বিচার-সালিশ
বিগত বেশ কিছুদিন থেকেই একটা মানসিক ঝামেলার ভিতরে ছিলাম। এটা কম বেশি সকলেই জানেন যে, আমাদের গ্রামের বাড়িতে পার্শ্ববর্তী লোকজন কর্তৃক একটা ঝামেলা হয়েছিল। যাইহোক ব্যাপারটা অনেক দীর্ঘায়িত হয়েছিল। কারণ একটা সময়ের পরে পুলিশের শরণাপন্ন হতে হয়ে ছিল।
যেহেতু দিন দিন ব্যাপারটা ক্রমেই দীর্ঘায়িত হচ্ছিল তাই ভাবছিলাম ব্যাপারটা থেকে প্রতিকার পাওয়ার জন্য। মূলত এটাই দিনশেষে সকলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকে যে, কোন কিছু ঘটলে সেখান থেকে প্রতিকার পাওয়া।
আমার কাছে এ ধরনের অভিজ্ঞতা একদম নতুন বলা যায়। কারণ আমি এ ধরনের ঝামেলায় এর আগে বিগত সময়ে কখনোই যুক্ত হয়নি আর তাছাড়া যেহেতু পুলিশ কেসের ব্যাপার ছিল, তাই ব্যাপারটা একটু দীর্ঘায়িত হয়েছিল। তবে তাও আমি মানসিকভাবে মনোবল হারায়নি।
সত্য কথা বলতে গেলে কি, আমি দেশের আইন-কানুন এসব নিয়ে কোনো কথা বলবো না। কারণ এসব সম্পর্কে আপনারা সকলেই অবগত। তারপরেও বলবো যে, এইসব গ্রামীন ঝামেলা হলে সেখানে হয়তো অনেক নিরপরাধ লোকজনকে মাঝে মাঝে ফেঁসে দেওয়া হয়।
ঠিক যেভাবে ফেঁসে দেওয়া হয়েছিল আমার নিরপরাধ শ্বশুর শ্বাশুড়িকে । অনেকটাই মানসিক চাপের ভিতরে ছিলাম। কারণ তাদের সঙ্গে যেটা ঘটেছিল তা একদম অমানবিক।
যেহেতু ঘটনাটা বেশ কয়েকদিন আগের, তারপরেও ব্যাপারটা যেন কোনভাবেই সমাধান হচ্ছিল না। আমি চেষ্টা করেছিলাম প্রশাসনের লোকজনের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য। তবে ঐ যে বললাম, এই লোকগুলো আসলে মুহূর্তে মুহূর্তের রূপ বদলায় ।
তো কোনোভাবেই ব্যাপারটা সুরাহা হওয়া হচ্ছিল না। তাই অবশেষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির শরণাপন্ন হয়েছিলাম এবং বিষয়টা তার সঙ্গে শেয়ার করেছিলাম। অবশেষে সে আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল, যে করেই হোক ব্যাপারটার নিষ্পত্তি করে দেবে ।
অবশেষে গত দুই দিন আগে সেই ব্যাপারটা নিষ্পত্তি হয়ে গেল। তবে একদম যে খুব স্বাভাবিকভাবে হয়েছিল, তা না। কারণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও বেশ ভালোই চিন্তিত ছিল ব্যাপারটা নিয়ে। কারণ ব্যাপারটা এতটাই তিক্ততপূর্ণ ছিল যে, সেখান থেকে আসলে সহজে সমাধান বের করতে তাকেও বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।
তবে কিছু পয়সা যখন জনপ্রতিনিধি দুই পক্ষকে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল, তখন ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। আসলে দিনশেষে সকলে পয়সার কাছেই নত। কারণ পয়সা পেলেই সব যেন ঠান্ডা। যাইহোক ঘটনাটা যেটাই ঘটুক না কেন, তাও ব্যাপারটার একটা সমাধান পাওয়া গিয়েছে এটাই বড় ব্যাপার।
সত্য কথা বলতে গেলে কি, বিচার-ব্যবস্থার উপর আস্থা আসলে শতভাগ রাখাই শ্রেয়। কারণ সঠিক বিচার হয়তো, পৃথিবীতে কোন জায়গাতেই আছে কিনা এটা আমার জানা নেই। তবে আপাতত দৃষ্টিতে আমি যে জায়গাতে আছি, তারা আশেপাশে এই লক্ষণ দেখা যায় না বললেই চলে।
যেহেতু আমি কিছুটা সহজ-সরল মানুষ, এসব ঝুট-ঝামেলা পছন্দ করি না, তাই কিছুটা পয়সা খরচা করে হলেও যে ব্যাপারটার একটা সমাধান পাওয়া গিয়েছে, এটাই তো অনেকটাই বেশি। তবে অভিজ্ঞতাটা যে, খুব একটা ভালো ছিল সেটা আমি বলবো না।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
একদম সত্যি বলেছেন ভাইয়া, সঠিক বিচার ব্যবস্থা আছে কিনা আমারও জানা নেই। তবে যাই হোক জিনিসটা নিষ্পত্তি হয়েছে জেনে অনেক ভালো লাগলো। মাঝে মাঝে নিরপরাধ মানুষ ও এভাবে ফেঁসে যায়।আসলে ভাইয়া দিনশেষে টাকার কাছে সবাই হার মানে।
তারই চাক্ষুষ প্রমাণ পেলাম আপু।
আমরা ভাবি গ্রামের মানুষ খুব সহজ সরল,কিন্তু এদের মাঝেই প্যাচের অভাব নেই।এসব সমস্যা সমাধান করা আসলেই জটিল।তাও ভাল একজন জনপ্রতিনিধি পেয়েছিলেন।নইলে আরো বিপদে পড়তেন। সমস্যা সমাধান হয়েছে জেনে ভাল লাগল।
এইটা সত্য যে জনপ্রতিনিধি সেখানে বেশ ভালো বিচারকার্য করেছে।
নিরপরাধ লোকজনকে মাঝে মাঝে যে কিভাবে ক্ষমতাবানরা ফাঁসিয়ে দেয় তা আমার খুবই ভালোভাবে ধারণা আছে।কারন জন্ম থেকেই রাজনীতি বাড়িতে বেড়ে ওঠা আমার।দিনশেষে এটাই সত্যি টাকাই সব,যেখানে নিরীহ আপনজনও সঠিক বিচার পায় না।যাইহোক সমস্যার সমাধান হয়েছে জেনে ভালো লাগলো, ধন্যবাদ ভাইয়া।
জীবন হয়তো এমনি আপু, সহজ-সরল মানুষ গুলো ক্রমাগত ফেঁসে যায়।
পরিবারের আপন কেউ যদি সমস্যায় পড়ে তাহলে সত্যিই অনেক খারাপ লাগে। আর আজকালকার বিচার ব্যবস্থা আমরা সবাই জানি। সঠিক বিচার পাওয়া খুবই মুশকিল। আর নিরাপদ মানুষ গুলো ফেসে যায়। যাইহোক অবশেষে সব সমস্যার সমাধান হয়েছে জেনে ভালো লাগলো।
যাক অবশেষে ঝামেলা কেটে গিয়েছে যেনো ভালো লাগলো। এসব গ্রামের ঝামেলা গুলো একটু বেশি খারাপ লাগে। একটা ভালো সমাধান সহজে পাওয়া যায় না। আমাদের সকলের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
অবশেষে তাহলে ঝামেলা শেষ হয়েছে ৷ আসলে দুনিয়াটা হলো টাকার কাঙ্গাল ৷ টাকা থাকলে সব হাতের মুঠোয় ৷ আর গ্রামের মানুষ অল্পতেই বিচার সালিশ করে থাকে ৷ আর সুযোগ পেলে নিরপরাধ ব্যাক্তির দের অপরাধে জড়িয়ে ফেলে ৷
একমাত্র পৃথিবীতে টাকা পয়সা থাকলে এবং টাকা পয়সা দিলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। যেমন আইনি প্রক্রিয়া গিয়েছিলেন সেখানে প্রশাসনিক লোকজনের পিছনে বহুত টাকা-পয়সা হয়তো লেগেছে । আবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তারাও বিচারের কাজে টাকা খেয়ে থাকে সেজন্য সবাই টাকার গোলাম সুষ্ঠু ন্যায় বিচার পাওয়া খুবই দুষ্কর।
গ্রামের দিকে পারা প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝামেলা থাকে তবে অনেক সময় খুব বেশি গভীরে চলে যায় যেমনটা হয়ত আপনার শ্বশুর শাশুড়ি এর সাথে হয়েছে। টাকা ছাড়া ভাইয়া গাছের পাতাও নড়তে চাইবে না কদিন পর । যাই হোক জনপ্রতিনিধিরা আছেই কিছু নিয়ে আপনাকে কিছু দিয়ে দিবে। সব মিলিয়ে ভাল হয়েছে কারণ ঝামেলা শেষ হয়েছে। ধন্যবাদ ভাইয়া।
গ্রামের দিকে এই ঝামেলা গুলো অহরহ দেখা যায়,, নরমের ঘাড়ে কাঠাল ভেঙ্গে খেতে সবাই ওস্তাদ এক কথায়। আর এদেশের বিচার ব্যবস্থা বা সালিশ ডেকে মিমাংসা করতে বসা, সাধারণ মানুষের জন্য দুইটাই পাপ। অর্থ যেদিকে রায়ের পাল্লা সেদিকেই। তারপরও যে ঝামেলার অবসান ঘটেছে এটাই বড় কথা। মানসিক চাপ থেকে তো কিছুটা রেহাই পাওয়া গেছে। এটাই শান্তি। ভালো থাকবেন ভাই।