ছক
সন্ধ্যের পর থেকেই শরীরটা বড্ড ক্লান্ত। চারপাশে যে ভ্যাপসা গরম পড়েছে, তাতে এমন ক্লান্তিবোধ অনুভূত হওয়া নিতান্তই স্বাভাবিক। বাহির থেকে এসে তাড়াহুড়ো করে ফ্যানের নিচে শরীর এলিয়ে দিয়ে কখন যে বিশ্রামের ছলে ঘুমিয়ে গিয়েছি তা আর খেয়াল করিনি।
ঘন্টা দুয়েক ঘুমিয়ে এখন যখন উঠেছি, তখন মানসিকভাবে অনেকটাই ফুরফুরে লাগছিল । আজকে আমার গ্রামে অবস্থানের তৃতীয় দিন, হয়তো সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকালই শহরে চলে যাব। যেহেতু সন্ধ্যে থেকে ঘুমিয়ে ছিলাম, তাই এখনো রুটিন কাজগুলো কিছুটা বাকি আছে। ল্যাপটপটা ওপেন করেই যথা নিয়মে কাজগুলো সেরে ফেললাম।
রাত এখন ক'টা বাজে সম্ভবত তিনটের একটু বেশি। এখন যখন লিখছিলাম, তখন সারাদিনের চিন্তা ধারাটাই কিছুটা মাথায় ঘুরপাক করছিল। এবারও গ্রামে এসে দোলন সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। মনে আছে আপনাদের, গতবার মনেহয় বলেছিলাম, ভদ্রলোকের সঙ্গে যে ছবি তুলবো সেটা করতে ভুলে গিয়েছিলাম। তবে এবার সেই ভুল আর করিনি।
পাক্কা দুদিন এবার তার সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। অনেকটা নিজের মতো করে, তার বাইকের পিছনে চড়ে সবুজ প্রকৃতির মাঝে বিচরণ করেছি। ইতিমধ্যেই তার সঙ্গে মেলামেশাতে কিছুটা গুঞ্জন তো পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে উঠছিলই, তবে সেদিকে আমার কর্ণপাত করার মতো মোটেও সময় নেই।
আমি অনেকটা মুক্ত বিহঙ্গের মতো, কে কি বলল -কে কি ভাবল ,এতে আমার তেমন কোন যায় আসে না। যেখানে আমার মনে প্রশান্তি মিলবে, সেখানে পিছপা হওয়ার মতো মানুষ আমি নই। বয়সের ব্যবধান এখানে কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি, হয়তো সেটা শুধুমাত্র নিজেদের প্রগতিশীল মানসিকতার জন্য।
বহুমাত্রিক সম্পর্কে বহু আগে থেকেই নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলাম, তবে এখন বড্ড হাঁপিয়ে উঠেছি। অনেক সম্পর্কই আমার আজকাল নিষ্প্রাণ হয়ে যাচ্ছে, তার অবশ্য যথার্থ কারণও আছে। যেই সম্পর্কগুলোতে, যুক্তির উদয় হয় না বা ভিন্ন চিন্তার প্রসারতাও নেই, সেই সম্পর্কগুলোতে নিজেকে ঝুলিয়ে রাখা নিতান্তই বোকামি।
যতটা দূর চোখ চায় শুধু সবুজ আর সবুজ। অনেকটাই অকৃত্রিম বা অপার্থিব। পড়ন্ত বেলায় যখন এমন প্রকৃতির মাঝে বসে নিজেদের বয়সের ব্যবধান ভুলে, সামগ্রিক ব্যাপার নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রত্যেকটা ব্যাপার আলোচনা করা যায়, তাতে হয়তো আত্মিক প্রশান্তি কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পায়। কারণ এখানে দুজনই শ্রোতা আবার দুজনই বক্তা।
কে কার কাছ থেকে কি পেল, সেটা বড় মুখ্য বিষয় না। তবে যৌক্তিক আলোচনাকে প্রাধান্য দিয়ে, কে কতটুকু অগ্রসর হতে পারলো, এটাই তো চিন্তার বিষয়। যদিও এই গ্রামীন মানুষগুলোর ভিতরে প্রগতিশীল চিন্তা-ভাবনার অনেকটাই ঘাটতি আছে, তবে মানুষ গুলোর জন্য বেশ আফসোস হয়, এদের অকেজো মস্তিষ্ক গুলো যদি কিছুটা হলেও কেজো হতো, তাহলে অনায়াসেই এরা যুগোপযোগী ভাবনাতে নিজেদেরকে শামিল করতে পারতো।
তবে এ যাত্রায় দোলন সাহেব এখানে বড্ড একা, অনেকটা তার যৌক্তিক চিন্তাভাবনা তাকে বারবার আহত করে, যা প্রকাশে তিনি বরাবরই ব্যর্থ। হয়তো যাদের সঙ্গে খোশগল্পের ছলে নিজের মনের অব্যক্ত কথাগুলো বলতে চায়, তারা হয়তো সেগুলো মগজে নেওয়ার মতো মানসিকতা রাখে না।
নষ্টের বিপক্ষে গিয়ে একা বিপ্লব ঘটানো কিছুটা মুশকিল, তবে সেই একা মানুষের সঙ্গে যদি আরো কিছু প্রগতিশীল মানুষের চিন্তাভাবনা জড়িয়ে যায়, তখন হয়তো কিছুটা বাড়তি আকাঙ্ক্ষা করা নেহাত অযৌক্তিক নয়।
আশেপাশের অথর্ব আর কেঁচোর মতো কিলবিল করা ভন্ডদের সামনে, আমাদের যৌক্তিক চিন্তাধারা গুলো কতদূর প্রসার ঘটাতে পারবে, তা হয়তো এই মুহুর্তে বলা অনেকটাই অনিশ্চিত।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1698972895337501063?t=8eFf-5tuhQnsIEQHQ7DjKg&s=19
মানুষের কথায় কান দিয়ে নিজের মানসিক প্রশান্তি নষ্ট করা মোটেই যুক্তিযুক্ত নয়। আমার কাছেও বয়সের ব্যবধান কিছুই না। আমিও আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড় মানুষদের সাথে মিশি। এতে করে অনেক সময় মানুষ কানাঘুষা করে। কিন্তু সেটা ভাবার সময় আমার নেই। আসলে যারা বেকার ঘুরাঘুরি করে,তারা মানুষদের নিয়ে সমালোচনা করতে এতোটাই পছন্দ করে যে,সমালোচনা না করলে তাদের পেটের ভাত হজম হয় না। যাইহোক দোলন সাহেবের সাথে ঘুরাঘুরি করে এবং কথাবার্তা বলে দারুণ সময় কাটিয়েছেন ভাই। যাইহোক এতো সুন্দর অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ধন্যবাদ ভাই, আমার অনুভূতি বুঝতে পেরে মন্তব্য করার জন্য। শুভেচ্ছা রইল 🙏
দোলন সাহেব সম্পর্কে আগে জানা হয়নি। আজ জানতে পারলাম। যেটা বুঝলাম, ভালোই একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে দোলন সাহেবের সাথে। বয়সের বেড়াজাল ভুল গিয়ে মনের কথাগুলো বলতে পারাটাও প্রশান্তির ব্যাপার। সমাজের ভন্দের কবলে অনেকেই পড়ে মানসিকভাবে ডিপ্রেসড হয়ে যায় কিন্তু দিন শেষে সত্য ও ন্যায়ের জয়ই হয়।
আমার কাছেও তেমনটাই মনে হয়, বয়স শুধুমাত্র একটা সংখ্যা।
দোলন সাহেবের বাইকের পিছনে সবুজ সুন্দর পথে ঘুরে বেড়িয়েছেন।আর এটা ঠিক বলেছেন জীবন তো মুক্ত বিহঙ্গের মতোই হওয়া উচিত।কেননা অনিশ্চিত জীবনে এতো মানুষের কথা চিন্তা করে কি হবে।মানুষ তো যা বলার বলেই যাবে সবসময়। আপনার গ্রাম টা বেশ সুন্দর আর নিরিবিলি।ভালো লেগেছে পুরো পোস্টটি।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
আমি আসলে এমনই, এভাবেই চলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি আপু। ধন্যবাদ আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য।