সবকিছু হোক মঙ্গলকর
প্রতিনিয়ত কত মানুষকে নিয়েই তো লেখালেখি করার চেষ্টা করি। হয়তো সেটা নিজের ভালোলাগা থেকে। যেটা আমার অনেকটাই অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছে। তবে যারা আমার পাঠক আছে, আমি জানি না তাদের অবচেতন মন কি কখনো জানতে চেয়েছে, কেন আমি জীবন নিয়ে লিখতে এতো পছন্দ করি বা কেন আমি ছুটে চলা জীবনগুলোর ঘটনা নিজের লেখায় তুলে ধরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি ।
আসলে কিছু প্রশ্নের তেমন কোন যোগফল মিলিয়ে উত্তর দেওয়া যায় না। তবে তার পিছনে অবশ্যই কোন লুকায়িত ব্যাখ্যা থাকে। যাইহোক আমি মানুষটা জীবনে হোঁচট খেতে খেতে এমনটাই অবস্থার শিকার হয়েছি যে, আজকাল আমার কাছে সবটাই যেন দুধ ভাত লাগে।
কেউ আমাকে ক্রমাগত ভেঙে ফেলছে আবার কেউ আমাকে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টায় বড্ড ব্যস্ত সময় ব্যয় করছে।
আমি অল্পতেই খুব বেশি স্বপ্ন দেখে ফেলি, আমার সমস্যা মূলত এখানেই। অল্পতেই দেখা স্বপ্নটাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে গিয়ে, যতপ্রকার গুরুতর অপরাধ আমার দ্বারা হয়ে যায়। যেটা আমি মাঝে মাঝেই উপলব্ধি করতে পারি।
একটা কথা কি জানেন, হয়তো কখনো সেভাবে বলা হয়নি। তবুও আজকে বাধ্য হয়ে বলছি, মানুষকে বড্ড বেশি ভালোবাসি হয়তো অপরপক্ষ থেকে কার ভিতরে কি চলছে, সেটা হয়তো হঠাৎ করেই বুঝে উঠতে পারি না। তবে আমার পক্ষ থেকে যে ভালোবাসাটা কারো কাছে যায়, সেখানে বিন্দুমাত্র কোন ত্রুটি থাকে না।
নিজের পরিবারের লোকজনই আমাকে কখনো বোঝেনি, একটা সময়ের পরে তো ইচ্ছে করেই নিজের পরিবার থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম। ঐ যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছি, দেখতে দেখতে আজ কতটা বছর হয়ে গেল। যদিও হয়তো এখন টুকটাক যোগাযোগ হয়, তবে সেই ক্ষত চিহ্নগুলো তো এখনো রয়ে গিয়েছে। তারপরেও কারো উপর কোন অভিমান নেই।
ছাত্রজীবনে খুব একটা ভালো ছাত্র ছিলাম না, বিদ্যে বুদ্ধি আমার শুরু থেকেই অল্প-স্বল্প। যদিও অনেকেই বলতো, এই জামানায় এইভাবে চলতে নেই। কারণ এইভাবে চললে প্রতিনিয়ত মানুষের পায়ের তলে পিষে মরতে হবে। হয়তো বাস্তব জীবনে এখন তেমনটাই হচ্ছে।
বাবা-মার কষ্টার্জিত পয়সায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করেছিলাম। ছয়-সাতটা বছর এই শহরে ডাক্তারি করেছিলাম,প্র্যাকটিস যে আহামরি জমে ছিল তা বলবো না। তবে চেম্বার একটা থেকে দুটো তে সম্প্রসারণ হয়েছিল ।
এখানে ভাগ্যের দোষ দেব না। দোষ যদি দিতেই হয়, তাহলে নিজের সিদ্ধান্তহীনতাকেই দোষারোপ করবো । দীর্ঘ সময়ের তিলতিল করে গড়ে তোলা চেম্বার দুটো বুঝে ওঠার আগেই বন্ধ করে দিলাম। জিনিসপত্র গুলোও নামে মাত্র দামে দান করে দিলাম, কলেজের পরিচিত এক জুনিয়র কে।
এই আমাকে দিয়েই কারো উপকার হয় আবার আমাকে ফাঁসানোর জন্যই অনেকে পায়তারা করে। সত্যি বলতে কি, তারপরেও আমি কারো উপর কোন অভিমান-অভিযোগ রাখতে পছন্দ করি না, আর এসব রেখেই বা কি লাভ?
এখন বলা যায়, আপাদমস্তক বাস্তবিক জীবনে আমার আর কোন পুঁথিগত বিদ্যার পরিচয় নেই। নতুন করে যে আবারো পুনরাবৃত্তি ঘটাবো, এই সাধ্য-সামর্থ্য বা লেগে থাকার মত ইচ্ছে শক্তিটা আর হয়তো নেই। কারণ যেটা জীবন থেকে একবার চলে যায়, সেটা আবার পুনরাবৃত্তি করে আগের মত অবস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে আসা, বেশ কষ্টসাধ্য।
এখন নিজেকে মুক্তমনা ব্লগার হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তবে একটা সত্য কথা বলি, যেটা শুনতে হয়তো খারাপ লাগতে পারে বা বুঝতে কষ্ট হতে পারে, তবে এটাই চিরন্তন সত্য কথা, মুক্তমনা মানুষদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বেশ ভালই ধকল সামলাতে হয় ।
বয়স ৩১ পেরিয়ে যাচ্ছে, এই বয়সেই শরীরে উচ্চ রক্তচাপ, হার্টে একবার মাইনর অ্যাটাক তাছাড়াও মানসিক চাপের মত সমস্যাগুলোর সঙ্গে প্রতিনিয়ত অনেকটা শারীরিকভাবে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হচ্ছে। জানি না এর শেষ কোথায়।
আমি নিজেই খুব ব্যর্থ একজন মানুষ, যেখানে নিজেই ভাসমান হয়ে আছি, সেখানে সঙ্গে আরও দুই-তিনটা পেট বৃদ্ধি করে ফেলেছি। শুধুমাত্র একক পেট থাকলে হয়তো এতো তেমন চিন্তাভাবনা করতে হতো না। কিন্তু পেটের সংখ্যা যখন অনেকগুলো বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন যতো সব জ্বালা আমার সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে।
হাওয়া বদল হওয়ার পরিস্থিতির পূর্বাভাস পাচ্ছি। তবে যাই ঘটুক না কেন। সবকিছু যেন সকলের জন্য মঙ্গলকর হয়, এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। অনেকটা বেঁচে থাকার স্বার্থে।
ভুল ত্রুটি মার্জনীয়।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
উপর ওয়ালা উত্তম পরিকল্পনাকারী।
তিনি জীবিত মানুষকে মৃত এবং মৃত মানুষকে চাইলে জীবন দান করতে পারেন। তিনি মানুষকে বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন আবার বিপদ থেকে উদ্ধার তিনিই করেন। সত্যি বলতে আপনার জীবনের বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পড়ছিলাম আর নিজেকে সেই জায়গায় কল্পনা করছিলাম, সত্যিই ভীষণ গোলমেলে জীবন। সবার জীবনেই এরকম কঠিন পরিস্থিতি রয়েছে, যা নিজেকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিতে চায়। তবে দিনশেষে উপর ওয়ালা তার বান্দাকে শত কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করবেন ইনশাআল্লাহ।
দোয়া রইল পুরো পরিবারের জন্য ❤️
ভাইয়া আপনার লেখাগুলো পড়ে কেন জানি দু চোখে পানি চলে এসেছিল। আসলে জীবনের বাস্তবতার কাছে আমরা সবাই অসহায়। হয়তো পরিবেশ পরিস্থিতি আমাদেরকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। কিংবা নতুনভাবে পথ চলতে শেখায়। হয়তো আপনার ভিতরে জমা চাপা কষ্ট থেকেই আপনি এই লেখাগুলো লিখেছেন। আসলে অনেক সময় মনের ভেতরে জমা দুঃখগুলো কাউকে বোঝানো যায় না। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন নিজেকে সামলে রাখুন ভাইয়া এবং শক্ত করে নিজেকে আঁকড়ে বাঁচুন। তবুও সব কিছু নিয়ে ভালো থাকুন এই প্রত্যাশাই করি সব সময়।
আপনার ব্লগটি মনোযোগ দিয়ে পুরোটা পড়ে যেটা বুঝতে পারলাম।আপনি অনেকটাই আবেগপ্রবণ মানুষ আর বড্ড অভিমানপ্রিয়।তবে আমার মনে হয় এ ধরনের মানুষগুলো সাধাসিধা আর ভালো প্রকৃতির হয়,কাউকে ঠকানো ব্যপারটা কখনও হয়ে ওঠেনা তাদের দিয়ে।এখনকার দিনে এরকম মানুষ একটু কমই পাওয়া যায়,যেদিকেই তাকানো যায় বেশিরভাগই লোক ঠকানো মানুষজন।আর অল্পতেই অতিরিক্ত স্বপ্ন দেখার জন্য সেই স্বপ্ন টা যখন ভেঙে যায়।তখন চিন্তায় পড়ে যান আর এজন্যই এতো অল্প বয়সে এতো রোগ এসে ধরা দিল।নিজের কথা বাদ দিয়ে বাকি দুই পেটের কথা ভেবেই না হয় আক্ষেপ, চিন্তাগুলো বাদ দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন।ব্যর্থ কিছু ক্ষেত্রে তো কি হয়েছে,আপনি তো সফল ও বটে এই প্লাটফর্মে।ভালো লেগেছে লেখাটি ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর ব্লগটি শেয়ার করার জন্য।
আপনার লেখা কথা গুলো পড়ে অনেক বেশিই ভালো লাগলো দাদা ৷ আসলে ভালো খারাপ মিলিয়েই জীবন ৷ সব কিছু মানিয়ে নিয়েই চলতে হয় আমাদের ৷ আপনার জীবনের বাস্তবতা গুলো আসলে বেশ কষ্টের , তবুও কোনো অভিযোগ নিয়েই আপনার জীবনকে নিয়ে ৷ কারো প্রতি কোনো অভিমান নেই , সবার প্রতি বড্ড ভালোবাসা জমে আছে আপনার ৷ যাই হোক কোনো কিছু ছেড়ে দিয়ে আবার সেই কাজ নতুন করে শুরু করার ইচ্ছে শক্তি কারোই থাকে না ৷ আপনার জন্য শুভকামনা রইল ৷ ধন্যবাদ আপনাকে সু্দর কথা গুলো শেয়ার করার জন্য ৷