আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদের কে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। আজ আমি আপনাদের মাঝে তুলে ধরব সুন্দর একটি আনন্দঘন মুহূর্তর কেনাকাটা। হয়তো কিছুটা অসুস্থ বোধ করছিলাম পায়ের যন্ত্রণায়, তার পরেও নতুন বউয়ের সাথে ফোন আলাপনের মধ্য দিয়ে কেনাকাটার মুহূর্তটা বেশ রঙিন ছিল। আর সেই সুন্দর আনন্দঘন মুহূর্তটা আপনাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য হাজির হয়েছি আজ। আশা করি পুরো পোস্ট টা খুব মনোযোগ সহকারে পড়বেন।
'আমার বাংলা ব্লগ' কোয়ালিটি সম্পন্ন পোস্ট |
এই বছর মার্চ মাসের ২৩ কিবা ২৪ তারিখে রোজা শুরু হয়েছিল। সম্ভবত ২৩ তারিখ রাতে সবাই সেহরি খেয়েছিল। কয়দিন আমরা সাতক্ষীরায় পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম ২৩ তারিখ রাত দশটার দিকে। আমি অবশ্য অতিশ তারিখ রাত দশটার দিকে মেহেরপুর আমার বন্ধুদের ম্যাচে উঠেছিলাম বাসায় পৌঁছাতে পারছিলাম না। ফজরের সময় বন্ধুরা সেহরি খাওয়ার জন্য আমাকে ডেকেছিল কিন্তু প্রচণ্ড ঘুমের কারণে উঠতে পারিনি। যেহেতু দীর্ঘ জার্নি করে এসেছিলাম। যাইহোক এরপর ২৭ তারিখে আমার বিয়ে হল। দিনটা ছিল সোমবার। অর্থাৎ রোজার চারদিন পরে আমার বিয়ে হয়েছিল। আর আমার এই বিয়েতে অংশগ্রহণ এবং ভালো আয়োজন করার জন্য আমার খালাতো ভাই সরকারি ডক্টরঃ আমির হামজা (গাংনী শাহারবাটি সরকারি হাসপাতাল) খুবই উৎসাহ প্রদান করেছিল। কিন্তু বিয়েটা হঠাৎ হওয়ায় তাদেরকে জানানো অসম্ভব ছিল। এপ্রিল মাসের ১০ তারিখ সোমবার গাংনী বাজারে পরিবারের জন্য বেশ কিছু কেনাকাটার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম। মিষ্টির দোকানের দিকে প্রবেশ করতে হঠাৎ ভাইয়ার সাথে দেখা। অর্থাৎ বাজার করব শুরুতেই ভাইয়ার সাথে বেশ দেখা হয়ে গেল। তবে তার সাথে দেখা হচ্ছে আমার দীর্ঘ ১২/১৪ বছর পর। মোবাইলে ফেসবুকে যোগাযোগ রয়েছে কিন্তু সরাসরি মুখোমুখি দেখা হয়নি দীর্ঘদিন। এই মুহূর্তে আমি একটু খুড়িয়ে হাঁটছিলাম। সে মাক্স পরা অবস্থায় বাইকে বসেছিল। আমাকে দেখে সুমন বলে ডেকে উঠলো। কন্ঠ শুনে বুঝে গেলাম হামজা ভাইয়া। উনি আমার কাছে জানতে চাইলেন ভাইয়া কি হয়েছে তোমার পায়ে এভাবে হাসছো কেন। তখন বলতে হল গত ২৭ তারিখে আমার বিয়ে হয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে জুতা পায়ে দিয়েছিলাম। জুতাটা বেশ টাইট ছিল তাই পায়ে একটু খত হয়েছে। আমার বিয়ে হয়ে গেছে কথাটা সে জেনে খুব আফসোস করলো কারণ সে খুবই আশায় ছিল আমার বিয়েতে অংশগ্রহণ করার জন্য যাইহোক বুঝিয়ে বললাম। কেন বাজারে এসেছি সেটা জানতে চাইলে সেটাও বললাম। এরপর আমরা দুজন বাজারের মধ্যে প্রবেশ করলাম। কিছুটা সময় একসাথে অতিবাহিত হল হঠাৎ ফোন আসলো পেশেন্ট দেখতে হবে। এরপর আমার সাথে আরো কিছু আলাপ আলোচনা এবং কেনাকাটার মুহূর্তে সাথে থেকে আমাকে রেখে দ্রুত বাইক চালিয়ে চলে গেল।

Photography device: Infinix hot 11s
Location
এবার আমি একা একা পরিপূর্ণভাবে কেনাকাটায় মনোনিবেশ করলাম যখন ভাইয়া পাশে ছিল বেশ লজ্জা লাগছিল বড় ভাই মানুষ যখন তখন এটা সেটা প্রশ্ন করে বসছে যাই হোক প্রথমেই একটি ইলেকট্রনিক্সের দোকানে গেলাম একটি সিলিং ফ্যান কেনার জন্য কিন্তু সেখানে বিআরবি সিলিং ফ্যান পেলাম না। বলে রাখা ভালো বিয়ের কিছুদিন আগে আমার ঘর ঠিকঠাক করা হয়েছিল তবে সিলিং ফ্যানটা লাগানো হয়েছিল না। বিয়ের পর আমার পরিবার এসে আমাকে বলেছিল বিআরবির সিলিং ফ্যান সবচেয়ে ভালো, সে যে রুমে থাকতো সেই রুমে বিআরবি সিলিং ফ্যান লাগানো আছে। তাই আমি যেন বিআরবি সিলিং ফ্যান নিয়ে আসি। বিয়ের বাজার বলে কথা তাই সেরকম ভাবে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম। এদিকে আমি কেনাকাটায় ব্যস্ত ওদিকে সে ইমু কলে রেডি রয়েছে কখন কি কিনব না কিনব তাকে দেখিয়ে যেন নেই। চলে এলাম নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকানে যেখানে হাঁড়ি পাতিলসহ ঘরের বিভিন্ন জিনিস পাওয়া যায়। যেহেতু নতুন ঘর সান করা হয়েছে কিন্তু পাপোশ এর ব্যবস্থা করা হয়নি তাই পরিবার বলেছিল দুইটা দামি ভালো পাপোশ কিনে আনতে যেন নরমাল তা না হয়। ইমু কলে দেখিয়ে তাকে পা পোস কেনার চেষ্টা করলাম। তাকে বেশ কিছু পাপোশ দেখালাম এরপর সে বলল তার ভাললাগা পাপোশ দুইটা আলাদা করে রাখতে আর দাম জেনে নিতে।


Photography device: Infinix hot 11s
Location
এরপর সে আমার কাছে দুইটা সর্পস আবদার করেছিল। আমি বললাম দুইটা সর্পস আজকে চাচ্ছ কিন্তু দুইদিন পরে তো আবার লাগতে পারে তাই না। তাই হাতে টাকা আছে যখন ২টার জায়গায় ছয়টা এনে দি। এই শুনে সে অনেক খুশি হল। বলল যদি সম্ভব হয় আনতে পারো। তবে মনে রেখো আরো কিছু কেনার বাকি আছে। তখন ভাবলাম দুইটার জায়গায় ছয়টা বেশি খরচের বিষয় নয়। এটাও সেই ইমু কলে দেখতে চাইলো এবং তিনটা সাইজের ছয়টা সর্পস সে দেখে কিনতে বলল তার পছন্দ লাল যেহেতু নতুন বউ, লাল সর্পস হলে তার ভালো লাগবে বেশি। নতুন বইয়ের মুখের কথা শুনতে কার না ভালো লাগে পাশাপাশি তার আবদার পূরণ করতেও ভালো লাগে। যাই হোক ছয়টা সর্পস নিলাম।


Photography device: Infinix hot 11s
Location
এরপর সে বলল তোমার জামা টি-শার্ট ভালোভাবে টাঙিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই হ্যাংআর লাগবে। তোমার ঘরে তো কোন হ্যাঙ্গার দেখছি না। আমার স্বামী জামা কাপড় এই সেই অবস্থায় থাকবে এটা আমি মেনে নিতে পারব না। ছয়টা হ্যাঙ্গার নিয়ে আসো। দোকানে দেখলাম বিভিন্ন রকমের হ্যাঙ্গার রয়েছে। আবারও তার কাছে ইমুতে ফোন দিয়ে ভিডিও কলে দেখালাম কোনটা তার পছন্দ। সে যখন যেরকমটা পছন্দ করলো ঠিক সেইটাই কেনার চেষ্টা করলাম যা ফটোগ্রাফিতে দেখছেন। এরপর সেই দোকানের সরপোষ, পাপোশ, জামাকাপড় রাখা হ্যাঙ্গার টেবিলে পাড়া সিট, এছাড়া প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিস। কিনাকাটা করে টাকা পরিশোধ করে দোকানটিতে রেখে গেলাম। ইমু ভিডিও কলে পরিবার আমার সাথেই থাকলো। হয়তো দুজন একসাথে চলছিলাম না তারপরেও ইম কলের মাধ্যমে যেন পাশাপাশি অবস্থান করছিলাম দুইজনে। হয়তো আপনাদের প্রশ্ন থাকতে পারে ঐদিন কেন ভাবিকে সাথে নিয়ে আসেননি। ওই দিনটা আমি স্কুলের টিচিং শেষ করেই গাংনীর দিকে গেছিলাম।



Photography device: Infinix hot 11s
Location
এরপর একটি ইলেকট্রনিক্স এর দোকানে গিয়ে বিআরবি সিলিং ফ্যান কিনে নিলাম। এই মুহূর্তে আমার পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা উঠে যেন হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পরল তাই পায়ের যন্ত্রণায় আর ফটোগ্রাফি করায় মনোযোগ আসলো না। সিলিং ফ্যান আর এই সমস্ত জিনিসগুলো কিনে নেওয়ার পর চেষ্টা করলাম ধীরে সুস্থে বাসার দিকে চলে আসার। আর এভাবে সুন্দর একটা কেনাকাটার মুহূর্ত গাংনী বাজারে বিয়ের পর বউয়ের সাথে ইমো কলের মাধ্যমে করেছিলাম। আর এটাই ছিল আমার জীবনে প্রথম ইমো কলের মাধ্যমে পরিবারের সাথে কেনাকাটা করা।

Photography device: Infinix hot 11s
Location
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ। |

ইমো ইন্টারনেট এসে কি সুবিধা করে দিলো। বিডিও কল দিয়ে বাসায় বসে জিনিষ পত্র চয়েজ করে কিনতে পারে। আরো কত যে সুবধা আসবে। অপেক্ষা করেন। এক সময় নিজে খেতে হবে না। প্রযুক্তির মাধ্যমে হাত ছাড়া খেতেও পারবেন। ধন্যবাদ।
সেটা আবার হয় নাকি ভাই।