শৈশবের বন্ধুদের সঙ্গে কিছু সময়

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

20230408_173852.jpg

মাধ্যমিকের সময়ে বছর দুয়েক এই স্কুলটাতে, আমার পড়ার সুযোগ হয়েছিল। সেখানেই মূলত আমার শৈশব কালের কিছু বন্ধুবান্ধব তৈরি হয়েছিল। যাদের সঙ্গে এখনো টুকটাক যোগাযোগ হয় ।

হ্যাঁ, এইটা সত্য সময় গড়িয়ে গিয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে, অনেক কিছুই। হয়তো সেটা সবার জীবন-জীবিকা নতুবা কর্মক্ষেত্রে। তারপরেও যখন শৈশবের বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে একত্রে হঠাৎ দেখা হয়, তখন সেটা আসলেই ভালো লাগার মতো একটা মুহূর্ত।

20230408_172907.jpg

প্রত্যেক বছর রমজানের সময়ে, এই স্কুলের প্রবীণ শিক্ষকের নামেই একটা ব্যাচ ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে থাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ। মূলত এটা দীর্ঘ সময় থেকেই হয়ে আসছে আর রমজানের সময়ে সবাই যেহেতু এলাকায় চলে আসে, তখন এই ব্যাচ ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট যেন আরো অনেকটাই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়,সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঝে ।

20230408_172853.jpg

এই ফুটবল টুর্নামেন্ট শুধুই কি ফুটবল খেলা, না এটা বললে ভুল হবে । কারণ এটা হলো ফেলা আসা জীবনের বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেখা করার একটা মাধ্যম । অনেকটা পুনর্মিলনী ভাব কাজ করে নিজেদের মাঝে। আমি নিজেও মোটামুটি এই সময়টার জন্য বেশ ভালোই অপেক্ষা করে থাকি। কারণ এই সময় ছাড়া তো আর বাস্তবিকভাবে শৈশবের বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে তেমন একটা, দেখা হয় না বললেই চলে। একই রংয়ের জার্সি পরিধান করে, ব্যাচের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে, অনেকেই যখন মাঠে ফুটবল খেলে, ব্যাপারটা আসলেই তখন ভিন্ন রকম অনুভূতির সৃষ্টি করে।

20230414_172615.jpg

আজ গিয়েছিলাম নিজেদের ব্যাচের খেলা দেখতে। গিয়ে তো মোটামুটি অনেকগুলো পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। এবার বাবুকেও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম। ওরা বাবুকে দেখে অনেকটাই অবাক হয়ে গিয়েছিল আর অবাক হওয়ারই কথা। কারণ জীবন বদলায়, সময় এগিয়ে যায় আর পরিবর্তন চলে আসে সবখানেই।

20230408_173623.jpg

আমি যতটা খুশি হয়েছি, তার থেকে মনেহয় বেশি খুশি হয়েছে, আমার বাবু। কারণ সে পুরো মাঠের ভিতরে ছোটাছুটি করছিল এবং ফুটবল হাতে নিয়ে অনেকটা নিজের মতো করে সময় কাটানোর চেষ্টা করছিল। তাছাড়াও আমার বন্ধুবান্ধব ওকে বেশ ভালই আদর করেছিল।

স্কুলে গিয়ে মূলত আমি চেষ্টা করেছিলাম অন্য সকল ব্যাচের বড় ভাইদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করার জন্য। তারাও মোটামুটি আমাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করছিল।

20230408_172817.jpg

আমার এখনো মনে আছে, যখন আমাদের জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ব্যাঙের দরকার পড়েছিল, সেই সময় এই স্বদেশ ভাই, আমাদেরকে ব্যাঙের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। আজ আবারো দীর্ঘদিন পরে স্বদেশ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়ে গিয়েছিল । আমাকে শুরুতেই চিনতে পারেনি, কিভাবে চিনবে বলুন। মাধ্যমিক পড়ুয়া ছেলেটার তো এখন মোটামুটি দৈহিক গঠন অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। তবে আমি তাকে ঠিকই চিনতে পেরেছিলাম। কাছে গিয়ে যখন তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলাম, তখন মুহূর্তেই সে আমাকে মনে করতে পেরেছিল।

20230408_173201.jpg

আহা, এই স্কুল মাঠে নিজেও এক সময় কত ক্রিকেট খেলেছি, বৃষ্টির সময়ে মাঝে মাঝেই ফুটবল নিয়ে নেমে পড়তাম বন্ধুরা মিলে। তবে এখন আর চাইলেও সেসব সম্ভব না। দীর্ঘদিন পরে স্কুল ক্যাম্পাসে এসে যেন পুরনো স্মৃতি গুলো খুঁজে ফেরার চেষ্টা করছিলাম। এই ফুটবল ম্যাচের আয়োজনকে অবশ্যই একদিক থেকে আমি, সাধুবাদ জানাই। কারণ পুরনো মানুষগুলোর সঙ্গে দেখা হয় এবং সময়টাও বেশ ভালো কাটে।

গলা ফাটিয়ে আজ চেঁচামেচি করলাম কারণ এবারের ফুটবল ম্যাচটা আমরা জিতে গিয়েছি এবং পরের রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়েছি। দীর্ঘদিন পরে স্কুলে এসে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়ে, বেশ ভালই লাগলো আর তাছাড়া এবার যেহেতু বাবুকে নিয়ে এসেছিলাম, তাই নিজের ভিতরেও অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করছিল। যে স্কুলে আমার পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল, সেই স্কুল মাঠেই যখন আমার ছেলে ছোট-ছোট পায়ে দৌড়াদৌড়ি করছিল, তখন ওর মাঝেই যেন নিজেকে খুঁজে পাচ্ছিলাম।

20230408_174514.jpg

আমি জানি এই টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরেই, আবারো পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হবে আবারো যে যার মত করে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তারপরেও এই স্বল্প সময়ের দেখা, এই খেলাধুলা যেন কিছুটা হলেও পুরনো স্মৃতিগুলোকে উজ্জীবিত করে তোলে।

Banner-10.png

ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht


20211003_112202.gif


JOIN WITH US ON DISCORD SERVER

banner-abb4.png

Follow @amarbanglablog for last updates


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

Sort:  
 3 years ago 

জীবনযাত্রা সবাইকে ব্যাস্ততার শিকলে বেঁধে ফেলেছে, চাইলেও ছুটে যাওয়া যায় না বন্ধুদের মাঝে। মন খুলে হাসি আনন্দ আর উপভোগ করা যায়না সেই কাছের মানুষগুলোর সাথে।

তবে বছরের এই সময়টাতে সবাই একত্রিত হলে মনে হয় কিছুটা আনন্দ অনুভূতি ভেতরে জেগে ওঠে। ভীষণ ভালো উদ্যোগ এটা, সবাইকে একসাথে দেখে বেশ ভালো লাগছিলো।
সায়ান বাবু বেশ আনন্দ করছে দেখলাম।
অনেক ধন্যবাদ ভাই চমৎকার পোস্টটি আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য।

 3 years ago 

সত্যি বলতে গেলে কি ভাই, আসলেই রমজান মাসের এই উদ্যোগটা আমার কাছে ভালই লাগে, এটা সত্য বাবু খোলামেলা মাঠ পেয়ে অনেকটাই আনন্দে ছিল ।

 3 years ago 

বরাররের মতই আপনার লিখনি ও ফটোগ্রাফি সুন্দর হয়েছে।ফুটবল হাতে আপনার স্মৃতি বিজড়িত স্কুল মাঠে আপনার বাবুর ছবিটা দারুণ হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ দারুণ ভাবে সফল হয়েছে ,ব্যাচ ভিত্তিক ফুটবল টুর্ণামেন্টের আয়োজন করে। প্রবীন শিক্ষককে স্মরণ করা ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ভাল উদ্যোগ। আর এই টুর্ণামেন্টকে ঘিরে শৈশবের কত পুরানো বন্ধুর সাথে দেখা।দারুণ কেটেছে আপনার সময় টুকু। শুভ কামনা আপনার জন্য।

 3 years ago 

হ্যাঁ আপু, দীর্ঘদিন পরে বাল্যবন্ধুদের সঙ্গে সত্যিই সময়টা বেশ ভালোই কেটেছে। আমার অনুভূতি বুঝতে পারার জন্য, ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

এই স্কুলটিতে বেশি দিন না পড়লেও বেশ অনেক বন্ধু হয়েছিল এখানে আপনার।আবার যোগাযোগ ও আছে কয়েকজনের সাথে।রমজানে ফুটবল টুর্নামেন্ট এর আয়োজন দেখতে বাবুকে নিয়ে গিয়ে ভালোই করেছিলেন ভাইয়া।অনেক মজা করেছে বাবু।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

হুম এটা সত্য যে, বাবু ঐ সময়টাতে মাঠের ভিতরে ফুটবল হাতে নিয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করেছিল এবং সময়টাও বেশ ভালো কেটেছে আমাদের।

 3 years ago 

স্কুল জীবনে কাটানো প্রত্যেকটি মুহূর্ত দারুন ছিল। স্কুল বন্ধুদের সাথে দেখা হয়েছে এবং ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে দেখে ভালো লাগলো। রমজান মাসে যেহেতু সবাই প্রায় মোটামুটি এলাকায় চলে আসে তাই এই সময়টা ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য নির্ধারণ করে ভালোই হয়েছে। একদিকে যেমন ফুটবল টুর্নামেন্ট উদযাপন করা যায় অন্যদিকে সবার সাথে দেখা হয়ে যায়। বাবু অনেক খুশি হয়েছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

 3 years ago 

অনেকটা পূর্ণমিলনীর মতো অনুভূতি কাজ করে সেই সময় আপু। ধন্যবাদ আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য।

 3 years ago 

শৈশবের সময়টাকে আবার নতুন করে বাঁচতে কে ই না ভালোবাসে। ঐ সময় টা সাময়িক ভাবে মনে হয়,"এখন আমরা আমাদের। "পরিবারের চাপ চিন্তা সব কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যেতে মন চায়।

 3 years ago 

সময় গড়িয়ে গেলেও, পরিবর্তন হলেও, মাঝেমধ্যে যদি স্কুল জীবনের পুরোনো বন্ধু বান্ধবীদের সাথে দেখা হয়ে যায় ।তার মধ্যে এক অদ্ভুত আনন্দ রয়েছে ভাই। প্রতিবছর ঈদের আগে আপনার মাধ্যমিকের সময় পড়া ছোটোবেলার স্কুল থেকে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। আর আপনারা সেখানে সকল বন্ধু-বান্ধবরা একসাথে মিলিত হয়ে দারুন একটি সময় কাটান তা আপনার পোস্ট দেখেই বোঝা যাচ্ছে। আপনার ছোট ছেলেটি অনেক মজা করেছে দেখছি ফুটবল হাতে মাঠের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করে। আর আপনাদের টিম এই টুর্নামেন্টে জিতে গিয়েছে, তাই অনেক অভিনন্দন আপনাদের সকলকে। আর জীববিজ্ঞানের জন্য ব্যাঙ জোগাড় করে দেওয়া ,সেই বন্ধুটির সাথে দেখা হয়ে নিশ্চয়ই অনেক ভালো লেগেছে আপনার।

 3 years ago 

অবশ্যই ভালো লেগেছে, এটা আসলে বলাবাহুল্য। কারণ এমন সময় তো আর প্রতিনিয়ত আসে না। ধন্যবাদ আপু আপনার মন্তব্যের জন্য।

 3 years ago 

প্রথমত পুরোনো সেই বন্ধুদের সাথে দেখা আর দ্বিতীয়ত ম্যাচ জিতে গিয়েছেন। তবে এরকম প্রতিবছর প্রিয় চেনা মুখ গুলোর সাথে আবার দেখা করতে ভালো লাগে।আমরা নিজেরাও রমজান মাসের ২৯ রোজায় বন্ধুদের সাথে বড় আকারে ইফতার মাহফিল এর আয়োজন করি। তবে আমার কাছে আপনাদের ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়টি সবচেয়ে মজার লেগেছে।

 3 years ago 

আমাদের এখানে মূলত বিগত সময়ে যারা এই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে বেরিয়েছে, তাদের কেন্দ্র করেই প্রাক্তন ছাত্রদের নিয়ে ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে ভাই।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.103
BTC 63564.47
ETH 1885.34
USDT 1.00
SBD 0.37