যখন যুক্তি বৃদ্ধাঙ্গুলি পায় !

in আমার বাংলা ব্লগyesterday

31936.jpg
source

কারে অবুঝ বলেন ভাই? এখন তো প্রায় সবাই নিজেকে বুদ্ধিজীবী ভাবতে অভ্যস্ত। কিছু বুঝুক আর না-ই বুঝুক, অন্যকে কীভাবে টেনে নামাতে হবে, কোথায় লেং মেরে তাকে থামিয়ে দিতে হবে—এই বিদ্যায় অনেকেই আশ্চর্য রকম দক্ষ। যেন জ্ঞান অর্জনের চেয়ে প্রতিপক্ষকে হারানোর কৌশলই আজ বড় হয়ে উঠেছে।

বিশ্বাস না হলে চারপাশে একটু তাকিয়ে দেখুন। শত শত উদাহরণ চোখের সামনে ভেসে উঠবে। মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু এখন মতের বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়ার চেয়ে মানুষটাকেই ছোট করে দেওয়ার প্রবণতা যেন বেশি। দীর্ঘদিনের চর্চায় এই মানসিকতা সমাজের নানা স্তরে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, অনেকেই এটাকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়েছে।

মন খারাপ হয় না, বরং বিস্ময় জাগে—মানুষ কত দ্রুত নিজের রূপ বদলে ফেলতে পারে! যুক্তির সামনে মাথা নত করার পরিবর্তে অহংকারকে ঢাল বানিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আপনি যতই তথ্য, প্রমাণ কিংবা ক্ষুরধার যুক্তি তুলে ধরুন না কেন, অনেকেই তা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বলবে, "এসব তো আগেই জানা।" অথচ জানার প্রমাণ তাদের কথায় নয়, কাজে খুঁজে পাওয়া দরকার, যা মোটেও সাদৃশ্য নয়।

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, এদের একটি বড় অংশ নিজের পরিবর্তন চায় না, আবার অন্যের ইতিবাচক পরিবর্তনও সহ্য করতে পারে না। কেউ একটু এগিয়ে গেলে তাকে অভিনন্দন জানানোর বদলে টেনে নামানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সহযোগিতার জায়গায় জন্ম নেয় ঈর্ষা, আর সুস্থ সমালোচনার জায়গা দখল করে বিদ্বেষ।

ফলাফল একটাই—অহেতুক ধাক্কাধাক্কি, অকারণ বিরোধ আর অনর্থক শক্তিক্ষয়। অথচ সমাজ এগিয়ে যায় তখনই, যখন মানুষ যুক্তিকে সম্মান করে, ভুল স্বীকার করতে শেখে এবং অন্যের উন্নতিকে নিজের পরাজয় মনে না করে অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করে। যে সমাজে অহংকার জ্ঞানের চেয়ে বড় হয়ে যায়, সেখানে সত্যের কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.102
BTC 63721.87
ETH 1794.34
USDT 1.00
SBD 0.38