প্রস্থান

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

png_20230528_145627_0000.png

গলির শেষ প্রান্তের দিকে আধাপাকা যে বাড়িটা আছে, ওখানেই শিহাব থাকতো। ওর সঙ্গে বেড়ে ওঠা সেই ছোটবেলা থেকেই। যদিও একটা সময়ের পরে গিয়ে ওর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রচুর বেড়ে গিয়েছিল। সেই রোজ প্রতিনিয়ত খেলার মাঠে দেখা, পিকনিক আর তাছাড়া ছেলেবেলার হৈহুল্লোড় তো ছিলোই। তবে তা একটা সময়ের পরে সম্পূর্ণই ফিকে হয়ে গিয়েছিল।

বয়সে খুব যে একটা তফাৎ ছিল আমাদের তা বলা যাবে না। তবে সম্পর্কটা ছিল অনেকটাই আত্মিক। যেখানে হয়তো বয়সের ব্যবধান খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারে নি। তবে জীবন আসলে একেক জায়গায় একেক রকম, এইটা কিন্তু মানতে হবে।

নিজেকে ও ওর বাবার ব্যবসায় মোটামুটি সেই ছোটবেলা থেকে বেশ ভালোভাবেই জড়িয়ে ফেলেছিল। যেহেতু ব্যবসাটা পারিবারিক, তাই ব্যবসার মাঝেই নিজের অবস্থান, ও খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

আমার তো এখনো বেশ ভালোই মনে আছে, আমি যখন এ শহর ছেড়ে হুট করে চলে গিয়েছিলাম, সেই সময় ভুলেও আমার কেউ খোঁজ নেয়নি। কি অবস্থার ভিতরে ছিলাম, কিভাবে যাচ্ছিল আমার সময় গুলো, কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলাম এই কথাগুলো এখনো অনেকটাই অজানা সবার। ইচ্ছে করেই কাউকে মুখ ফুটে বলি নি। তাছাড়া বললেও কোন লাভ হতো না। তাই নিজের অবস্থান নিজেকেই পরিপক্ক করে নিতে হয়েছে।

তবে শিহাবের হঠাৎ প্রস্থানটা আমাকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। ওর ছোট বাবুটার মুখ বারবার যেন আমার চোখের সামনে ভাসছিল। যদিও সবকিছু ও নিজের থেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, তবে সত্যি বলতে গেলে কি,পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা যদি পক্ষে না থাকে, তাহলে আসলে সেই মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টাটা সম্পূর্ণই বৃথা এবং সেই জটিলতাপূর্ণ পরিবেশে টিকে থাকাটাও বেশ কষ্টসাধ্য।

প্রতিনিয়ত সম্পর্ক গুলো যেন ক্রমশ হালকা হয়ে যাচ্ছে। কে রাখে কার খোঁজ, সবাই তো ব্যস্ত আপন ভুবনে। তারপরেও আমি মুখিয়ে থাকি সবার কথা শোনার জন্য। অনেকটা আগ্রহ নিয়েই জানার চেষ্টা করি। ও যে পরিমাণ মানসিক ধাক্কাটা খেয়েছে, আমি কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারছি ওর ব্যথাটা। এমন একটা সময় তো আমারও গিয়েছে। ওর এই শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে একপ্রকার আমি সাধুবাদ জানাই।

কেউ তো আর হুটহাট এমন সিদ্ধান্ত নেয় না বরং বড্ড অভিমানে হয়তো এমন সব গুরুতর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। আমি শিহাব কে কোন দোষারোপ করব না। আমি মনেকরি ও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন হয়তো যা করেছে, তা হয়তো সৌজন্যতা বা নিঃস্বার্থভাবেই করেছে। তবে কতটুকু মূল্যায়ন পেয়েছে তা জানা নেই। তবে এখন ও যা শিখেছে, আমি মনেকরি সেই শিক্ষা ওকে আরো পরিপক্ক হতে অনেকটাই সহযোগিতা করবে।

জীবনে ধাক্কা খাওয়া আসলেই খুব দরকার আর তা যদি হয় নিজের মানুষদের কাছ থেকে, তাহলে সেই শিক্ষাটা আরো বেশি মূল্যবান হয়ে থাকে।

কিছুদিন আগেই ওর চলে যাওয়ার খবরটা শুনেছিলাম। আমার নিজের সত্তাকে ওর মাঝে যেন কিছুটা হলেও খুঁজে পাচ্ছিলাম। তবে এ যাত্রায় আমি বেশ কৃতজ্ঞ নিজের কাছে। কারণ ওর সঙ্গে কিছুটা হলেও যোগাযোগ করতে পেরেছিলাম। এ শহরে ওর হয়তো আরো অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ছিল বা আছে। তবে ওর এই কঠিন সময়ে, কয়জন ওর খোঁজখবর নিয়েছে এটাই হচ্ছে মুখ্য বিষয়।

আসলে কঠিন সময়ের ভাগীদার কেউ হতে চায় না, সবাই তো সুখের কাঙ্গাল । আমিও চাই শিহাব ফিরে আসুক। তবে নড়বড়ে হয়ে নয়, অনেকটা নিজের অবস্থান পরিপক্ক ভাবে তৈরি করে।

ভালো থাকিস শিহাব, তোর সুদিনের সেই হাসি দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

Banner-15.png

ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht


20211003_112202.gif


JOIN WITH US ON DISCORD SERVER

banner-abb4.png

Follow @amarbanglablog for last updates


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

Sort:  
 3 years ago 

ভাইয়া, সুখ দুঃখ নিয়ে মানুষের জীবন। তবে সুখের সময় সঙ্গী অনেকেই হয়, কিন্তু দুঃসময়ে কাউকেই পাশে পাওয়া যায় না। এই কথাটি একদম চিরন্তন সত্য কথা। আর এই সুখের সময় থেকে যখন শিহাব ভাই দুঃখের সময়ে এসে পৌঁছেছে তখন আর তার খোঁজ নেয়ার মত কেউ নেই পাশে। তবে ভাইয়া আপনি নিজের মতো করে শিহাব ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন এটা খুব ভালো করেছেন। আপনার মানবতার এই দিকগুলো আমাকেও খুব আকর্ষণ করে। আপনার পোস্টগুলো পড়ে প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু শিখতে পারি। যাইহোক ভাইয়া,শিহাব ভাইয়ের সময় পরিবর্তন হোক, এবং সুসময় ফিরে পাক এই প্রত্যাশা করছি। সিহাব ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।

 3 years ago 

ধন্যবাদ ভাই, আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য। আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

প্রস্থান বিষয়টি বরাবরই দুঃখজনক।হয়তো তিনি আর কোনো উপায় না খুঁজে পেয়ে এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। যে উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে তিনি এ-শহর ছেড়ে চলে গিয়েছেন তিনি যেন সেই উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।তার প্রতি শুভকামনা রইল। ভালো থাকুক শিহাব।

 3 years ago 

শিহাব ভালো থাকুক এবং সে যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এমনটা প্রত্যাশা আমিও ব্যক্ত করছি।

 3 years ago 

জীবন ঘনিষ্ট একটি লেখা আমাদের উপহার দিয়েছেন ভাই। এজন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। একদম মনের কথা বলেছেন, কঠিন সময়ের ভাগীদার কেউ হতে চায়না।সবাই সুখের কাঙ্গাল।আমাদের সমাজে এখন তেলমারা স্বভাবিদের সংখ্যাই বেশি।বিপদে পাশে দাঁড়ানোর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আশকরি শিহাব কঠিন সময় কাটিয়ে উঠবে। শুভ কামনা আপনার জন্য।

 3 years ago 

শিহাবের সুসময় আসুক, এমনটা আমিও কামনা করছি আপু।

 3 years ago 

একটা সময় ছিল জীবনের একাংশ স্বাধীন যখন কোন ধরনের পারিপার্শ্বিক চিন্তাভাবনা করা লাগেনি। মানুষ যখন বড় হয় তার উপর অনেক দায়িত্ব চলে আসে সেই দায়িত্বের ক্ষেত্রে সবাই তার প্রিয় মানুষের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো রেখে চলে যেতে হয়। তেমনটাই হয়েছে এটাই জীবনের বাস্তবতা।

 3 years ago 

বাস্তবতা আসলে কাকে কোন পরিস্থিতিতে ফেলবে, এটা বলা সত্যিই বেশ মুশকিল।

 3 years ago 

সবার জীবনেই এমন দুঃখ আসে,সবাইকে মোকাবেলা করতে হয়। কিছুর সাথেই সবাইকে মানিয়ে নিতে হয়। যারা অসক্ষম কম তারা ঝরে পড়ে। আর বিপদের দিনে কেউ পাশে থাকে না সবাই নিজ স্বার্থে ব্যস্ত।

 3 years ago 

কখন কার কি হয়ে যায় তা তো বলা মুশকিল, তবে শিহাবের জন্য মনটা ভালই ব্যথিত হয়েছে।

 3 years ago 

নিজের স্থান থেকে চলে যাওয়াটা সত্যিই অনেক কষ্টদায়ক।তারপরও জীবনের একটা সময় গিয়ে মানুষ বড় অসহায় পড়ে আর তখনি এতো বড় একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়।আপনার বন্ধুর জীবনের কঠিন সময় কেটে গিয়ে আবারও নতুনভাবে নিজেকে তৈরি করে ফিরে আসুক নিজের স্থানে সেই প্রার্থনা করি ঈশ্বরের কাছে।🙏🙏

 3 years ago 

এমনটা আমি নিজেই চাচ্ছি এই মুহুর্তে তার জন্য।

 3 years ago 

আপনার সাথে আমরাও সেই শিহাব ভাইয়ার সুখের দিনটার অপেক্ষায় রইলাম। আপনার আজকে পোস্টটি পড়ে ভিতর থেকে কেমন জানি একটা চাপা কান্না ভেসে আসতে চাচ্ছে নিজেও বুঝতে পারছি না। কেন জানি এমন হচ্ছিল। যদিও এই বয়সে এখনো সেরকম কোনো ধাক্কা খাইনি তবে আমার বাবাকে দেখে অনেক কিছু শিখেছি। নিজের মানুষ থেকে ধাক্কা খাওয়া পরের মানুষ থেকে ধাক্কা খাওয়া বাবার কষ্টের অনুভূতিগুলো নিজ সামনে থেকে দেখেছি সে দিক থেকে অনেক কিছুই অনুধাবন করতে পারি। আপনি যা বলেছেন সেগুলো আসলে অনেকটা সত্য কঠিন সময়ে কেউ পাশে থাকে না সবাই সুখের সময় নিজেকে উপস্থাপন করতে চায়। কিন্তু সুখের সময় কি কাউকে প্রয়োজন আছে আমি মনে করি কখনোই না মানুষের কঠিন সময় বা বিপদের সময় সহযোগিতা করাটাই হচ্ছে প্রকৃত মানুষের কাজ এটা আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।

 3 years ago 

আপনার কথার সঙ্গে আমি সহমত পোষণ করছি আপু, বিপদেই আসলে মানুষের আসল রূপ খুঁজে পাওয়া যায়।

 3 years ago 

কঠিন সময় গুলোতে কেউ পাশে দাঁড়ায় না। হয়তো শিহাব ভাইয়ার জীবনেও এমনটা হয়েছে। আপনি যেহেতু এরকম পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলেন তাই হয়তো উনার কষ্টটা আরও বেশি বুঝতে পারছেন। যাই হোক তবুও চাই আবারও শিহাব ভাইয়া নিজের অবস্থানে ফিরে আসুক।

 3 years ago 

শিহাব নিজের আবারও অবস্থানে ফিরে আসুক তবে আরও পরিপক্ব হয়ে।

 3 years ago 

কোনো পরিস্থিতিতে নিজে না পরলে আসলে অন্যের পরিস্থিতিটা উপলব্ধি করা খুবই কষ্টকর। শিহাবের জীবনে কি ঘটেছিল তা শুধু সেই ভালো বুঝতে পেরেছে। সেজন্য সে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাছাড়া ঠিকই বলেছেন বিপদের সময় কয়জন কেই বা কাছে পাওয়া যায়। আপনি অনেকটা তার খোঁজ-খবর নিতে পেরেছেন জেনে ভালো লাগলো । আশা করি শিহাবের নতুন সিদ্ধান্ত তার জন্য ভালই হবে।

 3 years ago 

শিহাবের ভালো কিছু হোক এমনটা আমি নিজেও প্রত্যাশা করি।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 65120.31
ETH 1941.58
USDT 1.00
SBD 0.37