ঘোড়াঘাটে ঘোরাঘুরি

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

20230721_182142.jpg

এইটা গত শুক্রবারের ঘটনা। মূলত আমরা গিয়েছিলাম ঘোড়াঘাটের নদীর তীরবর্তী এলাকায়। যদিও সেখানে যাওয়ার আমাদের কিছু কারণ ছিল, তবে সেই কারণ পরের পর্বে লেখার চেষ্টা করব।

ঘোড়াঘাট মূলত আমাদের উপজেলা থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যদিও আমাদের উপজেলাটি পড়েছে গাইবান্ধা জেলার ভিতরে আর ঘোড়াঘাট পড়েছে দিনাজপুর জেলার ভিতরে। যেহেতু পাশাপাশি এলাকা তাই সময় সুযোগ পেলে ঐদিকটাতে ঘুরতে যাওয়া হতো। তবে এখন আর সেভাবে যাওয়া হয়েই উঠে না। আগে যখন কলেজে পড়তাম তখন বন্ধুরা মিলে প্রায়ই যেতাম, তবে এখন তা অতীত বললেই চলে।

যেহেতু প্রতিনিয়ত পরিবার নিয়ে ঘোরাফেরা করি তাই নিজের এলাকার যত দেখার মত জায়গা আছে বা খাওয়ার মত রেস্টুরেন্ট আছে সবগুলোই মোটামুটি দেখা শেষ করে ফেলেছি। তাই বাধ্য হয়ে সেদিন ঘোড়াঘাটে গিয়েছিলাম সময়টাকে উপভোগ করার জন্য এবং পুরনো স্মৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার জন্য। আগে বন্ধুরা মিলে আসতাম আর এবার আমার পরিবার নিয়ে এসেছি।

যদিও আগে বন্ধুরা মিলে বাইকে করে আসতাম, সেটার অন্যরকম মজা ছিল। আর নদীর ধারে বন্ধুরা মিলে বসে যখন সময় কাটাতাম নিজেদের মতো করে গান-বাজনা বা গল্পে মেতে থাকতাম সেটার অনুভূতি ছিল এক কথায় অন্যরকম। তবে এবার যখন পরিবার নিয়ে সিএনজি চালিত গাড়িতে করে এসেছি, তখন মনে হচ্ছিল যেন একই জায়গা তবে অনুভূতির বিস্তর পার্থক্য।

20230721_182415.jpg

20230721_181925.jpg

20230721_181916.jpg

20230721_181743.jpg

20230721_181509-01.jpeg

20230721_181346-01.jpeg

20230721_181327-01.jpeg

20230721_181204-01.jpeg

20230721_181145-01.jpeg

20230721_181101-01.jpeg

20230721_181035-01.jpeg

থাক সেসব অতীত কথা, এবার যখন নদীর ধারে এসেছি বিশেষ করে ঘোড়াঘাট থেকে যে রাস্তাটা পলাশবাড়ীর দিকে গিয়েছে সেই রাস্তাতেই মাঝপথে করোতোয়া নদী পড়ে আর তার উপর দিয়েই আগে ছিল বেইলি ব্রিজ। তবে সময়ের পরিক্রমায় বেইলি ব্রিজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গিয়েছে। তাই এখন সেখানে নতুন করে বড় ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে।

যদিও ব্রিজ নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকেই তবে এখন শুধুমাত্র উদ্বোধন করা বাকি আছে। তবে এই সময়ে আপাতত নদীর উপর দিয়ে কাঠের ব্রিজ বানানো হয়েছে লোকজনের যাতায়াতের জন্য। নদীতে এখন খুব একটা পানি নেই বললেই চলে তারপরেও লোকজন কাঠের ব্রিজের উপর দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে অনেকটা নিজেদের সুবিধার্থে। আর ব্রিজের পাশেই রয়েছে বড় দুটো নৌকার সাহায্যে বানানো ফেরি। মূলত সিএনজি বা অটোরিক্সা পারাপারের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আমরা যেহেতু বিকেল বেলার দিকে এসেছি আর পরিবেশটাও আজ অনেক সুন্দর বিশেষ করে আকাশের সৌন্দর্য তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটাকে আরো উপভোগ করার জন্য কাঠের ব্রিজের উপর দিয়ে নদী পার হয়ে চরের ভিতরে গিয়েছিলাম এবং বেশ ভালো সময় কাটিয়েছিলাম পরিবার নিয়ে। আমাদের মতো আরো অনেক দর্শনার্থী এসেছে সেখানে। যেহেতু সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল তাই দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।

চরের ভিতরে বেশ দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটি করেছি সেখানকার পারিপার্শ্বিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করেছি এবং স্থানীয় লোকজনের জীবন জীবিকার ব্যাপার গুলো বোঝার চেষ্টা করেছি আর উপভোগ করেছি প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য।

যাইহোক বন্ধুরা এই পর্বে আর আমি তেমন বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না। আশা করি আমার ছবিগুলো দেখেই বুঝতে পেরেছেন আমাদের সময়টা আসলেই বেশ ভালো কেটেছিল সেদিন। আগামী পর্বে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে সেখানে যে সাম্প্রতিক সময়ে খাবারের রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে, সেই রেস্টুরেন্ট নিয়ে নতুন একটা ব্লগ শেয়ার করব। ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো থাকুন, ধন্যবাদ সবাইকে।

Banner-16.png

ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht


20211003_112202.gif


JOIN WITH US ON DISCORD SERVER

banner-abb4.png

Follow @amarbanglablog for last updates


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

Sort:  
 3 years ago 

ভাইয়া আপনাদের ঘোরাঘুরি দেখে সত্যি অনেক ভালো লাগলো।আসলে ভাইয়া জায়গা এক থাকলেও অতীত আর বর্তমানের বিস্তর পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে কাঠের ব্রিজ দেখতে কিন্তু অসাধারণ লেগেছে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর কাটানো মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

এটা সত্য কারণ এখন যেভাবে সময়টা কাটাচ্ছি, হয়তো সেটা পরিবার থাকার কারণেই সম্ভব হয়েছে ।

 3 years ago 

আপনি ঘুরতে খুব পছন্দ করেন।তাই আপনার এলাকায় মোটামুটি সব জায়গাতেই ঘোরাঘুরি আপনার শেষ।আপনি পরিবার নিয়ে ঘুরতে গেলেন।খুব সুন্দর সময় কাটিয়েছেন দেখে বেশ ভালো লাগলো। ফটোগ্রাফি গুলো দারুন হয়েছে। সুন্দর অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে।

 3 years ago 

এটা সত্য আমি সময় পেলেই এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াই।

 3 years ago 

মাঝে মাঝে স্মৃতিগুলোকে উজ্জীবিত করতে সত্যি অনেক ভালো লাগে। হয়তো একটা সময় বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ঘুরতে যেতেন আর এখন পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়েছেন দেখে অনেক ভালো লাগলো। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে ফটোগ্রাফি গুলো। ফটোগ্রাফি গুলো এক কথায় দুর্দান্ত হয়েছে ভাইয়া। অনেক ভালো লাগলো আপনার এই পোস্ট দেখে।

 3 years ago 

ধন্যবাদ আপু আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য।

 3 years ago 

যাই হোক দূরত্ব যেমন হোক না কেন যদি মন চায় সেগুলো কোন ব্যাপার না। ঘোড়া ঘাটে গেলেন পরিবারকে নিয়ে ঘুরার জন্য অনেক সুন্দর একটি জায়গা। মাঝে মাঝে এমন জায়গায় ঘোরাফেরা করতে হয় পরিবারকে নিয়ে তাহলে বেশ ভালোই মুহূর্ত কাটে এবং মনটা একদম ফ্রেশ হয়ে যায়। আমার কিন্তু অসাধারণ ভালো লেগেছে জায়গাটি আপনার শেয়ার করা ফটোগ্রাফির মাধ্যমে। পরিবারকে নিয়ে সব সময় সুখে থাকেন ভালো থাকেন এই প্রত্যাশা করি শুভকামনা রইল।

 3 years ago 

ধন্যবাদ আপু, আমার অনুভূতি বুঝতে পারার জন্য।

 3 years ago 

মাঝে মাঝে প্রশান্তির জন্য প্রকৃতির মাঝে ঘোরাঘুরি করার অনেক বেশি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।আর বিশেষ করে ফ্যামিলি সহ ঘুরতে গেলে অনেক বেশি ভালো লাগে।আপনার ফটোগ্রাফিতে কাঠের ব্রিজটি খুব চমৎকার ছিল। আমাদের এলাকার পাশেও একটি কাঠের ব্রিজ রয়েছে সেটিও দেখতে অনেক চমৎকার। আজকে আপনার কাঠের ব্রিজটি দেখে সেই ব্রিজটির কথা মনে পড়ে গেল। খুব চমৎকার কিছু ফটোগ্রাফি দেখতে পেলাম আপনার এই ব্লগের মাধ্যমে। বিশেষ করে বাবুর ফটো তোলার পোজটি আমার খুব ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ ভাই ভালোবাসা অবিরাম।

 3 years ago 

আসলে পরিবার নিয়ে ঘুরাঘুরি এবং বন্ধু বান্ধব নিয়ে ঘুরাঘুরি করার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। বন্ধু বান্ধবদের সাথে ঘুরাঘুরি করার মজা একরকম এবং পরিবার নিয়ে ঘুরাঘুরি করার মজা অন্যরকম। তবে যার সাথেই যাওয়া হোক না কেনো,এমন জায়গায় ঘুরতে গেলে সত্যিই খুব ভালো লাগে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য খুব কাছে থেকে অবলোকন করা যায়। নদীর পাড়ে কিংবা চরের মধ্যে ঘুরতে খুব ভালো লাগে আমার। অনেকদিন আগে চর এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলাম। প্রচুর বাঙ্গি চাষ করা হয়েছিল চরের মধ্যে। যাইহোক সবার ফটোগ্রাফি দেখে খুব ভালো লাগলো ভাই। সব মিলিয়ে দারুণ সময় কাটিয়েছেন আপনারা। পোস্টটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.099
BTC 64722.22
ETH 1877.14
USDT 1.00
SBD 0.38