ছোট বোনের জন্মদিনের কেক কেনার মুহূর্ত
আসসালামুআলাইকুম/আদাব🤝
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলায় অবস্থান করছি ।
জন্মদিনটা ওর সব সময় বার্ষিক পরীক্ষার সময় হয় তাই জন্মদিনে সবচেয়ে বেশি মন খারাপ থাকে ওর।এবারেও তাই জন্মদিনের পর দিন তার বার্ষিক পরীক্ষা। সারাদিন খুব মন খারাপ ছিল। তাই আমি আগে থেকে ভেবে রেখেছিলাম এবারের জন্মদিন অন্যরকম করব। সেই অনুযায়ী সকাল থেকে প্ল্যান সাজিয়ে রেখেছিলাম। আর সারাদিন ওর সাথে ঠিক মত কথা বলি না সেজন্য ওর মনটা আরো অনেক খারাপ হয়ে গেল। মনে মনে ভেবে রেখেছিলাম একটা সারপ্রাইজ দিব পরে। ও সারাদিন পড়াশোনা করছিল একটু যেহেতু কালকে সকালে ওর পরীক্ষা। আমিও বকাঝকা করছিলাম যে তাড়াতাড়ি পড়াশোনা কর। তারপর আমি আম্মুর সাথে আলোচনা করলাম আজকে রান্না বান্না ব্যাপারটা আমি করব। জিমের পছন্দ ফ্রাইড রাইস চিলি চিকেন। আমার মেজো বোনের নাম জিম। তাই আমি লুকিয়ে লুকিয়ে ফ্রাইড রাইস চিলি চিকেন সব রান্না করে রেডি করে রাখলাম। এবার কেক বানানোর পালা। কিন্তু হাতে এত সময় ছিল না তাই কেক আর বানায়নি। ভাবলাম দোকান থেকে কিনে নিয়ে আসি। এর আগে শুনে রেখেছিলাম ওর পছন্দ বনলতার কেক। তাই আমি টিউশনির কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে চলে গেলাম পছন্দের দোকানে পছন্দের কেক আনার জন্য। মনে মনে খুব ভালো লাগছিল কারণ আমি ওকে একটু সারপ্রাইজ দিবো।
দোকানে গিয়ে দেখলাম অনেক রকমের কেক। কোনটা রেখে কোনটা কিনবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। একটা নিলাম হোয়াইট ফরেস্ট কেক।তার পর দোকানে দেখলাম আরও অনেক কিছু আছে। দেখলাম ঘুরে ঘুরে দোকানে অনেক কিছুই আছে।
সন্দেশে নিলাম এবং বার্গার স্যান্ডউইচ এগুলো কিনে নিলাম কয়েকটা। এবার বাসায় যাওয়ার পথে দোকান থেকে কিছু বেলুন কিনে নিলাম। তারপরে বাসায় চলে গেলাম।বাসায় যান পরে দেখি মনটা আমার মন খারাপ করে বসে পড়াশোনা করছে। অনেক কিছু তো করলাম কিন্তু ওর জন্য কিছু উপহার কেনা হলো না । তাই আবারও বের হলাম অনেকদিন আগে আমি একটা রুপার আন্টি কিনেছিলাম। তখন বলেছিল আমারও একটা এরকম রুপোর রিং পছন্দ। এই কথাটা আমার হঠাৎ করে মনে পড়ল চলে গেলাম সোনার দোকানে এই দোকানে গিয়ে একটা সুন্দর রুপোর রিং কিনে নিয়ে বাসায় আসলাম। প্রথমে ঘরে গিয়ে তাকে বললাম যে তোর পড়াশোনা চলছে তাই আর জন্মদিনে কিছু করিনি এই নে রুপোর রিং টা। তাতেই দেখি মনটা অনেক খুশি সে অনেক লাফালাফি করছে। আনন্দ নিয়ে আবারো পড়াশোনা শুরু করল। চোখটা বেঁধে নিয়ে গেলাম ঐ রুমে আমি আর আমার ছোট বোন আগেই ঐ রুম সাজিয়ে রেখেছিলাম। পরে যখন ওকে রুমে নিয়ে গেলাম ও তো একদম খুশিতে কান্না করে দিয়েছে কারণ এর আগে ওইভাবে ওর জন্মদিন পালন করা হয়নি। তারপর ওর পছন্দ মতো সব খাবার রান্না করে খাওয়ালাম। এই তো এভাবে ওকে ওর জন্মদিন একটু স্পেশাল করে দিলাম।
এতক্ষণ আমার পোষ্ট মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আজ এখানেই শেষ করছি আবার অন্য কোনদিন নতুন কিছু নিয়ে আপনাদের সামনে উন্মোচিত হব। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
ধন্যবাদ সকলকে✨💖
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | Redmi note 9 |
|---|---|
| ক্যামেরা.মডেল | note9 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ- বাংলাদেশ। |
আমার পরিচয়
আমি শেলি। আমি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুরে খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ে সি এস ই তে অধ্যায়নরত আছি। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতে ভালোবাসি। নতুন কিছু শিখতে এবং জানতে ভালোলাগে।ঘুরতে আর খেতে খুব ভালোবাসি।অবসর সময় পেলেই ছবি আঁকি। এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে। 🌼💖🌼 |
|---|
X-promotion
অনেক ভালো লাগলো আপনার লেখাগুলো পড়ে। ছোট বোনের শুভ জন্মদিন উপলক্ষে আপনার কেক ক্রয়ের মুহূর্তটি খুবই সুন্দরভাবে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। একটি সুন্দর কেক শুভ জন্মদিনের মুহূর্তকে আরো বেশি রঙ্গিন করে তোলে।
আপনাদের ভালো লাগার জন্যই আমার লেখাটি।
বোনেদের খুশি করার পর দিদিরা যেন আরো অনেক বেশি দিদি হয়ে ওঠে। সত্যিই তো পরীক্ষার সময় জন্মদিন পড়লে কার ভালো লাগে! ওর মন খারাপ হবে এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন জন্মদিন পড়ার পরেও আপনি যে সুন্দর করে ওর জন্মদিনে সারপ্রাইজ প্ল্যান করেছেন এটাই দারুন ব্যাপার। বোনের জনের রূপোর আংটি কিনে বেশ ভালই করেছেন। খুবই ভালো লাগলো আপনার আপনার বোনের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং ভালবাসা দেখে।
ধন্যবাদ আপু আপনার প্রশংসা পেয়ে আমার অনেক ভালো লাগলো।
আপনার ছোট বোনের জন্মদিন উপলক্ষে কাটানো দারুন সব মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আপনি ওকে সারপ্রাইজ দিয়েছেন শুনে ভালো লাগলো। ওর পছন্দের ফ্রাইড রাইস চিলি চিকেন তৈরি করেছেন। ও সারপ্রাইজ পেয়ে নিশ্চয়ই খুব খুশি হয়েছে। রূপার রিং গিফট করেছেন শুনে ভালো লাগলো। আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল আপু।
জি আপু আপনার ভালো লেগেছে শুনে খুশি হলাম আপু।
প্রথমে আপনার ছোট বোনের জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানাই- শুভ জন্মদিন। ছোট বোনের জন্মদিনের কেক কেনার মুহূর্ত বেশ সুন্দর করে শেয়ার করেছেন দেখে খুব ভালো লাগলো। জন্মদিনের কেক বেশ সুন্দর। নিশ্চয় জন্মদিনে মুহূর্তগুলো অনেক সুন্দর কাটিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
জি ভাইয়া অনেক ভালো সময় কেটেছে।