কখন কার কি হয়
প্রধান পাড়ার ভিতরে বেশ বড় আলিশান ভাবে বাড়ি নির্মিত করেছে সরকারি কলেজের প্রফেসর নান্নু সাহেব। যেহেতু তিনি সরকারি কলেজের প্রফেসর তাছাড়াও প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছে, তাই সেই সুবাদে বেশ ভালোই পয়সা কামিয়ে নিয়েছে খুবই সাম্প্রতিক সময়ে।
তবে যাই বলুন না কেন, এই প্রফেসরকে আমার কোন অবস্থাতেই একটা কলেজের প্রফেসর বলতে ইচ্ছে করে না। খুবই ছোট্ট একটা ঘটনা নিয়ে সমসাময়িক সময়ে সে যে কি পরিমাণ একটা বিশৃংখল অবস্থা এলাকাতে তৈরি করেছিল, সেটাই একটু আলোকপাত করার চেষ্টা করছি।
তার প্রতিবেশী রশিদ সাহেব, পেশায় সে একজন বেসরকারি কোম্পানির অফিস সহকারী। কোন রকমে সে অনেক আগেই নান্নু প্রফেসরের বাড়ির পাশেই চার শতক জায়গা কিনে ছিল। একসময় নান্নু প্রফেসরের সঙ্গে তার বেশ ভালই সম্পর্ক ছিল, তবে দিন যত গড়িয়ে গিয়েছে সে অনেকটা নান্নু সাহেবের কাছে পথের কাঁটা হয়ে গিয়েছে।
নান্নু প্রফেসরের প্রথম থেকেই টার্গেট ছিল, রশিদ সাহেবের ঐ চার শতক জায়গাটুকুর উপর। বহুবার সে পয়সার বিনিময়ে কিনে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিল। কেউ কি আর নিজের জায়গা সহজে বিক্রি করতে চায়। রশিদ সাহেব কোন অবস্থাতেই, তার সেই প্রস্তাবকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। এ থেকেই মোটামুটি দুজনের মাঝে কিছুটা মনোমালিন্য চলছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে নান্নু প্রফেসর গাড়ি কিনেছে এবং তার গাড়ি সে কোনভাবেই নিজের আলিশান বাড়িতে প্রবেশ করাতে পারেনা। কারণ সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রশিদ সাহেবের ঘরের কিনারা। নান্নু প্রফেসর গাড়ি কিনেছেন ভালো কথা, সেটা যদি রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে নিজের বাড়িতে ঢুকাতে না পারেন, সেটা তো আর রশিদ সাহেবের দোষ না। রশিদ সাহেব তো আর রাস্তার জায়গা দখল করে বাড়ি করেনি।
নান্নু প্রফেসর সবই মানে-সবই বোঝে, তবে সব কিছু বুঝেও যেন অবুঝের মত আচরণ করছে এক্ষেত্রে। সে এবার অনেকটা জেদি আচরণ করছে রশিদ সাহেবের জায়গাটা পাওয়ার ক্ষেত্রে। একপ্রকার সন্ত্রাসী হামলায়, সে রশিদ সাহেবকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বেশ ভালোই নির্যাতন করেছে। যদিও রশিদ সাহেব নান্নু প্রফেসরের থেকে বয়সে অনেকটাই বড়, তবে তারপরেও নান্নু প্রফেসর এরকম জঘন্য ঘটনা ঘটেতে বিন্দুমাত্র ভাবেনি।
এত কিছু হয়ে যাওয়ার পরে রশিদ সাহেব যখন আর কোনোভাবেই পেরে উঠতে পারছিল না, তখন বাধ্য হয়েই তার ঘরের এক কিনারা ভেঙে ফেলেছে। এখন বেশ আরামেই বিনা ঝামেলায় নান্নু প্রফেসরের গাড়ি তার আলিশান ভিতরে ঢুকতে পারে। এতে যে একপ্রকার পৈশাচিক আনন্দ পায় নান্নু প্রফেসর, তা যেন তার মুখের অঙ্গভঙ্গি দেখলেই সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে।
পৃথিবীতে কোন কিছুই চিরস্থায়ী না, কখন কার কি হবে তা বলা যায় না। এই তো সেদিন রাতে হঠাৎই শুনলাম, নান্নু প্রফেসর স্ট্রোক করেছে এবং তার পরিবারের লোকজন সকলের কাছে দোয়া চেয়ে বেড়াচ্ছে। কি একটা অবস্থা তাই না, যে লোকটা কিছুদিন আগেও পেশি শক্তির ভয় দেখিয়ে, সবকিছু নিজের দখলে নেওয়ার জন্য পায়তারা করতো, আর আজ সে হসপিটালের বিছানায় শুয়ে জীবন-মরণের সঙ্গে একপ্রকার লড়াই করে যাচ্ছে।
আমার স্বল্প বয়সের অভিজ্ঞতাতে ছোট্ট একটা বিষয় আমি বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছি,সেটা আর যাইহোক কারো অভিশাপের কারণ হয়ে দাঁড়ানো যাবে না। হয়তো শেষ যাত্রায় তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার মত সুযোগ থাকবে না।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1710931165790830698?t=pfLK7bXt2y9y5ZNBSOq6lw&s=19
ক্ষমতা,দাম্ভিকতা কিংবা অহংকার বেশিদিন থাকে না। আসলে মানুষ ক্ষমতার জোরে রশিদ সাহেবের মত মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। কিংবা অনেক কিছু করতে বাধ্য করায়। শেষ পর্যন্ত তাদেরকেও কিন্তু মৃত্যুর পথে যেতেই হয়। জানি না উনি সুস্থ হয়ে ফিরবেন কিনা। তবে আমার মনে হয় জঘন্য কাজগুলো করার আগে নান্নু সাহেবের মত মানুষদের আরো ভাবা উচিত। কারণ তিনি শিক্ষকতার মতো একটি মহৎ পেশার সাথে জড়িত।
এই বিষয়টা আমি আমার হাসবেন্ড দুইজনই ভীষণ মানি যে কারো ক্ষতির কারণ হলে, জীবনে সুখী হওয়া যায় না। আশেপাশের অনেককেই দেখেছি এই বিষয়টির বাস্তবতা ।
আপনাদের জীবনটা সুন্দর হোক, এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
নান্নু প্রফেসরের কাজের জন্য তাকে ধিক্কার জানায়। আসলে ভাইয়া আমাদের সমাজে এমন কিছু মামুষের জন্য দুর্বলরা নিজের জিনিস বুঝে নিতে পারে না।আর নান্নু প্রফেসরের এই জঘন্য কাজ করার আগে ভাবা উচিত ছিল কারণ তিনি একজন শিক্ষক ।আসলে শক্তি চিরকাল থাকে না।আল্লাহ কাকে কিভাবে পরিক্ষা করেন একমাত্র তিনিই জানেন।জানি না নান্নু প্রফেসর মৃত্যুসজ্জা থেকে ফিরে আসবেন কিনা।
ক্ষমতা, অর্থ, সবকিছু নিজের অবস্থাকে ভুলিয়ে দেয় আপু।
নান্নু প্রফেসরের মতো এমন অনেক মানুষ রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে, নিরীহ মানুষদের সাথে এমন অন্যায় অবিচার করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আসলে যে দেশের প্রশাসনিক অবস্থা এতোটা জঘন্য, সেদেশে সুষ্ঠু বিচার পাওয়াটা অসম্ভব। তাইতো রশিদ সাহেবের মতো লোকেরা মুখ বুজে এমন অন্যায় সহ্য করে যায়। কিন্তু কেউ বিচার না করলেও উপরে একজন আছে। যিনি অবশ্যই বিচার করেন,সেটা হয়তো দুই দিন আগে নয়তো দুই দিন পরে। তাই কখনো কারো উপর জুলুম করা উচিত নয়। যাইহোক এমন শিক্ষণীয় একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
নান্নু সাহেব এর মতো লোক আমাদের সমাজে অভাব নেই। আর এদের বেশি লোভের স্বীকার হয় রশিদ সাহেবের মতো সাধারণ মানুষ। কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে প্রাকৃতিক নিয়মে যখন এইরকম কিছু ঘটে যায় তখন হয়তো তাদের কিছুটা শিক্ষা হয়। এতো সম্পদ দিয়ে কী হবে যদি মানুষ ভালোই না বলতে পারে। বেশ শিক্ষনীয় ছিল ভাই আপনার লেখা টা।
তবে তারা যখন শিক্ষা পায়, তখন তাদের আর কিছুই করার থাকেনা।
নান্নু প্রফেসরের এমনটা করা উচিত হয়নি রশিদ সাহেবের সাথে। প্রকৃতি কখনো কাউকে ছেড়ে দেয় না। এতো ধনসম্পত্তি সাময়িক সুখ দিবে, মারা গেলেই সব শেষ। এই নান্নু প্রফেসর স্ট্রোক করেছে, দুদিন আগেও যে ব্যক্তি পেশিশক্তি দেখিয়ে দেয়ালটা ভাঙালো রশিদ সাহেবের! সামনে কিছু না বললেও মন থেকে অভিশাপটা এমনিই চলে আসবে, যেটা একজন মানুষের জন্য সুখকর নয়!
অভিশাপ বড্ড খারাপ জিনিস ভাই। অহেতুক মানুষের সঙ্গে ঝামেলা করে কি লাভ।
আসলে ভাইয়া ক্ষনিকের এই পৃথিবীতে মানুষ বোঝে না তার আয়ু কতটুকু ।ক্ষমতার লড়াইয়ে সে মেতে থাকে। সৃষ্টিকর্তা ঠিকই তাকে তার অবস্থাটা দেখিয়ে দেয় ,তবুও মানুষ বোঝে না ।যাইহোক বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
আমার বাড়ির পাশের দুজনের কথা আমার খুব মনে পড়ছে, একজন ছিলেন সুবেদার(ব্রিটিশ আমল) অন্যজন ছিলেন নেবি অফিসার। দুজনই বহু আগে জমি কিনেছিলেন, একটা সময় ক্ষমতার অনেক দাপট দেখিয়েছিল শরীরের শক্তি খাটিয়ে অনেক কিছু দেখিয়েছিল। তবে খানিকটা আপনার গল্পের শেষের দিকের মত তাদের হয়েছে। আসলেই কখন কার কি হয় এটা তো বলা যায় না।
এমন অবস্থা তো আশেপাশে হয়েই যাচ্ছে, সঠিক সময়ে সঠিক কথা কজনই বা বোঝে।