আকুলতা
চোখের পলকেই যেন সব অতীত , এখন তো এসব আয়োজন নিছক সৌজন্যতা বসত। তাতে যেন আর আগের মত প্রাণশক্তি নেই। নেই চিৎকার-চেঁচামেচি, হৈ-হুল্লোড় আর দুরন্তপনা। সব যেন স্থবির হয়ে গিয়েছে। ঐ ঘড়ির কাঁটার মত টিকটিক করে যেন সবাই ধীরে ধীরে কাঁপছি আর হালকা এদিক সেদিক নড়ছি।
আহারে জীবন, ফিরিয়ে দে মোর শৈশব। বিরামহীন ছোটাছুটি, ঘুরেফিরেই ঝিলের পাড় নতুবা পৌরসভার মাঠ কিংবা ডাকবাংলোর সামনে কাটানো সময়গুলোকে আরেকটি বার, যে কোন অজুহাতে ফিরিয়ে দে।
জীবনের কাছে কি, বড্ড বেশি কিছু চেয়েছি। এই প্রশ্ন মাথায় যেন বারবার ঘুরপাক করছিল। কত পিছুটান, কত ব্যস্ততা, নিজেকে আড়াল করে রাখার অভিনয় তো অনেক হলো, আর কত! এসবের বাইরেও আমার একটা ছোট্ট জীবন ছিল, যেটা আমি বিগত সময় ফেলে এসেছি, তারই হয়তো একটু স্বাদ গ্রহণ করার জন্য, এই নিছক সৌজন্যতার আয়োজন।
ক্ষণিকের জন্য নিজেকে প্রশান্তিতে রাখাই যেহেতু মুখ্য বিষয়, তাহলে আর অহেতুক সময় নষ্ট করে লাভ কি। এমন সন্ধ্যেতে চার দেয়ালের মাঝে বসে হালকা শীতল বাতাসে, ফেলে আসা জীবনের স্মৃতিগুলোকে যখন, মাথার সিঁথিতে বিলি কেটে দেখার মতো করে পরম যত্নে দেখা যায়, তখন হয়তো আত্মতৃপ্তিতে বুকটা ভরে ওঠে।
তবে আফসোস, হয়তো সেটা নিজের কাছে। কারণ সময়টা বড্ড ক্ষীণ। কোথায় সেই উন্মাদনা, টগবগে তরুণগুলো যেন শীতল হয়ে গিয়েছে, পারিপার্শ্বিক চাপ যেন তাদেরকে কুরে কুরে খাচ্ছে। তবে কি, চাকরি-ক্যারিয়ার-যোগ্যতা-অর্থনৈতিক স্বনির্ভরশীলতা এসবই মুখ্য, বাকি ফেলে আসা জীবনের শৈশব স্মৃতির সবকিছুই কি মূল্যহীন।
হয়তো প্রশ্নটার উত্তর, জায়গাভেদে একেক জনের একেক রকম। আমার তো মনেহয়, জীবনে সবকিছুর দরকার আছে । তবে শিকড়ে ফিরে এসে, অনেকটা ভারসাম্য রক্ষা করে জীবনটাকে যদি একটু উপভোগ করা যায়, তাহলে হয়তো মন্দ হয় না।
এই যান্ত্রিক জীবন, কর্মব্যস্ত সময়, আলাদা করে নিজেকে গুছিয়ে তোলা বা হাজারো অজুহাতে নিজেকে লুকিয়ে রাখা, সবটাই সমসাময়িক। তারপরেও যদি আত্মিক বন্ধনটাকে পুনরুজ্জীবিত করা যায় তাহলে হয়তো প্রাপ্তির খাতাটা কিছুটা হলেও পূর্ণতার মুখ দেখে।
কতদিন হলো সকলের সঙ্গে দেখা হয় না, সেভাবে তো আজকাল কথাও হয়না। শুধু কি এই কয়জনই ছিলাম, নাকি সেই সংখ্যাটা আরও অনেকটাই বৃদ্ধি ছিল। তবে কেন এতো সংক্ষিপ্ততা, কেনইবা এতো লুকোচুরি। হোক না দেখা, আবারও একটিবার। সেটা হয়তো নিজেদের মতো করে, নিজেদের আঙ্গিকে। আমি অপেক্ষায় থাকলাম, তোদের-তুই-তোমাদের জন্য।
আয় দেখা করি, এই শীতে কোন এক সন্ধ্যেতে। হারিয়ে যাই, পুরনো শৈশবে।
কি বলিস....!
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
ভাইয়া আপনার লেখাটা সত্যি দারুন লাগলো। ফেলে আসা শৈশব সবার জীবনেই যেন স্মরণীয় হয়ে আছে। শত চেষ্টা করলেও আর সেই শৈশবে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয় ।শত ব্যস্ততার মাঝে এখন সবাই একত্রিত হলেও আগের সেই প্রাণ চাঞ্চল্য খুজে পাওয়া সত্যি বিরল ।কেননা এখন সবাই কর্ম ব্যস্ততায় বিভিন্ন চাপে থাকে ।শৈশবের সেই চিন্তা মুক্ত মনটাই যেন সবার থেকে হারিয়ে গিয়েছে। তারপরেও বহুদিন পর বন্ধুরা মিলে একটি জায়গায় কিছুক্ষণ আড্ডা দিলে কিছুটা মানসিক শান্তি পাওয়া যায় ধন্যবাদ।
আমার অনুভূতি বুঝতে পারার জন্য, আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আপু। শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।
অসাধারন লিখেছেন দেখছি।ফেলে আসা সেই শৈশব কে আবার ও দেখি হাতছানি দিয়ে ডাকছেন। আর ডাকবেন নাই বা কেন ? শৈশব কি ভোলা যায়? নাকি কেউ ভুলতে পেরেছে? কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো যান্ত্রিক এ যুগে তো আর এত সময় কারোই নেই। ডিজিটাল যুগে ডিজিটালাইজেশনের চিপায় পরে কেউ এখন আর শৈশবের সে সব স্মৃতির হাতছানিতে পা বাড়াতে চায় না। তবু দোয়া করি ফিরে আসুক আপনার শৈশব আপনার কাছে আপনার মত করে।
শৈশব জানি চাইলেও ফিরে পাওয়া যাবে না, তবে আত্মিক বন্ধনটা আরেকবার পুনরুজ্জীবিত হলে মন্দ হয় না, আপু।
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1693948526429102118?t=COsfntafqeBwr7PUa6LDVg&s=19
জীবন হচ্ছে সবকিছুর ব্যালেন্স শুভ ভাই। যান্ত্রিকতা, পারিবারিক চাপ, আর্থিক ব্যাপার স্যাপার, কর্মব্যস্ততা সবকিছুই জীবনের অংশ। আজকের দিনে এসে যেমন পিছ ফিরলে মনে হচ্ছে, "আহারে শৈশবের জীবন" হয়তো আরো কিছুদিন পর এই আজকের জীবনটাকেও মিস করবেন। এটাই নিয়ম। যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ।
তা অবশ্য মন্দ বলেন নি,
বেশ ভালো লাগলো আপনার মন্তব্যটা।
কলেজ লাইফ, ইউনিভার্সিটির লাইফ, শৈশবের স্মৃতি গুলো কোনদিনও কেউ ভুলতে পারে না। মন চাই বার বার ফিরে যেতে। আমিও আপনার সাথে এক মত হয়ে সেই সময়টা ফেরত চাই। যদিও সম্ভব নয় তারপরও চাওয়ার কোন শেষ নয়। ধন্যবাদ।
এজন্যই তো আকুলতা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে ভাই।
আসলে শৈশব জীবনের সাথে কোনো কিছুর তুলনা চলে না। সেজন্যই শৈশবের সোনালী দিন গুলোতে বারবার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। যদিও সেটা সম্ভব নয়। তবে ছোটবেলার বন্ধু বা কাছের মানুষদের সাথে সময় কাটালে মনটা বেশ ভালো লাগে। ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করা যায় দারুণভাবে। যাইহোক এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।