ওষুধ নির্ভর জীবন
আমি যে ভিতরে ভিতরে অসুস্থতায় ভুগছি, এটা আসলে বাহির থেকে আমাকে দেখে বোঝার কোন উপায় নেই যে আমার শরীরের ভিতরে কি চলছে। মূলত আমি দীর্ঘসময় থেকে উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলাম।
যেহেতু আমার বিগত সময় থেকেই উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক অস্থিরতার সমস্যাটা লেগেই আছে, তাই ক্রমাগত ওষুধ খেয়ে খেয়ে সবকিছু থেমে রাখা লাগছে। তবে দীর্ঘদিন ওষুধ সেবনের কারণে এখন নতুন করে আবার আমার মাথার দুই পাশে মাঝে মাঝেই ভীষণ ব্যথা করে এবং সঙ্গে অনিদ্রা হচ্ছে।
যাইহোক অনেক কষ্ট করে, আমার কলেজের ব্যাচমেটের সহযোগিতায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক মেডিসিন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। যার কাছে আমি বিগত সময়েও একবার দেখিয়েছিলাম। আবারও দীর্ঘদিন পরে তার শরণাপন্ন হলাম। এবার গিয়েছি মূলত নিজের নতুন করে এই সমস্যাগুলো কেন বৃদ্ধি পাচ্ছে সেটা শোনার জন্য।
ভদ্রলোক আমাকে যা বলল, সেটা একদম বাস্তব সত্য কথা। এক কথায় বলে দিল, আপনি মূলত অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার শিকার এবং যার কারণে আপনার এই সমস্যা গুলো হচ্ছে এবং এভাবে যদি ক্রমাগত চলতে থাকে, তাহলে একটা সময় আপনার আরও বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
ডাক্তার সাহেব এক হিসেবে যা বলেছে খারাপ বলেনি। কারণ আমি আসলেই দুশ্চিন্তায় ভুগছি এবং যার কারণে ক্রমাগত অনিদ্রা লেগেই আছে।এত অল্প বয়সেই উচ্চরক্ত চাপ ও মানসিক অস্থিরতার থেকে সমস্যা গুলো অন্যদিকে ছড়িয়ে যাবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি।
ডাক্তার সাহেব বলে দিল, আগের তিনটা ওষুধের মাঝে দুইটা ওষুধ বিশেষ করে উচ্চরক্ত চাপ সংক্রান্ত ওষুধ গুলো একই থাকবে। তবে দুশ্চিন্তা কমানোর জন্য যে ওষুধ নতুন করে দিয়েছি এখন এইটা ধীরে ধীরে শরীরের সঙ্গে এডজাস্ট করলেই ভালো এবং যদি কখনো বেশি ঘুম না হয়, তাহলে ঘুমের জন্য ওষুধ দিয়েছি তা সেবন করবেন।
ডাক্তার কে বলেছিলাম যে, এই ওষুধগুলো ঠিক কতদিন খেতে হবে। এবার ডাক্তার সাহেব বলে দিল, যতদিন সুস্থভাবে বাঁচতে চান। প্রথমত ওষুধ আপনাকে চালিয়ে যেতেই হবে এবং দ্বিতীয়তঃ মানসিক চাপ আপনাকে কমাতেই হবে, তাছাড়া আসলে কিছুই করার নেই।
আচ্ছা আপনার মানসিক চাপ কিভাবে সৃষ্টি হলো, কেনইবা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। ডাক্তার সাহেবের এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমি আসলে দিতে পারি নি। কেউ তো আসলে ইচ্ছা করে মানসিক চাপ নিতে চায় না, তবে এটা কখন কিভাবে মাথার ভিতরে ঢুকে যায়, তা আসলে হুটহাট বোঝা যায় না।
জীবন সহজ না এবং সবার চলার পথ একই রকম হয় না। এটা এখন একদম বাস্তবে প্রতিনিয়ত প্রমাণ পাচ্ছি। যাইহোক সবকিছু মিলিয়েই জীবন আর এসবই জীবনের অংশ। সুস্থ আসলে সবাই থাকতে চায়, তারপরেও আসলে অনেক সময় অনেক কিছু ঠিক সেভাবে হয়ে ওঠে না। তবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে সুস্থ থাকার জন্য।
জানিনা এর শেষ কোথায়, কতদিন এই সমস্যায় ভুগবো, তারো কোন নিশ্চয়তা নাই। তবে আমি একটা জিনিস মনে করি, জীবনে সুস্থ থাকতে গেলে অবশ্যই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকা খুবই জরুরী। তাছাড়াও যারা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়, তারা নিজেরাও শেষ হয়ে যায় এবং তাদের পরিবারটাও একটা সময় অনেকটাই ধ্বংসের পথে চলে যায় ।
জানিনা আমার জীবনের সামনে কি অপেক্ষা করছে। তবে আমি নিজের থেকেই আমার নিজের জীবনটাকে অনেকটা জটিলতা সম্পন্ন করে ফেলেছি যা এখন খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছি। তবে আফসোস করছি না বা হতাশ হচ্ছি না, প্রতিনিয়ত সবকিছু মেনে নিতে শেখার চেষ্টা করছি।
দিনশেষে ভালো থাকতেই হবে, এটাই হচ্ছে মূখ্য বিষয়। মানসিক চাপ কমাতে হবে এবং নিয়মমাফিক জীবনের ভিতরে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলতে হবে হয়তো এখন সেই পরিকল্পনায় বদ্ধ পরিকল্পিত আমি।
দেখি, সামনে কি অপেক্ষা করছে।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আসলে মানসিক চাপ যখন বেড়ে যায় তখন বিভিন্ন রকমের সমস্যা দেখা দেয়। একটা সময় কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ আর মানসিক চাপের কারণে দিনে দিনে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সত্যি ভাইয়া আপনার অসুস্থতার কথা জেনে খারাপ লাগছে। আমার যতটুকু মনে হয় দুশ্চিন্তা কমানো উচিত ভাইয়া। আসলে জীবন হয়তো জীবনের গতিতেই চলবে। আর বেশি দুশ্চিন্তা গ্রস্ত হলে ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
আশীর্বাদ করবেন আপু, যেন সব কিছু ঠিক হয়ে যায়।
ভাই উচ্চরক্ত চাপ ও মানসিক অস্থিরতার সত্যি একটা খারাপ রোগ ৷ যার ওষুধ নেই বলেলই চলে যতটুকু আমি মনে করি ৷ তবে ভাই শুনে অনেক হতাশ হলাম আপনাকে প্রতিনিয়ত ওষুধ খেতে হবে শুনে ৷
আসলেই ভাই জীবন সহজ না এবং সবার চলার পথ একই রকম হয় না। এটা ঠিক আর যথার্থই বলেছেন ৷ জীবনটা বড় কঠিন আবার এর প্রতি মুহূর্ত কাটে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ৷
তবে সর্বোপরি নিজের যত্ন নিবেন ৷ আর যতটা সম্ভব মানসিক অস্থিরতার কমানোর চেষ্টা করবেন ৷ ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা যে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন ৷
আসলে দিনশেষে জীবনে সুস্থ থাকতে গেলে অবশ্যই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকা খুবই জরুরী৷
ধন্যবাদ তোমার সাবলীল মন্তব্যের জন্য। শুভেচ্ছা রইল 😊🙏
ভাইয়া আমি আপনার শারীরিক সুস্থতা এবং দীর্ঘায়ু কামনা করি। উচ্চ রক্তচাপ নিঃসন্দেহে একটি মারাত্মক রোগ তারপরও এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে উচ্চ রক্তচাপের হাত থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই প্রতিদিন নিয়ম মত ওষুধ খেতে হবে এবং মানসিক চাপ কিংবা দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে হবে। ভাইয়া আমি আশা করি আপনি ডাক্তারের পরামর্শ গুলো সঠিকভাবে মেনে চলে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সক্ষম হবেন। ভাইয়া আপনার জন্য অনেক অনেক দোয়া রইল।
সবাই তো চায় ভাই সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করার জন্য, তবে মাঝে মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে যায়। আশীর্বাদ করবেন ভাই।
আমি কিন্তু ভাইয়া ঔষুধের তুলনায় লাফই স্টাইল পরিবর্তন করে নিজেকে সুস্থ্য রাখার বিষয়ে বেশী আগ্রহী। চলবে ঔষুধে আমি বিশ্বাসি নয়। তাই তো আমি প্রায় মেডিটেশন করে থাকি। খুব খারাপ লাগছে ভাইয়া। আশা করি খুব দ্রুত আপনি সুস্থ্যতা লাভ করে চলবে ঔষুধের গোল চক্কর হতে রেহাই পাবেন।
মেডিটেশন বেশ ভালো উপায়, ধন্যবাদ আপু সুন্দর পরামর্শ দেওয়ার জন্য।
করে দেখতে পারেন আমিও উপকৃত হয়েছি
উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক অস্থিরতার সাথে সাথে আবারও নতুন সমস্যার শিকার হয়েছেন আপনি। জেনে অনেক খারাপ লাগলো ভাই। আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। আসলেই দুশ্চিন্তাযর কারণে অনিদ্রার শিকার হয় মানুষ। এটা বাস্তব । আমিও এই একই সমস্যায় ভুগছি। আপনি যে পরিকল্পনায় বদ্ধ হয়েছেন সেটা আপনি যাতে সুন্দরভাবে পূরণ করতে পারেন এই কামনা করি।
আশীর্বাদ করবেন আপু আমার জন্য।