বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালীন মুহূর্তের কিছু ফটোগ্রাফি

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

আজ - বুধবার

২৯ চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
১২ এপ্রিল, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ


আসসালামু আলাইকুম

IMG_20230408_142526_973.jpg





হ্যালো বন্ধুরা,

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। হঠাৎ এ সপ্তাহে অসুস্থ থাকাই ঠিকমতো কাজে অংশগ্রহণ করতে পারছি না তবুও চেষ্টা করলাম আমি আমার শ্বশুরবাড়ির নতুন পরিবেশ আপনাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য পাশাপাশি আমার অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য আশা করি বিস্তারিত অনুগ্রহ সহকারে পড়বেন এবং অনেক কিছু জানতে পারবেন।


ফটোগ্রাফি সমূহ:



প্রথমে বলে রাখা ভালো যে 'আমি অবশ্য মেয়ে দেখতে গিয়েছিলাম বিয়ে করতে নয়'। যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে আমি আপনাদের বলে আসছি মেয়ে দেখার অনুভূতি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব তাই ভেবেছিলাম যেখানেই প্রথম মেয়ে দেখতে যাব অবশ্য সেখান থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফটোগ্রাফি করে নিয়ে আসবো এবং আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। কিন্তু ওই দিনটি যে বিবাহ করতে হবে সেটা আমার জানা ছিল না। যাই হোক সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে এবং আপনাদের দোয়ায় বিরহের কাজ সম্পন্ন করেছি ২৭শে মার্চ। তবে মেয়ে দেখতে গিয়েছিলাম বিকাল পাঁচটার পরে,সেই মুহূর্তে ডাইনে বাড়াতে এমন কোন কিছু লক্ষ্য করতে পারছিলাম না যেহেতু প্রথম প্রবেশ করছি এই মুহূর্তে কি ফটোগ্রাফি করা যায়। আর সেখানে যাওয়ার পরে তেমন কোন সুযোগ সুবিধা পেয়েছিলাম না যার জন্য বিয়ের পরবর্তী মুহূর্তে ফটোগ্রাফি করেছিলাম আমার শ্বশুর বাড়ি আপনাদের মাঝে দেখানোর জন্য। হয়তো ফটোগ্রাফিতে লক্ষ করছেন আমার শ্বশুর বাড়ি। অনেক বন্ধুরা জানতে চেয়েছিলেন এবং তথ্য পেতে চেয়েছিলেন আমার শ্বশুরবাড়ি সম্পর্কে তাই আজকে উপস্থিত হয়েছি। হয়তো বেশি বর্ণনা করবে না শুধু ফটোগ্রাফি গুলো দেখে বুঝে নিবেন। আমার শ্বশুর বাড়ি মাশাল্লা দেখতে বেশ অনেক সুন্দর। তবে তাদের কৃষি জমি অনেক রয়েছে এবং অনেক ফসল আবাদ করে থাকেন। উঠানে লক্ষ্য করছেন অনেক ভুট্টার খোল পড়ে রয়েছে। কারণ তারা দুই তিন বিঘা ভুট্টা আবাদ করেছিল এবার, তাই তার খড়িগুলা উঠানো নাড়তে দিয়েছে। এদিকে তাদের বাসার দোতলার কাজ মোটামুটি সম্পন্ন করেছে কিন্তু তিন তলার কাজে এখনো হাত লাগাতে পারে নাই। তবে খুব শীঘ্রই সে কাজ শুরু করবে। যেহেতু আমার শশুরের চারটা ছেলে মেয়ে দুইটা ছেলে দুইটা মেয়ে। বড় ছেলেটা আমার চেয়েও দুই বছরের ছোট সে বর্তমানে কুয়েতে অবস্থান করছে। এক বছর পরে বাসায় ফিরে বিবাহ করবে। আমার বউয়ের নিচে দুইটা ছোট বোন আর ভাই রয়েছে তারা পঞ্চম শ্রেণী এবং অষ্টম শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে। তাই আমাকে পেয়ে তারা খুশি হয়েছে তৃতীয় তালার কাজ শুরুতে হয়তো সহায়তা প্রদান করতে পারব সেই আশায়।

IMG_20230408_142717_574.jpg

IMG_20230408_142532_181.jpg

IMG_20230408_142516_861.jpg

IMG_20230408_142555_101.jpg



আমি তাদের বাসায় লক্ষ্য করেছি তারা মুরগি কবুতর পুষে থাকে। আমি মাঝেমধ্যে লক্ষ্য করেছি আমার ছোট শালাটা কবুতরের দেখাশোনা করে থাকে এবং খাবার দেয়। কবুতরের সংখ্যা অনেক। আমাকে দেখার পর কবুতরগুলো যেন কিছুটা উড়ে গেল এবং ছাদের উপর বসলো। তাই তার মধ্য থেকে চেষ্টা করেছি আপনাদের মাঝে কিছু ফটোগ্রাফি করে দেখানোর জন্য এক দিকে কবুতরের বাসা অন্যদিকে কবুতরের বসে থাকা দৃশ্য। আশা করি এই দৃশ্য আপনাদের অনেক ভালো লেগেছে। এদিকে আপনারা লক্ষ্য করছেন আমার শ্বশুরবাড়ির ডাইনিং টেবিল। দিনশেষে যেখানে খাবারের আয়োজন করতে হয় সকল সদস্যের। শুধু দিনশেষেই নাই খাবার খাওয়ার মুহূর্তেই যেখানে সকল সদস্য উপস্থিত হয়ে থাকে। এদিকে লক্ষ্য করছেন ড্রেসিং টেবিল যেখানে আমার প্রাণপ্রিয় সহধর্মিনী রূপচর্চা করে থাকেন। না জানি দীর্ঘদিন কত বার এখানে তার রূপ দেখেছে। তাই আপনাদের দেখার সুযোগ করে দিলাম। মোটামুটি নিরিবিলি একটি পরিবেশ এবং এই রুমের মধ্যে দখিনা হাওয়া সর্বসময় যেন লেগেই থাকে। হয়তো গ্লাসের মধ্যে লক্ষ্য করছেন আমার পেছনেই বেডরুম যেখানে আমাদের অবস্থান করতে হয় রাত্রিকালীন মুহূর্তে।

IMG_20230408_142638_764.jpg

IMG_20230408_142707_409.jpg

IMG_20230408_142852_057.jpg

IMG_20230408_142335_139.jpg



নতুন স্থান কেমন জানি লজ্জা লজ্জা বোধ করছিল তারপরেও চেষ্টা করছিলাম উঠানে দাঁড়িয়ে আপনাদের জন্য একটি সেলফি তোলার। কারণ চারিপাশে ঠিক এমন বাড়ি রয়েছে না জানি কে কোথা থেকে আমাকে লক্ষ্য করছে তাই লজ্জায় একটু বেশি বোধ করছিলাম। তবে এসেছিলাম আপনাদের মাঝে বিস্তারিত কিছু জানানোর ফটোগ্রাফি আর বর্ণনার মাধ্যমে সেজন্য লজ্জা সংখ্যায় একটু কমিয়েছিলাম। যাই হোক শ্বশুরবাড়ি পরিবেশটা কিন্তু আমার কাছে দারুন মনে হয়েছে।

IMG_20230408_142736584_BURST0006.jpg



এটা দোতলার উপরে ছাদের দৃশ্য। একটি কথা না বললেই নয়। আমার শ্বশুরবাড়িতে ভালো একটা নেটওয়ার্ক পায় না। তাই আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি তে কাজ করার খুবই সমস্যা বোধ করতে হয়েছিল। সেখানে যার জন্য যেকোনো মুহূর্তে আমাকে ছাদে উঠতে হয়েছে। সিঁড়িতে দুইটা চেয়ার পাতা দেখছেন, এখানে চেয়ারে বসে নেটের আশায় বসতে হয়েছে এবং চ্যাট করতে হয়েছে জেনারেল ডিসকাশনে। চেষ্টা করতাম ছাদে বসে কাজ করার জন্য কিন্তু সারাদিনে যে প্রচন্ড রোদ গরম, সম্ভব হয় না তাই যেদিন সুযোগ পেতাম রাতে অথবা সকালে ছাদে বসে কাজ করতাম আর যখন দিনের বেলায় নেটের প্রয়োজন বোধ করতাম তখন চলে আসতাম সিঁড়িতে। কারণ অনলাইনে না থাকলে তো নয় সুযোগ বুঝেই সিঁড়িতে অথবা ছাদে আসতে হয়েছে শুধুমাত্র নেট পাওয়ার জন্য।

IMG_20230408_142141_603.jpg

IMG_20230408_142032_001.jpg

IMG_20230408_142100_691.jpg

IMG_20230408_142120840_BURST0001_COVER.jpg


পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

received_434859771523295.gif


পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ।

TZjG7hXReeVoAvXt2X6pMxYAb3q65xMju8wryWxKrsghkLbdtHEKTgRBCYd7pi9pJd6nDf4ZPaJpEx3WAqvFVny2ozAtrhFXaDMnAMUAqtLhNESRQveVFZ7XHcED6WEQD48QkCkVTAvNg6.png

Sort:  
 3 years ago 

শশুড় বাড়ি মধুর হাড়ি ৷ যা হোক বিয়ে একাই খেলেন দাওয়াত ও দিলেন না ৷ সর্বোপরি ভাবি কেমন দেখতে সেটাও করলেন না ৷ তা না শশুড় বাড়ির পরিবেশের ফটোগ্রাফি ৷ হিহিহি!!!
আপনার শশুড় যে একজন বড় গৃহস্থ তা বোঝা যাচ্ছে৷ বাড়ির পরিবেশ থেকে ভালো লাগলো ফটোগ্রাফি গুলো দেখে ৷
শশুড় আনন্দ করুন ভাই ৷ শুভকামনা রইল অবিরাম

 3 years ago 

দেখা যাক কেমন মধুর হাড়ি হয়

 3 years ago 

আপনার শ্বশুরবাড়িতে দেখছি মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর চারপাশের পরিবেশ দেখেই বোঝা যাচ্ছে মোটামুটি স্ট্যান্ডার্ড ্র্র। মেয়ে দেখতে গিয়ে বিয়ে করে ফেলেছেন বেশ ভালোই করেছেন ।বিয়ের জিনিসটা দেরি করার উচিত নয়।

 3 years ago 

শ্বশুরবাড়ির মানুষগুলো ঠিক তেমন সুন্দর

 3 years ago 

শ্বশুরবাড়িতে নতুন পরিবেশে গিয়ে আপনি আমাদের সাথে যুক্ত থাকার চেষ্টা করেছেন সেজন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি চমৎকার কিছু ফটোগ্রাফির মাধ্যমে আমাদের বিস্তারিত বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। আসলে কাজ করতে গিয়ে নেটওয়ার্ক জটিলতা একদম বিরক্তিকর লাগে। ছাদে গিয়ে বসতে পারলে ভালো সংযোগ পাওয়া যেত। যাইহোক ভালো লাগলো আপনার ফটোগ্রাফি গুলো।
ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

শশুর বাড়ি পেয়েছি তাতে কি হয়েছে,আপনাদের ভুলে থাকা যায় না

 3 years ago 

ভাই শ্বশুরবাড়ি মধুর হাড়ি। নতুন নতুন শ্বশুরবাড়ি গিয়ে শ্বশুর বাড়ি আশপাশে ফটোগ্রাফি গুলো তুলে আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন দেখে বেশ ভালো লাগলো। তবে আপনার যে লজ্জা লাগছিল এটা দেখেও বেশ আমার কাছে ভালো লেগেছে। আপনার ছোট শালার কবুতর পোষা এটা আমার ভালো লেগেছে। নতুন জীবন নতুন সংসার ভালো থাকবেন দোয়া করি।

 3 years ago 

দোয়া করবেন দাম্পত্য জীবনের জন্য সুখী হতে পারি

 3 years ago 

আপনি শাশুড়ি বাড়িতে গিয়ে অনেক সুন্দর একটি মুহূর্ত কাটিয়েছেন দেখে বোঝা যাচ্ছে। সবকিছুই দেখতে পেলাম কিন্তু ভাবিকে দেখতে পেলাম না ভাইয়া।

 3 years ago 

তোমার ভাবি কি ক্যামেরা সামনে আসতে চাই

 3 years ago 

ভাইয়া আপনার শশুড় বাড়িটা দেখে অনেক ভাল লাগলো। আপনি বাড়ির সব কিছু খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। কবুতর পালা ভাল। প্রায় বাড়িতেই কবুতর থাকে। দেখে অনেক ভাল লাগে। ধন্যবাদ ভাইয়া।

 3 years ago 

আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই

 3 years ago (edited)

বিবাহিত জীবনের জন্য অনেক অনেক অভিনন্দন রইল ভাইয়া। ভাইয়া আপনি বিয়ে করেছেন জেনে অনেক ভালো লাগলো তবে আপুর ছবি দিলে আরো ভালো লাগতো। আমরাও একটু আমাদের সুন্দর আপুকে দেখতাম। শশুর বাড়ির মধুর হাড়ি নিশ্চয়ই আপনি শ্বশুর বাড়িতে অনেক জামাই আপ্যায়ন পেয়েছেন। বাড়ির ফটোগ্রাফি গুলো অনেক সুন্দর। ধন্যবাদ আপনাকে

 3 years ago 

দোয়া করবেন আমাদের দাম্পত্য জীবনের জন্য

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 64643.36
ETH 1912.74
USDT 1.00
SBD 0.37