হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। প্রচন্ড সর্দি জ্বর থেকে সুস্থ হওয়ার মুহূর্তে বন্ধুদের সাথে কিছুটা মুহূর্ত পার করার বিশেষ অনুভূতি নিয়ে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলেছি এই পোস্ট। আশা করি আমার এই পোস্ট আপনাদের অনেক অনেক ভালো লাগবে।
বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। শরীর থেকে যেন জ্বর যাচ্ছে না। কিছুদিন আগে পুকুরে মাছের খাবার দিতে গেছিলাম সকাল সাতটার দিকে, এই মুহূর্তে হঠাৎ বৃষ্টি এসে ভিজে গেছিলাম। আর সে বৃষ্টি ভেজা থেকেই শুরু হয়েছে শরীরের দুর্বলতা,সর্দি জ্বর এই মুহূর্তে সেজন পরিবর্তন হচ্ছে, আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে অনেকের বিভিন্ন প্রকার সর্দি জ্বর কাশি ডেঙ্গু জ্বর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমন অবস্থায় আমি আমাকে খুব সাবধানে রাখার চেষ্টা করতাম। তার মধ্য থেকে হঠাৎ সর্দি জ্বর আসবে এমন ভাবে তা বুঝে উঠিনি। তাই বেশ কিছুদিন শরীর খারাপ থাকায় বন্ধুদের সাথে দেখা করা হয়নি এদিক সেদিক যাওয়া হচ্ছে না। কাল সন্ধ্যাবেলায় কিছুটা শরীর সুস্থ ছিল এই মুহূর্তে হঠাৎ আমার বন্ধু মারুফ আমাকে ডাক দিল স্কুল পাড়ার দিকে আসবে কি? যদি আমি রাজি থাকি তখন তাহলে আমাকে সে মোটরসাইকেলে করে এখানে নিয়ে যাবে। আমি রাজি হলাম একসাথে বন্ধুদের সাথে সন্ধ্যাকালীন মুহূর্ত অতিক্রম করলে হয়তো মন ভালো থাকবে। চলে গেলাম ওর সাথে স্কুল পাড়ায়। অনেকদিন পর যেন স্কুলের দৃশ্যগুলো খুব নজর করে দেখছিলাম। আমরা যখন লেখাপড়া করেছি তখন স্কুলে মসজিদ ছিল না। আজ অনেক সুন্দর একটি মসজিদ গড়ে উঠেছে চারিপাশে টাইলস দিয়ে মোড়ানো। এদিকে প্রাইমারি স্কুলটা আমাদের সময় ছিল টিনের ছাওয়া। এখন সেখানে দুইটা সুন্দর বিল্ডিং উঠে গেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া করানোর উদ্দেশ্যে বেশ সুন্দর সুন্দর চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে বিদ্যালয়গুলোতে। তবে এই সমস্ত চিত্র অংকন গুলো ইসলামিক দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয় আমিও নিজ থেকে প্রাধান্য দেই না। যাইহোক এমন দৃশ্য দেখছিলাম বন্ধুদের সাথে গল্প করছিলাম মনটা যথেষ্ট ভালো হচ্ছিল।



Photography device: Infinix hot 11s
লোকেশন
বিকেল মুহূর্তে ভাইয়ের সাথে পুকুরে মাছের খাবার দিতে গেছিলাম তখনও যেন মনের মধ্যে কোন শান্তি পাচ্ছিলাম না যেহেতু শরীরে প্রচন্ড জ্বর আর দুর্বলতা। চেষ্টা করছিলাম এপাশে ওপাশে কিছু ফটোগ্রাফি করি হয়তো কিছুটা ভালো লাগবে কিন্তু ভালোলাগা তো দূরে থাক ভালোলাগার ছিটি ফোটাও কাছে আসছিল না। তবে তখন থেকে আরো মনটা যেন একটু গম্ভীরতা বাড়তে ছিল। তবে বিকেল টাইম টা পার হয়ে বাড়িতে যখন এলাম তখনই মারুফের সাড়া মিললো।



Photography device: Infinix hot 11s
লোকেশন
মারুফ আমাকে ফোন দিয়ে বলল তুই রেডি থাক আমি তোকে নিয়ে আসছি। আমি রেডি হলাম ও আমাকে নিয়ে গেল। প্রথমে তার অফিসে প্রবেশ করলাম। আমাকে বলল বেশ কয়দিন ধরে সে বাড়ি যাওয়ার সময় পাচ্ছে না। রাত হয়ে যাচ্ছে কাজের চাপ এতটাই। যেহেতু সে ভূমি অফিসে বর্তমান রয়েছে, বিভিন্ন জমি জায়গা নিয়ে লেখালেখি এটা সেটা হতে সময় পার হয়ে যায়। ওর অফিসে প্রবেশ করে দেখলাম ল্যাপটপ অন রয়েছে বিভিন্ন কাগজপত্র কাজকর্মের জিনিসগুলো এপাশে ওপাশে সেটানো। রাত হয়ে গেছে এই মুহূর্তে জানালা দিয়ে কে কোনটা হাত বাড়িয়ে টানবে তার নেই ঠিক তাই জানালা আটকে আমাকে আনতে গেছিল। বেশ কিছুটা দিন পর দুইজন একত্রে বসে গল্প করতে পারব এমন অনুভূতিতে বেশ ভালো লাগছিল আমার। তবে বলছিলাম যদি রুমের মধ্যে না থেকে বাইরে কোথাও এই মুহূর্তে ঘোরাঘুরি করতে যেতাম তাহলে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগলো যেহেতু কয়েকটা দিন হয় রুমের মধ্যে অবস্থান করছি বাইরে চলাচল হচ্ছে না আমার। এ মুহূর্তে হঠাৎ করে আমার আর এক বন্ধু পলাশ ফোন দিল সেই স্কুল পাড়ার দিকে আসছে তখন আরেকটু ভালো লাগলো হয়তো স্কুল মাঠে যে কিছুটা সময় গল্প করতে পারব। যেহেতু আমাদের গ্রামের কাউন্সিল অফিস স্কুল এবং ভূমি অফিস একই জায়গায় অবস্থিত। কিছুটা সময় মারুফের অফিসের মধ্যে অবস্থান করলাম।


Photography device: Infinix hot 11s
লোকেশন
আমার শরীরের অবস্থা ভালো না এই দেখে মারুক আমাকে অফিসের মধ্যে রেখে একটু দোকানের দিকে গেল হালকা কিছু নাস্তার ব্যবস্থা করার জন্য। দিনের বেলা এই অফিসে সারা ইউনিয়ন থেকে কত মানুষ আসে বিভিন্ন কাজে মারুফের কাছে মারুফের এই অফিস রুমে একজন মুহুরী অবস্থান করে থাকে সারাদিনের শত শত লোক আসা যাওয়া করে তাই তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এদিক সেদিকে রয়েছে এখন রুমটা হয়তো জনশূন্য সেগুলো এদিকে সেদিকে কিন্তু দিনের দৃশ্য আর এমন থাকে না অনেকেই গণ্যমান্য ব্যক্তি এসে বসার জায়গা পায় না। ডয়ারে ফাইলের কাগজ গুলো দেখে অবাক হয়ে গেলাম এই সমস্ত ফাইলের সম্পন্ন কাজ করতে হবে মারুফের, প্রতিনিয়ত এভাবে আরও অনেক জমা হয়।



Photography device: Infinix hot 11s
লোকেশন
মারুফ দোকান থেকে আসতে একটু দেরি করলো এই মুহূর্তে ফ্যান টা অন করে বসে থাকলাম আর ভাবতে থাকলাম যে আমাকে দেখছে সেই বলছে কি ব্যাপার শরীর এত শুকিয়ে গেছে কেন জানিনা কতটুকু শুকিয়ে গেছি তবে কয়টা দিন বেশ সর্দি জ্বরের জন্য ওষুধ খেতে হয়েছে হয়তো এর কারণ। বসে বসে আরো ভাবলাম মানুষের জীবন সত্যি বৈচিত্রময় কখন কার রিযিক কোন জায়গাতে কেউ জানে না। জীবন জীবিকার তাগিতে মারুক অনেক হয়রানির শিকার হয়েছে একাধিকবার কোম্পানির চাকরি করেছে বাড়িতে একটি চানাচুরের ফ্যাক্টরি দিয়েছিল কারেন্টের কাজ করেছে ইতোমধ্যে। তবে যাই হোক বছরখানেকের বেশি হয়ে গেল এখানে সেটেল হয়ে গেছে। আমাদের সাথে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে কাজ করতো কিন্তু এখন এখানকার কাজ করে অসুমুর, বাংলা ব্লগে কাজ করবে কখন। তবুও মাঝেমধ্যে আমার কাছে আফসোস করে ইচ্ছে করে পোস্ট কমেন্ট করতে কিন্তু সময় পায় না বিশ্বাস ছিল তোদের সাথে একসাথে কমিউনিটিতে কাজ করব কিন্তু হয়ে ওঠে না সেই কবে ছুটি নিয়েছি এক ঝামেলার জন্য কিন্তু আজও যুক্ত হতে পারলাম না এদিকে বাজার উঠবো উঠবো করে আর ওঠে না। যাইহোক এভাবে দুইজন অনেকক্ষণ বিভিন্ন বিষয়ে গল্প করলাম এরপর পলাশ সোহেল আসল একসাথে স্কুল মাঠে বসে গল্প করে মনটা যথেষ্ট ভালো হয়ে গেল দীর্ঘদিন ঘরে একা বসে থাকা মন খারাপ থাকা সর্দি জ্বরের ঘুমিয়ে থাকার সেই গ্লানি যেন দূর হয়ে গেল। এদিকে রাত নটা বেজে গেল মারুক তারপর অফিস বন্ধ করে একত্রে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।


পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ। |

Posted using SteemPro Mobile
ভাইয়া আপনি এখন কিছুটা সুস্থ যেন অনেক ভালো লাগলো। আপনার জন্য সুস্থতা কামনা করছি। অনেকদিন পর বন্ধুদের সাথে বাইরে ঘুরতে গিয়েছি দেখে অনেক ভালো লাগলো। এর সুন্দর মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ আপু দোয়া করবেন যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আপনাদের সাথে ভালোভাবে কাজ করতে পারি।