বাজার করার অভিজ্ঞতা
শুক্রবারের দিনে এমনিতেই অনেকটা নিরিবিলি পূর্ণ সময় কাটাতে চাই। এটা যদিও নতুন কিছু নয়। কারণ যেহেতু সপ্তাহিক ছুটির দিন থাকে, তাই মোটামুটি অনেকটাই নিরিবিলি ভাবে সময় কাটানোর চেষ্টা করি। হয়তো সেটা দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে অথবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ।
তবে আজ আর বিকালের পর থেকে সেভাবে নিরিবিলিভাবে সময় কাটাতে পারি নি। কারণ আজ ছুটতে হয়েছিল বাজারের উদ্দেশ্যে । কিচ্ছু করার নেই কারণ এসব জীবনের অংশ ।
মোটামুটি বাসায় কাঁচাবাজার শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই একটা লম্বা লিস্ট গতরাতেই গিন্নি আমার হাতে ধরিয়ে দিয়েছে। যাইহোক লিস্ট লম্বা হলেও মোটামুটি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছি, কাঁচাবাজার করার জন্য। অবশেষে আজ বিকেলে বাজারের উদ্দেশ্যে চলে গিয়েছিলাম ।
ভেবেছিলাম যেহেতু ছুটির দিন তাই হয়তো সেইভাবে দোকান খোলা থাকবে না। তবে বাজারে গিয়ে মোটামুটি দেখলাম সবই স্বাভাবিক। আসলে সবাই জীবিকার জন্যই কাজ করছে। তাই হয়তো তারাও চেষ্টা করছে এই ছুটির দিনেও দোকানগুলো খুলে রাখার জন্য। আর দ্রব্যমূল্যের যে উর্ধ্বগতি, তাতে অনেকটাই নাজেহাল অবস্থা ।
যে দোকানটা থেকে রোজ বাজার করি। সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়ে গিয়েছে। হয়তো তার দোকানে কেনাকাটা করি বিধায় সম্পর্কটা একটু গভীর। আজ আমাকে দেখেই হেসে দিয়েছে, বলল কি খবর এই অবেলায় যে। আমি বললাম, ভাই হুট করেই আপনার কথা মনে পড়লো, তাই চলে এসেছি। সে বুঝতে পেরেছে, তার কথা আমার তখনই মনে করে, যখন আমার বাসায় কাঁচাবাজার থাকে না ।
সব সবজিগুলো যেন একদম তরতাজা। তবে বড্ড দাম বেশি। আসলে তার করার কিছু নেই, সে আসলে ইচ্ছা করে এসব দাম বাড়ায়নি। সে তো নিজেই খুচরা বিক্রেতা । হয়তো যা হয়, উপর দিক থেকেই হয়ে আসে আর খুচরা বিক্রেতারা সামান্য কিছু লাভের আশায়, সেগুলো বিক্রি করে।
আজ যে রিক্সাতে করে বাজারে গিয়েছি, সেই রিক্সাওয়ালা ভদ্রলোক পূর্ব পরিচিত ছিল না। তবে তারপরেও সে বাজারে যাওয়ার মুহুর্তে বলেই ফেলল, কাঁচা মরিচের দাম কিন্তু আরো বাড়তে পারে। যদি বাসায় মজুদ করে রাখার মত ব্যবস্থা থাকে, তাহলে পরিমাণে যেন একটু বেশি কিনি। যদিও ভদ্রলোকের কথায় শুরুতেই গুরুত্ব দেই নি, তবে বাজারে গিয়ে কাঁচামরিচের দাম শুনে অনেকটাই ধাক্কা খেয়েছিলাম।
আসলে দাম বাড়লেই কি আর কমলেই কি, আমার যতটুকু সামর্থ্য থাকবে, তার বেশি তো আর কিনতে পারবো না। আর তাছাড়া আমাদের মত লোকজনের কাছে সবকিছুই অনেকটা সহ্য হয়ে গিয়েছে। কিচ্ছু করার নেই, নিজের মতো করে বাজার করে ফেললাম। তবে যখন পয়সা দিতে গিয়েছি, তখন একটু হিসেবের গরমিল হচ্ছিল কারণ যেভাবে চিন্তা করে এসেছিলাম, সেভাবে হিসেব মিল ছিল না।
যেহেতু পয়সার কমতি আছে, তাই দোকানদার ভদ্রলোক কে বললাম কিছু বাজার ব্যাগ থেকে নামিয়ে রাখার জন্য। আমি আসলে খুব একটা বাকি-বকেয়া করি না। যতটুকু সামর্থ্য আছে, তার ভিতরে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
অবশেষে তাকে পয়সা মিটিয়ে উঠে পড়লাম রিক্সায়। তবে আমার কর্মকান্ড দেখে, রিক্সাওয়ালা ভদ্রলোক কিছুটা তাকিয়ে ছিল। তবে আমি হাসি দিয়েছিলাম, বললাম তাকিয়ে থেকে আর কি করবেন। চলেন এবার বাসার উদ্দেশ্যে, যেখান থেকে আমাকে নিয়ে এসেছেন সেখানে গিয়ে রেখে আসেন।
কই ভেবেছিলাম ছুটির দিনে বিকেলের সময়টা একটু এদিক-সেদিক হাঁটাহাঁটি করব, হয়তো নিজের মতো করে কিছুটা সময় কাটাবো। তবে বাজারে এসে যে অভিজ্ঞতা হলো, তা মোটেও সুখকর নয়। আচ্ছা এমন প্রশ্ন কি শুধু আমার একার নাকি কমবেশি সকলের, এমন চিন্তা এখনো করছি।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আসলে কাঁচামরিচের কথা আর কি বলব। আমাদের এদিকেও কাঁচামরিচের দাম প্রচন্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া এমনিতে এখন তো প্রত্যেকটা জিনিসেরই দাম বেশি। তারপরেও আমাদেরকে কম-বেশি কিনতে হয়। ঠিকই বলেছেন এগুলো তো আসলে জীবনের অংশ। রিক্সাওয়ালা লোকটি ঠিক কথাই বলেছে। তবে বেশি কেনার জন্য তো বেশি টাকাও লাগে। ভালোই করেছেন নিজের টাকা অনুযায়ী কিনেছেন। তার সাথে একটা অভিজ্ঞতাও হয়ে গেল।
বর্তমানে বাজারের যে উর্ধগতি তাতে করে আসলেই জীবনযাত্রার মান অনেকটাই নাজেহাল অবস্থা।আগে যে টাকায় বাজারের ব্যাগ ভর্তি হয়ে যেতো এখন সেই টাকায় ব্যাগের তলায় ভরতে চায় না।এই সেদিনের কথা কাঁচামরিচ ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে কিনলাম আর এখন তার তিনগুণ দাম বেড়ে গেছে।ভাইয়া আপনি একদম ঠিক বলেছেন দাম বাড়লেই কি আর কমলেই কি যার যতটুকু সামর্থ্য সে ততটুকুই কিনতে পারবে।বাস্তবসম্মত একটি পোস্ট টি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
কাঁচা বাজারের দাম দিনে দিনে বেড়েই চলছে। আর কয়েকদিন পরে তো আরো বেড়ে যাবে। রমজান মাস আসলে সবকিছুই সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। আসলে সাধারণ মানুষরা নিজের আয়ের উপর চলার চেষ্টা করে। কিন্তু যখন সবকিছু সাধ্যের বাইরে চলে যায় তখন পরিবার নিয়ে সংসার চালানো সত্যিই মুশকিল হয়ে যায়। কাঁচা মরিচের দাম দিনে দিনে অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সামনে আরো বাড়তে পারে। যাইহোক ভাইয়া আপনার অনুভূতি জেনে ভালো লাগলো। হয়তো এভাবেই আমাদের মত মধ্যবিত্ত মানুষদের জীবন চলে যাবে।
সবকিছুর দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম ও বেড়েই চলেছে। সাধ সাধ্যের মধ্যে থাকছে না। মানুষ কিভাবে বাঁচবে, মনে এই প্রশ্নটাই আমার। ধনীরা বাঁচবে, গরীব আমরা বাঁচতে পারব না।আমাদের প্রয়োজনটুকুই কিনতে হিমশিম খাচ্ছি। এভাবেই একদিন শেষ দিনটি চলে আসবে হয়ত। কিছুই করার নেই। বাস্তবতা তুলে পোস্ট শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি হতে থাকবে কখনো নিম্নগতি হবে না। কারণ আমাদের বাংলাদেশের অবস্থাই তো এমন। কোন একটা জিনিসের দাম বাড়লে সেটা আর কমার কথা নেই। যাই হোক এটা ঠিক বলেছেন ভাই বাজার করতে গেলে হিমশিম খেতে হয়। আগে টাকা নিয়ে গেলে ব্যাগ ভর্তি বাজার করার পরও টাকা মানিব্যাগে থেকে যেত। কিন্তু এখন মানিব্যাগ ফাঁকা হয়ে গেলেও ব্যাগ ভরেনা। জীবনের গতিতে জীবন তো চলবে, সব কিছুর দাম বাড়তেই থাকবে। আর আমাদের এভাবেই চলতে হবে কিছু করার নেই।
যাই হোক বিকেলের পর আর নিরিবিলি ভাবে সময় কাটানো হলো না আপনার ৷ বাজার করে বেশ ভালো একটি অভিজ্ঞতা হলো ৷ আসলেই সব কিছুর দাম এতে বৃদ্ধি পাচ্ছে যে বলার মতো নাহ ৷ সেদিন কাচা মরিচের দাম শুনে আমিও অবাক হয়েছি ৷ আসলে কিছু করার নেই ৷ শুরু দরিদ্র আর মধ্যবিত্ত পরিবারের কষ্ট ৷
ভাই এমন প্রশ্ন এখন সবার৷ আসলে যে পরিমানে বাড়ছে দ্রব্যমূল্যের দাম তাতে সাধারন পেশার মানুষ গুলো কতটা কষ্ট আর বুঝে শুনে বাজার করতে হয় ৷ সেটা তারাই জানে বুঝে ৷
দিনশেষে ওই বললেন কিচ্ছু করার নেই ৷
ভাই বিকেল বেলা ঘুরতে যেতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু তা আর হলো না ৷ আসলে সংসার জীবন টাই এমন ৷ অনেক ভালো লাগলো বেশ অনেক গুলো কাচা বাজার করছেন ৷
ভাইয়া দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কথা আর কি বলবো। সব কিছুর দাম হু হু করে বাড়ছে দেখার মত কেউ নেই। সবাই পড়ে আছে পদ্মা সেতু,মেট্রো রেল আর পাতাল,ট্রানেল নিয়ে। জনগন বাচলো না মরলো সে দিকে তাদের তাকানোর সময় নেই। কারন বর্তমানে জনগনের কোন প্রয়োজন নেই। বাজারে গেলে মাথাটা নষ্ট হয়ে যায়। ধন্যবাদ ভাইয়া।