্য হয়েছিল আমার।

IMG_20220822_162439887_BURST0007.jpg

IMG_20220822_162641986_BURST0009.jpg

IMG_20220822_162645547_BURST0001_COVER.jpg

IMG_20220822_162648609_BURST0005.jpg

Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স


received_305654148004402.webp


২ নং ফটোগ্রাফি

এরপর আমি একটা রঙ্গন ফুল গাছ রোপন করেছিলাম। হয়তো রঙ্গন ফুল গাছ কাট জাতীয় গাছ নাও হতে পারে। তবে বৃক্ষরোপনের পূর্বে আমি আর মোস্তাফিজের দুজনে মিলে গর্ত করে রেখে গিয়েছিলাম এবং সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার প্রয়োগ করেছিলাম। উপদেষ্টা স্যারের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল এই জৈব সার। যেহেতু তার বাড়িতে তেল আর জৈব সার তৈরির ছোট্ট মিল বা কারখানা রয়েছে। যাইহোক একটি করে আমি আর মুস্তাফিজুর গাছ লাগানো শুরু করছিলাম পড়ন্ত বিকেল মুহূর্তে। দিনটা ছিল প্রচন্ড গরমের দিন। আমি আর মুস্তাফিজুর উভয়ে খুব টায়ার্ড ছিলাম। তারপরে ফুলের গাছ রোপন বলে কথা। তবে স্কুলের বাগানটা তখন সুন্দর ভাবে তৈরি করতে পারছিলাম না। যেহেতু এই স্থানটা পুরোটা জুড়ে ইট খোয়া। মাটি নেই বললেই চলে। গাছ লাগানোর পরবর্তী মুহূর্তে অনেকবার আমরা মাটি সাট করেছি। কমসে কম পাঁচ সাত বার মাটি শাট করার পরে বর্তমান সুন্দর একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে ফেলতে পেরেছি ফুলবাগানের।

IMG_20220822_163309_951.jpg

IMG_20220822_163400_953.jpg

IMG_20220822_163330_075.jpg

IMG_20220822_163408_019.jpg

Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স


received_305654148004402.webp


৩ নং ফটোগ্রাফি

এখানে দুইটা পাতা বা হার গাছ লাগানো হয়েছিল গাছ দুটো এখন দেখতে বেশ সুন্দর হয়ে গেছে। স্কুলে প্রবেশের দুইটা গেট রয়েছে পাশাপাশি মেন গেটের দুই পাশে দুইটা পাতা বাহার গাছ লাগিয়েছিলাম। আর এভাবেই পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকার ফুলের চারা এই পর্যন্ত লাগানো হয়ে গেছে। একদম প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা লাগিয়েছিলাম রঙ্গন কৃষ্ণচূড়া পাতাবাহার সহ নাম না জানা দশ রকমের ফুলের গাছ। যে ফুলগুলো বারো মাসি ফুল। গাছ নষ্ট হয়নি। আর এর পাশাপাশি মুস্তাফিজুর আগে ও পরে অনেক গাঁদা ফুলের গাছ লাগিয়েছিল। যে ফুল গাছগুলোতে এখন খুব সুন্দর সুন্দর ফুল ফোটা শুরু হয়েছে।

IMG_20220822_162112260_BURST0007.jpg

IMG_20220822_162044741_BURST0004.jpg

IMG_20220822_162145113_BURST0003.jpg

IMG_20220822_162238367_BURST0003.jpg

Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স


received_305654148004402.webp


৪ নং ফটোগ্রাফি

এটা হচ্ছে বর্তমান বাগানের দৃশ্য। স্কুলবাগান টি বিভিন্ন ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন ওই যে একদম কর্নারে কৃষ্ণচূড়া গাছটি খাড়া হয়ে রয়েছে। এদিকে আরেকটি ফটোতে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন রঙ্গন ফুলের গাছটিও সুন্দর রূপ ধারণ করেছে। আর এভাবে বর্তমানে কুড়ি পঁচিশ রকমের ফুল ও পাতাবাহার গাছের সমন্বয়ে বাগানটি খুবই জাকচমকপূর্ণ হয়ে উঠেছে ফুলে ফুলে। যে ফুল দেখার জন্য প্রতিদিন সর্বসময় ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকরা ভিড় করে থাকে এখানে। পাশাপাশি অনেক ছাত্র-ছাত্রী আমার কাছে এসে ফটো উঠানোর জন্য অনুরোধ করে থাকে। সব মিলিয়ে সুন্দর একটা পরিবেশ এবং স্কুলের মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে আমি আর মোস্তাফিজুর। পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষক মন্ডলের অবদান কমবেশি থাকলেও বিশেষ ভূমিকা আমার আর মুস্তাফিজুরের।

IMG_20221224_170759_072.jpg

IMG_20221224_170730_601.jpg

IMG_20221224_170712_822.jpg

IMG_20221224_170707_930.jpg

Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স


received_305654148004402.webp

R6TbvATub8MquGoqJZ4SE2UCpaUQzmNnWQxvJGwvYApXWE4KsVzC8vNNXWgtz7hrfoYPSrjupZgj7VtKhrH935ua1PLs4Vr7KiYnVAy3oD...tCNiac63XNuwJJZPbTjHfGPYJH4BJoHgX8HdohSPrSasKvArV8wiiFV7ntYqz66tLZiqG67BKrPAveZFRs3vaqucpJgsaE3qA6Rwasb2fYDx3U5dXGLwwRdyH8.png


আশা করি,আমার এই পোস্টটি পড়ে আপনি অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে বুঝতে ও শিখতে পেরেছেন, সেই সাথে নতুন জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছেন। পোস্টটি উপস্থাপনা কেমন ছিল এবং এ বিষয়ে আপনার অনুভূতি কেমন, অবশ্যই কমেন্ট বক্সে আমাকে জানাতে ভুলবেন না। আপনার জন্য আমার পক্ষ থেকে শুভকামনা রইলো।

💌আমার পরিচয়💌


আমি মোঃ নাজিদুল ইসলাম (সুমন)। বাংলা মাস্টার্স ফার্স্ট ক্লাস মেহেরপুর গভমেন্ট কলেজ। আমার বাসা গাংনী-মেহেরপুর। মড়কা বাজার, গাংনী,মেহেরপুর এ গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরি স্কুল নামক প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সহকারি শিক্ষক । ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রপাতি মেরামত ও সৌর প্যানেল নিয়ে রিসার্চ করতে পছন্দ করি। প্রাকৃতিক দৃশ্য ফটোগ্রাফি করা আমার সবচেয়ে বড় ভালোলাগা। দীর্ঘদিনের আমি পাঙ্গাস মাছ চাষী এবং বিরহের কবিতা লেখতে খুবই ভালোবাসি।




পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

received_434859771523295.gif

image.png

image.png

আমার পরিচিতিকিছু বিশেষ তথ্য
আমার নাম@sumon09🇧🇩🇧🇩
ফটোগ্রাফি ডিভাইসমোবাইল
ব্লগিং মোবাইলInfinix hot 11s
ক্যামেরাcamera-50mp
আমার বাসামেহেরপুর
আমার বয়স২৬ বছর
আমার ইচ্ছেলাইফটাইম স্টিমিট এর 'আমার বাংলা ব্লগ' এ ব্লগিং করা

zr7XQBzuvvkjgjjPxunUtP5k84gxgWc4mR8PqdBj5rx8AtXSSugGPwSy7JKyM3rgX4k3arRVPC2wT66DqiAYg2UuYrHpE94NCJsYEnjKP7Erbg.png


পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ।

TZjG7hXReeVoAvXt2X6pMxYAb3q65xMju8wryWxKrsghkLbdtHEKTgRBCYd7pi9pJd6nDf4ZPaJpEx3WAqvFVny2ozAtrhFXaDMnAMUAqtLhNESRQveVFZ7XHcED6WEQD48QkCkVTAvNg6.png

Sort:  
 3 years ago 

স্কুল বাগানের প্রথম গাছ লাগিয়েছেন ভাইয়া, আমি যখন প্রাইমারি স্কুলে পড়তাম তখন আমরা দলবদ্ধ হয়ে অনেক গাছ কিনে লাগিয়েছি স্কুলের মাঠের সাইডে। সে গাছগুলো এখন অনেক বড় হয়েছে। আজকে আপনার স্কুলের গাছ লাগানো দেখে পুরনো সেই কথা মনে পড়ে গেল।

 3 years ago 

এমন স্মৃতি আমারও রয়েছে আমাদের প্রাইমারির নুরুল স্যারের সাথে জামগাছ লাগিয়েছিলাম

 3 years ago 

খুলামেলা পরিবেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন কিন্তু সেই পরিবেশটা আজ আপনারা অনেক কষ্টে গাছ লাগিয়ে ফুলে ফুলে ভরিয়ে তুলেছেন অনেক কষ্ট করে।এখন সে কষ্ট করা ফুল গাছের মধ্যে ফুল ধরেছে দেখতে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে।আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য মুহূর্তটি।

 3 years ago 

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।

 3 years ago 

স্কুল প্রাঙ্গনে যদি ফুল গাছ ও বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগালে স্কুলের পরিবেশ ও খুব সুন্দর হয়ে যায়। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন আমাদের স্কুলে ও এ ধরনের বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগাতো এবং আমরা ছাত্র-ছাত্রীরা গাছগুলো লাগানোর জন্য অনেক হেল্প করতাম। সত্যি আপনি সৌভাগ্যবান ব্যক্তি যে স্কুল প্রাঙ্গনে গাছ লাগার সুযোগ পেলেন। একটা কথা শুনে খুব ভালো লাগলো উপদেষ্টারা ছাত্র-ছাত্রীকে গাছের সাথে তুলনা করলেন। আর আপনার ফটোগ্রাফি দেখে বোঝা যাচ্ছে আপনারা বিভিন্ন ধরনের চারা গাছও ফুলের গাছ লাগাচ্ছেন স্কুল প্রাঙ্গনে।

 3 years ago 

জি ভাই শীতকালীন ফুল গাছ সহ সব রকম ফুল গাছ লাগানো হয়েছে

 3 years ago 

আসলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুল গাছ এবং বিভিন্ন ধরনের চারা গাছ লাগালে পরিবেশ ও অনেক সুন্দর হয়ে যায়। আমরা যখন স্কুলে পড়েছিলাম তখন স্কুল প্রাঙ্গনে আমরা বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগিয়েছিলাম। এখন সেই গাছগুলো অনেক বড় এবং হয়ে গেছে। তবে আপনার ফটোগ্রাফি দেখে বোঝা যাচ্ছে আপনারা বিভিন্ন ধরনের ফুলের চারাও অন্যান্য গাছের চারা রোপন করেছেন। সত্যি অনেক ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি পড়ে।

 3 years ago 

পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করি সাথে থাকবেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.086
BTC 60081.24
ETH 1570.52
USDT 1.00
SBD 0.42