হঠাৎ ই ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা !!!!
আসসালামু আলাইকুম
হ্যালো #ᏗᎷᏗᏒᏰᏗᏁᎶᏝᏗᏰᏝᎧᎶ
আশা করি সকলে ভাল আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি তবে মনটা খুব একটা বেশি ভালো নাই। বেশ কয়েকদিন হল শরীরে র অবস্থা খুব একটা ভালো না। হালকা সর্দি জ্বর এবং শুকনো কাশি। এর ভেতর আবার ঘটে গিয়েছিল ছোট্ট একটা দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা বলতে তেমন কিছু না।
বেশ কিছুদিন পূর্বে আমার চাচাতো ভাই ঢাকাতে বেড়াতে আসে। বেশ কিছুদিন পূর্বে সে এখানে থেকে লেখাপড়া করত এবং করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণে তাকে বাড়ি চলে যেতে হয়। অবশেষে তার বাবা-মা ঢাকায় থাকে এবং তার বাড়িতে একলা থাকা দুঃসহ বিষয় হয়ে পড়ে। সুতরাং সে পুনরায় ঢাকাতে ফিরে আসে। ঢাকায় আসার দিন থেকে শুরু করে আমার চাচাতো ভাই প্রচন্ড জ্বর সর্দি এবং কাশিতে আক্রান্ত হয়ে যায় এবং তার শরীরটা বেশ খারাপ হয়ে যায়।
আশেপাশে গ্রাম্য ডাক্তার দ্বারা বেশ চিকিৎসা করানো হলে সেই রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়নি। সুতরাং গ্রাম্য ডাক্তার অবশেষে পরামর্শ দিল তাকে সদরে নিয়ে যাওয়ার জন্য। অবশেষে আমার চাচা এবং বড় ভাই মিলে আমার চাচাতো ভাইকে গাজীপুর সদরে নিয়ে যায় এবং সেখানে গিয়ে ডাক্তার তাকে বেশ কয়েকটি টেস্ট করাতে দেয় এবং বেশ কিছু পথ্য ব্যবহার করতে বলে। সুতরাং আমার চাচা আমার চাচাতো ভাইয়ের টেস্ট এর প্রয়োজনীয় নমুনাগুলো ডাক্তারের কাছে সংরক্ষণ করে এবং তারা বাসায় চলে আসে।
এদিকে আমার অফিসের কাজ শেষ। শরীরটা বেশ একটা ভালো না। সেজন্য আমি ছয়টায় অফিস থেকে বের হয়ে বাসার উদ্দেশ্যে যা ছিলাম। এমন সময় আমার চাচা আমার কাছে এলো এবং আমাকে বলল দ্রুত সদরে যাওয়ার জন্য। সদরে যাবার পর পপুলার ডায়াগনস্টিক হসপিটাল এ আমার চাচাতো ভাইকে যে টেস্ট গুলো করতে দেওয়া হয়েছিল সে রিপোর্টগুলো সংরক্ষণ করার জন্য।
একদিকে আমি নিজেই বেশ অসুস্থ কোন কিছুই ভালো লাগছিল না সেজন্য অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার কিছুই করার ছিল না?!!
কেননা আমার চাচাতো ভাই আমার থেকে খুব মারাত্মক জ্বরে আক্রান্ত এবং প্রায় এক সপ্তাহ পার হয়ে গিয়েছিল এই মারাত্মক জ্বর এবং ঠান্ডা কাশি। কাপুনি দিয়ে শরীরে জ্বর ছিল। এবং চাচার এই অনুরোধ আমি ফেলতে পারছিলাম না। যদিও শরীরটা বেশ অসুস্থ তারপরেও আমাকে দৌড়ে চলে যেতে হয়েছিল পপুলার ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে।
প্রথমে আমি রিপোর্ট ডেলিভারির কাগজটা সংগ্রহ করি এবং সেখানে প্রায় দেড় হাজার টাকার মত বকেয়া ছিল। প্রথমে আমি ক্যাশ কাউন্টারে যোগাযোগ করি এবং সেখানে আমি আমার বকেয়া পরিশোধ করার পর পুনরায় নতুন একটি রিসিভ সংরক্ষণ করি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে আমার রিপোর্টগুলো পাবার জন্য সমস্ত পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিয়েছিল। রিপোর্ট ডেলিভারির কাগজে আমার সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ স্বরূপ একটি সিগনেচার এবং সিলমোহর মেরে আমাকে পাঠিয়ে দিল রিপোর্ট ডেলিভারির কাউন্টারে।
আমার মত আরও অনেকেই এসেছে তাদের আত্মীয়-স্বজন কিংবা তাদের নিজেদের বিভিন্ন রকমের রিপোর্টগুলো সংরক্ষণ করার জন্য। যেহেতু পপুলার ডায়াগনস্টিক অনেক বড় এবং দামি দামি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সুতরাং সেখানে অনেক মানুষের ভিড় ছিল। সেজন্য আমাকে বেশ কিছুক্ষণ সময়ের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে রিপোর্ট নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
যাইহোক বেশ কিছুক্ষণ সময় আমি লাইনে দাঁড়িয়ে রিপোর্ট নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। প্রায় ১৫ মিনিট পরে আমি রিপোর্ট কাউন্টারে আমার রিপোর্টে ডেলিভারি কাগজ জমা দিলাম এবং আমার রিপোর্ট নেওয়ার জন্য রিপোর্ট কর্মকর্তা কে অবগত করলাম। রিপোর্ট কর্মকর্তা রিপোর্টের নাম সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করছিল এবং আমি নাম সম্পর্কে তাকে অবগত করার পর সে আমাকে আমার রিপোর্ট বের করে দিল।
যাইহোক অবশেষে আমি হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট নেওয়ার পরে বাসায় চলে আসি। বাসায় চলে আসার পর বেশ কয়েকদিন পরে আমরা ডাক্তারের শরণাপন্ন হই এবং ডাক্তার রিপোর্টগুলো দেখে প্রয়োজনীয় ওষুধ পত্র লিখে দিয়েছিল। ওষুধ পত্র গুলো লিখে দেওয়ার পরে এখন আমার চাচাতো ভাই মোটামুটি ইনশাল্লাহ সুস্থ এবং সুন্দর আসে।
বিষয়টি থেকে একটু উপলব্ধি করা প্রয়োজন। আপনি নিজে যদি কখনো সমস্যার মধ্যে পড়ে যান তারপরেও যদি কোন মানুষ বিপদে পড়ে অবশ্যই আপনার উচিত হবে মানুষকে সাহায্য করা। কেননা বিপদে যদি মানুষকে সাহায্য করতে না পারেন তাহলে আপনি আর কিসের মানুষ?? মানুষ তো মানুষের জন্য.।
| Photography | original | |
|---|---|---|
| Device | mobile | Samsung galaxy f22 |
| Edit | no | |
| W3W | all photography w3w location code |
জনসচেতন মূলক একটি পোস্ট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। খুবই ভালো লাগলো আপনার এত সুন্দর মানবতা দেখে। আসলে আমাদের সমাজে মানবতা বলতে নেই বললেই চলে। সকল মানুষের মধ্যে বেশিরভাগ লোভি মানুষ দেখা যায়। সু সময়ে সকলকে পাওয়া গেলে অসময়ে পাওয়া যায় না। তবে আমাদের উচিত নিজেকে অন্যের সহায়তা প্রদান করার জন্য আত্মনিয়োগ করা।