প্রচুর পুষ্টিগুনে ভরা কাঁচা কলা , আলু এবং কুলে খাড়া শাকের সাথে সুস্বাদু বড় কাঁকড়ার তরকারি
সকলকে নমস্কার
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সকল সদস্যকে দীপাবলীর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নিজেদের সুস্বাস্থ্যর দিক বিবেচনা করে সকলের স্বাস্থ্যসম্মত পুষ্টিগুনসম্পূর্ণ খাবার রাখা উচিত। তাহলেই আমাদের শরীরে ইমুনিটি শক্তি বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে নানাবিধ রোগের বিরুদ্ধে দেহ যুদ্ধ করে সেই সমস্ত রোগকে পরাজিত করতে সক্ষম হবে। সেইরকম একটি পুষ্টিগুনসম্পূর্ণ রেসিপি নিয়ে আজ আমি হাজির হয়েছি। কাঁচা কলা, আলু এবং কুলে খাড়া শাকের সাথে বড় কাঁকড়ার তরকারি খেতেও যেমন টেস্টি তেমনি হাজারো পুষ্টিগুনের সংমিশ্রণ থাকার ফলে রোগের বিরুদ্ধে জ্বলন্ত হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। রেসিপিটি এখন সকলের মাঝে শেয়ার করছি।
উপকরণ
কাঁচা কলা 2 পিচ
আলু 400 গ্রাম
কুলে খাড়া শাক 200 গ্রাম
বড় কাঁকড়া 450 গ্রাম
কাঁচা লঙ্কা 8 পিচ
লবন 2 টেবিল চামচ
হলুদ 1.5 টেবিল চামচ
পেঁয়াজ 1 পিচ
রসুন 1 পিচ
শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো 1/2 টেবিল চামচ
গরম মশলার গুঁড়ো1/2 টেবিল চামচ
সরিষার তেল 130 গ্রাম
প্রয়োজন মত জল
ধাপ 1
প্রথমে আমি কাঁচা কলা , আলু সংগ্রহ করবো রেসিপিটি তৈরি করার জন্য। সেইমত প্রথমেই এই দুটি উপাদান এক জায়গায় করলাম।
ধাপ 2
এবার আমি আলু গুলির খোসা ভালোভাবে বটি দিয়ে ফেলে দেবো।
ধাপ 3
আমি বটি দিয়ে কাঁচা কলার খোসা গুলো সুন্দর ভাবে তুলে ফেলে দেবো।
ধাপ 4
এবার আমি নিজের পছন্দ মত কাঁচা কলা গুলি কেটে নেবো। এবং আলুগুলোও কেটে নেবো সুন্দর ভাবে।
ধাপ 5
আমি আমার বাড়ির পুকুরের কিনারায় রোপন করা কুলে খাড়া শাক তুলে নিয়ে আসলাম। তারপর আমি কুলে খাড়া ভালোভাবে নিজের হাতে বেছে নেবো। কেটে নেবো নিজের প্রয়োজন মত।পরিষ্কার জল দিয়ে কুলে খাড়া শাক, আলু এবং কাঁচা কলা পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নেবো।
ধাপ 6
বড় কাঁকড়া গুলি আমি নিজের হাতের সাহায্য কাঁকড়ার খোলস ফেলে দেবো। তারপর কাঁকড়া পরিষ্কার করে নিয়ে জল দিয়ে ধুয়ে নেবো।
ধাপ 7
আমি বটি দিয়ে কাঁচা লঙ্কা গুলি কেটে নেবো। তারপর জল দিয়ে ধুয়ে নেবো।
ধাপ 8
আমি হাত দিয়ে পেঁয়াজ এবং রসুনের খোসা ফেলে দেবো। তারপর পেঁয়াজ জল দিয়ে ধুয়ে নেবো। তারপর পেঁয়াজ বটি দিয়ে কেটে নেবো কুঁচি কুঁচি করে।
ধাপ 9
এবার কড়াই এর মধ্যে জল দেবো প্রয়োজনমত। তারপর 1 টেবিল চামচ হলুদ এবং 1 টেবিল চামচ লবন দেবো তারপর কাঁকড়া গুলি দেবো। কাঁকড়া ভাজিও হয়ে যাবে জল ও পুরোপুরি শুকিয়ে যাবে।
ধাপ 10
বড় কাঁকড়া ভাজার পর কড়াই থেকে তুলে নেবো।
ধাপ 11
এবার কড়াই এর মধ্যে সরিষার তেল দেবো ।তারপর তেল কিছু টা গরম করার পর আমি আলু , কাঁচা কলা এবং কুলে খাড়া শাক দেবো। এবার কাঁচা লঙ্কা , হলুদ এবং লবন মিশিয়ে হালকা ভেজে নেবো।
ধাপ 12
এবার আমি কড়াই এর মধ্যে জল মিশিয়ে দেবো প্রয়োজনমত । তারপর আমি 15-16 মিনিট সেদ্ধ করবো।
ধাপ 13
তারপর আমি কড়াই থেকে তরকারি তুলে নেবো।
ধাপ 14
আমি আমি কড়াই এর মধ্যে সরিষার তেল দেবো। তারপর পেঁয়াজ ও রসুন , শুকনো লঙ্কার গুঁড়া এবং গরম মশলার গুঁড়া এক সাথে মিশিয়ে ভেজে নেবো।
ধাপ 15
তারপর ভাজা পেঁয়াজ রসুনের মধ্য পুনরায় তরকারি মিশিয়ে দেবো। 8-10 মিনিট তরকারি সেদ্ধ করবো ।তারপর কড়াই থেকে নামিয়ে নেবো। এভাবেই আমি কাঁচা কলা, আলু ও কুলে খাড়া শাকের সাথে বড় কাঁকড়ার তরকারি রান্না করেছিলাম।
কাঁচা কলা ,আলু এবং কুলে খাড়া শাক দিয়ে বড় কাঁকড়ার তরকারি একদম ঘরোয়া একটি রেসিপি। প্রতিটি সবজিতেই রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুনাগুন। সেই সম্পর্কে আমি বাখ্যায় যাচ্ছি না কারণ সকলেই কম বেশি অবগত এই সব্জিগুলির উপকারিতা নিয়ে। সঙ্গে বড় কাঁকড়ার গুনাগুনও কম নয়। এই সমস্ত পুষ্টিগুনসম্পূর্ণ সবজির সংমিশ্রণে আজকের রেসিপিটি তৈরি করা হয়েছে। অনেক সহজেই বাড়িতে তৈরি করতে পারবেন। রেসিপিটি খেতেও তেমন সুস্বাদু তেমনি অনেক পুষ্টিকর। আমাদের স্বাস্থ্যর জন্য ভীষণ উপকারী। ধন্যবাদ সকলকে।
| ডিভাইস | রেডমি নোট 10 প্র ম্যাক্স |
|---|
| লোকেশন | খাড়গ্রাম |
|---|
| ফটোগ্রাফার | @simaroy |
|---|
| রেসিপি ম্যাকার | @simaroy |
|---|
| ক্যাটাগরি | রেসিপি |
|---|
■আমার পরিচয়■
নাম -সিদ্ধার্থ রায়
পেশা -পড়াশুনা ( বর্তমানে যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে MA পাঠ্যরত ছাত্র)
গ্রাম -খাড়গ্রাম পালসিট
থানা -মেমারী
জেলা -বর্ধমান
রাজ্য- পশ্চিম বঙ্গ
দেশ -ইন্ডিয়া
নাগরিক - ভারতীয়
10 % beneficiary to @shy-fox
| রেগার্ডস | @simaroy |
|---|
শাক দিয়ে যে কাঁকড়া রান্না করা যায় এটা আমার কাছে একেবারেই জানা ছিল না। আজকে প্রথম আপনার পোস্ট দেখে এর পরে জানতে পারলাম। আমার কাছে কাঁচকলার তরকারি খুবই বেশি মজা লাগ। তবে কুলেখাড়া শাক টি আমি চিনি বলে মনে হচ্ছে না। আপনার প্রত্যেকটা রেসিপি আমার কাছে একেবারেই অনেক নতুন মনে হয় কারণ আমাদের এদিকটায় খাওয়া খুব একটা হয়না। আর এই জন্যই আপনার রেসিপিগুলো আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আপুর মন্তব্য আমি অনেক খুশি হয়েছি। ও অনেক উৎসাহ পেলাম। অনেক অনেক ধন্যবাদ রইলো। শুভেচ্ছা অবিরাম আপু।
ওয়াও ভাইয়া খুবই মজাদার একটা রেসিপি আমাদের সামনে হাজির করেছেন। কাঁচকলা, আলু, খাড়া শাক দিয়ে কাঁকড়া রেসিপি সত্যিই অসাধারণ এবং ইউনিক বটে। আপনি যেটিকে খাড়া শাক বলছেন আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় আমরা এটাকে হেলেঞ্চা শাক বলি। আপনি আপনার রেসিপিটি খুব সুন্দর করে ধাপে ধাপে আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। এবং আমাদের সাথে এত সুন্দর একটা কাঁকড়া রেসিপি উপহার দেওয়ায়। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
এটা মোটেও হেলেঞ্চা শাক নয় ভাই। ভালো করে দেখুন। আমাদের এখানেও হেলেঞ্চা শাক পাওয়া যায়। যায় হোক আপনার সুন্দর মন্তব্যর জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। শুভেচ্ছা রইলো।
কাঁচা কলা , আলু এবং কুলে খাড়া শাক দিয়ে কাঁকড়া অনেক সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন দাদা। কাঁচা কলা আমার খুবই প্রিয় একটি সবজি। তবে কুলে খাড়া শাক আমার কখনো খাওয়া হয়নি এই নামটি আমার কাছে একদমই নতুন। ধন্যবাদ দাদা দারুন একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
কুলে খাড়া খেলে রক্ত হয়। অনেক উপকারী । আপনার মন্তব্য খুশি হলাম। অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো।
খুব সুন্দর রেসিপি করেছেন ভাই। কাকড়ার তরকারি কখনো খাইনি, তবে আপনার রান্না করা তরকারির ছবি দেখে খেতে ইচ্ছে করছে। রেসিপির বর্ণনা ও ছবিগুলো সুন্দর হয়েছে । ধন্যবাদ আপনাকে।
একদিন কাঁকড়া খেয়ে দেখুন। বার বার খেতে ইচ্ছা করবে। অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। শুভেচ্ছা রইলো।
কাঁকড়ার কথা প্রায় ভুলতে বসেছিলাম, আপনার এই সুন্দর পোস্টটা দেখে আবার মনে পড়ে গেল। কতদিন সুস্বাদু কাঁকড়া খাওয়া হয়নি। আর আপনার রেসিপি টা খুবই সুন্দর এবং খুবই গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন। ধন্যবাদ এরকম সুন্দর একটা রেসিপি আমাদের মাঝখানে উপহার দেওয়ার জন্য।
দাদা আপনার মন্তব্য অনেক খুশি হলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা। শুভেচ্ছা নিবেন।
দাদা আপনার রেসিপি মানে অসাধারণ রেসিপি। প্রত্যেকটি জিনিস একদম টাটকা। আর আপনি যেভাবে ধাপে ধাপে ছবি এবং বর্ণনা দিয়েছেন এতে রেসিপি সম্পর্কে অনেক সহজে জানা গেছে। এত সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দাদা।
আপনার মন্তব্য অনেক উৎসাহ পেলাম ও খুশি হয়েছি। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে আপু। শুভেচ্ছা নিবেন
অনেক অনেক ধন্যবাদ দাদা।
দাদা, কাঁকড়া ভুনা খেয়েছি একবার আপনাকে বলেছি।কিন্তু কোন রকমের সবজি দিয়ে আমি কাকড়া খাই নি। তবে আপনার রেসিপিটি দেখে মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে।তবে দাদা আমি এই কুলে খাড়া শাক চিনতে পারিনি। দাদা কলা আলু এবং কুলে খাড়া শাক দিয়ে আপনি অনেক সুন্দর এবং যত্ন সহকারে তরকারি রান্না করেছেন তরকারিটি দেখে বোঝা যাচ্ছে।দাদা,তরকারি রান্নার প্রতিটি ধাপ আপনি খুব সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। ধন্যবাদ দাদা
কুলে খাড়া শাকের গায়ে কাঁটাও হয়। বিশাল উপকারী শাক। আপনাদের ওখানে পাওয়া যায় কিনা জানি না। আপনার মন্তব্য অনেক অনেক খুশি উৎসাহ ও অনুপ্রাণিত হলাম। অবশ্যই রেসিপিটি তৈরি করবেন। আপনি কাঁকড়া ভুনা খেয়েছেন । কাঁকড়ার স্বাদ নিয়ে আপনি অবগত। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে আপু। শুভেচ্ছা রইলো
ইদানিং সবাই দেখি কাঁকড়া খাচ্ছে। আমি অবশ্য কোনদিন কাঁকড়া খাইনি। কিন্তু আপনার এই কাকড়ার রেসিপি টা দেখে মনে হচ্ছে ভালো হয়েছে। খুবই লোভনীয় লাগছে। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
আপু একদিন খেয়ে দেখুন তখন স্বাদ বুঝতে পারবেন। খেতেও খুবই মজা লাগে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে আপু। শুভেচ্ছা নিবেন
কাঁচকলা দিয়ে কাঁকড়া দারুন একটি রেসিপি দাদা। আপনার প্রতিটি রেসিপি অনেক সুন্দর হয়। আজকের রেসিপি টিও অনেক ভালো হয়েছে। মনে হচ্ছে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছে। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
ঠিক বলেছেন অনেক সুস্বাদু হয়েছিলো ।কাঁকড়ার রেসিপি বলে কথা। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
দেখেই বোঝা যাচ্ছে আসলে এটি প্রচুর পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ রেসিপি তবে শাকটি সম্পূর্ণ অচেনা। আজই প্রথম দেখলাম এবং শুনলাম। আর কাঁকড়া আমি কখনো খাইনি। খাওয়ার খুব ইচ্ছা জাগে কিন্তু সময় ও সুযোগ কিছুই হচ্ছেনা। যাইহোক ধন্যবাদ এতো সুন্দর করে একটি রেসিপি আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।
এই শাকটি ও কাঁকড়া একদিন খেয়ে দেখবেন অনেক টেস্ট পাবেন। আপনার অনেক সুন্দর মন্তব্যর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইলো আপু।