বড্ড ক্ষীণ
বেশ অনেকটা দিন থেকেই প্রীতম কে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে রেখেছিলাম, মূলত ওর খোঁজখবর নেওয়ার জন্য। সময় গড়িয়ে যায়, তবুও প্রীতমের কাছ থেকে উত্তর আসে না। প্রতিনিয়তই মেসেঞ্জারে ওর নামের পাশে উজ্জ্বল সবুজ বাতি জ্বলজ্বল করে জ্বলতে দেখি, ও আমার বার্তা ঠিকই দেখে, তবে উত্তর দেয় না।
আজ মাঝরাতে ইচ্ছে করেই মুঠোফোনের নাম্বার থেকে ওকে ফোন দিয়েছিলাম। বহুদিন বাদে সেই চিরচেনা কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম, যদিও খানিকটা সময় চুপচাপ ছিলাম, তবে একটা সময়ের পড়ে গিয়ে আর চুপ থাকতে পারিনি। ওকে আমি বলেই ফেললাম, আমি তোর বন্ধু। এটা আমার নতুন নাম্বার। ও এবার আমার কণ্ঠস্বর চিনতে পেরেছে,ভাগ্যিস ফোন কেটে দেয়নি। অনেকটা সময়ই ওর সঙ্গে কথা হল।
ও যে মানসিকভাবে ভালো নেই, তা যেন ওর কথাবার্তা শুনেই বুঝতে পারছি। সময়টা আসলে ওর পক্ষে যাচ্ছে না। সবদিক থেকেই ও এলোমেলো অবস্থার ভিতরে পড়ে গিয়েছে। আর মাত্র এক বছর বয়স বাকি আছে সরকারি চাকরির পরীক্ষার । আজ ৪১ তম বিসিএসের রেজাল্ট প্রকাশ হয়েছে, তাতে ওর রোল নেই। কি পরিমাণ যে দুশ্চিন্তায় ওর প্রতিটা প্রহর কাটছে, ও যেন তা নিজেই বুঝতে পারছে ।
বড্ড অদ্ভুতভাবে ও জীবনটাকে দেখার চেষ্টা করছে। আচ্ছা, এই বিসিএস, সরকারি চাকুরী অথবা কর্পোরেটের জব, এটাই কি জীবন। নাকি এর বাহিরেও জীবন আছে। আমি উত্তর মেলাতে পারি না।
তারপরেও ও শত হতাশার পরে বলেই ফেলল, তিতাস গ্যাসের (পেট্রো বাংলা) নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় ও টিকেছে। তবে দুশ্চিন্তা যেন ওর এখনো কমেনি। কারণ ও যে পদের জন্য নিয়োগের পরীক্ষায় টিকেছে,সেখানে জনবল নেবে মাত্র পাঁচজন। আর লিখিত পরীক্ষায় টিকেছে পঞ্চাশ জন। ব্যাপারটা কি অনুমান করতে পারছেন,মানে বাকি পয়তাল্লিশ জনকে ভাইভা পরীক্ষাতে ডেকে সসম্মানে বাতিল করে দেওয়া হবে।
তারপরেও প্রীতম বড্ড আশাবাদী , কোনরকমে তার যদি সেখানে চাকরিটা হয়ে যায়, তাহলে হয়তো তার জীবনের চিত্রটাই বদলে যাবে। হয়তো তার দুশ্চিন্তা গুলো অনেকটাই কমে যাবে, তার জীবনে নতুন একটা অধ্যায়ের সূচনা হবে।
তবে প্রীতম যদি বাস্তবিকভাবে চিন্তা করে, তাহলে যে অপ্রিয় সত্যটা তার সামনে প্রকাশ পাচ্ছে, সেটা বড্ড ভয়াবহ। পঞ্চাশ জন থেকে মাত্র পাঁচজন কে নেওয়া হবে। কি নির্মম, তাই না। সত্যি কথা বলতে গেলে কি, যার এখানে পয়সার কদরটা একটু বেশি থাকবে, তার কাংখিত পাঁচজনের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে।
প্রীতমের পয়সাতে বড্ড ঘাটতি আছে। এতো পয়সার যোগান, সে আসলে কোন ভাবেই করতে পারবে না। তবে তারপরেও সে আশাবাদী, যদি সৌভাগ্যক্রমে বিনা পয়সায় তার চাকরিটা হয়ে যায়।
এমন অপ্রিয় সত্য হজম করার পরেও, তাও সে তীর্থের কাকের মতো চেয়ে আছে। দীর্ঘদিন পরে যেহেতু বাল্যবন্ধুর সঙ্গে কথা হলো, তখন আসলে এসব শোনার পরে ওকে বলেই ফেললাম, প্রীতম আর একটা বছর যেহেতু চাকরির বয়স আছে, আরেকটু ভালোভাবে চেষ্টা করে দেখ, অন্যত্র কোন জায়গায় টিকতে পারিস কি না। তোর আসলে, পেট্রো বাংলাতে নিযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার ব্যাপারটা বড্ড ক্ষীণ ভাবেই দেখছি আমি।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1687389232464334848?t=Op108R6zzskW_j35bzWOYg&s=19
আসলে এখনকার সময়টা বড্ড খারাপ।
এখন সরকারী চাকরী পাওয়া আর আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া একই ব্যাপার। মানুষ এখন আর মানুষ নেই, ললুপ কুকুরের মতো ঘুসের টাকা খেয়ে চাকরি দেয়ার জন্য ঘোরে।
যাইহোক আপনার বন্ধুটার চাকরিটা হোক এটা মন থেকে প্রার্থনা করি ভাই। মানুষ এখন সত্যিই খুব কষ্টে থাকে 😕
অর্থের কাছে সব হেরে যায়, পরিস্থিতি আসলেই অনেকটা জটিলতা সম্পন্ন।
আসলেই এতো কষ্ট করে পড়াশোনা করার পর, যদি চাকরির বাজারে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ করার সুযোগ না পাওয়া যায়, তাহলে এর চেয়ে কষ্টের আর কিছুই হতে পারে না। টাকা দিয়ে চাকরি আগেই কিনে ফেলে। মানুষ টাকার লোভে একেবারে অন্ধ হয়ে গিয়েছে। যাইহোক আপনার বন্ধুর জন্য শুভকামনা রইল। পোস্টটি পড়ে সত্যিই খুব ভালো লাগলো। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আসলে আমার বন্ধুর ভাগ্যে যে কি অপেক্ষা করছে, কে জানে তা। তবে ওর ভালো কিছু হোক, এমনটা প্রত্যাশা আমিও করছি ভাই।
সরকারি চাকরি যেন সোনার হরিণের চেয়েও দামী কিছু। আশেপাশে মানুষদের সরকারি চাকরির এমন হাহাকার আর এই ভয়-টেনশন, না পাওয়ার আক্ষেপ দেখলে মনে হয় যে বেসরকারি চাকরিতে জয়েন করে ভালোই করেছি। অবশ্য সরকারি চাকরির ফ্যাসিনেশনটা আমার কোনদিনও ছিলো না.. আপনার বন্ধুর জন্য শুভকামনা। এই একবছরের মধ্যে যেন তার কাংখিত চাকরিটা পেয়েই যায়।
জীবন যেখানে যেমন।