অভিভাবক
বিকেলের দিকে ইচ্ছে করেই বেলকুনিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বলা যায় সময় কাটছিল না বিধায় কিছুটা পায়চারি করছিলাম। দেখছিলাম নিচে গলির ভিতরে বাচ্চারা খেলাধুলা করছে। সব বাচ্চারা প্রায় একই বয়সের হবে।
যেহেতু গলির ভিতরে দীর্ঘসময় থেকে বাচ্চারা দৌড়াদৌড়ি করছিল,দেখলাম দুটো বাচ্চার মাঝে সম্ভবত কিছুটা ধাক্কাধাক্কি লেগেছিল দৌড়াদৌড়ি করার সময়। একজন বাচ্চা কিছুটা আঘাত পেয়েছিল।
ঘটনাটা চাইলে সেখানেই সমাধান করতে পারতো সেই বাচ্চারা আন্তরিকভাবে। তবে তা হয়নি, মুহুর্তেই দেখি এক ভদ্রমহিলা এসে ঘটনা কিছু দেখা নেই, শোনা নেই বা বোঝা নেই অহেতুক নিজের বাচ্চার সাফাই গাওয়া শুরু করলো ও অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে এমনভাবে চেঁচামেচি শুরু করে দিল, তাতে দেখছিলাম অন্য বাচ্চারা কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিল।
একটু আগেও যেখান থেকে ছোট বাচ্চাদের খেলাধুলার হৈ-হুল্লোড়ের আওয়াজ আসছিল, তবে তা মুহূর্তেই যেন ফিকে হয়ে গেল। ভদ্রমহিলার চেঁচামেচি শুনে অন্য বাচ্চাদের মায়েরা সেখানে দ্রুত হাজির হয়ে গেল। তখন ব্যাপারটা এমনভাবে অন্যদিকে গড়িয়ে গেল, যা অনেকটাই অপ্রত্যাশিত।
একটা বার বোঝার চেষ্টা করুন তিনজন মহিলা সেখানে উপস্থিত, কোথায় নিজেরা তারা ব্যাপারটা নিয়ে একটু আলোচনা করে সমাধান করবে কিন্তু তা না। যেন পরিবেশটা মুহুর্তেই ঘোলাটে হয়ে গেল। মানে তখন আর বিষয়টা বাচ্চাদের থাকলো না, চলে গেল অভিভাবকদের ভিতরে। সেকি চেঁচামেচি আর সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ তো আছেই। যেটা অনেকটা আক্রমণাত্মক। আমি তখনও ব্যাপার গুলো দেখছিলাম দাঁড়িয়ে থেকে। আর ভাবছিলাম নিজের মতো করে।
আচ্ছা, হঠাৎই প্রথম ভদ্রমহিলা এসে কোন কিছু না বুঝেই, এমন করলো কেন। হয়তো সে তার বাচ্চাকে নিয়ে এতোটাই মেতে থাকে যে, মনে হয় তার বাচ্চার সঙ্গে সে থাকতে থাকতে কখন যে শিশুসুলভ ভাব তার ভিতরে চলে এসেছে, সেটা সে বুঝতেই পারে নি। ব্যাপারটা নিতান্তই খুবই তুচ্ছ ছিল। ব্যাপারটা চাইলে বাচ্চারাই সমাধান করতে পারতো। তবে অভিভাবকরা এসে নিজেদের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ফেলে ছিল।
এতোকিছুর পরেও, আমি এখানে সকল অভিভাবককেই সম্মান করছি। তবে অভিভাবক হিসেবে যেটা তারা করলো তা বেশ দূঃখজনক।আপনারা অবশ্যই আপনাদের বাচ্চাকে শাসন করতে পারেন, বারণ করতে পারেন, তবে সেটা যেন একটা নির্দিষ্ট সীমার ভিতরে থেকে। কেন নির্দিষ্ট সীমার কথাটি বললাম, তা বলার চেষ্টা করছি।
মূলত প্রতিনিয়ত আমরা সকলেই বাচ্চাদের প্রতি আন্তরিক থাকি। তবে তা মাঝে মাঝে এতোটা পরিমাণ হয়ে থাকে যে, তখন আসলে বাচ্চারা নিজেরাই আমাদের প্রতি একটা অতিরিক্ত আসক্তিতে ভোগে। কারণ সবকিছুতেই তখন তারা বাবা-মাকে কাছে পায় এবং বাচ্চার যে নিজের শেখার আগ্রহ বা নিজের মত করে কিছু ভাবার মানসিকতা থাকে, সেটা বাচ্চা ভুলে যায়। বাচ্চাকে অবশ্যই নিজের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সঠিক স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। তা না হলে আপনার বাচ্চা ভীষণভাবে প্রতিটা ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে এবং সব সময় আপনাকে পাশে চাবে। আর যদি এমরকম একটু কোন কিছু হয়ে যায়, তবে তখন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যাবে।
সেটা যেকোন ক্ষেত্রেই হোক না কেন। আপনার বাড়ন্ত শিশু বাচ্চার সঙ্গে অতিরিক্ত সবসময় আঠার মতো লেগে না থেকে, তাকে একটু তার নিজের কাজগুলোকে নিজেকে করতে দিন, হোক সেটা পড়াশোনা নতুবা খেলাধুলা বা সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশা।
আপনি যদি ক্রমাগত তার সঙ্গে লেগে থাকেন আর যদি ভাবেন যে, আপনি যা করছেন সেটা আপনার বাচ্চার ভালোর জন্যই করছেন, আমি মনেকরি যে সে ক্ষেত্রে নিছক আপনার বাচ্চার বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে আপনি কিছুটা ত্রুটি রাখছেন। কারণ একটা সময়ের পরে এইভাবে অতিরিক্ত লেগে থাকার কারণে, আপনার বাচ্চার ভিতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। ঐ যে বললাম আপনার বাচ্চা তখন অনেক ক্ষেত্রেই আপনার প্রতি এতোটাই স্বনির্ভরশীল হয়ে পড়বে যে,সে তখন নিজের মতো করে কোন কিছুই করতে পারবে না।
অভিভাবক হিসেবে বাচ্চার প্রতিটা বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি, তবে সেটা সীমার ভিতরে থেকে। আজ গলিতে যে ঘটনাটা ঘটে গেল, আমি শতভাগ সিওর, এই কাজটা ঠিক ঐরকম অভিভাবকই করেছে, যারা তাদের বাচ্চার সঙ্গে আঠার মত করে লেগে থাকে ঠিক তারাই।
দেখুন দয়াকরে নিজের বাচ্চাকে প্রাধান্য দেওয়ার আগে চেষ্টা করবেন পুরো পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে ওঠার জন্য নতুবা শিশুসুলভ আচরণ কিন্তু আপনি ক্রমাগত করেই ফেলবেন। সেটা হোক যেকোন জায়গাতেই।
আপনার বাচ্চার কোথায় দুর্বলতা আছে, সেটা কেউ না জানলেও তা কিন্তু আপনি জানেন। বাচ্চা কে তার নিজের মত করে নিজের কাজগুলো করতে দিন। যদি না পারে উৎসাহ দিন, তবে তাও নিজের মতো করে করুক। যদি একদম না পারে, সেই ক্ষেত্রে রাগারাগি না করে বুঝিয়ে দিন, শিখিয়ে দিন, তাও যেন সে নিজের থেকেই করতে পারে, এমন একটা অভ্যাস তার গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।
তাহলে দেখবেন ভবিষ্যতে আপনার বাচ্চা অনেকটাই নিয়মতান্ত্রিক জীবনের ভিতরে বড় হবে এবং নিজের থেকে নিজেই স্বনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করবে। এটা কিন্তু খুবই ভালো লক্ষণ।
তবে যাইহোক, চাইলেই আজ ব্যাপারটাকে হয়তো অভিভাবকরা অন্যভাবে ম্যানেজ করতে পারতো।তবে এই ম্যানেজ করার অভ্যাস তো আগে শিখতে হবে। তারা তো সর্বত্র তাদের বাচ্চাদেরকে প্রতিযোগিতায় নেমে দিয়েছে এবং তাদের সঙ্গে তারাও যেন প্রতিযোগিতায় মত্ত হয়ে গিয়েছে।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আসলেই ভদ্রমহিলার উচিত ছিল প্রথমে পুরো বিষয়টি জেনে নেওয়া তারপর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তাহলে ভদ্র মহিলার ছেলে টি নিজে থেকেই ঝামেলা মিটিয়ে নেয়া সম্পর্কে একটু অবগত হত।
এটাই তো হওয়া দরকার ছিল, তবে বাস্তবতা তো বড়ই অদ্ভুত ও উল্টো।
হয় ভদ্র মহিলার মত অনেক মহিলা আছে ভাই এখন বর্তমানে আগে পিছে কিছু না বুঝেই অনেক কিছু করে বসে। মনে হয় যেন কি নাকি ঘটে গেছে। ওই মহিলাটা যদি ভদ্রমহিলা হতো তাহলে অবশ্যই সবকিছু শুনে বুঝে তারপরে সিদ্ধান্ত নিত। তবে উনি যে আচরণ করছে তাতে মনে হয় গ্রামের গেও অশিক্ষিত মহিলাদের মত। এ ধরনের মহিলারা মনে করে তার সন্তান তার কাছে অনেক। কিন্তু এই ধরনের ভালোবাসাগুলো সন্তানকে পরবর্তীতে বিপদ ডেকে আনে। তবে আপনি দাড়ি না থেকে সমাধান করতে পারতেন ভাই। যেহেতু আপনি চাক্ষুষ প্রমাণ।
আমি আসলে বেলকুনি থেকে ব্যাপারটা দেখছিলাম, হয়তো তাদের মাঝে কথা বলতে গেলে, ব্যাপারটা হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারত। কারণ এমন উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে অনেকেই হিতাহিত জ্ঞান ভুলে যায় ভাই।
আপনার এই গুরুত্বপূর্ণ কথার সাথে আমি সহমত ভাই। আপনার জন্য দোয়া রইল ভাই।
শুভ ভাই অনেক সুন্দর লিখেছেন বিকেল বেলার এমন দৃশ্যটি দেখার পর মনের মধ্যে অনেক কিছুই প্রশ্ন জেগেছে৷ তবে সব প্রশ্নই ছিল যথার্থ যুক্তিযুক্ত৷ কিন্তু আসলে বর্তমান সময়ে আমরা এমনটাই প্রতিনিয়তই দেখি৷ যে যেকোনো বাচ্চা খেলাধুলা করার সময় হঠাৎ করে তাদের মাঝে একটা গোলমাল সৃষ্টি হয় ৷ আর তখন অভিভাবক গন বিষয়টাকে না বুঝেই একটা বড় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ফেলেন৷
তবে এসব অভিভাবকদের এমন টা করা কখনোই উচিত নয় ৷
কারণ একটি সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে তার বিবেক-বুদ্ধি জ্ঞান প্রতিটাই উন্মোচিত হয় ৷ তাই মাঝেমধ্যে তাদেরকে তাদের মতো স্বাধীনতা যাওয়া উচিত ৷তাহলে একটি সন্তান তার নিজের মনের বিবেক বুদ্ধি সহ একজন ভালো এবং কি সৎ মনের অধিকারী হতে পারে৷
এক্ষেত্রে আপনার সঙ্গে আমি সহমত পোষণ করছি, তবে এক্ষেত্রে অভিভাবকদের মানসিকতার পরিবর্তন বেশ জরুরি ।
আসলে ভাইয়া ওই ভদ্র মহিলার প্রথমে উচিত ছিল পরিবেশটা বোঝা এবং তারপরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা। যেহেতু বাচ্চাদের বিষয় সেহেতু ভদ্রমহিলার উচিত ছিল বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেওয়া। কিন্তু এই ভদ্র মহিলা যেভাবে পরিবেশটা ঘোলাটে করেছে মনে হচ্ছে আগামী দিনে বাচ্চারা একত্রিত হয়ে খেলাধুলাই করতে পারবেনা। প্রত্যেক অভিভাবকের উচিত বাচ্চাদের বিষয় নিয়ে শিশুর মতো আচরণ না করে অভিভাবক হয়ে অভিভাবকের মতন আচরণ করা। তাহলে হয়তো এসব বিষয়ে আর পরিবেশ ঘোলাটে হবে না এবং একে অপরের সাথে মনোমালিন্য হবে না। বর্তমান প্রেক্ষাপটের উপর ভিত্তি করে দারুণ একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য প্রিয় ভাইয়া আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
পারিপার্শ্বিক অবস্থাতে তো কত কিছুই দেখতে হয়, তাই হয়তো সেই আলোকে লেখার চেষ্টা করেছি পোস্টটা। ধন্যবাদ আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য।
ভাইয়া আপনার সম্পন্ন পোস্ট পড়লাম। আসলে আমিও আপনার সাথে একমত। বিষয়টি বাচ্চা গুলো নিজেরাই সমাধান করতে পারতো। সমাজে এমন কিছু অভিভাবক আছে যারা বুঝায় যে তারা তাদের সন্তানদের অনেক ভালবাসে। এ জন্য তারা সন্তানের দুখে নিজেকে দুখিত মনে করে। আসলে কি তাই? আমি তো মনে করি সম্পন্ন ঘটনাটি ঘটেছে প্রকৃত শিক্ষার অভাবে।
আসলে এই ব্যাপারটাকে বলে হেলিকপ্টার প্যারেন্টিং। মানে সর্বদাই নিজের সন্তানের পিছনে আঠার মত করে লেগে থাকা । অবশ্যই অভিভাবকের সচেতনতার অভাব আছে।
ইদানিং এই বিষয়গুলো খুব কমন হয়ে গেছে ভাই। আমাদের এলাকাতেও প্রায় এমন হয় বাচ্চা বাচ্চা ঝগড়া লাগে কিন্তু সেটা গিয়ে ঠেকে পরিবার পর্যন্ত অথচ পরেরদিন দেখা যায় সেই বাচ্চারা একসাথে খেলতেছে।
বাচ্চাদের মাঝে এমন ঝগড়া লাগাটা খুব সাভাবিক। অভিভাবকদের উচিৎ সেখানে কারো দোষগুণ বিচার না করে তাদেরকে মিলিয়ে দেওয়া তাহলে বাচ্চাদের মধ্যে পারস্পরিক কলোহর বদলে একটা ভ্রাতৃত্ব গড়ে উঠবে।কারণ বাচ্চারা তো আর এতকিছু বোঝে না ওরা চায় একটা সুস্থ সুন্দর পরিবেশ যেখানে থাকবে না কোনো রুলস রেগুলেশন।🖤
বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ যেন সুন্দর হয়, ওদের আগামী যেন আরো গতিশীল হয়, এমনটা প্রত্যাশা তো আমিও করি।
দুই একজন মানুষ থাকেই এরকম।বাচ্চারা খেলতে গেলে ঝামেলা হবে মিটমাট হবে এটাই স্বাভাবিক।ভদ্র মহিলা এসে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করে ফেলেছিল।ভালো লিখেছেন কথাগুলো যৌক্তিক,ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপু, বিষয়টি বুঝতে পারার জন্য।