দুরন্তপনা
আফজাল ভাইকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় সেদিন আবারও গিয়েছিলাম শহর থেকে কিছুটা অদূরে। এমনিতেই রমজান মাস চলছে, সারাদিন দিনশেষে বিকেলের এই সময়টাতে অনেকটাই ক্লান্ত লাগে। মন চায় না যে, এসময় কোন কিছু করি।
ভাগ্যিস আফজাল ভাই ব্যাটারি চালিত রিক্সা চালায়। পা চালিত রিক্সা হলে এই পড়ন্ত বেলায় তাকে নিয়ে ঘোরাঘুরি করাটা বেশ মুশকিল হয়ে যেত। কারণ রোজা রেখে রিক্সা চালানো আসলেই বেশ কষ্টকর।
শহর থেকে যখন কিছুটা অদূরে গ্রামীন এলাকাতে গিয়েছিলাম, তখন বেশ ভালোই লাগছিল পরিবেশটা। এমনিতেই কদিন থেকে পরিবেশটাও কিছুটা শীতল হয়ে আছে। কারণ সেটা হয়তো কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির জন্য।
কিছুটা দূরেই দেখছিলাম গ্রামের ছোট ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছিল। যেটা দেখে আমার বাল্যকালের কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে যখন ছোট ছিলাম, তখন আমি নিজেও এভাবে বিকেলবেলা করে ফুটবল খেলতাম বন্ধুদের সঙ্গে। যাইহোক সেসব এখন সবই অতীত।
আফজাল ভাইকে মাঠের পাশে রিক্সা দাঁড় করাতে বললাম। এবং তাকে অনুরোধ করলাম বাবুকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে আসার জন্য। আমি আগে গিয়ে গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে একটু কথা বলার চেষ্টা করলাম এবং বললাম যে, তোমাদের সঙ্গে আমরাও একটু সময় কাটাতে চাই।
রীতিমতো বাবু ভীষণ খুশি হয়ে গিয়েছে। কারণ সারাদিন ও চার দেয়ালের মাঝে বন্দি অবস্থায় থাকতে থাকতে, ও যেন অনেকটা হাঁপিয়ে উঠেছে। আর যার কারণে এই বিকেল বেলার দিকে এমন খোলামেলা পরিবেশ ও সুবিশাল খেলার মাঠ যেন,ওর কাছে অনেকটাই মন খুলে ছুটে বেড়ানোর মত একটা জায়গা।
আমি যখন ওদের কাছ থেকে ফুটবলটা নিয়ে বাবুকে দিয়েছিলাম, বাবু সেটা নিয়ে রীতিমতো এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে ছিল। আমার যে সেই দৃশ্য দেখে কি পরিমাণ ভালো লাগছিল, সেটা আসলে মুখে প্রকাশ করা কিছুটা কঠিন। কারণ আমি ওর মাঝে আমার দুরন্তপনা শৈশবটাকে দেখতে পাচ্ছিলাম।
একজন বাবা হিসেবে, সন্তানের বেড়ে ওঠা খুব কাছ থেকে দেখছি এবং চেষ্টা করছি নিজের সাধ্য অনুযায়ী সবটুকু দিয়ে ওকে পরিপক্ক ভাবে তৈরি করার জন্য এবং ওর বেড়ে ওঠার মুহূর্ত গুলোর যে সাক্ষী হতে পারছি, এটাই তো আমার কাছে অনেক বেশি।
মোটামুটি গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে আমি, আফজাল ভাই ও আমার বাবু সকলে মিলে কিছুটা সময় খেলাধুলা করে ফেললাম। এদিক-সেদিক কিছুটা ছোটাছুটি করার পর অবশেষ বাড়ি ফেরার পালা। যদিও ক্লান্ত ছিলাম, তবে মানসিকভাবে যে চাঙ্গা হয়েছি, এটার খুবই দরকার ছিল।
আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আফজাল ভাই ও সেই গ্রামীন ছেলেদের কাছে, যারা আমার আজকের বিকেলের এই সময়টাকে অনেকটাই প্রাণবন্ত করে তুলেছিল। দিনশেষে ভালো থাকার জন্য, আসলে খুব বেশি কিছুর দরকার পড়ে না। এমন মুহূর্তগুলোই যেন, হৃদয়ে অনেকটাই আনন্দের ছাপ ফেলে যায়।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
শায়ানকে মাশাল্লাহ অনেক কিউট লাগছে।ওর হাতে ধরা বলটি দেখে মনে হচ্ছে, ও বিশাল কিছু পেয়ে গেছে ওর হাতের মুঠোয়।অনেক ভাল লাগলো। শায়ানকে নিয়ে ঘুরতে যান, এটা খুব ভাল লাগে আমার। বাচ্চাদের আসলে সময় দিতে হয়।আপনি সব দিক মেইনটেইন করে চলেন,এটা খুব ভাল লাগে।ধন্যবাদ ভাইয়া।
শায়ন বাবু মেসি হয়ে গেলো না কি ৷ হিহিহি
ভাই একটা কথা বলি আপনি সময় পেলেই শায়ন কে নিয়ে বের হবেন ৷ কারন বাইরে আবহাওয়া ভীষন প্রয়োজন ৷ আর বর্তমান সময়টা দূরব্তপনার ৷
যা হোক রজার মাঝেও বিকেল বেলা টি বেশ সুন্দর একটি সময় অতিবাহিত করছেন ৷
আসলে সবদিক বিবেচনা করেই মাঝে মাঝে চেষ্টা করি ভাই, বাবু কে নিয়ে বাহিরে বের হওয়ার জন্য।
বাপ কা বেটা সিপাহী কা ঘোড়া। শায়ান বাবু কে দেখে বেশ ভালই লাগছে। বল ধরা দেখে তো মনে হচেছ বড় হয়ে মেসিকেও হার মানাবে। তবে ভাইয়া আপনার প্রায় বেশীর ভাগ পোস্টেই দেখি আপনি শায়ান বাবু কে নিয়ে প্রায় বেড়াতে বের হন। যেটা আমার বেশ ভাল লাগে।
আসলে সারাদিন বাড়ির ভিতরে থাকার পরে, বিকেলবেলার এই সময়টা আমাদের বাবা ছেলের দুজনের ঘোরাঘুরি করার জন্য একমাত্র মোক্ষম সময়, আপু। ধন্যবাদ আপনাকে।
শায়ানের হাসিমাখা মুখ দেখে হৃদয় জুড়িয়ে গেল। দিনে দিনে বাবু অনেক বড় হচ্ছে। এখন আর চার দেয়ালের মাঝে বন্দী থাকতে বাবুর আর ভালো লাগেনা। তার এখন খোলা হাওয়া ও এরকম মাঠের মধ্যে খেলতে অনেক ভালো লাগে। তাই তো বাবু বল পেয়ে অনেক খুশি হয়েছে। বাবুর জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো ভাইয়া।
আপনাদের আশীর্বাদেই বাবু আমার বেশ ভালো ভাবেই বেড়ে উঠছে আপু। শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।