মামুন সাহেব
কিছু মানুষকে মাঝে মাঝে এমনিতেই বিশেষ বিশেষণে বিশেষায়িত করতে ইচ্ছে করে, এটা হয়তো নিছক ভালো লাগা থেকেই চলে আসে। শূন্যদার দোকানে এখন প্রায়ই যাওয়া হয়। যদিও তা চায়ের নেশার কারণে । তবে ঘুরেফিরে যখন হরেক রকম মানুষের ভিড়ে আসল মানুষ দেখি, তখন মনটা যেন এমনিতেই প্রফুল্লতায় ভরে যায়।
অনেকক্ষণ ধরে দেখছিলাম, ভদ্রলোক নিজের মতো করে এই রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো নিরীহ কুকুর গুলোকে অতি যত্নে পাউরুটি খাওয়াচ্ছিল আর আমি সেই দৃশ্য বেঞ্চে বসে পরম শান্তিতে দেখছিলাম। অদ্ভুত রকম ভালোলাগা কাজ করছিল সেই সময় নিজের মাঝে।
বুঝে ওঠার আগেই ভদ্রলোক তার কাজ শেষ করে খুব দ্রুত রাস্তা পার হয়ে চলে গেল। তার সঙ্গে যে দুটো কথা বলব, সেই সুযোগটা আমার হয়েই উঠল না। এবার আমি নিজের থেকেই শূন্যদার কাছে গিয়ে বললাম, ভদ্রলোকটা কে। শূন্যদা বেশ হেসেই বলল, উনি মামুন ভাই। ভূমি অফিসের পিয়ন।
শূন্যদাকে বললাম, আমি মামুন সাহেবের সঙ্গে কথা বলতে চাই। যদিও শূন্যদা একটু অবাকই হয়েছে, সাহেব সম্বোধন শোনার পরে। তবে এবার শূন্যদা আরো উচ্চ হাসিতে বলেই ফেলল, আপনার সাহেব এখানে আবারও আসবে একটু পরেই, তখন না হয় কথা বলে নিয়েন।
অনেকটা অস্থিরতা কাজ করছিল নিজের মাঝে, অপেক্ষার সময় গুলো হয়তো এমনই হয়। শূন্যদার কথা এবার ঠিক হলো, মিনিট দশেক পরেই আবারো আগমন মামুন সাহেবের। ভদ্রলোক এবার আসতে না আসতেই, কুকুরগুলো যেন লেজ নাড়িয়ে তার পিছনে ঘুরঘুর করা শুরু করেছিল। চায়ের অর্ডার দিয়েই, দুটো পাউরুটি প্যাকেট থেকে বের করে নিয়ে আবারও একই কাজ শুরু করলো।
তখনো আমি দেখছিলাম, এবার নিজের থেকেই তার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী হয়ে উঠলাম। বললাম, মামুন সাহেব পাউরুটির বিলটা এবার আমি দেই। মামুন সাহেব এবার আমার দিকে তাকিয়েছে, তাকে আমি ইশারায় কাছে ডাকার চেষ্টা করলাম। বললাম, আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম অনেকক্ষণ থেকে। মামুন সাহেবের এবার কিছুটা কৌতুহল বেড়ে গিয়েছে। বললো আপনি কে আর কেনইবা আমার জন্য অপেক্ষা করছেন।
আমি তাকে বললাম, আপনি চাইলে আমার সঙ্গে বসতে পারেন। আপনার কর্মকান্ড আমার বেশ ভালো লেগেছে। আর বলিয়েন না ভাই, ওরা আমাকে দেখলে কোনভাবেই ছাড়ে না। বলতে গেলে, আমার সঙ্গেই ওরা সারাক্ষণ থাকে। অফিসের ভিতরে তো ওদের নিয়ে যেতে পারি না, তাই মাঝে মাঝে ফাঁক পেলে বাহিরে এসে ওদের খোঁজখবর নিয়ে যাই।
আগে আরো বেশ কয়েকটা ছিল। এখন তো কমে গিয়েছে, একটা তো এই রাস্তাতেই গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মারা গিয়েছে, বাঁচাতে পারিনি। ভীষণ মায়া হয়, তাই ওদের আগলে রাখি।
শূন্যদার আবারো আগমন, এবার দু কাপ চা হাতে। ততক্ষণে বেশ হেসেই কথা বলছিল মামুন সাহেব। অনেকটা মনোযোগ সহকারেই তার কথা গুলো শুনছিলাম। চাকরি সূত্রেই সে এখানে থাকে আর এই কুকুর গুলোই তার সঙ্গী।
মামুন সাহেবের যে আজ বড্ড ব্যস্ততা, তা তার চা খাওয়ার ধরন দেখেই বুঝতে পেরেছি। দ্রুত চায়ে চুমুক দিচ্ছিল আর বলছিল, ভাই এখনো অনেকগুলো ফাইল জমা দেওয়া হয়নি, আমাকে উঠতে হবে। তবে যখন, আমি তাকে চা আর পাউরুটির বিল দিতে বারণ করেছিলাম, সে তা সোজাসুজি প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং বলেছিল, যদি কখনো আবার দেখা হয়, সেদিন না হয় দিয়েন।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1683051195546624000?t=fQdsOQa2D_8gURerqwDRuQ&s=19
সত্যি ভাইয়া আপনি সমাজের প্রতিটা মানুষকে খুব কাছ থেকে ভিন্ন ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ ধরনের ঘটনা হয়তো অহরহ ঘটে কেইবা এগুলো দেখে বা খোঁজ নেয় । আপনি পুরো বিষয়টা বেশ মনোযোগ সহকারে দেখেছেন এবং মামুন সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যাপারটা সত্যি বেশ ভালো লেগেছে। আসলে রাস্তার এই প্রাণীগুলোর প্রতি মানুষের যে মায়া রয়েছে এই লোকটিকে দেখলেই বোঝা যায় । প্রকৃত ভালো মানুষ এরাই । বেশ ভালো লাগলো লেখাটি পড়ে।ধন্যবাদ ।
ধন্যবাদ আপু আমার অনুভূতি বুঝতে পেরে, মতামত দেওয়ার জন্য। আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইল। 🙏
মামুন সাহেবের মত মানুষ যদি আমাদের চারপাশে থাকতো তাহলে হয়তো সে সব অসহায় পশুপাখি গুলো একটু শান্তিতে বাঁচতে পারতো। কিংবা একটু খেয়ে বাঁচতে পারতো। আসলে অনেক সময় অনেকের সামর্থ্য থাকলেও পশু পাখির প্রতি ভালোবাসা থাকে না। তবে মামুন সাহেব সত্যিই অনেক উদার মনের একজন মানুষ।
এটা সত্য মামুন সাহেবের এই দিকটা আমার বেশ ভালো লেগেছে এবং যার কারণেই হয়তো অনেকটা আগ্রহ নিয়ে, সেদিন তার কথাগুলো শুনেছিলাম।
বাহ্ চমৎকার তো । আমারও কিন্তু মামুন সাহেবের সাথে দেখা করতে ইচেছ হচেছ। উনাদের মত মানুষগুলোকে সাহেব বললেও তো কম হয়ে যায়। আমি এমন অনেক মানুষ কে দেখেছি যে যারা মানুষ কে নয় কুকুর কে ভালোবাসতে পছন্দ করে। কারন মানুষ তো কিছুক্ষন পর সব ভুলে যায়। আর কুকুর তো কখনও তার মনিবের সাথে বেঈমানী করে না। এই যেমন মামুন সাহেবের কুকুর গুলো।
বেশ ভালো লাগলো আপনার মতামতটা আপু। শুভেচ্ছা রইল 🙏
আপনার তুলে ধরা বাস্তব জীবনের গল্পগুলো আমার কাছে বেশ ভালো লাগে।এতে নানা মানুষের সম্পর্কে যেমন জানা যায় তেমনি পরিচিত হওয়া যায়।তার জীবসেবার বিষয়টি দেখে আমারও ভালো লাগলো।জীবকে ভালোবাসলে তারাও তাকে আপন করে নেয়,ধন্যবাদ ভাইয়া।