মাটি খনন করে বড় আলু তোলার অনুভূতি
আজ - শুক্রবার
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদের কে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। আজ আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি আমার নিজের লাগানো সবজি বড় আলুর তোলার অনুভূতি নিয়ে। যেই আলুগুলো আমি আমার পুকুরের বাউরিতে লাগিয়ে থাকি। এক বছর পর অর্থাৎ শীতের সময় তোলা হয়। ঠিক তারই অনুভূতি নিয়ে উপস্থিত হয়েছি আজকে। তাই আর কথা না বাড়িয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও উত্তোলন করার বিষয়টা চিত্রসহকারে শুরু করা যাক।
'আমার বাংলা ব্লগ' কোয়ালিটি সম্পন্ন পোস্ট |
|---|
আমরা সকলে জানি এই আলু গুলো শীতের সময় বাজারে পাওয়া যায়। তবে এগুলো কিভাবে চাষ হয় সে বিষয়ে আমাদের তেমন একটা ধারণা নেই বলে চলে। আমি যতটা জেনেছি স্বচক্ষে না দেখলেও তার এই বর্ণনা আপনাদের জানাতে চাই। শুনেছি কৃষক ভাইয়েরা তাদের জমিতে বড় টেট্টার দিয়ে চাষ করে এ আলুর বীজ জমিতে রোপন করে এবং দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পর শীতের সময় বড় বড় আলুরূপে সংরক্ষণ করে। এই আলুগুলো ১০-২০ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। তবে আমি এই আলু রোপন করেছিলাম আমার পুকুরের বাউরিতে। গত বছর আমি আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করেছিলাম কিভাবে উত্তোলন করা হয়। ঠিক এক বছর পরে আবারো আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি এই আলু উত্তোলনের দৃশ্য নিয়ে। প্রথমে আমি আলু উত্তোলন করার জন্য কোদাল,সাবুল আর একটি বড় কাটারি নিয়ে মাঠেপুকুরে উপস্থিত হলাম। অনেকগুলো আলুর গাছ আমার ছিল তার মধ্য থেকে লক্ষ্য করলাম যেটা খুব কম সময়ের মধ্যে উত্তোলন করা সম্ভব হবে তাই সেটার দিকেই উপস্থিত হলাম যেহেতু আজকে শুক্রবার দিন ছিল তাই তাড়াহুড়া একটু বেশি। আমি নির্দিষ্ট গাছ ঠিক করে নিয়ে তার চারিপাশ জঙ্গল পরিষ্কার করে প্রথমে শাবল দিয়ে গাছের চারিপাশ থেকে মাটি উঠিয়ে ফেললাম একটু একটু করে। কারন আমাকে দেখে নিতে হল আলুটা কেমন মোটা হয়েছে। আলুটি চারিপাশে মাটি উঠে ফেলার পরে আমি কোদাল দিয়ে চারিপাশ গোল আকৃতিতে খোঁড়া শুরু করে দিলাম। যেন আলুটির গায়ে কোন প্রকারে না কেটে যায় সে দিকে লক্ষ্য রাখলাম। এ পাশ থেকে ওপাশ চারিপাশ একটু একটু করে মাটি উঠাতে থাকলাম শাবল কোদাল দিয়ে।
Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
আলু গাছের চারপাশে মাটি খুবই শক্ত ছিল। তাই প্রচন্ড ঘেমে যাচ্ছিলাম মাটি খোঁড়ার সময়। এ মুহূর্তে আমার স্মরণ হয়েছিল মাটির গভীর থেকে কয়লা উত্তোলনের কথা। যে বিষয়গুলো ইউটিউব চ্যানেলে দেখে থাকি এবং অনেক বইতে পড়েছি। যাইহোক চারিপাশ শাবল দিয়ে মাটির সাইজ করে তোলার চেষ্টা করলাম যেন আলুটি কোনমতে ভেঙে না যায়। কারণ আলু ভেঙে গেলে নিজের কাছে ব্যর্থ মনে হয়। তাই চারিপাশে একটু একটু করে শাবল দিয়ে মাটি সরিয়ে আলুর সাইজ আবার বুঝে নিলাম। এরপর পুনরায় কোদাল দিয়ে চারিপাশের মাটি একটু বড় পরিসরে কেটে ফাকা করে নিলাম। এই মাটির তলকার বড় আলু আমার খুবই প্রিয় তাই আমি এই আলো প্রায় প্রতিবছর লাগিয়ে থাকি পুকুরের এপাশ ওপাশে। প্রায় পনেরো কুড়ি মিনিট আমি মাটি এভাবেই উত্তোলন করতে থাকলাম। আর একটু একটু করে আলু বের হতে থাকলো। আশেপাশে গাছের শিকড় থাকায় একটু ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল আমার। তবুও প্রচন্ড গরমের মধ্যে থেমে থেমে তোলার চেষ্টা করলাম।
Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
অক্ষত অবস্থায় আলু তোলার মধ্যে রয়েছে অন্যরকম ভালোলাগা। তাই কোদাল দিয়ে মাটি খনন করার মুহূর্তে যখন দেখতে পারছিলাম আশেপাশে অন্যান্য গাছের শিকড়ে ঝামেলা করছে অর্থাৎ আলোর শাড়ি পাশ দিয়ে বড় কোন গাছের শিকড় গাছে তা কাটারি দিয়ে কেটে জায়গা ফাঁকা করে নিয়েছিলাম। এদিকে আলুর গায়ে বড় বড় অনেক শিকড় ছিল। আলুর গায়ের শিকড় গুলো কাটারি দিয়ে কেটে সাফ করে দিয়েছিলাম কারণ আলু উঠানোর সময় আলুর শিকড় গুলো বারবার ঝামেলা করছিল,এতে করে হাত কেটে যাওয়ার ভয় ছিল। আলুটা উত্তোলন করার মুহূর্তে প্রচন্ড রোদ যেন মাথায় লাগছিল। ফাল্গুন মাস চলে আসায় ভর দুপুরে এই কাজ করা বড় ঝামেলার ব্যাপার। যেহেতু আমি মাঘ মাসে তুলে থাকি এবার সুযোগ পায় নাই বিভিন্ন কারণে তাই একটু থেমে থেমে ধীরে সুস্থ তোলার চেষ্টা করছিলাম। কারণ মাথায় একটা ছিনতাই ছিল আমি যদি দ্রুত তোলা চিন্তা করি তাহলে অক্ষত অবস্থায় তুলতে পারবো না। আর অক্ষত অবস্থায় না তুলতে পারলে নিজের কাছে ব্যর্থ পুরুষ মনে হবে যা আপনাদের মাঝে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তাই খুব মনোযোগ সহকারে তিনটা জিনিস ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তোলার চেষ্টা করছিলাম।
Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
অনেকক্ষণ ধরে পরিশ্রম করার পরে আলুটা তুলতে সক্ষম হলাম। তবে আলুটা তোলার পরে কিছুটা হতাশা গ্রস্থ হল। কারণ আমরা জানি যে আলু একবার তোলা হয় না সেটা শুকিয়ে যায় এবং তার চারপাশ থেকে আবার আলু নাবতে থাকে। আর এই আলোর বিষয়ে আমরা একটা কথা ভালো জানি একবার না তুললে পরেরবার আরো বেশি মোটা হয়। গতবার এর পাশের আলো গুলো সব তোলা হয়েছিল এটা তোলা হয়েছিল না হয়তো সেই আশায়। যাই হোক লক্ষ্য করলে ভালোভাবে বুঝতে পারবেন যে গতবারে আলুটা বেশ বড় লম্বা ছিল কারণ গতবারের অংশটা আরো নিচপানে নেমে গিয়েছিল তাই সেই অংশটা গর্ত হয়ে থাকলো। তবুও ওই আলুটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে কারণ বাড়িতে এনে স্কেলে মেপে লক্ষ্য করে দেখলাম এটা সাড়ে ৪ কেজি ওজন। এবার শীতের শুরুতে আমি বাজারে আলুর দাম জানতে চেয়েছিলাম আশি টাকা কেজি বলেছিল। তাই সে তুলনায় নিজের তৈরি অর্থাৎ নিজের চাষকৃত আলু। যা ভাবতে নিজের কাছে অন্যরকম ভালোলাগা ফিল হচ্ছে। আর সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছিল আলুটি দেখার পরে যেন দীর্ঘক্ষণের পরিশ্রম রোদে গরমের বিরক্ত কর অনুভূতি এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেল আলুটা ওঠানোর পর অতি আনন্দের সাথে সবকিছু গুছিয়ে বাসায় নিয়ে চলে এলাম।
Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
💌আমার পরিচয়💌
| আমি মোঃ নাজিদুল ইসলাম (সুমন)। বাংলা মাস্টার্স ফার্স্ট ক্লাস মেহেরপুর গভমেন্ট কলেজ। আমার বাসা গাংনী-মেহেরপুর। মড়কা বাজার, গাংনী,মেহেরপুর এ গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরি স্কুল নামক প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সহকারি শিক্ষক । ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রপাতি মেরামত ও সৌর প্যানেল নিয়ে রিসার্চ করতে পছন্দ করি। প্রাকৃতিক দৃশ্য ফটোগ্রাফি করা আমার সবচেয়ে বড় ভালোলাগা। দীর্ঘদিনের আমি পাঙ্গাস মাছ চাষী এবং বিরহের কবিতা লেখতে খুবই ভালোবাসি। |
|---|
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
| আমার পরিচিতি | কিছু বিশেষ তথ্য |
|---|---|
| আমার নাম | @sumon09🇧🇩🇧🇩 |
| ফটোগ্রাফি ডিভাইস | মোবাইল |
| ব্লগিং মোবাইল | Infinix hot 11s |
| ক্যামেরা | camera-50mp |
| আমার বাসা | মেহেরপুর |
| আমার বয়স | ২৬ বছর |
| আমার ইচ্ছে | লাইফটাইম স্টিমিট এর 'আমার বাংলা ব্লগ' এ ব্লগিং করা |
| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ। |
|---|
মামা আপনি তো আজকে আমাদের মাঝে মাটির খনন করে আলু তোলার অনুভূতি শেয়ার করেছেন। প্রথমে আপনি কোদাল দিয়ে আলুর চারিপাশ অনেক সুন্দর ভাবে খনন করেছিলেন। আলু তোলার ফটোগ্রাফি গুলো বিশেষ করে সত্যি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে মামা। আসলে এই আলু যদি রান্না করে খাওয়া যায় তাহলে অনেক সুস্বাদু লাগে।
হ্যাঁ খুবই সুস্বাদু লাগে তাই আমারও প্রিয় খাবারটা এটা
মাটির নিচে থেকে এত বড় আলু তোলা সত্যি অনেক কঠিন ব্যাপার ছিল। আর অক্ষত অবস্থায় এই আলুগুলো তুলতে পারলে ভীষণ ভালো লাগে। তবে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। যাতে করে কেটে না যায়। আর এই মাটির নিচের আলু গুলো আমার ভীষণ প্রিয়। ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া।
প্রচন্ড রোদ গরমে আলু তোলা যায় না।
আমাদের এদিকে এই আলু গুলোকে মাটিয়া আলু বলে থাকে ভাই। আমাদের বাড়িতে মাটিয়া আলু গাছ রয়েছে। এই আলু গাছ লতা জাতীয় । আলু গাছ লতা হওয়া অন্যান্য গাছে বেঁয়ে উপরে দিকে উঠে যায়। লতার মধ্যে এবং মাটির তলায় আলু ধরে। এই আলু খেতে খুবই মজাদার এবং সুস্বাদু। চিংড়ি মাছ দিয়ে রান্না করলে খেতে খুবই ভালো লাগে। আপনার মাটিয়া আলু অনুভূতি পড়ে খুব ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে । এত সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
আমি এর সঠিক নাম জানিনা তবে আমাদের এখানে অনেক হয়।
আলুর ফলন মাশাল্লাহ অনেক ভালো হয়েছে ভাইয়া। আপনারা যে পদ্ধতিতে চাষ করেন আমরাও সে একই পদ্ধতিতে বড় আলুর চাষ করি। নিজের বাড়িতে বাড়ির আঙিনায় কিংবা পুকুরের ধারে এমন বড় আলুর চাষ করা হয় কিন্তু আলুগুলো তুলতে গিয়ে বেশ ভালো লাগে। শীতকালীন সবজির মধ্যে বড় আলু আমার অনেক প্রিয় একটি সবজি। কিছুদিন আগে আমি বড় আলু দিয়ে মুরগী রান্নার রেসিপি শেয়ার করেছিলাম। আপনার আলু তুলার অনেক সুন্দর অনুভূতি পড়ে বেশ ভালো লেগেছে।
আপনারা চাষ করেন জেনে খুশি হলাম।
মাটির নিচের এই আলোগুলো তোলা বেশ কঠিন কাজ। আমি যখন গ্রামে গিয়েছিলাম বেড়াতে তখন দেখেছি একজনকে তুলতে, শাবল আর কোদাল দিয়ে তুলেছিল। আপনিও ঠিক সেভাবেই তুলেছেন দেখলাম। তবে আলুটা বেশ বড় হয়েছে।
ধন্যবাদ ভাই আলু তোলার অনুভূতি ব্যাক্ত করার জন্য।
বিশেষ করে গ্রাম গঞ্জে এই আলুর দেখা মেলে।
মাটি খনন করে বড় আলু তোলা অনুভূতি পড়ে বেশ ভালো লাগলো। যেহেতু মাটি শক্ত ছিল তাহলে তো মনে হচ্ছে খনন করতে বেশ ভালোই বেগ হয়েছিল। যাই হোক শেষে আপনি অক্ষত ভাবে আলোটা কে তুলতে পেরেছেন যেন ভালো লাগলো। আর হ্যাঁ আপনার মত আমারও কিন্তু মাটির আলু খেতে বেশ ভালো লাগে। যাইহোক ধন্যবাদ ভাই আপনাকে এই সুন্দর পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
এই আলু আপনার ভালো লাগে যেন খুশি হলাম।
বাহ মাটি খনন করে অনেক বড় একটি আলু 🥔 উঠেছেন তো।
এই আলু কিন্তু খেতে খুবই সুস্বাদু আমার তো খুবই ফেভারিট প্রতিবছরই আমাদের বাড়ির আলানে পালানে গাছ লাগানো হয় এবং বড় হলে সেটি তুলে খাওয়া হয় যেমন পুষ্টিকর তেমন সুস্বাদু।।
সত্যিই আপনার অনুভূতিটি অনেক ভাল ছিল।।
আমরা পুকুর পাড়ে লাগিয়ে থাকি
আলুর সাইজ দেখে তো আমি অবাক। এত বড় আলূ আমি আগে দেখিনি। আমাদের এদিকে এগুলোকে মেটে আলু বলে। তবে আমি কখনো এই আলূ খাইনি। অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
এর চেয়ে অনেক বড় হয়ে থাকে।
ভাইয়া আপনার মাটি খনন করে বড় আলু তোলার অনুভূতি পড়ে আমার ছোট সময়ের স্মৃতি মনে পড়ে গেল। আমিও ছোট সময় আমার মায়ের সাথে এমন ভাবে মাটি খনন করে আলু তুলতাম। আপনার অনুভূতি পড়ে অনেক ভাল লাগলো। ধন্যবাদ ভাইয়া।
অবশ্য আমিও ছোটবেলায় তুলেছি দাদির সাথে।